বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চাকরিজীবী শাহ আলম। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় করা মামলায় তদন্ত শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
গত ১৭ এপ্রিল দেয়া ওই অভিযোগপত্রের তথ্য মঙ্গলবার (২৬ মে) জানা যায়। তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই আবু জাফর জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে মামলার ঘটনার প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক আবু জাফর হাওলাদার এই অভিযোগপত্র দেন। তবে অপরাধ প্রমাণে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১০ নেতাকর্মীকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে উসকানিমূলক বক্তৃতা, বিবৃতি দেন।
শেখ হাসিনা ছাড়া অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, যুবলীগ নেতা মুজিব মহসীন পিয়াস, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাইয়ুম, হাজি মো. ছালাম শিকদার, মো. হাবিবুল্লাহ ভূঁইয়া হ্যাপি, সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন বাবুল, সাবেক কাউন্সিলর মো. মাসুম গনি ওরফে মাসুম গণি তাপস, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, মোস্তাক আহমেদ, কোরাইচ্চা আলম ওরফে মো. আলম, ছাত্রলীগ নেতা চঞ্চল ওরফে আমিনুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান ধনু, কৃষক লীগ নেতা খান মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম লিটু, শ্রমিক লীগ নেতা বাদশা ঘরামী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল কাশেম হাওলাদার, শ্রমিক লীগ নেতা মিঠু দাস এবং মুন্না ওরফে টুনটুনি মুন্না ওরফে ম্যাগজিন মুন্না।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। তিনি কোটা সংস্কারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কঠোরভাবে দমন-পীড়নের জন্য অনলাইনমাধ্যমে উসকানিমূলক উপর্যুপরি নির্দেশনা দেন৷ আসামি ওবায়দুল কাদের, আসামি মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল, মো. হাবিবুর রহমান প্রধান আসামির মতো বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে কোটা সংস্কারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কঠোরভাবে দমন-পীড়নের জন্য উসকানিমূলক বক্তৃতা-বিবৃতি দেন, যা মামলাটির তদন্তকালে অনলাইন সার্চ করে সংগৃহীত তথ্য যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়।
আসামিরা সবাই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাদের উসকানিমূলক বক্তৃতা, বিবৃতি দেন। ঢাকা-১১ আসনের সাবেক এমপি আসামি মো. ওয়াকিল উদ্দিন ও আসামি মো. লিয়াকত আলীর উসকানি, নির্দেশনা এবং হুকুমে তাদের সহযোগীরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায়ই বাড্ডা থানাধীন, আফতাব নগর, ডিআইটি প্রজেক্ট এবং রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অতর্কিতভাবে হামলা ও মারধর করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে বাড্ডা থানাধীন এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে। অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে রাত ১০টার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলি ভুক্তভোগী শাহ আলমের বুকের বাম পাশে লেগে বের হয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ আগস্ট তিনি মারা যান।
অব্যাহতির সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন কোতোয়ালি জোনের এসি নজরুল, লালবাগ জোনের এডিসি সুজন সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশীদ, শেখ মোরশেদ, কাজী আলামিন ও বদরুলসহ মোট ১১০ জন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনের সময় অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে রাত ১০টার দিকে আফতাবনগর গেটের পাশে গুলিবিদ্ধ হন শাহ আলম। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একই বছরের ১৩ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর তার ভাই মিজানুর রহমান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৮ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: