অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২১ জুল, ২০২৬

প্রক্সির সহায়তায় চাকরি: যোগদান করতে এসে ধরা পড়ে ৪ জন কারাগারে

প্রক্সির সহায়তায় চাকরি: যোগদান করতে এসে ধরা পড়ে ৪ জন কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চার চাকরিপ্রার্থীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিন ধার্য করেন। কারাগারে পাঠানো চার আসামি হলেন- মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) ও মো. মাসুদ ফকির (৩১)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সে সময় অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ছবি তুলে রাখা হয়। এরপর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১ নম্বর কক্ষে যোগদানের জন্য ডাকা হয়।

নির্ধারিত সময়ে ওই চারজন যোগ দিতে এলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষার দিন তুলে রাখা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে জালিয়াতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিয়োগপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সচিবালয় থেকে চারজনকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) চার আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। আসামি রাসেল রানা লিটন ও আলী হায়দারের পক্ষে আইনজীবী নাজনীন আক্তার এবং মাসুদ ফকিরের পক্ষে আইনজীবী মো. মনির হোসাইন শুনানিতে অংশ নেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


১৯ জুল, ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরিতে যা পেয়েছে দুদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরিতে যা পেয়েছে দুদক

ছবি: সংগৃহীত 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দুটি ক্রোককৃত ফ্ল্যাটে রক্ষিত মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ইনভেন্টরির প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শতাধিক কোট, পাঁচ শতাধিক টাই, আটটি ঘড়ির বক্সে সংরক্ষিত মোট চারটি রোলেক্স ঘড়ি, তিন সেট মুক্তা (পার্ল), চারটি ঝাড়বাতি, শতাধিক কামিজ, বেড ও সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ও সামগ্রী পাওয়া গেছে।

দুদক-এর জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জানান, ইনভেন্টরির কাজ আগামীকালও চলবে। কাজ শেষে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা সব মালামালের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। দুদক  জানায়, ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গুলশানের রোড-৬৬, প্লট-১১-এর এ-৭ ও বি-৭ নম্বর দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদক-এর পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট)-কে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আদালতের পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ ও সেখানে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি করার জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদক-এর কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে আজ ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে, গত ২ জুলাই জারি করা এক স্মারকে দুদক জানায়, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটি রিসিভারের দখলে নিয়ে সেখানে রক্ষিত মালামালের ইনভেন্টরি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তার ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। দুদকের হিসাবে, এসব সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনে এসব সম্পদের মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং ২৩টি কোম্পানির শেয়ার জব্দের আদেশ দেন আদালত। একই অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায়ে তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় চলতি বছরের মার্চে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

দুদকের বিভিন্ন আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সাইফুজ্জামান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাসস

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর

ছবিঃ সংগৃহীত 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্তে এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯ জুলাই রোববার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিং ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাটি ছিল একটি পদ্ধতিগত অপরাধ এবং ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংগঠনটিকে নিঃশেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ তদন্ত শেষে একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা যায়। এ লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খসড়া প্রতিবেদন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রকৃত আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন আসামি না হন। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে।

মামলার আসামিদের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রতিবেদনটি এখনও খসড়া পর্যায়ে থাকায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান, সাবেক বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আসামির তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলছি যে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেক তথ্য এখনও অনুপস্থিত। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শাপলা চত্বরের নিহতদের মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে অনেকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আমাদের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী ৬১ জন নিহতের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একই দিন সকালে শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধান, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের নামও আসামির তালিকায় রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৮ জুল, ২০২৬

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত 

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসায় সংশ্লিষ্ট সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে ওই বন্দি পালিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অবহেলার সুযোগে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রিম্পা (২১) কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুরা গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ঘটনার পর শুক্রবার কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৬ জুল, ২০২৬

মিথ্যা মামলার জেরে বিমানের কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে উল্টো মামলার নির্দেশ আদালতের

মিথ্যা মামলার জেরে বিমানের কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে উল্টো মামলার নির্দেশ আদালতের

ছবিঃ সংগৃহীত 

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।

এতে বলা হয়, ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে শিমু আদালতে মিথ্যা মামলা করেছেন। তিনি হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্যও দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেওয়া হলফনামা সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত নিজেই বাদী হন। পরে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, খাদিজা সুলতানা শিমু বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পরে আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানাকে নির্দেশ দেন।

তদন্ত শেষে থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার এজাহারে থাকা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করেও ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে ওমর ফারুক শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৫ জুল, ২০২৬

আইন ও বিচার বিভাগে ১২ জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি

আইন ও বিচার বিভাগে ১২ জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি

ছবিঃ সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ ১২ জন জেলা রেজিস্ট্রারকে পদোন্নতি দিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে পদায়ন করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) আইন বিচার বিভাগের বিচার শাখা- থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪০,০০০-৫৩,১৭০ টাকা বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডে নিবন্ধন ক্যাডারভুক্ত সহকারী পরিদর্শক (আইআরঅ্যান্ডএস) পদ থেকে সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, মো. মোহছেন মিয়া (বরিশাল), মো. খন্দকার জামীলুর রহমান (চট্টগ্রাম), দীপক কুমার সরকার (পাবনা), মো. হেলাল উদ্দিন (ঠাকুরগাঁও), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (টাঙ্গাইল), মুনসী মোখলেছুর রহমান (ঢাকা), মো. আবদুল মালেক (নেত্রকোণা), মুহাম্মদ আবু তালেব (যশোর), মহসীন আলম (ঝালকাঠি), মোহা: আবদুল হাফিজ (নারায়ণগঞ্জ), মো. মিজানুর রহমান (খুলনা) এবং মো. আব্দুল বারী (জয়পুরহাট)। 


বিডিএলপিবি/এমএম

১৪ জুল, ২০২৬

সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু-কোমর পানি, ড্যাপ বাস্তবায়নে লিগ্যাল নোটিশ

সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু-কোমর পানি, ড্যাপ বাস্তবায়নে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়নে রাজউক প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সরকারের দুই সচিব ও রাজউক চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এক মাসের মধ্যে ড্যাপ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করা হবে বলে নোটিশে তিনি উল্লেখ করেছেন। 

রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।

এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ড্যাপ প্রণয়ন করে। কিন্তু এই মাস্টারপ্ল্যান আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বাড়ছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী ইলিয়াস আলী বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে যে পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা জানতেই মূলত এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে হাইকোর্টে রিট করে রুল চাওয়া হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

অ্যাকাউন্টে ৯ কোটির অধিক টাকা লেনদেন: হরিদাস চন্দ্র ৪ দিনের রিমান্ডে

অ্যাকাউন্টে ৯ কোটির অধিক টাকা লেনদেন: হরিদাস চন্দ্র ৪ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণ করতে চেয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা সেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেয়। আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আদালতে বলেন, হরিদাস চন্দ্রের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তাদের ভাষ্য, হরিদাস একটি মন্দির পরিচালনা করেন এবং ভক্তদের অনুদানের অর্থই তার হিসাবে জমা হয়েছে। তারা রিমান্ডের পরিবর্তে কারাগারে রেখেই জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।

শুনানিতে বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র বলেন, “আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নেই।” তিনি আরও বলেন, “ভক্তদের দেওয়া অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে।”

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্রসহ সংশ্লিষ্টরা হুন্ডি এবং দেশি, বিদেশি মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে মূর্তির অর্থায়ন, জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের পর গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

১১ জুল, ২০২৬

আইন পেশার প্রতি আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব: শিশির মনির

আইন পেশার প্রতি আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব: শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর নবগঠিত এডহোক কমিটির সদস্য শিশির মনির বলেছেন, আইন পেশার প্রতি পূর্ণ আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব। এই জন্য আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। 

আজ শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।  পোস্টে তিনি লেখেন, 'আইন পেশার প্রতি পূর্ণ আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব। প্রয়োজন বিজ্ঞ আইনজীবীদের সার্বক্ষণিক উন্নতি [Continued Professional Development] প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে ইনশাআল্লাহ।'

উল্লখ্য, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় বার কাউন্সিল ভবনে নবগঠিত এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাউন্সিল সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ট্রাভেল অ্যালাউন্স, সম্মানী, পারিতোষিক, যাতায়াত ভাতা কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। একইসঙ্গে বার কাউন্সিলকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে পূর্বে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম


দেশের বিচার বিভাগ সংস্কারে অর্থায়ন করছে সুইডেন ও ইউএনডিপি

দেশের বিচার বিভাগ সংস্কারে অর্থায়ন করছে সুইডেন ও ইউএনডিপি

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব করে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে সুইডেন সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। চলমান বিচার বিভাগীয় সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সুইডেন সরকার অতিরিক্ত ৩০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগে ব্যয় করা হবে।

ঢাকায় ইউএনডিপির কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন এই অর্থায়ন বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় সংস্কার কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক, দক্ষ এবং জনগণের চাহিদার প্রতি অধিকতর সংবেদনশীল করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ইউএনডিপির মতে, নাগরিকদের জন্য কার্যকর বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সুইডেন ও ইউএনডিপির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বেরই ধারাবাহিকতা এই নতুন সহায়তা। প্রকল্পের আওতায় বিচার বিভাগের সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সংস্কার কার্যক্রমেও সহায়তা প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অধিকারভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার পাশে সুইডেন সবসময় রয়েছে। তার ভাষায়, এই অতিরিক্ত অনুদান দুই পক্ষের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করবে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, জনআস্থা, সামাজিক সংহতি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর বিচার ব্যবস্থা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে জনগণের প্রয়োজনের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও সেবামুখী করে তুলতে সুইডেনের ধারাবাহিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুইডেন ও ইউএনডিপির মধ্যে মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর। সর্বশেষ এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে সেই উদ্যোগের পরিধি ও কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

১০ জুল, ২০২৬

বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির প্রথম সভায় একাধিক সিদ্ধান্ত

বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির প্রথম সভায় একাধিক সিদ্ধান্ত



ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় বার কাউন্সিল ভবনে নবগঠিত এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন।

উক্ত সভায় সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলী আসগর, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, ল' রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মাহফুজুর রহমান মিলন এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ আহমেদ তালুকদার নির্বাচিত হন।

এছাড়া হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ হোসেন লিপু, রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ শিশির মনির এবং কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিলেন্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নাসির উদ্দিন অসীমকে নির্বাচিত করা হয়।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাউন্সিল সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ট্রাভেল অ্যালাউন্স, সম্মানী, পারিতোষিক, যাতায়াত ভাতা কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। একইসঙ্গে বার কাউন্সিলকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে পূর্বে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিস্তারিত জানতে এ সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি নিম্নে দেওয়া হল:


বিডিএলপিবি/এমএম

৯ জুল, ২০২৬

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আসা দুই যুবক জঙ্গি সন্দেহে রিমান্ডে

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আসা দুই যুবক জঙ্গি সন্দেহে রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত 

জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহ করা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুই বাংলাদেশিকে তিন দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে একজনের নাম সাহেদুল ইসলাম (৩৭) এবং অপরজনের নাম রিশাদ তায়ানী (২৫)।

এর আগে, গত বুধবার, বিমানবন্দর থানার জিডিমূলে পুলিশের একটি টিম ওই দুইজনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার পর তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ওই দুই যুবক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহ হওয়ায় সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে। পরে, সিঙ্গাপুর পুলিশ বিমানে করে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসারের হাতে তুলে দেয়।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) থেকে খবর পেয়ে ঢাকা ইমিগ্রেশনে ডিউটি অফিসারের কক্ষে তাদের হেফাজতে নিতে ব্যবস্থা করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুই যুবকের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যায়, দুজনেই সিঙ্গাপুরে থাকার সময় বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিল।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত কি না, তারা কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের যোগানদাতা কে বা কারা তা জানার জন্য ও আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি জানার উদ্দেশ্যে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন। আদালত এই আবেদন শুনানির পর তাদের তিন দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিডিএলপিবি/এমএম 

৮ জুল, ২০২৬

উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার দুই সদস্য ফের তিন দিনের রিমান্ডে, চারজন কারাগারে

উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার দুই সদস্য ফের তিন দিনের রিমান্ডে, চারজন কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত সন্দেহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার দুই সদস্যকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে গ্রেপ্তার হওয়া আরও চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

গত রোববার এই ছয় আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আজ রিমান্ড শেষে পুনরায় এ দুই আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর এ বি সিদ্দিক। এর আগে গত রোববার ৫ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আজকের রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন— শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিম। অপরদিকে কারাগারে পাঠানো চার আসামিরা হলেন— জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান এবং বায়োজিদ।

আদালতে আসামি শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিমের আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন রিমান্ড নামঞ্জুর চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অপর আসামিদের পক্ষের পৃথক আইনজীবীরাও জামিন আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ভোর ৬টার দিকে গোপন সংবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, যাত্রাবাড়ী থানাধীন মিনি কক্সবাজার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশে বালুর মাঠে উগ্রবাদী সংগঠনের কতিপয় ব্যক্তি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রেনিং করার জন্য সমবেত হয়েছে।

এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ গত রবিবার সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। তাকে দেখে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ওই স্থানে কি কারণে সমবেত হয়েছিল তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকতে পারে। এরপরে আদালতে নিয়ে এসে রিমান্ড আবেদন করা হলে ছয় আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি: অস্ত্রসহ গ্রেফতার যুবক রিমান্ডে

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি: অস্ত্রসহ গ্রেফতার যুবক রিমান্ডে

গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম সিজু (বামে) ও গ্রেফতার শান্ত (ডানে)। ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুলির ঘটনায় গ্রেফতার কাওছার ভুঁইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবিকে (২৪) চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার (৮ জুলাই) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার পেছনের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ব্যবহৃত কার্তুজ, দুটি তাজা কার্তুজ এবং একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। 

এর আগে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি আহত হলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। সিজু মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, এর আগেও অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন শান্ত। তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ওই মামলায় তিনি অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মিরপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বিডিএলপিবি/এমএম

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট লইয়ার্স ক্লাবের আত্মপ্রকাশ, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট লইয়ার্স ক্লাবের আত্মপ্রকাশ, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

ছবিঃ সংগৃহীত

‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট লইয়ার্স ক্লাব’ নামে নতুন একটি আইনজীবী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এতে এডভোকেট মো. আলমগীর হোসেনকে আহবায়ক ও এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনটি ৮৪ সদস্যদের কমিটি ঘোষণা করে। এছাড়া ১৬ সদস্যের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য রাখা হয়েছে।

সংগঠনটির প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের আদর্শে বিশ্বাসী আইনজীবীদের একটি সুসংগঠিত, কার্যকর ও প্রগতিশীল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। 

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা, নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা, সেমিনার, প্রকাশনা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আইনজীবীদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে সংগঠনটি। একই সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৬ জুল, ২০২৬

যাত্রাবাড়ীতে ‌‘উগ্রবাদী সন্দেহে’ আটক ৬ জন রিমান্ডে

যাত্রাবাড়ীতে ‌‘উগ্রবাদী সন্দেহে’ আটক ৬ জন রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ার মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে গ্রেপ্তার ছয়জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রোববার (৫ জুলাই) তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের আবেদনের পর আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিত। রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ার মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের জমির পাশের বালুর মাঠে উগ্রবাদী সংগঠনের কিছু ব্যক্তি প্রশিক্ষণ নিতে জড়ো হয়েছে। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে তারা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সেখানে জড়ো হওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাদের উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে একই নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

৫ জুল, ২০২৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র লাশ উত্তোলনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র লাশ উত্তোলনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত 

চিত্রনায়ক সালমান শাহের (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

গত ২২ জুন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন। এই অফিস আদেশের একটি অনুলিপি আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ডাক যোগে পাঠানো হয়েছে। এই অফিস আদেশটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ মোতাবেক মামলার ভিকটিম মৃত চিত্রনায়ক সালমান শাহ্-এর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৭৬(২) ধারা মোতাবেক কবর হতে লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত থেকে ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজকে নিয়োগ করা হলো।

রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম আজ বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২০ মে সালমান শাহ’র মৃতদেহ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেন।

গত ২৩ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদি মোহাম্মদ আলমগীর (কুমকুম) লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মে ফেয়ার বিউটি পার্লারের রুবি, আবুল সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ’র মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদিপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নীলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স- বাসস

৪ জুল, ২০২৬

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার প্রথম দফার রিভিউয়ে উত্তীর্ণ বরগুনা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মিজানুর রহমান মারা গেছেন। তিনি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার মৃত্যুতে সহকর্মী শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিজানুর রহমানের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

মৃত্যুবরণ করা মিজানুর রহমানের বাবা আজিজ শিকদার বলেন, প্রথম দফার রিভিউয়ে আমার ছেলে উত্তীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ছেলে আমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর প্রকাশিত ফলাফলে আমার ছেলেকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে আমার ছেলেও ওই মামলার রিটকারীদের একজন ছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগ ওদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু  গতকাল রাতে বার কাউন্সিল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে—একটি পত্রিকার নামে বানানো এমন একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়লে মিজানুর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মিজানুর রহমানের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শিকদার বলেন, অসুস্থ বোধ করলে ওকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স যোগে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজ সকাল ১১টায় ওকে মৃত ঘোষণা করে৷ তিনি দাবি করেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তার ভাই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পরও ভাইভা পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা না হওয়ায় তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তারা দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, ভাইভা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং রিভিউ উত্তীর্ণ ১,৩৪০ জনকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান।

হাইকোর্টের রায়ের আলোকে লিখিত পরীক্ষার  রিভিউতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের আইনজীবীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বহু শিক্ষানবিশ আইনজীবী মানসিক স্বস্তি ফিরে পাবেন এবং তাদের পেশাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। নাহলে মিজানুর রহমানের মতো ঘটনা আরও অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। প্রথম দফার রিভিউ শেষে অতিরিক্ত ১,৯১৪ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হলেও পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুনরায় খাতা মূল্যায়ন করে প্রকাশিত ফলাফলে প্রথম দফায় উত্তীর্ণ প্রায় ১,৩৪০ জন পরীক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে নতুন করে ১৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।

পরে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে গত ১০ জুন হাইকোর্ট বিভাগ প্রথম দফার রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওই রিভিউ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের দ্রুত মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা গ্রহণ এবং আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেন। গত ৩০ জুন হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পৌঁছেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: ইনকিলাব, এনপিবি

ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নোটিশ, অন্যথায় রিট দায়ের

ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নোটিশ, অন্যথায় রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

'বাংলাদেশের সব ফ্যাসিস্ট, টাউট ও ক্রিমিনাল তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’—এমন বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে ১০০ কোটি টাকা জমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরাবরে এই নোটিশ পাঠান। শনিবার (৪ জুলাই) আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইমেইলযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং অনুষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, মানহানিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই মন্তব্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও সংশ্লিষ্টদের নিম্নলিখিত দাবিগুলো পূরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার কারণে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  ১ জুলাই প্রদত্ত অবমাননাকর বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে, যা সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’-এ জমা দিতে হবে—যাতে এই অর্থ একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যায়।

নোটিশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হন বা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ইয়াছিন, সম্পাদক মুন্না

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ইয়াছিন, সম্পাদক মুন্না

ছবি: সংগৃহীত 

আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) ২০২৬- ২৭ মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক ‘অবজারভার’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. ইয়াছিন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরাফাত মুন্না। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপিম কোর্ট) দক্ষিণ হলে ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘আরটিভি’র হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। কমিশনের অপর দুই সদস্য ‘এটিএন নিউজ’র হেড অব নিউজ মাশহুদুল হক ও সিনিয়র সদস্য সাজেদুল হক। কমিশনের সাচিবিক দায়িত্বে ছিলেন ‘বাংলানিউজ’র বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াছ সরকার।  

কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘সমকাল’র আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক পদে বাংলানিউজ’র তানভীর আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ পদে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর’র মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ‘টাইমস অব  বাংলাদেশ’ আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক পদে ‘খবরের কাগজ’র মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’র  জাহিদুল বাশার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ‘চ্যানেল ওয়ান’র জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু ও ‘আমাদের সময়’র আসাদুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। 

এর আগে ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি হাসান জাবেদ। সঞ্চালনা করেন বিদায়ী কমিটিরি সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান মিশন। 

এ সময় আরও উপস্তিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, এলআরএফ’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনোজ কান্তি রায়, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব কাজী আব্দুল হান্নান, সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, সালেহ উদ্দিন, এম বদি-উজ-জামান, আশুতোষ সরকার, সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হিরণ, শামীমা আক্তার, আশরাফ উল আলম প্রমুখ।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাসস