শরীয়তপুরের জাজিরায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার শুনানি শেষে এই রায় দেয়।
এর কারণ- রিমার বাবা-মার জবানবন্দি, মনে করছেন আইনজীবীরা। ‘রিমা বিবাহিত ছিল না। কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করত মেয়েটা। এখন পর্যন্ত জানি না, মেয়েকে কে বা কারা হত্যা করেছে। উপস্থিত আসামিরা খালাস পেলে আমার আপত্তি নাই।’ মামলার বাদী রিমার বাবা ইলিয়াস একথাই বলেছিলেন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে।
প্রায় একই জবানবন্দি রিমার মা নারগিস আক্তারের। তিনি বলেছেন, ‘মেয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি আশেপাশের বাড়িতে যেত আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বোঝানোর চেষ্টা করি। এ মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানি না। আসামিরা আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। আসামিরা সকলেই বিবাহিত। তারা খালাস পেলে আপত্তি নাই।’
বাবা-মায়ের এমন জবানবন্দির পরেও পুলিশের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করে মামলার বিচার শুরু করেন আদালত। ২০১৯ সালের ৭ মে মামলায় রায় দেন শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। চার আসামিকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। তারা হলেন- চুন্নু মোড়ল, নুরু মোড়ল, সেলিম চৌকিদার ও স্বপ্না বেগম।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: