২৮ জুন, ২০২৬

স্ত্রী হত্যা মামলার ১১ বছর পর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন স্বামী

ছবিঃ সংগৃহীত


রাজধানীর উত্তরায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে অভিযুক্ত স্বামীকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামির আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেয়।


আদালতে আসামি মশিউর রহমান সুখনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মো. এহসান হাবিব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ এজাজ কবির।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির জেরে স্ত্রী সোনিয়াকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ এনে ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন মৃতের ভাই আব্দুল্লাহেল রাফী। এর আগে, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই সোনিয়ার মৃত্যু হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শরীফ উদ্দীন অভিযুক্ত স্বামী মশিউর রহমান সুখনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন।


রায়ের পর আইনজীবী মো. এহসান হাবিব বলেন, মামলায় একাধিক অসংগতি ছিল, যা খালাসের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোনিয়ার মৃত্যু ঘটে ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই, কিন্তু মামলা করা হয় ১৩ দিন পর, ৮ আগস্ট। তিনি আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে একজন চিকিৎসক মৃত্যু সনদ দিলেও তাকে মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন গড়মিল ছিল বলে তিনি দাবি করেন।


আইনজীবী আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যুর পর বাদীপক্ষ তাকে স্বাভাবিকভাবে তার বাবার বাড়িতে দাফন করে। কিন্তু ১৩ দিন পর তারা ২৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। তার দাবি, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে আসামিকে খালাস দিয়েছে।



বিডিএলপিবি/এমএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: