৪ জুল, ২০২৬

ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নোটিশ, অন্যথায় রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

'বাংলাদেশের সব ফ্যাসিস্ট, টাউট ও ক্রিমিনাল তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’—এমন বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে ১০০ কোটি টাকা জমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরাবরে এই নোটিশ পাঠান। শনিবার (৪ জুলাই) আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইমেইলযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং অনুষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, মানহানিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই মন্তব্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও সংশ্লিষ্টদের নিম্নলিখিত দাবিগুলো পূরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার কারণে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  ১ জুলাই প্রদত্ত অবমাননাকর বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে, যা সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’-এ জমা দিতে হবে—যাতে এই অর্থ একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যায়।

নোটিশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হন বা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: