৪ সেপ, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

কোলাজ ছবি 
জাতীয় সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬-এ কতিপয় ইতিবাচক সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মৌলিক জায়গাগুলোতে গুরুতর ঘাটতি রয়েই গেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গুমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্ত সুনিশ্চিত করতে বিল দুটি পাসের আগে সংসদে সব দলের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ফলে মানবাধিকার কমিশন বিলে আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা, ঋণখেলাপিদের কমিশনার পদে অযোগ্য ঘোষণা এবং সামরিক আটককেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য আটককেন্দ্রে পরিদর্শনের পূর্বে পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। তবে মূল সংস্কারগুলো এড়িয়ে চলায় একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রত্যাশা আবারও হতাশায় রূপ নিচ্ছে।''

তিনি বলেন, ''বাছাই কমিটিতে স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও সচিবদের প্রাধান্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র প্রভাব বহাল রাখা হয়েছে। উপরন্তু, কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার অভাব কমিশনকে পুরোপুরি নিস্ক্রিয় করে রাখবে।''

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, খসড়া আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে কমিশন নিজে সরাসরি স্বাধীন তদন্ত করতে পারবে না; বরং অভিযুক্ত বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের ওপরই প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। এটি আন্তর্জাতিক 'প্যারিস নীতিমালা' এবং ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনের চেয়ও দুর্বল বিধান। একইভাবে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলেও জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করা হয়নি।''
তিনি বলেন, ''খসড়া আইনের ১৪(৩) ধারায় অভিযুক্ত বাহিনীকে নিজস্ব সদস্যের তদন্ত করা থেকে বিরত রাখার কথা বলা হলেও, অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।''

অতীতে বহু গুমের ঘটনায় গোয়েন্দা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তঃসংযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় এই বিধানকে 'কসমেটিক পরিবর্তন' বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''আন্তর্জাতিক সনদ (আইসিপিপিইডি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুমের সংজ্ঞায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী মহলের নাম স্পষ্ট না করা, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া এবং পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের তুলনায় গুমের সাজা কমানোর বিষয়টিও টিআইবি উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে।''

তিনি বলেন, ''বিশেষ করে গুমের জন্য ন্যূনতম সাজা তিন বছর নির্ধারণ করা সত্ত্বেও 'মিথ্যা বা হয়রানিমূলক' অভিযোগের নামে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা সংক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে।''

তাই তড়িঘড়ি করে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস না করে প্যারিস নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক অর্থবহ সংশোধনের পরই তা পাস করার তাগিদ দিয়েছে টিআইবি। অন্যথায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষার প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: টিআইবি'র প্রেস বিজ্ঞপ্তি (০৩.০৯.২০২৬)

বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে এফিডেভিট, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে এফিডেভিট, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতীকী ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য তৈরি এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধায় বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার বাদী ও গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর গ্রামের সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে। 

ঘটনার বিবরণ: গত ২৭ আগস্ট সকালে বাবা-ছেলে এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত একটি এফিডেভিট করার জন্য আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় একই ব্যক্তিকে নিয়ে একই ম্যাজিস্ট্রেটের নামে করা আরও একটি এফিডেভিটের ফটোকপি নজরে আসে। 

এরপর আসাদুজ্জামান তার বাবা সাকোয়াত হোসেনের ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ করা এফিডেভিটের মূল কপি জমা দেন। ওই নথি যাচাই করতে গিয়ে আদালতের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কারণ, এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের নামে যে স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে, তা তার নয় বলে প্রাথমিক যাচাইয়ে ধরা পড়ে। 

পরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আদালতের সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় এফিডেভিটে উল্লেখ করা স্মারক নম্বরের সঙ্গে আদালতের রেজিস্টারের তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

এজাহারের বর্ণনা: সন্দেহজনক এফিডেভিটটি ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত দেখানো হয়েছে। এতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষরের পাশাপাশি ৬২৩/২৬ নম্বর স্মারক উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আদালতের প্রকৃত এফিডেভিট রেজিস্টার যাচাই করে ওই নম্বরের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। 

আদালতের রেজিস্টারে সর্বশেষ ৫ মে ৪৫০/২৬ নম্বর স্মারকের এন্ট্রি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এফিডেভিটটি জাল ও সৃজিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জাল হিসেবে সন্দেহ করা এফিডেভিটে ইংরেজি ভাষায় যে সিল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও প্রকৃত সিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রকৃত সিল বাংলায় লেখা বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। 

অভিযোগে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান পরস্পর যোগসাজশে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল নকল করে এফিডেভিট তৈরি করেন। পরে সেটি আদালতে বৈধ নথি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। 

উভয় পক্ষের বক্তব্য: মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে, মামলার বাদী ও আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করার বিষয়টি যাচাইয়ে ধরা পড়ার পর এফিডেভিট করতে আসা বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা (০২.০৯.২০২৬)

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকাসহ ১০ জেলায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার জন্য একটি জেলা ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকার জন্য চারটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো- মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ঢাকা মহানগর-১, ঢাকা মহানগর-২, ঢাকা মহানগর-৩ ও ঢাকা মহানগর-৪।

এর মধ্যে পল্লবী, কাফরুল ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-১ ট্রাইব্যুনালে; কলাবাগান ও ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-২ ট্রাইব্যুনালে; মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৩ ট্রাইব্যুনালে এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৪ ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।

এ ছাড়া মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য ঢাকা মহানগর-৩ এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরেও এক বা একাধিক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, সেই পর্যায় থেকেই নতুন ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী বিচারকাজ পরিচালিত হবে।নতুন ট্রাইব্যুনালগুলো গঠনের ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো নির্দিষ্ট আদালতে বিচার করার সুযোগ তৈরি হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন


৩ সেপ, ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-সাদ্দামসহ ৭ জনের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-সাদ্দামসহ ৭ জনের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে

ছবি: সংগৃহীত 
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা আগামী সপ্তাহে হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আগামী সপ্তাহে রায়ের জন্য যেকোনো দিন থাকতে পারে। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন এটি রায়ের জন্য থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

উল্লখ্য, মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।


বিডিএলপিবি/এমএম

পিএসসির চেয়ারম্যান হলেন ঢাবি'র আইন বিভগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

পিএসসির চেয়ারম্যান হলেন ঢাবি'র আইন বিভগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

ছবি: সংগৃহীত 
বুধবার  (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। এরপর পদটি শূন্য হয়। নবনিযুক্ত মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ০৫ (পাঁচ) বছর বা তার ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে বহাল থাকবেন।  


বিডিএলপিবি/এমএম 

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হাইকোর্টের আদেশে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, রুল খারিজ

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হাইকোর্টের আদেশে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, রুল খারিজ


ছবি: সংগৃহীত 
পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নিরাপত্তার প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০১১ সালে চার মাসের জন্য দেওয়া হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বাড়িয়ে আবাসন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের বিরুদ্ধে। 

এসব অভিযোগ ও মামলার নথি পর্যালোচনার পর পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে যে আদেশটি মাত্র চার মাসের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেটিই পরে সময়ে সময়ে বাড়ানো হয়। এর ফলে একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আওতায় নিরাপত্তা সুবিধা পেতে থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে এই আদেশের এমন ব্যবহারকে আদালতের আদেশের অপব্যবহার হিসেবে তুলে ধরে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল মামলাটি: প্রবাসীদের অর্থায়নে ঢাকার পূর্বাচল এলাকায় আবাসন ব্যবসা পরিচালনার জন্য পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কোম্পানিটি ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করে। প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতাবলে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম ওই রিট আবেদন করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পূর্বাচল আমেরিকান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রূপগঞ্জ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে বিবাদী করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট নরসিংদী সদর ও রূপগঞ্জ থানার ওসিকে চার মাসের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগত সুরক্ষা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগতভাবে বাধা সৃষ্টি বন্ধে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।

চার মাসের আদেশ গড়াল ১৫ বছরে: মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসে রাষ্ট্রপক্ষের জবাবে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, চার মাসের জন্য দেওয়া ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পরবর্তী সময়ে বারবার বাড়ানো হয়েছে। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ওই আদেশের সুবিধা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া আদালতের আদেশ দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূল রিটের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ, যে আদেশের উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দীর্ঘ সময় ধরে সেটিই প্রকল্পের পক্ষে একটি কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে এমন চিত্র তুলে ধরে।

প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের বৈধতা নিয়েও: রাষ্ট্রপক্ষ শুধু নিরাপত্তা আদেশের ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি। প্রকল্পটির আইনগত অনুমোদন ও নিবন্ধন নিয়েও গুরুতর বিতর্ক রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্প হলেও এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের একটি মামলায় আসামি হওয়ার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। ওই মামলায় তাঁরা যথাক্রমে ১ ও ৫১ নম্বর আসামি। এরপরও ২০১১ সালের হাইকোর্টের আদেশ ব্যবহার করে প্রকল্পটি নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে আসছিল।

জমি দখল ও জাল নথির অভিযোগ: শুনানিতে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগও তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি, জালিয়াতি ও মিথ্যা নথির মাধ্যমে কয়েকটি মৌজায় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, ২০১১ সালের রিটে দেওয়া প্রাথমিক আদেশকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুলভাবে ব্যবহার করে একই মৌজার স্থানীয় জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্য ও মামলার জবাবের অংশ; রায়ে আদালত অভিযোগগুলোর প্রতিটি বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা পূর্ণাঙ্গ রায়ে আরও স্পষ্ট হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি ছিল আদালতের আদেশের ব্যবহার নিয়ে মামলার ৯ নম্বর বিবাদী রূপগঞ্জ থানার ওসির পক্ষে উপপরিদর্শক আহসান হাবিব আদালতে জবাব দাখিল করেন। গত ১৬ জুলাই দাখিল করা ওই জবাবে রিটকারীর সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ মূলত একটি প্রশ্ন সামনে আনে—একটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কি বছরের পর বছর ব্যবহার করা যেতে পারে? রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ছিল, চার মাসের আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বহাল রেখে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের আদেশের সুবিধা নিয়েছে এবং সেটি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

রুল খারিজ: উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় দশক ধরে চলা ওই রিটে বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের পক্ষে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা আদেশের ব্যবহার নিয়ে আইনি বিতর্কেরও অবসান হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট (০৩.০৯.২০২৬)

নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির ওপর ভ্যাট আরোপ অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির ওপর ভ্যাট আরোপ অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
নিলামে বিক্রীত সম্পত্তির ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এই রায়ের ফলে নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির ওপর ভ্যাট আদায়ের আইনি বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

ফ্যাক্ট: রিটের নথি থেকে জানা যায়, একটি বন্ধকি ঋণ আদায়ের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঢাকার অর্থঋণ আদালতে অর্থঋণ মামলা দায়ের করে। পরে অর্থঋণ জারি মামলা দায়েরের পর অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ৩৩(১) ধারার অধীনে বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়। নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৪ কোটি টাকা মূল্যে সম্পত্তিটি কেনেন। তাদের দর অনুমোদিত হওয়ার পর সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেন তারা। অর্থঋণ আদালত ওই জমা এবং পাউন্ডেজ ফি গ্রহণের পর নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

নিলাম ক্রেতা ও ডিক্রিদার ব্যাংক উভয়েই অর্থঋণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেন। পরে আগের কয়েকটি রায়ের আলোকে অর্থঋণ আদালত ডিক্রিধারী ব্যাংককে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়া থেকে অব্যাহতি দিলেও নিলাম ক্রেতাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ অবস্থায় নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। গত ৮ এপ্রিল বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ রুল নিসি জারি করেন। রুলে নিলাম ক্রেতা হিসেবে আবেদনকারীদের ওপর স্ট্যাম্প শুল্কসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা ব্যাখ্যা করার জন্য রুল জারি করেন। পাশাপাশি রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।

রায় ও আদালতের পর্যবেক্ষণ: রুল ও সম্পূরক রুলের শুনানি বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। নিলাম ক্রেতাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ রুল ও সম্পূরক রুল উভয়ই চূড়ান্ত ঘোষণা করে রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, নিলাম ক্রেতা হিসেবে আবেদনকারীদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালতের দেওয়া আদেশটি আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূতভাবে জারি করা হয়েছে ও এর কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই।

পাশাপাশি আদালত আরও ঘোষণা করেন, বিতর্কিত এসআরও এর যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে পণ্যের নিলাম ক্রেতা অভিব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেই অংশও আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনি কার্যকারিতাহীন।

এই রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে ক্রয় করা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অবস্থান প্রতিষ্ঠিত হলো। পাশাপাশি আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, সংসদ কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইন দ্বারা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিলে কেবল অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই সম্পত্তির ওপর নতুন করদায় সৃষ্টি করা যায় না। এ রায় দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম ও নিলামে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে জানান আইনজীবী।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৩.০৯.২০২৬)