২৮ আগ, ২০২৬

আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের ৬৪ জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। এসব লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এতে বলা হয়, সরকার তথা মন্ত্রিপরিষদ দেশে উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যাবলির জন্য সমষ্টিগতভাবে জাতীয় সংসদ ও জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে, যে-কোনো ক্ষেত্রে এই রুলস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন।

আরও বলা হয়, এ বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ থেকে দেওয়া রিট পিটিশন মামলার (নং ৩৫১২/২০০৩) রায়ের মর্মমতে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। সেজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংবিধান প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করে মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তের আলোকে, সরকার এসব মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে নিচের জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রদান করল।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (২৭.০৮.২০২৬)

২৭ আগ, ২০২৬

আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগে মামলা

আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগে মামলা

কোলাজ ছবি
ঢাকা বারের আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার গ্রহণ করতে কোতায়ালী থানাকে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মেট্রোপিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই আদেশ দেন।

ভুক্তভোগী আইনজীবী মো: মোহাইমিনুল ইসলাম খান(মেহেদী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এদিন আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হলে বিচারক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতায়ালী থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

আইনজীবী মোহাইমিনুল বলেন, মামলায় আসামিরা হলেন-উম্মে হাফসা তন্বী, হুমায়ুন কবির, আশরাফুল আলম খান, মাহবুব আলম খান, শাহাদাত হোসেন, জিদান হাং, মো: মোহিবুল্লাহ, রায়হান, খালেদ সাইফুল্লা নাঈম, আরমান হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন। 

মামলার ঘটনা: মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে বাদী ও আসামি পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের পর আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তার আইনজীবী আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বাদীর বাবা হুমায়ুন কবির ও মামা মো. আশরাফুল আলম খানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন বহিরাগত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী হারুন অর রশিদ বলেন, আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বহিরাগতরা আসামি ও তার আইনজীবীকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় আইনজীবীর পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও আইনজীবীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীদের কয়েকজন পালিয়ে যান। এ সময় কয়েকজনকে আইনজীবীরা আটক করে আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান। পরে মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হামলায় আহত আইনজীবী মোহাইমিনুল ইসলাম খান ও আসামি আবির ইবনে হারুনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবলমাত্র প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের ব্যাপক আধিক্য থাকায় সংস্কৃতিতে চরম সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে- এমন দাবি করে কেবল প্রেম ও রোমান্স নির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবলমাত্র প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের ব্যাপক আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কনটেন্টের ক্রমাগত সম্প্রচারের ফলে একটি চরম সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যে কারণে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারের প্রতি মারাত্মকভাবে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এছাড়া এসব নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামোকে চরমভাবে ধ্বংস করছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সামাজিক নৈরাজ্য সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে এবং দেশে পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যুবসমাজ এবং সাধারণ জনগণকে এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখা সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এখন চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে আইনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। অন্যদিকে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও, তা শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে। এছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, দেশের প্রকৃত সংস্কৃতি রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কেবলমাত্র প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এর পরিবর্তে দেশপ্রেমিক ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষা ভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিতে হবে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেবল প্রেমভিত্তিক সিনেমা ও নাটকের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা ভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচারে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে, জননৈতিকতা ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭.০৮.২০২৬)

আপিল বিভাগে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

আপিল বিভাগে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগ তার শপথ গ্রহণের তারিখ হতে কার্যকর হবে।

বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি'র পরিচিতি: বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স (এমএসএস) এবং আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৯ সালের ৩ এপ্রিল জেলা আদালত এবং ১৯৯২ সালের ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।পরবর্তীতে তিনি ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে উন্নীত হন এবং ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল একই বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি তার দীর্ঘ বিচারিক জীবনে ওয়ার্ল্ড পিস ফোরাম আয়োজিত আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সফরে তিনি কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, হংকং ও ভারত ভ্রমণ করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

সালমান শাহ হত্যা মামলা: পাঁচ দিনের রিমান্ডে ডন, ডনকে দুয়োধ্বনি-গালাগাল ও সামিরাকে আটকের দাবি  সালমান ভক্তদের

সালমান শাহ হত্যা মামলা: পাঁচ দিনের রিমান্ডে ডন, ডনকে দুয়োধ্বনি-গালাগাল ও সামিরাকে আটকের দাবি সালমান ভক্তদের

কোলাজ ছবি
প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত চত্বরে ডনকে দুয়োধ্বনি-গালাগাল সালমান ভক্তদের: রিমান্ড শুনানি ঘিরে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে অবস্থান নেন সালমান শাহর ভক্তরা। সকাল ১০টা থেকে তারা মানববন্ধন করেন। পরে ডনকে হাজতখানা থেকে আদালতে নেওয়ার সময় এবং শুনানি শেষে বের করে আনার সময় তাকে দেখে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন ভক্তরা। একপর্যায়ে কয়েকজনকে গালাগাল করতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত ডনকে সরিয়ে নেয়।

সামিরাকেও গ্রেফতারের দাবি নায়কের ভক্তদের: বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে শুনানির আগে কারাগার থেকে ডনকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।  ডনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সালমান শাহ হত্যার বিচার দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেছেন তার ভক্তরা। দুটি ব্যানার নিয়ে সকাল থেকে ভক্তরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। ভক্তদের ব্যানারে ‘প্রিয় নায়ক ৩০ বছর ধরে কবরে, তার খুনিরা কেন বাইরে?’- এমন প্রশ্নসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে।

মামলার ধারাবাহিকতা: গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অত:পর, গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ২৩ আগস্ট মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ট্রাইব্যুনাল চেয়ে আইনমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ট্রাইব্যুনাল চেয়ে আইনমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

ছবি: সংগৃহীত 
প্রবাসীদের বাংলাদেশে থাকা বাড়িঘর, অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতা দ্রুত সমাধান করে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

আইনমন্ত্রীকে স্মারকলিপি: মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন— অ্যাডভোকেট মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, এ এইচ ইমরুল কায়সার, মো. মাহবুবুল ইসলাম, রিপন বাঁড়ে, মো. মজিবুর রহমান, সৈয়দা শাহিন আরা লাইলি, নাছরিন সুলতানা।

যা রয়েছে স্মারকলিপিতে: প্রবাসীরা তাদের আয় থেকে বাংলাদেশে যে অর্থ প্রেরণ করেন, সেই বৈদেশিক মুদ্রাই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চাবিকাঠি। কিন্তু প্রবাসীরা বাংলাদেশে ভ্রমণকালে বিভিন্ন হয়রানির স্বীকার ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। শুধু তাই নয়, প্রবাসীদের বাড়িঘর, সম্পত্তি অনেক ক্ষেত্রে নিজ গ্রামের প্রভাবশালীরা জোর পূর্বক দখল করে রাখেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আইনগত প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রবাসীরা। এ কারণে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকে তাদের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছেন। প্রবাসীদের এ সব সমস্যা সমাধানে দ্রুত সময়ে প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করার দাবি জানানো হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দেশ রূপান্তর (২৬.০৮.২০২৬)

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

ফাইল ছবি
বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির অভিযোগে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের করা ১৫টি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট: চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো দরপত্র ডেকে ‘অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির’ অভিযোগে ২০০৭ সালের মার্চে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে এবং প্রকৃত দামের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি করে আসামিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অভিযোগপত্রে আরও ১৪ আসামির নাম যুক্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগ গঠন: পরে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ-৩ আদালতের তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন। অভিযোগ গঠনের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘পরিত্যক্ত বাড়ি নম্বর এনডব্লিউ (আই)-৬, রোড নম্বর-৫৩, গুলশান, ঢাকার নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাড়ি নম্বর কে-৬, সড়ক নম্বর-৮৯, গুলশান, বাড়ি নম্বর সিএনজি-১৬, সড়ক-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর বি-৫, সড়ক নম্বর-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর-১২০, সড়ক-২, পুরাতন ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-১৩৯, সড়ক নম্বর-২, ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২, ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/বি (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১৪ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/বি, সড়ক নম্বর-১৪ ধানমণ্ডি, ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর ও ১৮ নম্বর কলেজ স্ট্রিট, বাড়ি নম্বর-৭/১, নওরতন কলোনি, শান্তিনগরসহ সর্বমোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি রাজউক কর্তৃক সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের পাইয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে নিজে লাভবান হয়ে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার অর্থের ক্ষতি সাধন করেন। সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ‘দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা না করে লাভবান ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের লাভবান করার জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দর বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে রাজউক কর্তৃক সাজানো কম মূল্যের দরপত্রের মাধমে মূল্যায়ন না করে বিক্রির অনুমোদন করেন। সুতরাং, মির্জা আব্বাসসহ অপর আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ মামলার অভিযোগ থেকে আসামিদের খালাস দেন আদালত।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭.০৮.২০২৬)