১৪ সেপ, ২০২৬

৮ মাসে আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

৮ মাসে আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে আপিল বিভাগে মোট ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে নতুন মামলা হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি। ফলে এ সময়ে দায়েরের তুলনায় ১ হাজার ৯৯৭টি মামলা বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৮৫৯টি, ৫ হাজার ৪০৬টি, ৫ হাজার ৩৪৯টি, ৫ হাজার ৩১২টি এবং ৭ হাজার ৫৫৩টি। অর্থাৎ, ওই পাঁচ বছরে গড়ে বছরে প্রায় ৬ হাজার ৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বিপরীতে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

তবে এই নিষ্পত্তির সত্ত্বেও আপিল বিভাগে বিপুল সংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।  চলতি বছরের আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন (পেন্ডিং) মামলার সংখ্যা ৩৯,৫৫০টি।


বিডিএলপিবি/এমএম


নগদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ আদালতের

নগদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ আদালতের

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি ভাতার শত শত কোটি টাকা সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (পরিবর্তিত নাম নগদ লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ মিশুক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামীয় ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

​রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। যার অভিহিত মূল্য ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ১ এপ্রিল ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত 'নগদ'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ৩২,৬৫০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি সরকারি ভাতা বিতরণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এ টাকা সোনালী ব্যাংক হয়ে ‘নগদ’-এর ই-মানি হিসেবে গ্রাহকের ওয়ালেটে যেত। কিন্তু যেসব গ্রাহক ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে ভাতা তোলেননি (মৃত্যু, পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে), তাদের ওয়ালেট থেকে সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত ই-মানি সরাবরি চুরি করা হতো।

​প্রথমে এই অর্থ ২৪,১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তা ওয়ালেটে এবং পরবর্তীতে ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও (DSO) ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ট্রাস্টকাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ১,৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪,২২৯ টাকা রিফান্ডের নামে আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে কেবল ৮টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমেই আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ১,৩২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়াদে আত্মসাৎ করা টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে 'লেয়ারিং' করে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের নামীয় ১৬ কোটি ৮৪ লাখের বেশি শেয়ার কেনা হয়েছে। এসব শেয়ার মিয়ার্স হোল্ডিংস লিমিটেড (১১ কোটি ৮৬ লাখের বেশি শেয়ার), ফিনটেক হোল্ডিংস লিমিটেড (২ কোটি ৫৭ লাখের বেশি শেয়ার), ব্লু ওয়াটার হোল্ডিংস লিমিটেড, সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, চৌধুরী ফ্রন্টিয়ারসহ ১০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ধারণ করা আছে।

​দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা এসব শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর করে টাকা বিদেশে পাচারের অপচেষ্টা করছেন। শেয়ারহোল্ডারদের বিদেশি প্রতিষ্ঠান/নাগরিক হিসেবে দেখানো হলেও বিদেশ থেকে শেয়ার ক্রয়ের জন্য টাকা আসার কোনো তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী এসব শেয়ার দ্রুত ফ্রিজ করা না হলে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হতো। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশের কপি নিবন্ধক (যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহ), 'নগদ'-এর প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন (এমএফএস) হিসেবে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডকে মাস্টার এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী রাজস্ব ভাগাভাগি হওয়ার কথা ছিল- ডাক বিভাগ ৫১% এবং থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস ৪৯%। পরবর্তীতে মারাত্মক অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে। তানভীর আহমেদ মিশুক ও তাঁর স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো (১৩.০৯.২০২৬)

জাল রসিদে টাকা আত্মসাৎ: ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সাবেক হিসাবরক্ষকের ১৪ বছর জেল

জাল রসিদে টাকা আত্মসাৎ: ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সাবেক হিসাবরক্ষকের ১৪ বছর জেল

ফাইল ছবি
দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের আওতাধীন কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের বহিষ্কৃত হিসাবরক্ষক ইমামুল বাশার ওরফে মিলনের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের স্টেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার রায়: সরকারি কর্মচারী হয়ে অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এই টাকা কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাল কাগজপত্র তৈরি করে সেটি আসল হিসেবে ব্যবহারের দায়ে তাকে আরো ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পৃথক দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে। এ ক্ষেত্রে তাকে সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট: মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তিনি ভুয়া জমা ভাউচার তৈরি করে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত ভূমি সংস্কার বোর্ড থেকে ঋণ আদায় বাবদ মোট ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ ভাওয়াল রাজ এস্টেটের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি।

এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৯ জুন ইমামুল বাশারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ মামলার তদন্ত শেষে কমিশনের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরের বছরের ১১ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালতে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: কালের কণ্ঠ (১৩.০৯.২০২৬)

বার কাউন্সিলের জরুরি নির্দেশনা: এক সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে সর্বোচ্চ ৮ জন শিক্ষানবিশ গ্রহণ করা যাবে

বার কাউন্সিলের জরুরি নির্দেশনা: এক সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে সর্বোচ্চ ৮ জন শিক্ষানবিশ গ্রহণ করা যাবে

ফাইল ছবি
একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর অধীনে একই সময়ে সর্বোচ্চ আটজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী (Pupil) গ্রহণ করা যাবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এছাড়া, নির্ধারিত ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল যথাযথভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রশাসন শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, Bangladesh Legal Partitioners and Bar Council Order and Rules, 1972 এর বিধি 60(3) (i) অনুযায়ী একজন বিজ্ঞ আইনজীবী একই সময়ে নির্ধারিত সংখ্যক অর্থাৎ ৪ (চার) জনের অধিক শিক্ষানবিশ গ্রহণ করতে পারেন না। একই সঙ্গে প্রত্যেক শিক্ষনবিশকে নির্ধারিত সময়কাল অর্থাৎ ৬ (ছয়) মাসের Pupilage যথাযথভাবে সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একজন বিজ্ঞ আইনজীবী একইসময়ে সর্বোচ্চ ৮ (আট) জন শিক্ষানবিশ গ্রহণ করতে পারবেন মর্মে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আরও বলা হয়, শিক্ষানবিশকালে একজন নবীন আইনজীবীকে একজন অভিজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আদালতের কার্যক্রম, বিচারিক প্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনা, পেশাগত আচরণ, নৈতিকতা এবং আইনজীবী হিসেবে প্রয়োজনীয় আইন শিক্ষা, ব্যবহারিক ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করাই Pupilage এর মূল উদ্দেশ্য।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশগণ সংশ্লিষ্ট সিনিয়রের চেম্বারে ও তত্বাবধানে নিয়মিতভাবে উপস্থিত থেকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষন গ্রহণ না করেই নির্ধারিত শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করছে বলে বার কাউন্সিল লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির নিকট প্রতিয়মান হয়েছে। এই ধরনের প্রক্রিয়ায় Pupilage এর মূল উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নবীন আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় আইন শিক্ষা গ্রহণ, ব্যবহারিক জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক মানদন্ড অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

পরিশেষে, প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও পেশাগত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক নির্ধারিত ৬ (ছয়) মাসের Pupilage কার্যকর ও অর্থবহভাবে সম্পন্ন করার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত সকল আইনজীবী ও শিক্ষানবিশকে Bar Council Legal Education কমিটির নির্দেশক্রমে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৩ সেপ, ২০২৬

কিউরেটিভ পিটিশন (Curative Petition) কী এবং কেন?

কিউরেটিভ পিটিশন (Curative Petition) কী এবং কেন?

ফাইল ছবি
সংজ্ঞা: পিটিশন (Curative Petition) হলো সুপ্রিম কোর্টের কোনো চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের জন্য দায়ের করা আদালতের সর্বশেষ আইনি প্রতিকার বা হাতিয়ার। সাধারণত আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর মামলার বিচারিক ত্রুটি বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এই আবেদন করা হয়। এটিই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার শেষ সুযোগ। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ২০০২ সালে রূপা অশোক হু্রা বনাম অশোক হু্রা  (Rupa Ashok Hurra vs. Ashok Hurra) মামলায় এই ধারণার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কিউরেটিভ পিটিশনের উদ্দেশ্য: বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো মারাত্মক ভুল বা ন্যায়পরায়ণতার লঙ্ঘন (Miscarriage of justice) রোধ করা।

শর্ত: কিউরেটিভ পিটিশনে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হয় যে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার লংঘিত (miscarriage of justice) হয়েছে, বিচারকার্যে পদ্ধতিগত (Procedural) বা আইনগত বড় ধরনের ভুল হয়েছে কিংবা বিচারকের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ ছিল।

বাংলাদেশে কিউরেটিভ পিটিশনের অবস্থান:
ভারতে কিউরিটিভ পিটিশন কে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশে সেভাবে এর প্রচলন নেই। যে উদ্দেশ্যে কিউরেটিভ পিটিশানের উৎপত্তি সেই একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সংবিধানে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসে কিছু বিকল্প ও শক্তিশালী পদ্ধতি রয়েছে। সকল আইনকানুনের পরেও আপিল বিভাগের নিজস্ব সহজাত ক্ষমতা (Inherent Power) রয়েছে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিজস্ব রুলস (Appellate Division Rules, 1988) এর Order XLVII (47)-এর Rule 6 এর মাধ্যমে আপিল বিভাগ কে এই ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখিত রুলস অনুযায়ী আপিল বিভাগে এর আগে পিটিশন দাখিল এবং সেটা গ্রহণ করার নজির রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

এবার প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে রিট দায়ের

এবার প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
যুবসমাজের ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধ’ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার কারণ দেখিয়ে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক বিষয়বস্তু দেখা যাচ্ছে। এসব কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে ‘মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলছে। মূলধারার এসব মাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়কে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রিটে বলা হয়, এ ধরনের কনটেন্ট যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে সমাজে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অপরাধ বৃদ্ধিতেও এসব বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলায় বলা হয়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। জননৈতিকতা ধ্বংসকারী কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচার করা এই অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পেতে পারে না বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন এবং কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে রিটকারী উল্লেখ করেছেন।আবেদনে কেবল প্রেমনির্ভর কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারিরও আর্জি জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে এ রিট মামলা করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার


বিচারপতি-অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র বাতিল চেয়ে রিট দায়ের

বিচারপতি-অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র বাতিল চেয়ে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা হ্রাস করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

শিশির মনির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ওয়ারেন্ট অব প্রেসেডেন্স অনুযায়ী ৬ নম্বর ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা পান, কিন্তু তাদের সচিবদের সঙ্গে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই রকম আরেকটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট সুয়োমোটো রুল জারি করে তার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরবর্তীকালে ৯ মার্চ ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন পরিপত্র জারি করা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: অনলাইনে প্রদত্ত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার