৩ জুল, ২০২৬

আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারীদের একজন গ্রেপ্তার

আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারীদের একজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে অপহরণের শিকার হওয়া সুখরঞ্জন বালীর ঘটনায় জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত রাতে ডিবি পুলিশ ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোকলেসুর রহমান এবং তিনি পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত। তবে তদন্তের স্বার্থে তাকে ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফাই সাক্ষ্য দিতে আসার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকেই আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালী। পরবর্তীতে জানা যায়, সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে সীমান্ত পার করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছিল এবং সেখানে অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে ভারতের একটি কারাগারে দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্দি জীবন কাটাতে হয়।

এই চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনায় গত ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন ভুক্তভোগী সুখরঞ্জন বালী। মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় এবার ডিবি পুলিশের অভিযানে এই প্রথম কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করা হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র:বাসস

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

ছবি: সংগৃহীত 

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সরকার নতুন আইন কার্যকর করেছে। প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ বাতিল করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে নতুন আইন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) আইনটি গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন ও স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ও ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো কিংবা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার এবং জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।

এছাড়া অনলাইন বেটিং পরিচালনা, বুকমেকার হিসেবে কাজ করা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল কার্যক্রমে অংশ নেওয়া গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে, সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি, হাওলা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনেও বিচার করা যাবে।

আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিতে পারবেন। জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার বা সার্ভার অবকাঠামোও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

কোনো কোম্পানি, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়ী করা হবে। আদালত প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশও দিতে পারবেন।

আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে জব্দ করতে পারবেন।

অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ,

এনআইডি-সিম-এমএফএস সংযুক্তি ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, নির্বাচন কমিশন, সিআইডি ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।

নতুন আইন কার্যকরের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক আমলের প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলো। তবে, পুরোনো আইনের অধীনে চলমান মামলাগুলো নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

এবার বিস্ফোরক আইনে হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

এবার বিস্ফোরক আইনে হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

ছবি: সংগৃহীত 

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে এবার বনানী থানায় করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য ৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 

বনানী থানার এ মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে তাদের শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়।

এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। ওই রায় দেওয়ার সাত দিন পর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।

অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা কারাগারে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত 

মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আশিকা সুলতানাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জূলাই) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন দিদারুল আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। রবিবার তাকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। 

দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মিরপুর মডেল থানার এসআই আল মামুন হোসেন।  

আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এই আসামি এই মামলাসহ বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের ব্যাপারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন হতে পারে। জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে আসামির পক্ষে কোনও আবেদন ছিল না জানান এসআই রফিকুল ইসলাম।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুন মিরপুর ১ নম্বরের অ্যাপেক্স শোরুম সংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনের রাস্তায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৪০ থেকে ৫০ জন সরকারবিরোধী মিছিল করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত আসামিরা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন রেখে পালিয়ে যায়। 

পরে ভিডিওতে দেখা যায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিছিল করেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। 

বিডিএলপিবি/এমএম

শাপলা চত্বরের ঘটনায় ইনুর সম্পৃক্ততা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

শাপলা চত্বরের ঘটনায় ইনুর সম্পৃক্ততা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

ছবিঃ সংগৃহীত

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, এ মামলায় তাকে আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং তদন্তে ইনুর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

তিনি জানান, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ও ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গেল বছরের ২৬ নভেম্বর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

এদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ৩০ জুন রায় হয় জাসদ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর। রায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবার মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু। 

বিডিএলপিবি/এমএম 

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ খণ্ড: পাঁচ বছর পর স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ খণ্ড: পাঁচ বছর পর স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত 

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১৬ এর বিচারক নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে লাশ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ফাতেমাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের আমতলী এলাকায় একটি নীল রঙের ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটি ব্যাগ থেকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা এবং কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। দুই দিনে পৃথক স্থান থেকে মরদেহের ছয়টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। তদন্তের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে ফাতেমা পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ, অর্থ বণ্টন এবং স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিকল্পনা করে অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করার পর তাকে জবাই করেন এবং মরদেহ ছয় টুকরো করেন।

এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর ফাতেমা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

বিডিএলপিবি/এমএম

২ জুল, ২০২৬

এমপিপুত্রের চাঁদাবাজির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন

এমপিপুত্রের চাঁদাবাজির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন

ছবিঃ সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজির অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান দুদক চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন। আবেদনে খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের অনুসন্ধান চাওয়া হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, এমপিপুত্র সজীবকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে দেওয়ার বিষয়ে ২২ জুন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তাতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির এমপি আজহারুল ইসলামের ছেলে সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২১ জুন গভীর রাতে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ওই এলাকার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে তাকে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একটি বড় শিল্প গ্রুপের গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে সজীবের লোকজন। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই শিল্প গ্রুপের বাইরেও বিভিন্ন কারখানার পণ্যবাহী গাড়ি আটকে দিয়ে টাকা আদায় এবং ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। সজীব জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকলেও হেফাজতে নেওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সালাহ উদ্দিন রিগ্যান বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় জাতীয় দৈনিকের পাতা জুড়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও অনুসন্ধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেমন, দুদকের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষুণ্ন করে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং রাজনীতিকে জনগণ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার মনে করে।

বিডিএলপিবি/এমএম