১৯ মে, ২০২৬

তিন মামলায় জামিনের পর সাবেক রেলমন্ত্রী ফের গ্রেপ্তার

তিন মামলায় জামিনের পর সাবেক রেলমন্ত্রী ফের গ্রেপ্তার


ছবি: সংগৃহীত 

হাইকোর্ট থেকে তিন মামলায় জামিনের পর এবার যাত্রাবাড়ী থানার মো. জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন সাবেক এই মন্ত্রীকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৫ মে তিনি হাইকোর্ট থেকে তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন। পরে গত ১৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক শামীম হোসেন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেল ৩ টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় আন্দোলনকারীদের উপর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি গুলি ছোঁড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন জাহাঙ্গীর।

চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টায় মারা যান জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে অন্য আরেকটি মামলায় রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

১৮ মে, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১২


ছবি: সংগৃহীত 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনে একটি সালিসকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সমিতি ভবন।

মারামারিতে ছয়জন আইনজীবী ও বহিরাগত মিলে ১০-১২ জন আহত হন। বহিরাগত আহত দুজনকে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছ।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ব্যাপারে সাত জনকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার পর রোববার (১৭ মে) রাতে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব মামলা দায়েরের জন্য সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশে আইনজীবী সমিতিতে একটি সিআর (আদালতে দায়ের করা মামলা) মামলার বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশ চলছিল। ওই মামলার বাদী আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. রাসেল আহম্মেদ রনি। সালিশ চলাকালীন কিছু বহিরাগত জোরপূর্বক একটি সালিশনামায় রাসেল আহম্মেদ রনির স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বহিরাগতদের হামলায় ছয় আইনজীবী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- আব্দুর বারী-১, আব্দুর বারী-২, বশির আহম্মেদ, নাহিদ ইবনে মিজান, ফরহাদ হোসেন, সামিউল ইসলাম মিলন।

আবু হাসিব জানান, আইনজীবীরা বহিরাগত সাতজনকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পুলিশ জানায়, থানায় পাঁচজন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মারামারি ঘটনায় উভয়পক্ষ সমিতির নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে রড ও লোহার পাইপ সংগ্রহ করে ব্যবহার করে।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, বহিরাগতদের আচরণের কারণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাবেক পৌর কাউন্সিলর দুলাল হোসেন ও বহিরাগতররা সমিতি ভবনে আসে। কে তাদের ডেকেছিল এটা জানা নেই।

এ ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর দুলাল হোসেন বলেন, সোনামসজিদ বন্দরে পাথরের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে মামলা হয়। এ মামলার বিষয়ে সালিশ চলছিল। সালিশের একপর্যায়ে আমি শৌচাগারে যাই। বের হয়ে দেখি উভয়পক্ষ মারামারি করছে। আমি সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসি। কী নিয়ে মারামারির সূত্রপাত হয়েছে তা আমি জানি না। মামলার বিবাদী আমার ঘনিষ্ঠজন। তিনি বাদীকে টাকা পরিশোধ করেছেন। সামান্য একলাখ টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এজাহার দায়ের করেছেন, তা কিছুটা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এজন্য এখন্য মামলা রুজু হয়নি। তবে আটক থাকাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলা রুজু হলে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব সাংবাদিক অবরুদ্ধ করার ঘটনা অস্বীকার করেন।

পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি, শিক্ষকের কারাদণ্ড

পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি, শিক্ষকের কারাদণ্ড


ছবি: সংগৃহীত 

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করায় এবং অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে একই কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ মো. ইকবাল হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রফিক সরকার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি এবং মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি পেশাগত পবিত্র দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দুটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি ছোরা ও চাকু নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিত এগুলো কর্মস্থলে বহন করতেন এবং এর ধারাবাহিকতায় নিরীহ ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন।’
আদালত আরও বলেন, ‘রায়হান শরীফ ছাত্রজীবন থেকেই সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই ধারা অব্যাহত রাখেন। ফলে তিনি সমাজ, বাবা-মা কিংবা সহকর্মীদের ওপর চড়াও হতে বা হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।’

আইনি আদেশে আদালত রায়হান শরীফকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের একাডেমি ভবনের চতুর্থতলায় ক্লাস চলাকালীন ডা. রায়হান শরীফ তুচ্ছ ঘটনায় শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করে গুরুতর আহত করেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. রায়হান শরীফকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন ও দুটি অত্যাধুনিক ছোরা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

স্ত্রীসহ সাবেক এমপি এনামুল হকের আয়কর নথি জব্দ

স্ত্রীসহ সাবেক এমপি এনামুল হকের আয়কর নথি জব্দ

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক (৫৫) ও তার স্ত্রী তহুরা হকের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনামুল হকের আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি এনামুল হক  সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২৩ কোটি ২৭ লাখ  টাকার সম্পদ অর্জন এবং নিজ ও প্রতিষ্ঠান নামীয় বাইশটি ব্যাংক হিসাবে সর্বমোট ২২ কোটি  ১৫ লাখ  টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির ২০০৮-২০০৯ হতে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত মূল আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন।

তহুরা হকের আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি তহুরা হক কর্তৃক স্বামী এনামুল হকের ক্ষমতা ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুইটি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ও মোট উত্তোলন ১ কোটি ৬৭  টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

একইসঙ্গে আসামি এনামুল হক পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী তহুরা হককে ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করায় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল মামলা দায়ের করেছেন।মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি তহুরা হকের ২০০৮-২০০৯ হতে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত মূল আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন।

গণঅধিকার পরিষদের কর্মীকে হত্যাচেষ্টা: সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর গ্রেফতার

গণঅধিকার পরিষদের কর্মীকে হত্যাচেষ্টা: সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর গ্রেফতার


ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে বিএনপি’র মহাসমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের কর্মী বদরুল ইসলাম সায়মনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নে রুল

সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নে রুল


ছবিঃ সংগৃহীত

সব নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৮ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। রুলে সরকারকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হবে না এবং কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ১ মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আইনজীবী জানান, এই কমিটি সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং ৩ (তিন) মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ম্যাগনেট পিলারের আশায় সর্বস্বান্ত : প্রক্সি আসামির রিমান্ড চায় পুলিশ

ম্যাগনেট পিলারের আশায় সর্বস্বান্ত : প্রক্সি আসামির রিমান্ড চায় পুলিশ


ছবিঃ সংগৃহীত

‘ম্যাগনেট পিলার’ পাওয়ার আশায় এক ব্যবসায়ীর নগদ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং আরও ১৫ কোটি টাকার জমি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান আসামি শারমিন আক্তার একা। সেই আসামি প্রকৃত আসামি কিনা, তা যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলম এ আবেদন করেন।

এদিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে তোলা হয় তাকে। শুনানি সময় আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসাইন আদালতকে জানান, এই আসামি আসল আসামি নন। তিনি আসল আসামির পক্ষে প্রক্সি দিয়েছেন। এরপর আদালত বলেন, এটা গর্হিত অপরাধ। নথি দেখে আদেশ হবে জানিয়ে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় হংকংয়ে কাটানো ব্যবসায়ী  আজিজুল আলম কথিত ‘ম্যাগনেট পিলার’ পাওয়ার আশায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং আরও ১৫ কোটি টাকা মূল্যের জমি ‘কালো জাদু’র খপ্পরে পরে হারিয়েছেন বলে কথিত এক ফকিরসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। প্রতারণার এ মামলায় প্রধান আসামি মো. মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকিরের স্ত্রী এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি শারমিন আক্তার একা ও ১৪ নম্বর আসামি লাইলী শাহনাজ খুশি (একার মা) ওরফে মুন্নি গত ১২ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে ১৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলম আসামিদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানিকালে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আদালতকে পৃথক আবেদন দিয়ে জানান, কাঠগড়ায় আসামি শারমিন আক্তার একা প্রকৃত পক্ষে আসামি নন। পরে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামি শনাক্ত করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।

তবে আসামি জেল হাজতে আটক থাকায় আসামি প্রকৃত পক্ষে শারমিন আক্তার একা কিনা তা যাচাইয়ের জন্য আসামির এনআইডি, পাসর্পোট, শিক্ষাগত সনদপত্র ও ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করার জন্য আদালতের কাছে গতকাল রোববার সাত দিনের সময় চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এবং আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আজ পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়।

মামলার অভিযোগে এ ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মিজান নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ব্যবসায়ীর। চক্রের সদস্যরা তাকে জানায়, তাদের কাছে অলৌকিক ক্ষমতার প্রাচীন ম্যাগনেট পিলার আছে, যা বিদেশে ১০০ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি সম্ভব। প্রধান আসামি সোহেল ফকির তার সুন্নতি লেবাস ও চটকদার কথায় ব্যবসায়ীর বিশ্বাস অর্জন করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম