৯ জুল, ২০২৬

সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২০২৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৬ হাজার ১৯৯ পরীক্ষার্থীর ফল মেধার ভিত্তিতে পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রিটকারী ১৫১ জনকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ২০২৩ সালে একটি সার্কুলার হয়েছিল। সেই সার্কুলার অনুযায়ী তখনকার সময়ে বিদ্যমান যে কোটা পদ্ধতি ছিল, সেখানে ৮৪ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়েছিল। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে ১৫১ জন রিট পিটিশনার হাইকোর্ট ডিভিশনে মামলা করেছিলেন যে, জুলাই বিপ্লবের পরে সুপ্রিম কোর্টের যেহেতু একটা জাজমেন্ট হয়েছে যে, সেখানে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগটা হবে এবং মেধা হবে ৯৩ শতাংশ, তার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া উচিত। ​

তিনি আরও বলেন, এই মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগ ঐ নিয়োগটাকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৫১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সরকার আপিল দায়ের করেছিলেন। সেই আপিলটা আজকে শুনানি অন্তে চূড়ান্ত রায় হয়েছে। আপিল বিভাগ সেই রায়ে তিনটি অবজারভেশন দিয়ে আপিলটিকে নিষ্পত্তি করেছেন।

​প্রথম নির্দেশনা, ১৫১ জন রিট পিটিশনার যারা ছিলেন, তাদেরকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

​দ্বিতীয় নির্দেশনা, ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থী সেই সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু রেজাল্ট পাবলিশড হয়েছিল তখন বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুযায়ী। সুপ্রিম কোর্ট আজকে রায় দিয়েছেন যে, পুনরায় এই ৪৬ হাজার ১৯৯ জনের রেজাল্ট সুপ্রিম কোর্টের কোটার বিরুদ্ধে যে রায়টা ছিল— অর্থাৎ সিপি নাম্বার ২৫১৬ অব ২০২৪-এ কোটাকে বাতিল করে যে রায়টা দিয়েছিল— সেই রায়ের আলোকে এই রেজাল্টটা পুনরায় প্রকাশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। 

​তৃতীয় নির্দেশনা, এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলাকালীন সময় যারা এরইমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন— ৬ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষক, তাদের নিয়োগটা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত বহাল রাখতে বলেছেন।

​এই রায়ের মাধ্যমে কোটা পদ্ধতির ব্যাপারে বাংলাদেশের আগের যে কোটা পদ্ধতি ছিল সেটা বাতিল হলো এবং নতুন করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়টা পুনরায় বলবৎ করা হলো। 


বিডিএলপিবি/এমএম

পঞ্চদশ সংশোনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিলে বহাল: সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

পঞ্চদশ সংশোনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিলে বহাল: সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

ছবি: সংগৃহীত 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিল খারিজ। হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় বহাল। অর্থাৎ সংবিধানের ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, গণভোট পুনর্বহাল এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা একমাত্র  সুপ্রিম কোর্টের কাছেই থাকবে। তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্যান্য যত পরিবর্তন আনা হয়েছিল সেই বিষয়ে জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়েছিল। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথক আপিল করেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি আপিল করেন।

আদালতে ড. বদিউল আলম মজুমদারের আপিলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

আদালতের এজলাস ও খাসকামরার সংকট নিরসনে তালিকা চেয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

আদালতের এজলাস ও খাসকামরার সংকট নিরসনে তালিকা চেয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত 

দেশের অধস্তন আদালতের এজলাস ও খাসকামরার সংকট নিরসনে তালিকা চেয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। ৮ জুলাই, বুধবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে সকল জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের এই বিষয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের উক্ত পত্রে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশব্যাপী প্রায় ৩৭৮টি নতুন আদালত সৃজন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার বিদ্যমান অবকাঠামোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় নতুন আদালতের বিচারকগণ এজলাস শেয়ারিং করে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, নতুন আদালত ভবন নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান আদালত ভবনগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী সেগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ অথবা অভ্যন্তরীণ রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন এজলাস ও খাসকামরা তৈরি করা দ্রুততম সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়, সৃজিত নতুন আদালতসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় এজলাস ও খাসকামরা নিশ্চিতকল্পে আপনার আওতাধীন বিদ্যমান আদালত ভবনের সক্ষমতা অনুযায়ী উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ বা রূপান্তরের প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগ দ্বারা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে পত্র মারফত এবং ইমেইলে (planningunit@lawjusticediv.gov.bd) প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য কঠোর সাজার বিধান রেখে আইন পাশ

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য কঠোর সাজার বিধান রেখে আইন পাশ

ছবি: সংগৃহীত 

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি ও অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রেখে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন এই আইনে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির স্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ ও যেকোনো প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।  আইনে ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপরাধীচক্র গঠন বা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ জুল, ২০২৬

উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার দুই সদস্য ফের তিন দিনের রিমান্ডে, চারজন কারাগারে

উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার দুই সদস্য ফের তিন দিনের রিমান্ডে, চারজন কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত সন্দেহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার দুই সদস্যকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে গ্রেপ্তার হওয়া আরও চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

গত রোববার এই ছয় আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আজ রিমান্ড শেষে পুনরায় এ দুই আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর এ বি সিদ্দিক। এর আগে গত রোববার ৫ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আজকের রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন— শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিম। অপরদিকে কারাগারে পাঠানো চার আসামিরা হলেন— জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান এবং বায়োজিদ।

আদালতে আসামি শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিমের আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন রিমান্ড নামঞ্জুর চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অপর আসামিদের পক্ষের পৃথক আইনজীবীরাও জামিন আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ভোর ৬টার দিকে গোপন সংবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, যাত্রাবাড়ী থানাধীন মিনি কক্সবাজার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশে বালুর মাঠে উগ্রবাদী সংগঠনের কতিপয় ব্যক্তি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রেনিং করার জন্য সমবেত হয়েছে।

এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ গত রবিবার সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। তাকে দেখে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ওই স্থানে কি কারণে সমবেত হয়েছিল তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকতে পারে। এরপরে আদালতে নিয়ে এসে রিমান্ড আবেদন করা হলে ছয় আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা

শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা

ছবিঃ সংগৃহীত 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যার অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (৮ জুলাই) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।  

আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই মামলায় আসামি হচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কয়েকটি বাহিনীর তৎকালীন প্রধান, কয়েকজন সাংবাদিক এবং কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী।”  

তিনি আরও বলেন, “২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেই মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। খসড়া প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী ২১ জুলাইয়ের পর শাপলা চত্বর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে।” 

আমিনুল ইসলাম জানান, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কয়েকটি বাহিনীর তৎকালীন প্রধানসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা ওই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। 

এখন পর্যন্ত এই মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। 

বিডিএলপিবি/এমএম

মালখানা ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে হাইকোর্টের আদেশ

মালখানা ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে হাইকোর্টের আদেশ

ছবিঃ সংগৃহীত 

আদালতের মালখানা ও থানায় থাকা জব্দ করা মালামাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। বুধবার (৮ জুলাই) বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত আইন সচিবকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) একজন প্রতিনিধি, কোস্ট গার্ডের একজন প্রতিনিধি, ঢাকা মহানগরের সরকারি কৌঁসুলি, রিট আবেদনকারীদের একজন আইনজীবী, অ্যাটর্নি জেনারেলের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।আদালত কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে মালখানা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের অগ্রগতি ও সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। 

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি সারা দেশের থানা ও আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত মামলার আলামতের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশের মহাপরিদর্শককে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী সারা দেশের মালখানা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থা ও অবহেলাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন থানা ও মালখানায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের জব্দ করা যানবাহন ও অন্যান্য আলামত যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন এবং ঢাকার ১০টি থানার মালখানার আলোকচিত্রও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিবাদী করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম