জামালপুর শহরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে শহরের আমলাপাড়া ও হাই স্কুল মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাদের আদালতে মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের আলেক মিয়ার স্ত্রী নিলুফা (৩২), জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদার পাড়া এলাকার মনির হোসেনের স্ত্রী মোছা. হাওয়া বেগম (৩০), আমলাপাড়া এলাকার সুমুতুল্লাহের ছেলে কালা চান (৫০), নয়াপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে সুমন মিয়া (৩৯), কলেজ রোড় এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব (৩৯)। এরমধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় জামালপুরের মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি’র বাসার জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে।
এসময় দুর্বৃত্তরা ৫টি স্বর্ণের আংটি, ১টি ডায়মন্ডের আংটি, ২টি স্বর্ণের চেইন, ১ জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা, ১টি স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১ সেট স্বর্ণের মালা এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। যার সর্বমোট বাজার মূল্য ১৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৯শত ৮৫ টাকা।
পরে বিচারক আহমাদুল কবির বাদী হয়ে জামালপুর সদর মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ মামলার বাদী ও বিভিন্ন সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের নিলুফা নামে এক নারীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমলাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তারপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাত ২ টার দিকে হাই স্কুল মোড় থেকে সুমন মিয়া, নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব, কালা চান ও রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, “গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি গত কমিটির পদে থাকা নেতা। তারা বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ না।”
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুল মোমিন আকন্দ কাওসার বলেন, “আমাদের আগের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমার এই কমিটিতে তারা নেই তাই আমি তাদের কথা বলতে পারবো না।”
বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: ইত্তেফাক সহ প্রথম সারির প্রিন্ট মিডিয়া

0 coment rios: