৬ জুল, ২০২৬

গুলশানে সরকারি প্লট দখল: সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

গুলশানে সরকারি প্লট দখল: সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ২৭ কাঠার সরকারি প্লট দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদী, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ আদেশ দেন।
বিচারক আগামী ১৯ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– রাজউকের প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক উপপরিচালক আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান এবং তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার।

মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নম্বরের ২৭ কাঠার পরিত্যক্ত সরকারি প্লটটি অবমুক্ত না করেই জাল কাগজপত্র তৈরি ও ভুয়া রেকর্ড উপস্থাপনের মাধ্যমে দখলের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের পথ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথমে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তখন সালাম মুর্শেদীর নাম মামলায় ছিল না। পরে তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তাকে অন্তর্ভুক্ত করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত 

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (৬ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ।আলভীর পক্ষে আইনজীবী শেখ রোবায়েত ইসলাম এই জামিন আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ জামিনের বিরোধিতা করেন।

এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ২১ জুন আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। ২৪ জুন শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৩০ জুন তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। একই মামলায় গত ৪ জুন আত্মসমর্পণের পর জামিন পান আলভীর মা নাসরিন সুলতানা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে ১২টার দিকে পল্লবী ডিওএইচএসের বাসা থেকে ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিক ও স্বজনরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

ইকরার মৃত্যুর পর ওই রাতেই তার বাবা কবির হায়াত খান মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নানা ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি ৮ জুলাই

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি ৮ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে বুধবার (৮ জুলাই) নির্ধারণ করেছেন আদালত। মামলার মূল নথি আদালতে না থাকায় সোমবার (৬ জুলাই) এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘মামলার মূল নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানিতে গেছে। এজন্য আজ গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়নি। আগামী বুধবার (৮ জুলাই) ভার্চুয়ালি শুনানি হবে।’

শুনানিকে কেন্দ্র করে এ বি এম খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে ২ জুলাই বনানী থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত তখন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। গত ১৭ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তার আইনজীবীরা দাবি করেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর আইনি বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

পরে গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় ৩০ জুন হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতও তার জামিন বহাল রাখেন।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পাঁচ মামলাসহ মোট আটটি মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। এর মধ্যেই বনানী থানার আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। পরে উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

পতেঙ্গায় ধর্ষণ মামলায় ছয় বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

পতেঙ্গায় ধর্ষণ মামলায় ছয় বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় বছর পর মো. রাজীব (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক এস এম জিয়াউর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি ট্রাইব্যুনালে  উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী তার মায়ের সঙ্গে নগরীর পতেঙ্গা থানার কাটঘর হিন্দুপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে আসামি রাজীব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তরুণীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে রাজীব ওই বাসায় যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে তরুণীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর রাজীব ঘরের ওয়াশরুমে ঢুকলে ভুক্তভোগী বাইরে থেকে দরজা আটকে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় লোকজন এসে রাজীবকে ওয়াশরুম থেকে বের করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২০ সালের গত ৯ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আসামি মো. রাজীবকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

ওয়ার্কশপে হাত হারানোর ৬ বছর পর ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা বুঝে পেলো নাহিদ

ওয়ার্কশপে হাত হারানোর ৬ বছর পর ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা বুঝে পেলো নাহিদ

ছবি: সংগৃহীত 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ১০ বছর বয়সী শিশু নাহিদের হাত হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাকি ১৫ লাখ টাকাও বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাজী ইয়াকুব। বর্তমানে নাহিদের বয়স ১৬ বছর।

সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে মোট ৩০ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে নাহিদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।

পরে ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ৬ বছরের আইনি লড়াই আজ সফল হলো। আদালতের রায়ে মোট ৩০ লাখ টাকা পেলো কিশোর নাহিদ। আজ আরও ১৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলো নাহিদ। এছাড়া পড়ালেখার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে পাবে নাহিদ।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের আদেশের পরও নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় কারখানার মালিক হাজী ইয়াকুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

একই বছরের ১২ জানুয়ারি হাত হারানো নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট করে দিতে বলা হয়। ১০ বছর পর নাঈম হাসান নাহিদ ডিপোজিটের টাকা উত্তোলন করতে পারবে। একইসঙ্গে শিশুটি এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়। ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিককে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। সেদিন আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও অ্যাডভোকেট মো. বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তামজিদ হাসান।

২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর শিশু নাঈম হাসানকে ক্ষতিপূরণ দিতে রুলের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন নাঈম হাসানের বয়স ছিল তখন ১০ বছর। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতা ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় ডান হাতটি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিশুটির বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে শিশুটিকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা নিজ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান করতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

চট্টগ্রাম বারের ৭৪০ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত

চট্টগ্রাম বারের ৭৪০ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 

বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া ফি দীর্ঘদিন পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ৭৪০ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁদের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত (সিজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের ‘লিন’ স্থগিতেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সমিতির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চিটাগং ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের মিউচুয়াল বেনিফিট ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ বিধিমালা, ১৯৯৪’-এর ৬ নম্বর বিধির আলোকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব সদস্য টানা তিন বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সমিতির নির্ধারিত বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া ফি পরিশোধ করেননি, তাঁদের জন্য ২০ শতাংশ জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধের শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে ৭ জুন ২০২৬ এবং ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে পৃথক নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়।

সমিতি জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পর অনেক সদস্য তাঁদের বকেয়া পরিশোধ করে সদস্যপদ নিয়মিত করলেও ৭৪০ জন সদস্য নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি। এ কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ওই ৭৪০ জন সদস্যের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ‘লিন’ও স্থগিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া পরিশোধ না করা সদস্যদের নামে যদি সমিতির কোনো চেম্বার বরাদ্দ থেকে থাকে, তবে বকেয়া না দেওয়ার কারণে সেই চেম্বার বরাদ্দও অবিলম্বে বাতিল করা হবে। তবে যেসব সদস্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বকেয়া পরিশোধ করেছেন কিন্তু তাঁদের নাম প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁদের দ্রুত সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে জমার রসিদ প্রদর্শনের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সমিতির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বকেয়া চাঁদা আদায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সমিতির আর্থিক শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ছাগল কান্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ২১ জুলাই

ছাগল কান্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ২১ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয় আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন বিজ্ঞ আদালত।

রোববার (৬ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি. এম. তারিকুল কবীর আদালতে অভিযোগ বিষয় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে এ বিষয় আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়। মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক।

এতে উল্লেখ করা হয়, মো. মতিউর রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স- বাসস