১৩ অক্টো, ২০২৬

আদালতের নির্দেশে মায়ের দায়িত্ব নিলেন সেই গ্রাম পুলিশ সদস্য, চাইলেন ক্ষমা

আদালতের নির্দেশে মায়ের দায়িত্ব নিলেন সেই গ্রাম পুলিশ সদস্য, চাইলেন ক্ষমা

ছবি: সংগৃহীত 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। আদালতের নির্দেশে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি নিজের ভুলের জন্য মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের নির্দেশে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান মা মুন্নি খাতুন ও ছেলে সাগর হোসেনকে আদালতে হাজির করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করেন এবং ছেলেকে মায়ের যথাযথ দেখভাল ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

আদালতের সিদ্ধান্তের পর সাগর হোসেন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন বলে জানান। ভবিষ্যতে আর কখনো মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে মায়ের ভরণপোষণ নিয়মিতভাবে দেওয়ার অঙ্গীকার করে নিজের আচরণের জন্য মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও সেলিম আহমেদ গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেনকে তাঁর বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে সাগর মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানান। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মাকে আমার সাথে দিলে আমি সুইসাইড করব, তাও সাথে নিতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন মাসে কত টাকা দিতে হবে।’

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মায়ের প্রতি ছেলের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। এদিকে অসহায় মা মুন্নি খাতুনের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান নামের এক চিকিৎসক তাঁর আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দেন।

পরে বিষয়টি আদালতের নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আদালতের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত মায়ের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন সাগর হোসেন। এর মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ঘটনাটির একটি সমাধান আসে।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (১২.১০.২০২৬)

বিডি ল' পোস্ট/এম

অর্থঋণ ও চেক ডিজঅনার মামলা চলবে পৃথকভাবে: আপিল বিভাগের আদেশ

অর্থঋণ ও চেক ডিজঅনার মামলা চলবে পৃথকভাবে: আপিল বিভাগের আদেশ

ব্যাংকের ঋণ আদায়ে দেওয়ানি মামলা ও চেক ডিজঅনারের ফৌজদারি মামলা একই সঙ্গে চালানোর পথ সুগম হলো
ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ে অর্থঋণ আদালত আইনে দায়ের করা মামলা এবং চেক ডিজঅনারের মামলা স্বতন্ত্রভাবে চলবে। ঋণসংক্রান্ত ১১টি মামলা স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুটি মামলা কেন পৃথকভাবে চলবে?

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী দেওয়ানি মামলা করা হয়। অন্যদিকে, ঋণের বিপরীতে দেওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থঋণ আদালতের মামলা এবং চেক ডিজঅনারের মামলা ভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত। দুটি মামলার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি পৃথক হওয়ায় একই ঋণের ঘটনায় উভয় মামলা একসঙ্গে চলতে পারে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের একাধিক সিদ্ধান্তও রয়েছে বলে জানান তিনি।

হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত 

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের রায়ে ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন ও নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় একসঙ্গে মামলা দায়েরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই রায়ে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর কার্যক্রম বাতিলের নির্দেশনাও ছিল।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর আপিল বিভাগ ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

সর্বশেষ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কয়েকটি চলমান চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। সোমবার তিনটি মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কী অর্থ বহন করে?

আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের পাওনা আদায়ে অর্থঋণ আদালতে দেওয়ানি মামলা চালানোর পাশাপাশি চেক ডিজঅনারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে ফৌজদারি মামলাও চালিয়ে যেতে পারবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে পাওনা অর্থ আদায় ও চেক প্রত্যাখ্যানের আইনি প্রতিকারের পৃথক পথ বজায় থাকবে।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪.কম | প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬

বিডি ল' পোস্ট/এম

উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার না হলে জমি প্রি-এম্পশনের আবেদন করা যাবে না: হাইকোর্ট

উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার না হলে জমি প্রি-এম্পশনের আবেদন করা যাবে না: হাইকোর্ট

শুধু ক্রয়সূত্রে বা বিনিময়সূত্রে জমির সহ-অংশীদার হলে প্রি-এম্পশন অধিকার প্রযোজ্য নয়; জেলা জজের রিভিশন এখতিয়ার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
জমি প্রি-এম্পশন বা অগ্রক্রয় অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের সহ-অংশীদার হওয়া আইনগতভাবে অপরিহার্য বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬ ধারার অধীনে শুধু ক্রয়সূত্রে বা বিনিময়সূত্রে সহ-অংশীদার হওয়া ব্যক্তি প্রি-এম্পশনের আবেদন করতে পারেন না। একই সঙ্গে যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে রিভিশন গ্রহণ করা হলে তা এখতিয়ারবহির্ভূত হতে পারে।

সম্প্রতি সিভিল রিভিশন নং- ৬৩৩/২০০৯, আবদুর রশিদ পাটোয়ারী ও অন্যান্য বনাম মোছা. রাইহানা বেগম ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি রেজাউল করিম এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেন। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে শুনানি শেষে ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১২ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে। রায়ে লক্ষ্মীপুরের জেলা জজের ২০০৯ সালের আদেশ বাতিল করে রামগঞ্জের সহকারী জজের পূর্ববর্তী আদেশ পুনর্বহাল করা হয়েছে।

মামলার ঘটনা

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল নিবন্ধিত বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ২৪ শতাংশ জমি আবদুর রশিদ পাটোয়ারীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই জমি প্রি-এম্পশনের দাবিতে ২০০৭ সালের ১৭ জুন সহকারী জজ আদালত, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরে বিবাদী পক্ষের রাইহানা বেগম একটি মিসলেনিয়াস মামলা দায়ের করেন।

রাইহানা বেগমের দাবি ছিল, ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালের দুটি নিবন্ধিত সাফকবলা দলিল এবং ২০০২ সালের একটি বিনিময় দলিলের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের সহ-অংশীদার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃতপক্ষে জমিটি বিক্রি করা হলেও প্রি-এম্পশনের অধিকার এড়াতে বিনিময় দলিলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জমির গ্রহীতা আবদুর রশিদ পাটোয়ারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দলিলটি প্রকৃত বিনিময় দলিল এবং ২০০৬ সালে সংশোধিত রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারা অনুযায়ী উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার না হলে প্রি-এম্পশনের আবেদন করা যায় না।

নিম্ন আদালতের আদেশ ও জেলা জজের সিদ্ধান্ত

২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি আবদুর রশিদ পাটোয়ারী দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII, Rule 11 অনুযায়ী আবেদন দাখিল করে প্রি-এম্পশনের মামলাটি খারিজের আবেদন জানান।

সহকারী জজ ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আবেদনটি মঞ্জুর করে প্রি-এম্পশনের মামলা খারিজ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আবেদনকারী নিজেকে ক্রয়সূত্রে ও বিনিময়সূত্রে সহ-অংশীদার হিসেবে দাবি করেছেন; কিন্তু সংশোধিত আইনের বিধান অনুযায়ী প্রি-এম্পশনের জন্য উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার হওয়া আবশ্যক।

পরবর্তীতে রাইহানা বেগম লক্ষ্মীপুরের জেলা জজ আদালতে Civil Revision No. 4 of 2008 দায়ের করেন। জেলা জজ ২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারি সহকারী জজের আদেশ বাতিল করে মামলাটি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন আবদুর রশিদ পাটোয়ারী ও অন্যান্যরা।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, ২০০৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬(১) ধারায় প্রি-এম্পশনের অধিকার সীমিত করা হয়েছে। এ ধারার প্রথম শর্তাংশ অনুযায়ী, কোনো রায়তের হোল্ডিংয়ের অংশ বা শেয়ার এমন ব্যক্তির কাছে বিক্রি হতে হবে, যিনি ওই হোল্ডিংয়ের সহ-অংশীদার প্রজা নন। পাশাপাশি ধারাটির প্রথম শর্তে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে অবশ্যই উত্তরাধিকারসূত্রে ওই হোল্ডিংয়ের সহ-অংশীদার হতে হবে।

আদালত আরও বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII, Rule 11(d) অনুযায়ী মামলা খারিজের আবেদন বিবেচনার সময় আরজিতে বর্ণিত বক্তব্যকে সত্য ধরে আইনগত বাধা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হয়। রাইহানা বেগমের নিজের আবেদনে তিনি ক্রয় ও বিনিময়ের মাধ্যমে সহ-অংশীদার হওয়ার কথা বলেছেন; উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার হওয়ার দাবি করেননি। ফলে তাঁর আবেদনে আইনগত বাধা স্পষ্ট ছিল।

বিনিময় দলিলটি প্রকৃত বিনিময়, নাকি বিক্রির ছদ্মবেশ—এটি তথ্যগত প্রশ্ন এবং Order VII, Rule 11-এর আবেদনে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের বিষয় নয় বলে আদালত উল্লেখ করেন। তবে দলিলটিকে বিক্রয় হিসেবে ধরে নিলেও আবেদনকারীর উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার না হওয়ার বিষয়টি প্রি-এম্পশনের আবেদনের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র আইনগত বাধা হিসেবে থেকে যায়।

আপিলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন গ্রহণে এখতিয়ারগত বাধা

হাইকোর্টের রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লক্ষ্মীপুরের জেলা জজের কাছে দায়ের করা রিভিশন আবেদনটিই আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

আদালত ব্যাখ্যা করেন, প্রি-এম্পশনের আবেদন খারিজের আদেশটি আপিলযোগ্য ছিল। দেওয়ানি কার্যবিধির ২(২) ধারায় আরজি খারিজকে ডিক্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৯৬(১) ধারায় ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬(১৫) ধারায় ওই ধারার অধীনে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সাধারণ দেওয়ানি আপিল আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

তাই দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(২) ধারার অধীনে জেলা জজের রিভিশন এখতিয়ার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। হাইকোর্ট বলেন, জেলা জজ আপিলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন গ্রহণ করে সহকারী জজের আদেশ বাতিল করে এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ করেছেন।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট দুটি স্বতন্ত্র কারণে রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। প্রথমত, জেলা জজ এমন একটি রিভিশন গ্রহণ ও মঞ্জুর করেছেন, যা আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য ছিল না। দ্বিতীয়ত, সংশোধিত ৯৬(১) ধারার প্রথম শর্তে উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার হওয়ার বাধ্যবাধকতা বিবেচনা না করেই তিনি সহকারী জজের আইনসম্মত আদেশ বাতিল করেছিলেন।

ফলে হাইকোর্ট লক্ষ্মীপুরের জেলা জজের ২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আদেশ বাতিল করেন এবং রামগঞ্জের সহকারী জজের ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির আদেশ পুনর্বহাল করেন। আদালত স্পষ্ট করেন, প্রি-এম্পশনের আবেদনে জমার শর্তসংক্রান্ত প্রশ্নটি তাঁরা নিষ্পত্তি করেননি, কারণ নিম্ন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি।

আইনগত তাৎপর্য: রায়টি প্রি-এম্পশন অধিকার প্রয়োগে উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদার হওয়ার শর্ত এবং আপিলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়েরের সীমাবদ্ধতা—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম 


এআই ব্যবহারে মানবাধিকার ও ডিজিটাল পরিসরে নারী-শিশুর অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দুটি প্রস্তাব গ্রহণ

এআই ব্যবহারে মানবাধিকার ও ডিজিটাল পরিসরে নারী-শিশুর অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দুটি প্রস্তাব গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি)। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জেনেভায় পরিষদের ৬৩তম নিয়মিত অধিবেশন শেষ হয়। অধিবেশনে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৩৪টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী, গৃহীত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানবাধিকারের প্রসার ও সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে। অন্যটি ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়।

এআই ব্যবহারে মানবাধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্ব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবাধিকারকে কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পরিষদ। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্যানেল গঠন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে এআই-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও জ্ঞানগত বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে সরকারি প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন বৈষম্য সৃষ্টি না করে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

এআইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পক্ষপাত, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলোও মানবাধিকার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার সুরক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তি

পরিষদের গৃহীত আরেকটি প্রস্তাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ালেও অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার এবং এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি বা ভিডিওর মতো ঝুঁকিও তৈরি করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ব্যবধান কমানোও এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।

এআই শাসনব্যবস্থায় মানবাধিকারের গুরুত্ব বাড়ছে

বিশ্বজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বা এআই গভর্ন্যান্স এখন আর কেবল প্রযুক্তিগত কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

এআইয়ের উন্নয়ন ও প্রয়োগে সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই সামনে আসছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক উদ্যোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।


সূত্র

১. জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (UN Human Rights Council) — ৬৩তম অধিবেশনের অফিসিয়াল ওয়েবপেজ। 

২. এআই ও মানবাধিকারবিষয়ক প্রস্তাব: A/HRC/RES/63/15 — Implications of artificial intelligence for the promotion and protection of human rights। প্রস্তাবটি বিনা ভোটে গৃহীত হয়েছে; প্রস্তাবের পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের নামও অন্যতম প্রস্তাবক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।


বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম 

দুর্গাপূজায় ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালত, ১৭ অক্টোবর খোলা

দুর্গাপূজায় ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালত, ১৭ অক্টোবর খোলা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ এবং দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল খোলা থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বন্ধ থাকবে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালও

অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ছুটি থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল খোলা থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মুহাম্মদ শরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি

সুইডেনে বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির

সুইডেনে বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত  
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সুইডেনের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশি প্রফেশনালস অ্যান্ড কমিউনিটি নেটওয়ার্কের (বিপিসিএন) ২০২৬ সালের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বিচারপ্রার্থী মানুষের মর্যাদা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার শেষে শিশির মনিরের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি ড. আকতার হোসাইন।

অনুষ্ঠানে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী পেশাজীবীদের ভূমিকা, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি দেশের উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনে প্রবাসী দক্ষ পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ড. আকতার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি পরিচালনা করেন বিপিসিএনের সেক্রেটারি ও স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল ইসলাম। এতে সংগঠনটির সুইডেন শাখার বোর্ড সদস্যসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী দক্ষ পেশাজীবীরা কীভাবে অবদান রাখতে পারেন, তা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিডিএলপি/এমএম

৩৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা, কারাগারে আইনজীবী

৩৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা, কারাগারে আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত 
৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার চেকে স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ; জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আদালতের

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার একটি চেকে স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আইনজীবী হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

হুমায়ুন কবির লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আলম জানান, গত ৭ অক্টোবর হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে রোববার হুমায়ুন কবির আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যেভাবে চেক জালিয়াতির অভিযোগ

মামলার বাদী ইউছুফ আলী রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ব্যাংক হিসাবের একটি চেক চুরি করে তাতে স্বাক্ষর জাল করার মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়।

মামলার এজাহার ও আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম বেগম হুমায়ুন কবিরের আত্মীয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, মরিয়মের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে হুমায়ুন সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দরগঞ্জ শাখার একটি চেক নিয়ে যান। পরে ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা লিখে মরিয়মের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

তবে চেকের স্বাক্ষরের সঙ্গে ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের মিল না পাওয়ায় বিষয়টি মরিয়ম বেগমকে জানানো হয়। এরপর ইউছুফ আলী হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে রায়পুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৮১/২৫।

তদন্তে স্বাক্ষর জাল করার প্রমাণ পাওয়ার দাবি

আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে। তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির মাধ্যমে চেকের স্বাক্ষরের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও করা হয়।

মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, তদন্তে চেকের স্বাক্ষর জাল করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৭ অক্টোবর আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন হুমায়ুন কবির।

সমঝোতার উদ্যোগ, তবে নিষ্পত্তি হয়নি

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য সাত দিনের সময়ও চাওয়া হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষ আইনি প্রতিকার চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি।

মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদ পলাতক রয়েছেন।

সূত্র: যুগান্তর (১১.১০.২০২৬)

বিডিএলপিবি/এমএম