২৮ আগ, ২০২৬

আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কোলাজ ছবি
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সোহেল রানা ও ট্রাইব্যুনালের গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ ঘটনায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আল-ইমরান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, বিচারক ও গাড়িচালকের মধ্যকার ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনআস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে ঘটনার সত্যতা, কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠে। তবে আদালত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দেন। রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের খাসকামরায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর ভাষ্যমতে, সকালে বিচারকের পিয়ন তাঁকে খাসকামরায় ডেকে পাঠান। ডিউটি লগবইয়ে সকাল ৭টা উপস্থিতি লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন বিচারক। চালক বাচ্চু ৮টায় বিচারকের সফর শুরুর আগে গাড়ি পরিষ্কারের যুক্তিতে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ করলে বিচারক সোহেল রানা হঠাৎই তাঁর চোখের ওপর সজোরে ঘুষি মারেন এবং কান বরাবর থাপ্পড় দেন।

বাচ্চু আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১ বছর ১০ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিচারক তাঁর বদলে গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালান এবং সরকারি গাড়ি বরাদ্দের মাসে ১৮০ লিটার তেলের বদলে ৫০-৬০ লিটার ব্যবহার করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করা এবং অনৈতিক কার্যক্রম দেখে ফেলার কারণেই বিচারক তাঁর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ হামলা চালিয়েছেন।

ঘটনার পর অন্যান্য চালকদের সহায়তায় অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চুকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর এক চোখে ব্যান্ডেজসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোনো অন্যায় থাকলে বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী চালক এ ঘটনার আইনি পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিচারক সোহেল রানা জানান, পেশাগত দায়িত্ব ও ওভারটাইমের হিসেব নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে চালক বাচ্চু উদ্ধত আচরণ ও অসৌজন্যমূলকভাবে তাকায়। রাগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তিনি চালককে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। চালককে কোনো প্রকার আঘাত বা ঘুষি মারা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “সে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাটক সাজাচ্ছে।”

ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কিছুদিন ধরে গাড়ি পরিষ্কার না করা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। চালক পরিষ্কার করতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিচারক কেবল তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২৭.০৮.২০২৬)

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের লিগ্যাল নোটিশে টেলিভিশন শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের লিগ্যাল নোটিশে টেলিভিশন শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবলমাত্র প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের ব্যাপক আধিক্য থাকায় সংস্কৃতিতে চরম সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে- এমন দাবি করে কেবল প্রেম ও রোমান্স নির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে জারি হওয়া এই লিগ্যাল নোটিশের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে কড়া প্রতিক্রিয়া। দেশে-বিদেশে থাকা বাংলাদেশি তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকও এ নোটিশকে হাস্যকর দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল অঙ্গনের নির্মাতা, শিল্পী, লেখক, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের বিভিন্ন সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে আয়োজিত এক যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত প্রতিবাদলিপিতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো জানায়, একটি নির্দিষ্ট ধারার সৃজনশীল নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ শিল্পীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সৃজনশীল বিকাশ এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশে নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কনটেন্ট দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কোনো কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার সম্ভব, কিন্তু পুরো একটি ধারার নির্মাণ বন্ধের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে টেলিভিশন শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শিল্পীদের কর্মক্ষেত্র এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপিতে সই করেন ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দীন সুমনসহ টেলিভিশন অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: স্টার নিউজ (২৮.০৮.২০২৬)

সালাহউদ্দিন আহমদ গুম মামলাজিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখালেন ট্রাইব্যুনাল, প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

সালাহউদ্দিন আহমদ গুম মামলাজিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখালেন ট্রাইব্যুনাল, প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

ছবি: সংগৃহীত 
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের আবেদনে আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। সেই সঙ্গে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযুক্ত অন্য ছয় আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত 
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও কানাডায় অর্থ পাচারের অভিযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালক (বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত) আরশাদ উল্লাহ ও তার স্ত্রী রেবেকা আক্তারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো শাহজাহান কবির এ আদেশ। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক তাদের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, স্ত্রীসহ আরশাদ উল্লাহ'র বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও কানাডায় অর্থ পাচারের অভিযোগে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আরশাদ উল্লাহ ও তার স্ত্রী রেবেকা আক্তার দেশত্যাগ করতে পারেন বলেন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এজন্য সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আরশাদ উল্লাহ ও তার স্ত্রী রেবেকা আক্তারেরবিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (২৭.০৮.২০২৬)

স্ত্রীসহ বিদেশে পালানোর চেষ্টায় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ পরশ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

স্ত্রীসহ বিদেশে পালানোর চেষ্টায় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ পরশ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরশ ও তার স্ত্রী ছাড়াও তাজনীন ওহাব বৃষ্টি নামে একজনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, শেখ ফজলে শামস পরশ তার নিজ নামে এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করে মানি লন্ডারিংপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন- এমন অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিধায়, অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ গমন রহিত করা একান্ত প্রয়োজন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

১২৯ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

১২৯ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

ফাইল ছবি 
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১২৯ বারের মতো পেছাল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ দিন ধার্য করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত।

এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ তারিখ ঠিক করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম রাসেল।

মামলা দায়ের: ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। পরে নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন: রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির ২ নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছে। বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।

মামলার ঘটনার বিবরণ: ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। ঘটনার সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে শিশু মাহির সরওয়ার মেঘ।

সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে র‌্যাব পায় তদন্তের দায়িত্ব।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এক আদেশে বলেন, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত এখন থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স করবে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত হবে।

গত ২৩ অক্টোবর সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। চার সদস্যের এই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক হন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (২৭.০৮.২০২৬)

আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের ৬৪ জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। এসব লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এতে বলা হয়, সরকার তথা মন্ত্রিপরিষদ দেশে উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যাবলির জন্য সমষ্টিগতভাবে জাতীয় সংসদ ও জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে, যে-কোনো ক্ষেত্রে এই রুলস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন।

আরও বলা হয়, এ বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ থেকে দেওয়া রিট পিটিশন মামলার (নং ৩৫১২/২০০৩) রায়ের মর্মমতে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। সেজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংবিধান প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করে মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তের আলোকে, সরকার এসব মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে নিচের জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রদান করল।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (২৭.০৮.২০২৬)