১৯ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচঃ আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচঃ আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জমজমাট এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইনজীবীদের মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় জয় পেয়েছে ব্রাজিল। ‘অ্যাডভোকেটস সুপ্রিম কোর্ট ব্যাচ-২২’-এর উদ্যোগে আয়োজিত বৃহস্পতিবারের (১৮ জুন) এই ম্যাচে ব্রাজিল ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে।

আইনজীবীদের পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে সুস্থ বিনোদন ও সৌহার্দ্য বাড়াতে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলা শুরুর পর থেকেই মাঠের ফুটবলীয় লড়াইয়ে মেতে ওঠেন কালো কোট ছেড়ে জার্সি গায়ে জড়ানো আইনজীবীরা।

ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্যাচ-২২ এর আইনজীবীরা বলেন, আদালত কক্ষের চেনা আবহ থেকে বেরিয়ে এসে এমন একটি ম্যাচ সবার মাঝে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা। 


বিডিএলপিবি/এমএম

স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরা আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত । 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। আদালত শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন দুপুর দেড়টার দিকে আদালতে আসেন জাহের আলভী। পরে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে শুনানি শুরু হলে কাঠগড়ায় দাঁড়ান এ অভিনেতা।

শুনানিতে জাহের আলভীর পক্ষে আইনজীবী ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া সহ অনেকেই শুনানি করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আবেদেনের শুনানি করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

 বাংলাদেশে মুসলিম আইনে দেনমোহর (মাহর): বাস্তবতা, আইনি কাঠামো ও প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশে মুসলিম আইনে দেনমোহর (মাহর): বাস্তবতা, আইনি কাঠামো ও প্রাসঙ্গিকতা

ছবিঃ সংগৃহীত 

দেনমোহর বা মাহর ইসলামি বিবাহ আইনের একটি মৌলিক ও অপরিহার্য বিধান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা স্ত্রীদের তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো। তবে যদি তারা স্বেচ্ছায় তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তাহলে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো।" এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট যে দেনমোহর কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি স্ত্রীর একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও ধর্মীয় অধিকার। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিধানটি কতটা মানা হচ্ছে, কোথায় ফাঁকি থাকছে এবং নারীর সুরক্ষায় এটি কতটা ভূমিকা রাখছে - সেটি আলোচনার দাবি রাখে।

দেনমোহরের সংজ্ঞা ও আইনি ভিত্তিঃ মুসলিম আইন বিশেষজ্ঞ মোল্লার ভাষায়, দেনমোহর হলো সেই অর্থ বা সম্পদ যা স্ত্রী বিবাহের কারণে স্বামীর কাছ থেকে পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে এখানে "বিনিময়" শব্দটি চুক্তি আইনের অর্থে ব্যবহৃত নয়। আব্দুর রহিম স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেনমোহর বিবাহচুক্তির প্রতিদান নয়, বরং এটি আইন কর্তৃক স্বামীর উপর আরোপিত একটি বাধ্যবাধকতা - স্ত্রীর প্রতি সম্মানের প্রতীক হিসেবে। এমনকি বিবাহের সময় দেনমোহর নির্ধারণ না হলেও বিবাহ বাতিল হয় না, বরং আইন নিজেই "যথাযথ দেনমোহর" নির্ধারণ করে দেয়। ফতোয়া-ই-কাজি খান বলে, "মাহর বিবাহের জন্য এতটাই অপরিহার্য যে চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলেও আইন তা ধরে নেয়।"

দেনমোহরের উদ্দেশ্যঃ দেনমোহরের তিনটি মূল উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, স্ত্রীর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন। দ্বিতীয়ত, স্বামীর খেয়ালখুশিমতো তালাক দেওয়ার প্রবণতায় লাগাম টানা - কারণ তালাক দিলে সম্পূর্ণ দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হয়, ফলে স্বামী সহজে তালাকের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তৃতীয়ত, বিবাহ বিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে তিনি অসহায় না হয়ে পড়েন।

দেনমোহরের প্রকারভেদঃ মুসলিম আইনে দেনমোহর দুই ভাগে বিভক্ত।

নির্ধারিত দেনমোহর (আল-মাহর-আল-মুসাম্মা): বিবাহের সময় যে দেনমোহর নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্ধারিত দেনমোহর বলে। এটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত -

তাৎক্ষণিক দেনমোহর (মুয়াজ্জাল): এটি চাওয়া মাত্রই পরিশোধযোগ্য। স্ত্রী তাৎক্ষণিক দেনমোহর না পেলে স্বামীর সাথে বসবাস করতে অস্বীকার করতে পারেন এবং এই অবস্থায় স্বামী তাকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকবেন। বিবাহ সম্পন্ন না হলে স্বামী যদি দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মামলা করেন, তাহলে তাৎক্ষণিক দেনমোহর অপরিশোধিত থাকলে সেটি সম্পূর্ণ আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। সীমাবদ্ধতার মেয়াদ তিন বছর, যা দাবি করার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

বিলম্বিত দেনমোহর (মুওয়াজ্জাল): এটি তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধযোগ্য হয়। বিলম্বিত দেনমোহরে স্ত্রীর অধিকার নিশ্চিত এবং কোনো ঘটনার দ্বারা তা বাতিল হয় না - এমনকি স্ত্রী নিজে মারা গেলেও তার উত্তরাধিকারীরা এই দেনমোহর দাবি করতে পারবেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ধারা ১০ অনুযায়ী, কাবিননামায় দেনমোহরের ধরন নির্দিষ্ট না থাকলে সম্পূর্ণ দেনমোহরই তাৎক্ষণিক বলে গণ্য হবে।

অনির্ধারিত বা যথাযথ দেনমোহর (মাহর-উল-মিসল): বিবাহের সময় দেনমোহর নির্ধারিত না হলে স্ত্রী "যথাযথ দেনমোহর" পাওয়ার অধিকারী। এই ক্ষেত্রে তার পিতার পরিবারের অন্য নারীদের - যেমন ফুফু বা বোনদের - দেনমোহরের পরিমাণ এবং পরিবারের সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে আদালত দেনমোহর নির্ধারণ করে।

দেনমোহর বনাম যৌতুকঃ দেনমোহর ও যৌতুক দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত ধারণা, যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়। দেনমোহর হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে দেওয়া সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ। পক্ষান্তরে যৌতুক হলো স্ত্রী বা তার পরিবারের কাছ থেকে স্বামী বা তার পরিবারের জোরপূর্বক সম্পদ আদায়ের অপচেষ্টা - যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০ অনুযায়ী যৌতুক দেওয়া-নেওয়া বা দাবি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ধারা ১১ অনুযায়ী যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে সাধারণ জখম করলে এক থেকে তিন বছর, গুরুতর জখম করলে পাঁচ থেকে বারো বছর বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, হত্যাচেষ্টায় যাবজ্জীবন এবং হত্যায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিধবার সম্পত্তি আটকে রাখার অধিকার (উইডোজ লিয়েন) ঃ মুসলিম আইনে বিধবার একটি বিশেষ সুরক্ষামূলক অধিকার রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর দেনমোহর অপরিশোধিত থাকলে বিধবা স্বামীর সম্পত্তি নিজের কাছে আটকে রাখতে পারেন এবং সেই সম্পত্তির ফল-ফসল ভোগ করতে পারেন যতক্ষণ না তার দেনমোহর পরিশোধ হয়। তবে তিনি সেই সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধক বা দান করতে পারবেন না। এটি তার মালিকানার অধিকার নয়, বরং দখলে রাখার অধিকার।

বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র ও সমস্যাঃ  আইনি বিধান সুস্পষ্ট হলেও বাংলাদেশে দেনমোহরের প্রকৃত প্রয়োগে বেশ কিছু সমস্যা লক্ষ্য করা যায়।

কাগুজে দেনমোহর: অনেক ক্ষেত্রে কাবিননামায় উচ্চ পরিমাণ দেনমোহর লেখা হয় সামাজিক মর্যাদার কারণে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ থাকে না। এই প্রবণতাকে ইসলামি আইনশাস্ত্রে "আস-সুমআত" বলা হয়। ১৯৬৯ সালের নাসির আহমেদ খান বনাম মিসেস ইসমত জাহান বেগম মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সামাজিক চাপে দাবি না করা: অনেক নারী পারিবারিক ও সামাজিক চাপে তাদের দেনমোহর দাবি করতে সাহস পান না। অনেক সময় স্বামীর মৃত্যুর পর শোকগ্রস্ত অবস্থায় বিধবা দেনমোহর মাফ করে দেন - যা মুক্ত সম্মতিতে হয়নি বলে আদালত ধরে নেন।

সচেতনতার অভাব: গ্রামাঞ্চলের অনেক নারী জানেনই না যে তাৎক্ষণিক দেনমোহর না পেলে তারা স্বামীর সাথে বসবাস করতে অস্বীকার করার আইনি অধিকার রাখেন।

পরিশেষে, দেনমোহর ইসলামি আইনে নারীর সুরক্ষার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। বাংলাদেশে পারিবারিক আদালত, কাবিননামার বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর মাধ্যমে এই বিধানকে আইনি কাঠামোয় সুরক্ষিত করা হয়েছে। কিন্তু কেবল আইন থাকলেই হয় না, তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হয়। নারীর আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক আদালতের কার্যকর ভূমিকা এবং সমাজে দেনমোহরকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তোলাই হবে এই বিধানকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করার পথ।
--লিখেছেন,তন্নি বাড়ৈ, ঢাকা, বাড্ডা
বাতিল হলো সংসদে প্রবেশ ও ত্যাগের সময় মাথা নত করার প্রথা

বাতিল হলো সংসদে প্রবেশ ও ত্যাগের সময় মাথা নত করার প্রথা

ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদে প্রবেশের বা ত্যাগের সময় মাথা নিচু করে বা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর প্রচলিত প্রথাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালে কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধনের মাধ্যমেই এই নিয়মটি বাতিল করা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারে মাথা নোয়ানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য মেনে সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন। এর আগে ত্রয়োদশ বা অষ্টম সংসদে পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে এই নিয়মটি কার্যপ্রণালি বিধি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৮ জুন, ২০২৬

বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

ছবি: সংগৃহীত 

ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় কারাগারে থাকা শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানের পক্ষ নেয়া দুই আইনজীবীর (এপিপি) নিয়োগ বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। তারা কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদে নিয়োজিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তার নিয়োগ বাতিলের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য সঠিক ও বিষয়টি অবগত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।

আদেশে বলা হয়, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাতিল করা হলো। আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নিয়োগ বাতিল হওয়া এপিপি অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘শিবির নেতা জিসানের আইনজীবী হিসেবে আমরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর করিনি। গত মঙ্গলবার শুধুমাত্র মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিয়েছি শিবির নেতা জিসানের পক্ষে। এই কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে মনে করছি।’ কিন্তু,পিপি কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘এটা অস্থায়ী দায়িত্ব। আমি খবর নিয়েছি তাদের নিয়োগ মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল করা হয়েছে।’

আলোচিত শিবির নেতা জিসানকে গত মঙ্গলবার কুমিল্লার আদালতে তোলা হয়। আদালতে তোলার পর জিসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সিনিয়র বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ। এ সময় জিসানের পক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন ওই দুই আইনজীবী।


বিডিএলপিবি/এমএম

আশুলিয়ায় ওষুধ কিনতে গিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ শিশু

আশুলিয়ায় ওষুধ কিনতে গিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ শিশু

ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকার আশুলিয়ায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার দুপুরে আশুলিয়া ইউনিয়নের কুমকুমারি বাজারে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম (৪০)। তিনি কুমকুমারি বাজারে ওষুধের ব্যবসা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পেরে ওই ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করেন।

পুলিশ জানায়, আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটি তার অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে শফিকুলের ফার্মেসিতে যায়। শফিকুল তাকে ওষুধ না দিয়ে কিছু সময় দাঁড় করিয়ে রাখেন। একপর্যায়ে শফিকুল ওষুধের জন্য তাকে দোকানের পেছনের কক্ষে যেতে বলেন। মেয়েটি ওই কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই শফিকুল দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।

এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শফিকুলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটিকে উদ্ধারের পর সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আগামীকাল ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।’

তরিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির বাবা আজ রাতে আশুলিয়া থানায় শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগামীকাল তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৬ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিট দায়ের

সুপ্রিম কোর্টে নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলার নথি সময়মতো সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে না পৌঁছানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা প্রশাসনিক গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলার নথি দ্রুত এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ দাবি করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন জমা দেন। আবেদনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, একই বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিট দায়েরের পর আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, একটি মামলার কার্যকর শুনানি নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে শুনানির দিনও ফাইল আদালতে পৌঁছায় না। ফলে বিচারকরা শুনানি পরিচালনা করতে পারেন না এবং মামলাগুলো বারবার মুলতবি করতে হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং আদালতের কিছু শাখায় এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে দ্রুত ফাইল পাঠানোর জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় ফাইল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হয়। কখনো নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়, আবার কখনো ব্যক্তিগত তদবির ছাড়া ফাইলের অগ্রগতি হয় না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন ছাড়া নথি বেঞ্চে পাঠানো হয় না বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিট আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন বিধিমালার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আদালতের নিজস্ব নিয়মের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বেঞ্চ অফিসারকে প্রতিদিন বিকেল ৩টার মধ্যে রিকুইজিশনে স্বাক্ষর করতে হয় এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলার নথি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট রুলস, ১৯৬৬ অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো নথি আদালতের হেফাজত থেকে বাইরে নেওয়া যায় না এবং যথাযথ রিকুইজিশনের ভিত্তিতেই নথি স্থানান্তর করা সম্ভব। রিটে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম লঙ্ঘন কর্মচারীদের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।

আবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো নথি আদালতে না পৌঁছানো উচ্চ আদালতে মামলার জট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মামলা দীর্ঘ সময় কজলিস্টে থাকলেও মূল শুনানি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে আইনজীবীদের গবেষণা, খসড়া প্রস্তুত এবং আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নথি সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীদের বারবার আদালতে উপস্থিত হয়েও শুনানি না হওয়ায় ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে। দীর্ঘসূত্রতায় ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া দাবি করেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সঙ্গে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের দ্রুত ও উন্মুক্ত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মতে, মামলার নথি অনুপস্থিত থাকার কারণে শুনানি না হওয়া এসব মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

রিট আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলার ও প্রশাসনিক নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ফাইল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম