১৬ সেপ, ২০২৬

সরকারি ব্যাংকে একসঙ্গে ৮১টি পদে সিনিয়র অফিসার (ল’) ও আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ

সরকারি ব্যাংকে একসঙ্গে ৮১টি পদে সিনিয়র অফিসার (ল’) ও আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইন বিষয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিনিয়র অফিসার (ল’)/সিনিয়র অফিসার (আইন)/আইন কর্মকর্তা পদে মোট ৮১টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বণ্টন করা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ

  • রূপালী ব্যাংক পিএলসি — ৪৭টি পদ

  • সোনালী ব্যাংক পিএলসি — ২০টি পদ

  • অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি — ১০টি পদ

  • বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন — ৪টি পদ

অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার (ল’)/সিনিয়র অফিসার (আইন)/আইন কর্মকর্তা পদে মোট ৮১ জন নিয়োগ পাবেন।

এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ব্যাংকে আইন কর্মকর্তা (গ্রেড-৬) পদে আরও ১ জন নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে আইন-সংশ্লিষ্ট পদে মোট ৮২টি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদগুলোর জন্য আইন বিষয়ে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। বিভিন্ন পদের ক্ষেত্রে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক/সমমান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পদভেদে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষাজীবনের অন্যান্য শর্তও প্রযোজ্য।

আবেদন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া

নিয়োগ কার্যক্রমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ফি, পেমেন্ট ভেরিফিকেশন ও ট্র্যাকিং সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পদ ও প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়োগের শর্ত ভিন্ন হতে পারে।

আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বড় সুযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক আইন-সংশ্লিষ্ট পদ থাকায় এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য ব্যাংক আইন কর্মকর্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

নোট: পদসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, আবেদন ফি, আবেদনের শেষ সময় ও অন্যান্য শর্তের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নিচে দেওয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি: 




বিডিএলপিবি/এমএম

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের দায় (Burden of Proof)

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের দায় (Burden of Proof)

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (Evidence Act, 1872)-এর অধীনে প্রমাণের দায় (Burden of Proof) বলতে কোনো পক্ষের উত্থাপিত দাবি, অধিকার, দায় বা নির্দিষ্ট ঘটনা সত্য—তা আদালতের কাছে প্রমাণ করার আইনগত দায়িত্বকে বোঝায়। এর মূলনীতি হলো—  “যে ব্যক্তি কোনো ঘটনা বা তথ্যের অস্তিত্ব দাবি করে এবং সেই দাবির ভিত্তিতে আদালতের কাছ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিকার চায়, সাধারণত তাকেই তা প্রমাণ করতে হয়।”

প্রমাণের দায় (Burden of Proof) সম্পর্কিত বিধানগুলো  সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০১, ১০২, ১০৩ ও ১০৫ ধারায় আলচনা করা হয়েছে।

১. ধারা ১০১-  প্রমাণের দায়ের মূলনীতিঃ  ১০১ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে কোনো আইনগত অধিকার বা দায় সম্পর্কে রায় দিতে বললে এবং সেই অধিকার বা দায় নির্ভর করে এমন কিছু তথ্যের অস্তিত্বের ওপর, তাকে সেই তথ্যের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ, যে দাবি করবে, দাবিটির ভিত্তি প্রমাণ করার দায়ও সাধারণত তার ওপর থাকবে।

উদাহরণঃ ‘ক’ দাবি করলেন যে ‘খ’-এর কাছে তার ৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। ‘ক’ যদি আদালতের কাছে টাকা আদায়ের ডিক্রি চান, তাহলে ‘ক’-কেই প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে ‘খ’-এর কাছে তার ৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

২. ধারা ১০২ — কার ওপর প্রমাণের দায়? ১০২ ধারা অনুযায়ী, কোনো মামলায় উভয় পক্ষ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করলে যে পক্ষ মামলায় হেরে যাবে, সেই পক্ষের ওপর প্রমাণের দায় থাকবে। অর্থাৎ, আদালত যদি কোনো পক্ষের বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণই না পায়, তাহলে যে পক্ষ তার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হবে, তার ওপর প্রাথমিক প্রমাণের দায় (burden of proof) থাকবে। সুতরং, যদি কোনো পক্ষই কোনো প্রমাণ না দেয়, যে পক্ষ পরাজিত হবে—প্রমাণের দায় তার ওপর।”

৩. ধারা ১০৩ — নির্দিষ্ট তথ্যের প্রমাণের দায়ঃ ১০৩  ধারা  অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের অস্তিত্ব আদালতকে বিশ্বাস করাতে চাইলে সেই তথ্যের অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায় সেই ব্যক্তির ওপর থাকে, যিনি আদালতকে তা বিশ্বাস করাতে চান।

উদাহরণঃ ‘ক’ দাবি করলেন যে ‘খ’ একটি নির্দিষ্ট দিনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত ছিলেন। ‘ক’ যদি তার মামলার কোনো বক্তব্য প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিশেষ তথ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাহলে সেই তথ্য প্রমাণের দায়িত্ব ‘ক’-এর ওপর থাকবে।

৪. ধারা ১০৫ — ফৌজদারি মামলায় ব্যতিক্রমের প্রমাণঃ

কোনো আসামি যদি দাবি করেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির (Penal Code) সাধারণ ব্যতিক্রম (General Exception) অথবা বিশেষ ব্যতিক্রম (Special Exception) প্রযোজ্য, তাহলে সেই ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হওয়ার পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণের দায় আসামির ওপর থাকে।

অর্থাৎ, কোনো আসামি যদি দাবি করেন যে অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি এমন মানসিক অবস্থায় ছিলেন যার কারণে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ব্যতিক্রম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাহলে সেই ব্যতিক্রমের ভিত্তি হিসেবে যে পরিস্থিতি তিনি দাবি করছেন, তা প্রমাণের প্রশ্ন আসতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রসিকিউশনকে তার নিজের মামলার প্রয়োজনীয় উপাদান প্রমাণ করতে হবে না। অপরাধের মৌলিক উপাদান প্রমাণের দায়িত্ব সাধারণভাবে প্রসিকিউশনের ওপরই থাকে।

দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের দায় ও মানদণ্ডঃ দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের দায়ের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো— “যে দাবি করে, তাকেই প্রমাণ করতে হয়।“  বাদী (Plaintiff) কোনো অধিকার, মালিকানা, পাওনা, চুক্তি, দখল বা অন্য কোনো আইনগত দাবি করলে সেই দাবির প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো তাকে প্রমাণ করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নীতিঃ বাদী তার নিজের মামলার শক্তির ওপর সফল হবেন; কেবল বিবাদীর মামলার দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে নয়। অর্থাৎ, বিবাদী যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি—এটি একাই বাদীর দাবি প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

প্রমাণের মানদণ্ডঃ  দেওয়ানি মামলায় সাধারণত প্রমাণের মানদণ্ড হলো সম্ভাবনার ভার (Preponderance of Probabilities) আদালত বিবেচনা করে কোন পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও সম্ভাব্য।

ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের দায় ও মানদণ্ডঃ  ফৌজদারি মামলায় সাধারণ নীতি হলো— অপরাধ প্রমাণের দায় প্রসিকিউশনের ওপর। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ করেছেন—এটি প্রসিকিউশনকে আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আসামিকে সাধারণভাবে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে হয় না। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হলো— অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে নির্দোষ বলে গণ্য করা হবে।

প্রমাণের মানদণ্ডঃ

ফৌজদারি মামলায় প্রসিকিউশনকে সাধারণত অপরাধ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে (Beyond Reasonable Doubt) প্রমাণ করতে হয়। যদি প্রসিকিউশনের প্রমাণে এমন যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থেকে যায় যা অপরাধের বিষয়ে বাস্তব অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তাহলে তার সুবিধা আসামি পাবেন।

Burden of Proof এবং Onus of Proof-এর পার্থক্যঃ  দুটি ধারণা পরস্পর সম্পর্কিত হলেও সম্পূর্ণ এক নয়। Burden of Proof হলো মামলায় কোনো দাবি বা বিষয় প্রমাণ করার আইনগত মূল দায়। Onus of Proof মামলার কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে প্রমাণ উপস্থাপনের তাৎক্ষণিক দায়িত্ব। প্রাথমিকভাবে এক পক্ষের ওপর থাকা যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের পর অন্য পক্ষের দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। যেমন, বাদী প্রথমে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ দিয়ে তার দাবি প্রতিষ্ঠা করলে পরবর্তী পর্যায়ে বিবাদীর ওপর সেই দাবি খণ্ডনের জন্য প্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্ব আসতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ঃ

১. Ajufannessa v. Safar Miah, 30 DLR (SC) 41 (1978)- এ মামলায় আপিল বিভাগ বলেন,  সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারায় বিধান রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো আইনি অধিকার বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে আদালতের রায় পেতে চান—যা কোনো ঘটনার অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল এবং যা তিনি দাবি করছেন—তবে তাঁকেই প্রমাণ করতে হবে যে সেই ঘটনাগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে। এছাড়া উক্ত আইনের ১০৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার অস্তিত্ব সম্পর্কে আদালতকে বিশ্বাস করাতে ইচ্ছুক ব্যক্তির ওপরই সেই ঘটনা প্রমাণের ভার বর্তায়; তবে যদি কোনো আইনে এমন বিধান থাকে যে ওই ঘটনা প্রমাণের দায়িত্ব নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত থাকবে, সেক্ষেত্রে সেই আইনই প্রযোজ্য হবে।

২. Abul Kashem v. State, 42 DLR 37- মামলায় বলা হয়,  ফৌজদারি মামলায় প্রসিকিউশনের দায়িত্ব, অভিযোগের প্রয়োজনীয় উপাদান প্রমাণ করা। শুধু অভিযোগ উত্থাপন করলেই তা প্রমাণিত হয়ে যায় না; প্রসিকিউশনকে তার মামলা আইনসম্মত প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৩. Shah Sufi Taj Islam v. Begum Rokeya Chowdhury, 9 BLT (AD) 62- এই মামলাটি মূলত ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা (Onus of Proof বা প্রমাণের দায়) এবং একই সাথে প্রশাসনিক আইনের অধস্তন বা অর্পিত বিধানের (Delegated Legislation) বৈধতা সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে জড়িত। আপিল বিভাগ এ মামলার রায়ে বলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য ব্যক্তির ওপর এমন অবস্থানে থাকেন যেখানে সক্রিয় আস্থা বা প্রভাবের সম্পর্ক বিদ্যমান, তাহলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সৎ বিশ্বাস (good faith) এবং অযাচিত প্রভাবের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রমাণের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে, কোনো মামলায় বিবাদী পক্ষ যদি বাদীর কোনো দাবি বা প্রাপ্তি স্বীকার করে নেয়, তাহলে তা প্রমাণ করার বাড়তি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বাদীর ওপর থাকে না। অধিকন্তু, মূল আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো প্রশাসনিক বিধি বা নিয়ম তৈরি করা আইনত অবৈধ।

 সূত্র:

The Evidence Act, 1872

https://lawcastlebd.wordpress.com/

https://www.lawyersnjurists.com/article/onus-of-proof/

https://www.researchgate.net/

 

বিডিএলপিবি/মাসুম


জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিলেন হাইকোর্ট

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিলেন হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি দপ্তর ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোতে জাতীয় পতাকার যথাযথ ব্যবহার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিকে কর্মকর্তাদের চেয়ার-সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনসহ এর ব্যবহার বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত লিখিত আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তর ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহৃত চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, উত্তোলন বা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।

পাশাপাশি এ ধরনের ব্যবহার বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এ নির্ধারিত নির্দেশনা ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

তদন্ত শেষে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে কমিটিকে।

যেসব ক্ষেত্রে পতাকা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আদালত বলেছেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আইনগতভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী বা যোগ্য নন, তারা অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, ঝুলিয়ে রাখা কিংবা উত্তোলন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া জাতীয় পতাকাকে অফিসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সামগ্রী, অলংকার কিংবা ব্যক্তিগত সরকারি ব্যাকড্রপ হিসেবেও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

এর আগে কী নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট?

এর আগে গত ২৫ আগস্ট সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে আইনবহির্ভূতভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন না করেন, সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের একই বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি এ নির্দেশনা দেন।

রিটে কী বলা হয়েছিল?

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। আইনজীবী শরিফ সরকার এ রিট দায়ের করেন।

ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিভিন্ন অফিস ও দপ্তরে কর্মকর্তাদের টেবিল কিংবা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা জাতীয় পতাকাকে পেছনে রেখে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের দপ্তর, বাসভবন ও সরকারি গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারের বিভিন্ন অধীনস্থ অফিস, করপোরেশন ও কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে নিয়মিতভাবে পতাকা প্রদর্শনের সুযোগ বিধিমালায় রাখা হয়নি।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ভবনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা প্রদর্শন এবং যথাযথভাবে উড্ডীয়মান অবস্থায় রাখার বিষয়ে বিধিমালায় নির্দেশনা রয়েছে।

হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার ব্যবহার প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্তের সুযোগ তৈরি হলো। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আদালত পরবর্তী নির্দেশনা দিতে পারেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: যুগান্তর (১৫/০৯/২০২৬)

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ভাড়া দেওয়া বন্ধ এবং সংস্থাটির সব বাস সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন প্রয়োজন মেটাতে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি খাত থেকে পরিবহন সেবা নেওয়ার বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশদাতার দাবি, জনগণের করের অর্থে প্রতিষ্ঠিত বিআরটিসির বিপুলসংখ্যক বাস সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত গণপরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অর্থনীতির ‘আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ’ ও ‘ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’-এর যুক্তি তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি পরিবহন ব্যয়ের একটি অংশ বেসরকারি খাতে প্রবাহিত হলে পরিবহন ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে।

নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে বিআরটিসির বাস সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে সব বাস সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সূত্র: এনটিভি (১৫/০৯/২০২৬)

গুজব ছড়ানো পেজ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

গুজব ছড়ানো পেজ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনগত উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচারের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন পেজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ ও রুল জারি করেন।

রিট আবেদনে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।

হাইকোর্টের এই নির্দেশ ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল তথ্যপ্রচার নিশ্চিত করা এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের সত্যতা এবং আইনগত জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তাও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ঢাকা পোস্ট (১৬.০৯.২০২৬)

১৫ সেপ, ২০২৬

চেকের মামলায় দণ্ডিত আসামি ৫০% অর্থ জমা না দিয়ে শুধু আপিল দায়েরের গ্রাউন্ডে জামিন পাবেন না

চেকের মামলায় দণ্ডিত আসামি ৫০% অর্থ জমা না দিয়ে শুধু আপিল দায়েরের গ্রাউন্ডে জামিন পাবেন না

ফাইল ছবি
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন ১৮৮১ (Negotiable Instrument Act, 1881) এর  ১৩৮ ধারার অধীনে চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি শুধু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন—এমন কারণ দেখিয়ে জামিন পাওয়ার অধিকার দাবি করতে পারবেন না। আপিল করতে হলে প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি মো. তান্দু মিয়া বনাম রাষ্ট্র ও অন্যজন, ফৌজদারি রিভিশন নং ৬৫৭৯/২০২৪ (Md. Thandu Mia vs. The State and another) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের একক বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ রায়টি দেওয়া হয়।

রায়ে আদালত বলেন, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী, দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দিতে হবে। এই শর্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা আদালতের ইচ্ছাধীন বিষয় নয়; বরং আপিল করার পূর্বশর্ত (condition precedent/sine qua non)।

মামলার পটভূমি:

আবেদনকারী হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর  ১৩৮ ধারায় একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এরপর তিনি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার উদ্দেশ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬(২এ) ধারা অনুযায়ী জামিনের আবেদন করেন।

তবে প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ জমা না দেওয়ায় নিম্ন আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন।
হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিনের সময়সীমা ছিল ৬০ দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তিনি চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দেননি।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:

আদালত বলেন,  ১৩৮ক ধারায় নির্ধারিত ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার শর্তটি বাধ্যতামূলক। এটি এড়িয়ে বা পাশ কাটিয়ে দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

আদালত আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির সাধারণ জামিনের বিধান প্রয়োগ করেও বিশেষ আইনে নির্ধারিত এই বাধ্যতামূলক শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন একটি বিশেষ আইন এবং এর বিশেষ বিধানের সঙ্গে সাধারণ আইনের কোনো বিরোধ দেখা দিলে বিশেষ বিধানই প্রাধান্য পাবে।

রায়ে আরও বলা হয়, ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়া এবং আপিলের অধিকার পরস্পর নির্ভরশীল ও অবিচ্ছেদ্য। ফলে এই অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত মওকুফ করার ক্ষমতা আদালতের নেই।

এ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট পুবালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম চৌধুরী শামীম হামিদ, [২০২৪] ১৭ এলএম (এডি) ১২৪ (Pubali Bank Ltd. vs. Chowdhury Shamim Hamid) মামলায় আপিল বিভাগের নির্ধারিত নীতিও অনুসরণ করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল:

চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ জমা না দেওয়ায় হাইকোর্ট আবেদনকারীর করা রিভিশন পার ইনকিউরিয়াম (per incuriam)  ও মেরিটবিহীন হিসেবে খারিজ করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রত্যাহার ও বাতিল করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অবিলম্বে ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করে অবশিষ্ট সাজা ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের মূল কথা:

হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে স্পষ্ট হলো, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে চাইলে ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত চেকের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। এই বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ না করে শুধু আপিল করার ইচ্ছার ভিত্তিতে জামিন পাওয়া যাবে না।


বিডিএলপিবি/এমএম