৯ সেপ, ২০২৬

মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক চেয়ে ডিএমটিসিএলকে লিগ্যাল নোটিশ

মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক চেয়ে ডিএমটিসিএলকে লিগ্যাল নোটিশ

ফাইল ছবি
মেট্রোরেলে চলমান ট্রেন ও মেট্রো স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং কলসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জনস্বার্থে এই আইনি ডিমান্ড নোটিশ পাঠান বিইউবিটি ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিইউএলএ) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ. এম. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ)।

অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নোটিশে দেশের প্রধান তিনটি মোবাইল অপারেটর—গ্রামীণফোন, বাংলালিংক এবং রবি আজিয়াটা (এয়ারটেল)-কে মেট্রোরেল এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপনের অনুমতি ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। তবে চলমান ট্রেন ও স্টেশনগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকায় যাত্রীরা জরুরি ফোনকল করতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে লিখিতভাবে নোটিশদাতাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (০৯.০৯.২০২৬)

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাসের চলাচলে অনুমতি দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিআরটিএর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন মহাসড়কে এ ধরনের বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল।

এর জবাবে আদালতকে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী যানবাহনের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন লঙ্ঘন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ (ধারা ৮৪ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা)। এছাড়া আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলার সুযোগ নেই।

আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘আদালত বলেছেন যে বিআরটিএর অনুমতিপ্রাপ্ত বাসগুলোই কেবল সড়কে চলতে পারবে। যেহেতু স্লিপার বাস চালানোর কোনো পারমিশন নেই এবং হাইকোর্টও এ বিষয়ে কোনো অনুমতি দেয়নি, তাই নিয়মের বাইরে এসব বাস সড়কে চলার কোনো সুযোগ নেই।’



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৯.০৯.২০২৬)

সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না: নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট

সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না: নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট

কোলাজ ছবি
১৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে। এই ধরনের ভুল মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেওয়া রায় সেই হতভাগ্য ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর ওপর এক বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। সভ্য সমাজে এই ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জনকে খালাস দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শামীম, রুহুল আমিন, মাকসুদ কাউন্সিলর ও আফসারউদ্দীনের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বিচার-বুদ্ধিহীন এ দণ্ডের কারণে এসব আসামিকে সাত বছর কনডেম সেলে থাকতে হয়েছে, যা তাদের পরিবারের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, একটি সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ কারণে দণ্ডবিধি ও সাজা প্রদানসংক্রান্ত বিধিমালার মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত না করা পর্যন্ত তাকে দায়রা আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনা থেকে দূরে রাখা শ্রেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, নুসরাতকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশ বাস্তবায়নে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরউদ্দিন মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নুসরাত মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার জন্য শামীম, নুরউদ্দিন, জাবেদ ও জুবায়েরকে প্ররোচিত করেছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা।

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ‘ত্রুটিহীন’ ছিল বলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, ওই জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে তা উত্তীর্ণ। এতে চার ব্যক্তির সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, রিমান্ডে আসামিদের নির্যাতন করা হয়েছিল, মামলার নথিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার কারণে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অবিশ্বাস্য হয়ে যেতে পারে না।

গত ২৪ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মূল হোতা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদরাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীমের বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন- মাদ্রাসাছাত্র নুরউদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।


বিডিএলপিবি/এমএ

২৬ বছর আগের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

২৬ বছর আগের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত 
কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তিকে খুনের দায়ে উচ্চ আদালতের ১০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মিজানুর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অসুস্থ বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।’

মামলার প্রেক্ষাপট: কিশোরগঞ্জের বড় বাজারস্থ এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আ. কবিরকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান।

পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়।

মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান নুর মোহাম্মদ। তারপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি জানান, তার বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এর আগে মামলায় নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৯.০৯.২০২৬)

অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারা কেন অসাংবিধানিক নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারা কেন অসাংবিধানিক নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারা কেন সংবিধান পরিপন্থি, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. কাজী আখতার হামিদ।

এ সংক্রান্ত একটি রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. কাজী আখতার হামিদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার রিদিতি।

ফ্যাক্ট ইন ইস্যু এন্ড ল': ২০১৪ সালে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। সুদসহ বর্তমানে ওই ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঋণ সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে নিম্ন আদালতে মামলা হলে সেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঋণগ্রহীতার কোন দাবি করার সুযোগ আইনে নেই। এ কারণে অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটে অর্থ ঋণ আদালত ৬ এ অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের বিষয়ে ডায়র করা মামলার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

আইনের ১৮(২) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা সংশ্লিষ্ট ঋণ থেকে উদ্ভূত কোনো বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবেন না। একইভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলায় ঋণগ্রহীতা লিখিত জবাবে ‘সেট-অফ’ বা পাল্টা দাবি (কাউন্টার ক্লেইম) করতে পারবেন না।

অন্যদিকে ১৮(৩) উপধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঋণ থেকে উদ্ভূত বিষয়ে ঋণগ্রহীতা অন্য কোনো আদালতে মামলা করলে সেটি অর্থঋণ আদালতে চলমান মামলার সঙ্গে একত্রে শুনানি করা যাবে না। একই কারণে অর্থঋণ আদালতের মামলাও স্থগিত করা যাবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট: রিট সূত্রে জানা যায়, ‘ছায়া নীড় কমপ্লেক্স’-এর পক্ষে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট কর্পোরেট শাখায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রির জন্য আবেদন করেন।

২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট শাখা থেকে ওই প্রকল্পের জন্য ৫০:৫০ ঋণ ও ইক্যুইটি অনুপাতে ১৫ কোটি টাকা সাধারণ গৃহ নির্মাণ (বাণিজ্যিক) ঋণ অনুমোদন করা হয়। ঋণ অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কাছাকাছি ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।

ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওই মার্কেট চালু করা হয়। এরপর ব্যাংকের কাছে নির্ধারিত জায়গা বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি ও দলিল সম্পাদনের উদ্যোগ নিতে জাকির হোসেন দুই দফা আবেদন করেন।

যা জানালেন রিটকারি আইনজীবী: ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল বলে প্রথম আবেদনটি করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর। আর দ্বিতীয় বার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৩১ মে। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।এরপরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছায়া নীড় কমপ্লেক্স’-এর পক্ষে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট কর্পোরেট শাখা থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋন নেয়। পরে ওই ঋণের সুদসহ সর্বমোট ২৩ কোটি ৬৮ হাজার টাকা দাবি করে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয়। বর্তমানে অর্থ ঋণ আদালত-৬ মামলাটি বিচারাধীন। চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংক কথা না রাখায় ওই মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে মো. জাকির হোসেনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার রিদিতা। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বৈধতা নিয়ে এ রুল জারি করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত 
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হলে এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোস সম্পাদিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা বিনাশ্রম/সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, চেক ডিজঅনারের মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাবন্দি রাখা নয়; বরং মূল উদ্দেশ্য হলো পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করা।

রায় সম্পর্কিত তথ্য: এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত এক ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ মামলায় রায় ঘোষণাকালে আদালতে আবেদনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিবাদীপক্ষে (ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স) ছিলেন আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।

রায়ে চেকের টাকা ও ব্যাংকের পাওনাদি পুরোপুরি পরিশোধ করে আপস-মীমাংসা করায় এ মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আপিলের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার পটভূমি: সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধ করলেও বকেয়া ২৮ হাজার ১২৫ টাকার বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ শাখার একটি চেক প্রদান করেন।

পরে ওই চেকটি নগদায়নের জন্য ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে ১০ ফেব্রুয়ারি ‘পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায়’ তা ডিজঅনার হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ জারির পরও টাকা না দেওয়ায় ২০০৯ সালে নালিশি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি ২০১২ সালে বিচারের জন্য সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়। সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রদত্ত রায়ে আসামিকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করেন।

পরবর্তীতে, আবদুল হান্নান মাস্টার ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল আপিল দায়ের করে জামিন আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট তাকে এক বছরের জন্য জামিন দেন। অত:পর, আপিল বিচারাধীন থাকাকালে চেকের অবশিষ্ট অর্থ ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে পরিশোধ করেন হান্নান মাস্টার। এ বিষয়ে চলতি বছরের ২১ জুলাই আবদুল হান্নান মাস্টার ও ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের মধ্যে আপোসনামা সই হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা: গত ৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট বলেন, মামলার তথ্য ও পারিপার্শ্বিকতা, অপরাধের মাত্রা এবং আপিলকারী কর্তৃক চেকের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের বিষয় বিবেচনা করে আসামি হান্নান মাস্টারকে দোষী সাব্যস্তকরণ বহাল রাখা হলো এবং অর্থদণ্ড ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ হাজার ১২৫ টাকা করা হলো, যা চেকের অঙ্কের সমপরিমাণ।

আদালত আরও বলেন, এতে পরিলক্ষিত হয় যে, দণ্ডপ্রাপ্ত-আপিলকারী আপিল দায়েরের আগে বিচারিক আদালতে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ১০০ টাকা জমা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে অবশিষ্ট টাকা সরাসরি নালিশকারীর (ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স) কাছে জমা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, জমাকৃত ১৪ হাজার ১০০ টাকা যথাযথ শনাক্তকরণ সাপেক্ষে অবিলম্বে নালিশকারী ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া নথিপত্রসহ এই রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ দেশকাল নিউজকে বলেন, আদালত এই রায়ের মাধ্যমে আইনি সুবিচারের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অনন্য প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল পাওনা টাকা আদায় করা, কাউকে অহেতুক শাস্তি দেওয়া নয়। যেহেতু আপিলকারী চেকের পুরো অর্থ পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং আপোসনামায় স্বাক্ষর করেছেন, তাই আমরা উদার মনোভাব নিয়ে তার কারাদণ্ড মওকুফের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছিলাম। বিজ্ঞ আদালত চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড বহাল রেখে আপিলকারীর কারাদণ্ড বাতিল করায় আমরা কোনো ধরনের আপত্তি করিনি। বরং আদালতের এই ন্যায়বিচারকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ সেপ, ২০২৬

মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে উচ্চবাচ্য, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ

মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে উচ্চবাচ্য, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে উচ্চাবাচ্যে জড়িয়ে এজলাস ছেড়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান বিচারপতির এজলাসে এমন উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি।

জানা গেছে, এদিন আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানি চলাকালে হঠাৎ করেই ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন মন্তব্য করেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে।

এ ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন। উভয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কথোপকথনের এক পর্যায়ে আপিল বেঞ্চের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করে চলে যান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: চ্যানেল ২৪ (০৮.০৯.২০২৬)