২৮ জুন, ২০২৬

স্ত্রী হত্যা মামলার ১১ বছর পর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন স্বামী

স্ত্রী হত্যা মামলার ১১ বছর পর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন স্বামী

ছবিঃ সংগৃহীত


রাজধানীর উত্তরায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে অভিযুক্ত স্বামীকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামির আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেয়।


আদালতে আসামি মশিউর রহমান সুখনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মো. এহসান হাবিব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ এজাজ কবির।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির জেরে স্ত্রী সোনিয়াকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ এনে ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন মৃতের ভাই আব্দুল্লাহেল রাফী। এর আগে, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই সোনিয়ার মৃত্যু হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শরীফ উদ্দীন অভিযুক্ত স্বামী মশিউর রহমান সুখনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন।


রায়ের পর আইনজীবী মো. এহসান হাবিব বলেন, মামলায় একাধিক অসংগতি ছিল, যা খালাসের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোনিয়ার মৃত্যু ঘটে ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই, কিন্তু মামলা করা হয় ১৩ দিন পর, ৮ আগস্ট। তিনি আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে একজন চিকিৎসক মৃত্যু সনদ দিলেও তাকে মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন গড়মিল ছিল বলে তিনি দাবি করেন।


আইনজীবী আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যুর পর বাদীপক্ষ তাকে স্বাভাবিকভাবে তার বাবার বাড়িতে দাফন করে। কিন্তু ১৩ দিন পর তারা ২৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। তার দাবি, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে আসামিকে খালাস দিয়েছে।



বিডিএলপিবি/এমএম

গৃহকর্মীকে নির্যাতন মামলায় স্ত্রীসহ মানবাধিকারকর্মীর ৭ বছরের সাজা

গৃহকর্মীকে নির্যাতন মামলায় স্ত্রীসহ মানবাধিকারকর্মীর ৭ বছরের সাজা

ছবিঃ সংগৃহীত

আট বছর আগে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় ১৪ বছরের গৃহকর্মী হাওয়া আক্তারকে নির্যাতনের মামলায় মানবাধিকারকর্মী মোস্তাকিন শরীফ এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রবিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শাহানাজ সুলতানা এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান সরকার বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে ক্ষত, রক্তাক্ত অবস্থায় হাওয়া আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ হাওয়াকে জিজ্ঞাসাবাদদ করলে সে জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে গৃহকর্মী হিসেবে ওই বাসায় কাজ করতো। কাজের ত্রুটির অজুহাতে তাকে সব সময় গালি-গালাজ, লোহার খুন্তি ও রড দিয়ে দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিতো। হাওয়াকে একজন ধরতো, আরেকজন মারতো। সে কান্নাকাটি করলে তারা হাসাহাসি করতো। হাওয়াকে তার পরিবার বা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দিতো না।

এ ঘটনায় খিলগাঁও থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ৩১ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ২২ অক্টোবর দুই জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই প্রশান্ত বালা।

অভিযোগপত্রে উঠে আসে নির্মম নির্যাতনের কথা। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা ২০১৮ সালের ৭ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হাওয়াকে আটকে রেখে লোহার খুন্তি, রড গরম করে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর পোড়া, জখম, গ্যাসের চুলার আগুনে চুল পুড়িয়ে দিতো। গরম চাকু দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে জখম করে সেখানে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিতো। শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে তার স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়।

২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে আজ সাজার রায় এলো।


বিডিএলপিবি/এমএম



সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ রিমান্ডে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল সরকার। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

উল্লেখ, গত ১৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অবৈধ মিছিল বের করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।  ঘটনার দিনই তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলা দায়ের করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

হাবিবুল আউয়ালকে কেন জামিন দেওয়া হবে না মর্মে হাইকোর্টের রুল

হাবিবুল আউয়ালকে কেন জামিন দেওয়া হবে না মর্মে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 

দিনের ভোট রাতে করাসহ প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

জামিন চেয়ে হাবিবুল আউয়ালের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (২৮ জুন) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আবেদনকারীকে (হাবিবুল আউয়াল) কেন জামিন দেওয়া হবে না- রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে গত মাসে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হাবিবুল আউয়াল। তার পক্ষে হাইকোর্টে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, এসএম শাহজাহান ও সারা হোসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. তায়্যিব-উল-ইসলাম সৌরভ।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ছফওয়ান।

প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে সাবেক তিন সিইসিসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ২০২৫ সালের ২২ জুন মামলাটি দায়ের করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান।


বিডিএলপিবি/এমএম

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ বার পেছাল, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১৫ জুলাই

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ বার পেছাল, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১৫ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে ১৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন।

আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) অভিযোগ সংযোজনের আদেশ দেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে একাধিকবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে।

ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ছয়জন পলাতক।
 
বিডিএলপিবি/এমএম

ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য রিট করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য রিট করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর


ছবি: সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম এবং প্রসিকিউশন দলের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক মামলার বিচার ও নিষ্পত্তি করেছে। তার ভাষায়, ট্রাইব্যুনালে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার এবং তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বিচার দ্রুতগতিতে, আইন অনুযায়ী এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ায় এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, যিনি এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তিনিও কিন্তু এর আগে এই ট্রাইব্যুনালের মামলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং কারও কারও ইন্ধনে ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও বিষয়টি উত্থাপন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন।

রিট আবেদনে আইনটির কয়েকটি নির্দিষ্ট বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থি। সেই কারণেই এসব বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা বিচারিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি ও দুই হত্যা মামলার রায় আজ

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি ও দুই হত্যা মামলার রায় আজ

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরো দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়  কাল রবিবার।

গত ১৫ জুন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গতকাল শনিবার প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের জানান, মামলার রায় ঘোষণা ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এ মামলার আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে পলাতক চারজন। তারা হলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে। গত ১৫ জুন তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

এরপর রায় ঘোষণার দিন ধার‌্য করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনায় চঞ্চল সরকারের মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে মামলার অভিযোগ থেকে তাঁর অব্যাহতি চান তিনি। তবে পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পুনর্সাক্ষ্যে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আনেন তিনি। চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এই আসামি।

আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলি; শিশু বাসিত খান মুসার (৭) মাথা ভেদ করে ওর দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামের আরও এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম