জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত নিলয় জোয়ার্দারকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে এ আদেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ সময় বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, জেআইসিতে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এই মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুমের মামলায় রিফাত নিলয়কে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাওয়া হয়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।এদিন সকালে কারাগার থেকে রিফাত নিলয়কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১৯ মে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চায় প্রসিকিউশন।প্রসিকিউশন জানায়, রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্রশ্রয়ে বলপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী মো. মশিউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে ডিজিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় আটক রাখা হয়। এ সময়ে গুম করা ব্যক্তিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। যার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পদ্ধতিগতভাবে হওয়া গুম-খুনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এজন্য তাকে গুমের মামলায় গ্রেফতার দেখাতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়।রিফাত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। ধানমন্ডি থানায় হওয়া অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।জানা গেছে, সাবেক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দখলে থাকা ঢাকা শহরের একাধিক ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রিফাত নিলয়। এসব ফ্ল্যাট থেকে প্রতি মাসে ভাড়ার টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে সেই অর্থ বেনজীরের পৌঁছে দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত সাবেক এই আইজিপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসভাজন ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: