২২ মে, ২০২৬

মামলা না নেয়ার অভিযোগ পাটওয়ারীর, পুলিশ বলছে সার্ভার ডাউন

মামলা না নেয়ার অভিযোগ পাটওয়ারীর, পুলিশ বলছে সার্ভার ডাউন


ছবি: সংগৃহীত 

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) মুখ্য সংগঠন নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর থানায় অবস্থান করলেও মামলা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলতে আসেন। কথা বলার এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহম্মেদের পেছন দিক কিছু যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় কর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর এনসিপির নেতারা বিক্ষোভ করেন।

পরে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা থানার বাইরে অবস্থান নেন।

হামলার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিভিন্ন জেলায় সফরে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে নানা করুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সফরে এলে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেয়ার বিষয়ে আলাপ করতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে। মারামারি বা ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

‎এদিকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল। বিকাল ৫টার দিকে শহরের শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহমেদ।

‎সমাবেশ বক্তারা বলেন, ‘এনসিপির মূখ্য সংগঠন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে কে-বা কারা ডিম নিক্ষেপ ও হামলা করেছে তা তাদের জানা নেই। অথচ ছাত্রদলকে দোষ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।’ এ সময় ঘটনার তদন্ত করার দাবি জানান বক্তারা।

এদিকে বিকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান করেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সহ এনসিপি নেতাকর্মীরা। তবে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

এর আগে হামলার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের লোকজন হামলা চালিয়েছে। তারা ডিম নিক্ষেপ করেছে। আমাদের ৩/৪ জন আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চাইবো। আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। আইনমন্ত্রীর এলাকাতেই যদি আইন শৃঙ্খলার এরকম অবস্থা হয়, তাহলে তার মন্ত্রী থাকার দরকার নেই।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী থানায় এসেছেন। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি।’

মামলা গ্রহণে এনসিপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সার্ভার ডাউন রয়েছে। যে কারণে এখনো অভিযোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু আমলযোগ্য অপরাধ বিষয়ে অভিযোগ, কাজেই অভিযোগপত্র না নেয়ার সুযোগ নেই। সার্ভার স্বাভাবিক হলেই আমরা অভিযোগ অনলাইনে এন্ট্রি করব।’

১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা: গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পরও বেঁচে আছেন সেই রসু খাঁ

১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা: গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পরও বেঁচে আছেন সেই রসু খাঁ


ছবি: সংগৃহীত 

১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পরও বেঁচে আছেন— এমন এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে আমাদের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে।

সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় যখন দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তখন অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

তদন্তে দেরি, রায়ের দীর্ঘসূত্রিতা এবং একের পর এক আপিলের বেড়াজালে বছরের পর বছর আটকে থাকছে চাঞ্চল্যকর সব মামলার সাজা। গত বছর ঘটে যাওয়া ৮ বছর বয়সী আছিয়া হত্যাকাণ্ডের আসামির ফাঁসির রায় হলেও সেটি এখনও আপিলেই ঝুলে আছে। আর দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ গ্রেপ্তারের ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তার চূড়ান্ত শাস্তি এখনও কার্যকর করা যায়নি।

চাঁদপুর সদরের মদনা গ্রামের বাসিন্দা রসু খাঁ শুরুতে ছিলেন একজন সাধারণ ছিঁচকে চোর। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর টঙ্গী থেকে একটি মসজিদের ফ্যান চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে এক গা শিউরে ওঠা অধ্যায়। রসু খাঁ নিজেই স্বীকার করেন— তিনি একে একে ১১ জন নারীকে ধর্ষণ ও খুন করেছেন। তার লক্ষ্য ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানো!

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এবং টঙ্গীতে এক পোশাকশ্রমিকের সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর নারীদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হয় তার মনে। এরপরই তিনি শপথ নেন, ১০১ জন নারীকে হত্যা করে মাজারে গিয়ে তওবা করবেন। সবাইকে প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন রসু। ২০০৭ সালের শুরুতে নিজের শ্যালকের স্ত্রী রীনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু হয়।

রসু খাঁর লালসার শিকার হওয়া নারীদের প্রায় সবাই ছিলেন ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক। এদের মধ্যে ফরিদগঞ্জে ৬ জন, চাঁদপুর সদরে ৪ জন এবং হাইমচরে ১ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি। শিকার হওয়া নারীদের বেশিরভাগেরই সঠিক পরিচয় না পাওয়ায় পরবর্তীতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৯টি হত্যা এবং ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলা।

২০০৯ সালের ২০ জুলাই রাতে ফরিদগঞ্জের হাসা খালের পাশে পারভীন নামে এক পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন রসু খাঁ ও তার সহযোগীরা। এই মামলায় ২০১৮ সালের ৬ মার্চ চাঁদপুরের আদালত রসু খাঁসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে হাইকোর্টের রায়ের পরও আজ পর্যন্ত তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি। অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে থাকা বাকি মামলাগুলোর অগ্রগতিও নামমাত্র।

৫২ বছর বয়সী রসু খাঁ বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে (ফাঁসির সেল) বন্দি আছেন। কিছুদিন আগে তাকে কুমিল্লার কারাগার থেকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

জানা গেছে, রসু খাঁ বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাকে ভেতরের সাধারণ খাবারই খেতে দেওয়া হয়। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দীর্ঘ ১৮ বছরে কোনো স্বজন বা শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে কারাগারে দেখতে আসেননি।

দেশের মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন— এমন জঘন্য অপরাধের অকাট্য প্রমাণ এবং আদালতের রায়ের পরও কেন বছরের পর বছর বেঁচে থাকে রসু খাঁর মতো সিরিয়াল কিলাররা? দ্রুত সাজা কার্যকর না হলে এই ধরনের অপরাধ প্রবণতা কীভাবে কমবে, সেই জবাবই খুঁজছে সাধারণ মানুষ।


বিডিএলপিবি/এমএম

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি জোটের পূর্ণ প্যানেল জয়ী

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি জোটের পূর্ণ প্যানেল জয়ী


ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদেই জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্যানেল অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে সংগঠনটি। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি সম্পাদকীয় পদে তাদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২১টি পদের মধ্যে সহসভাপতি ও ১১টি নির্বাহী সদস্য পদসহ মোট ১২টি পদে ভোটগ্রহণ হয়।

নির্বাচনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী সংগঠনগুলো ভোট বর্জনের অবস্থানে ছিল। ভোটগ্রহণ চলাকালে জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকলেও আদালতপাড়ার বিভিন্ন স্থানে স্লোগান দেন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। শাপলা ভবনের সামনে নির্বাচনবিরোধী গান গাইতেও দেখা যায় কয়েকজন আইনজীবীকে।

সকালের দিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক আইনজীবীর ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটন ও ক্যামেরাপার্সন অমিত দাশকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাধারণ আইনজীবী পরিষদের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়নি। পরে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে গেলেও তারা কোনো প্রতিকার পায়নি।

নির্বাচনে সভাপতি পদে তারিক আহমদ, সিনিয়র সহসভাপতি পদে সেলিমা খানম, সহসভাপতি পদে নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মঈনুদ্দীন নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক পদে আবুল মনছুর সিকদার, পাঠাগার সম্পাদক পদে তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিলকিছ আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু এবং তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে মো. লোকমান শাহ জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচিত নির্বাহী সদস্যরা হলেন– আলী আকবর, দিদারুল আলম, দিলদার আহাম্মদ ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ হাসান, মোক্তার উদ্দিন, মমিনুল হক, সাদিয়া খান, সাইফুল ইসলাম ও শেখ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচনের তফসিল গত ১ মে ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ৪ মে ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দিন। ওইদিন আওয়ামী লিগপন্থি আইনজীবীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রৌশন আরা বেগম জানান, মোট ৪ হাজার ৫৬০ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ১৭৪ জন।


বিডিএলপিবি/এমএম

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার আইনজীবীর, ব্যবসায়ীকে আইনি নোটিশ

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার আইনজীবীর, ব্যবসায়ীকে আইনি নোটিশ


ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং আদালতকে ম্যানেজ করে নিজের পক্ষে রায় নেওয়ার জন্য আবুল হাসেম নামের এক ব্যক্তিকে ৫ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং আদি বাংলা গার্মেন্টসের মালিক ব্যবসায়ী কে এম সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) সুপ্রিম কোর্টের ৮ আইনজীবীর পক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ই-মেইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও দুদক চেয়ারম্যানকে এ নোটিশ পাঠান।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) ছাড়াও নোটিশদাতারা হলেন, ব্যারিস্টার মাহদী জামান, অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন, অ্যাডভোকেট নাঈম সরদার, অ্যাডভোকেট লোকমান হাকিম, অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ, অ্যাডভোকেট খায়রুল বাশার ও ব্যারিস্টার মো. কাউসার।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী না হয়েও আবুল হাসেম নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দাবি করেছেন বলে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী কে এম সোহেল অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, আবুল হাসেম ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী। প্রতারণার অভিযোগে আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী কে এম সোহেল ইতোমধ্যে একটি মামলা করেছেন, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ব্যবসায়ী কে এম সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়েরসহ অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এতে বলা হয়, ব্যবসায়ী কে এম সোহেল আইনসম্মত পথ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে নিজের পক্ষে অথবা তার সমিতির পক্ষে রায় আদায়ের জন্য আবুল হাসেমকে অর্থ দিয়েছেন। ফলে তিনি একজন স্বচ্ছ মানসিকতার ব্যক্তি নন। তার এ কর্মকাণ্ড ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের বিভিন্ন ধারায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

নেটিশে আরও বলা হয়, ব্যবসায়ী কে এম সোহেলের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আইনগত দায়িত্ব।

লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) বলেন, ‘আজ ই-মেইলে বিবাদীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়েরসহ অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


বিডিএলপিবি/এমএম

রামিসার পরিবারের হয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা শিশির মনিরের

রামিসার পরিবারের হয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা শিশির মনিরের


ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।’

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। এরপর প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গ্রেপ্তারের পর রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সোহেল রানা।


বিডিএলপিবি/এমএম

সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল, শুনানি ৯ জুন

সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল, শুনানি ৯ জুন


ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদনটি দাখিল করা হয়। চেম্বার আদালতের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আবেদনটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন ধার্য করেন।  বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 

গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। ১৮৫ পৃষ্ঠার রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

রায়ে সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় আদেশের তারিখ হতে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 

রায়ে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করেছেন হাইকোর্ট।

১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃংঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

এর আগে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।


বিডিএলপিবি/এমএম

২০ মে, ২০২৬

আপিল বিভাগে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে এসআরএফের চিঠি

আপিল বিভাগে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে এসআরএফের চিঠি


ছবি: সংগৃহীত 

দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে ফের চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ)।

আজ বুধবার (২০ মে) সকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর কাছে এই চিঠি হস্তান্তর করেন সাংবাদিক নেতারা।

এসআরএফের সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আসন্ন ঈদুল আজহার পর থেকে আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিগত প্রায় চার মাস ধরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরাসরি এজলাস কক্ষে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে না পারায় সঠিক সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছেন না সাংবাদিকরা। এর ফলে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে যথাযথ ও নির্ভুল তথ্য প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।

বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনআস্থা বজায় রাখতে গণমাধ্যমের অবাধ ও দায়িত্বশীল উপস্থিতিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে চিঠিতে।

সেখানে বলা হয়, “এজলাস কক্ষে উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি, বিভ্রান্তি কিংবা অসম্পূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের আশঙ্কা তৈরি হয়, যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তির জন্যও অনুকূল নয়।”

পাশাপাশি, বিচারালয়ে ‘অপসাংবাদিকতা’ রোধে প্রধান বিচারপতিকে সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিকদের এই সংগঠনটি।

এর আগেও আপিল বিভাগে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে এসআরএফের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে চিঠি হস্তান্তরের সময় এসআরএফের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।