‘ম্যাগনেট পিলার’ পাওয়ার আশায় এক ব্যবসায়ীর নগদ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং আরও ১৫ কোটি টাকার জমি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান আসামি শারমিন আক্তার একা। সেই আসামি প্রকৃত আসামি কিনা, তা যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলম এ আবেদন করেন।
এদিন
আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে তোলা হয় তাকে। শুনানি
সময় আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসাইন আদালতকে জানান, এই আসামি আসল
আসামি নন। তিনি আসল আসামির পক্ষে প্রক্সি দিয়েছেন। এরপর আদালত বলেন, এটা গর্হিত অপরাধ। নথি দেখে আদেশ হবে জানিয়ে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।
আদালত
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি
সময় হংকংয়ে কাটানো ব্যবসায়ী আজিজুল
আলম কথিত ‘ম্যাগনেট পিলার’ পাওয়ার আশায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায়
২০ কোটি টাকা এবং আরও ১৫ কোটি টাকা
মূল্যের জমি ‘কালো জাদু’র খপ্পরে পরে
হারিয়েছেন বলে কথিত এক ফকিরসহ ২৪
জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। প্রতারণার এ মামলায় প্রধান
আসামি মো. মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকিরের স্ত্রী এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি
শারমিন আক্তার একা ও ১৪ নম্বর
আসামি লাইলী শাহনাজ খুশি (একার মা) ওরফে মুন্নি গত ১২ মে
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে ১৪ মে মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল
আলম আসামিদের দশ দিনের রিমান্ড
চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানিকালে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আদালতকে পৃথক আবেদন দিয়ে জানান, কাঠগড়ায় আসামি শারমিন আক্তার একা প্রকৃত পক্ষে আসামি নন। পরে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামি শনাক্ত করে ৩ দিনের মধ্যে
প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
তবে
আসামি জেল হাজতে আটক থাকায় আসামি প্রকৃত পক্ষে শারমিন আক্তার একা কিনা তা যাচাইয়ের জন্য
আসামির এনআইডি, পাসর্পোট, শিক্ষাগত সনদপত্র ও ফিঙ্গার প্রিন্ট
সংগ্রহ করার জন্য আদালতের কাছে গতকাল রোববার সাত দিনের সময় চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এবং আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আজ পাঁচ দিনের
রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়।
মামলার
অভিযোগে এ ব্যবসায়ী উল্লেখ
করেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মিজান নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে
এই চক্রের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ব্যবসায়ীর।
চক্রের সদস্যরা তাকে জানায়, তাদের কাছে অলৌকিক ক্ষমতার প্রাচীন ম্যাগনেট পিলার আছে, যা বিদেশে ১০০
বিলিয়ন ডলারে বিক্রি সম্ভব। প্রধান আসামি সোহেল ফকির তার সুন্নতি লেবাস ও চটকদার কথায়
ব্যবসায়ীর বিশ্বাস অর্জন করেন।
বিডিএলপিবি/এমএম