![]() |
| কোলাজ ছবি |
গুমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্ত সুনিশ্চিত করতে বিল দুটি পাসের আগে সংসদে সব দলের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ফলে মানবাধিকার কমিশন বিলে আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা, ঋণখেলাপিদের কমিশনার পদে অযোগ্য ঘোষণা এবং সামরিক আটককেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য আটককেন্দ্রে পরিদর্শনের পূর্বে পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। তবে মূল সংস্কারগুলো এড়িয়ে চলায় একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রত্যাশা আবারও হতাশায় রূপ নিচ্ছে।''
তিনি বলেন, ''বাছাই কমিটিতে স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও সচিবদের প্রাধান্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র প্রভাব বহাল রাখা হয়েছে। উপরন্তু, কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার অভাব কমিশনকে পুরোপুরি নিস্ক্রিয় করে রাখবে।''
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, খসড়া আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে কমিশন নিজে সরাসরি স্বাধীন তদন্ত করতে পারবে না; বরং অভিযুক্ত বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের ওপরই প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। এটি আন্তর্জাতিক 'প্যারিস নীতিমালা' এবং ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনের চেয়ও দুর্বল বিধান। একইভাবে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলেও জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করা হয়নি।''
তিনি বলেন, ''খসড়া আইনের ১৪(৩) ধারায় অভিযুক্ত বাহিনীকে নিজস্ব সদস্যের তদন্ত করা থেকে বিরত রাখার কথা বলা হলেও, অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।''
অতীতে বহু গুমের ঘটনায় গোয়েন্দা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তঃসংযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় এই বিধানকে 'কসমেটিক পরিবর্তন' বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''আন্তর্জাতিক সনদ (আইসিপিপিইডি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুমের সংজ্ঞায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী মহলের নাম স্পষ্ট না করা, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া এবং পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের তুলনায় গুমের সাজা কমানোর বিষয়টিও টিআইবি উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে।''
তিনি বলেন, ''বিশেষ করে গুমের জন্য ন্যূনতম সাজা তিন বছর নির্ধারণ করা সত্ত্বেও 'মিথ্যা বা হয়রানিমূলক' অভিযোগের নামে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা সংক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে।''
তাই তড়িঘড়ি করে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস না করে প্যারিস নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক অর্থবহ সংশোধনের পরই তা পাস করার তাগিদ দিয়েছে টিআইবি। অন্যথায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষার প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: টিআইবি'র প্রেস বিজ্ঞপ্তি (০৩.০৯.২০২৬)

0 coment rios: