২৪ ফেব, ২০২৬

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা


ছবি: ফাইল

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ। তার দাবি, ইউনূসের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তিনি নিজেই আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।

মোহসিন রশীদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে দেশে সাংবিধানিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক; তাকে যথাযথ সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, অথচ ওই উপদেষ্টা তার কাছেই শপথ নিয়েছিলেন।

মোহসিন রশীদের দাবি, প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রচেষ্টা রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী কাজ। এসব ঘটনার সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠন করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানান তিনি। তার বক্তব্য, রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করার বিষয়েও তিনি আদালতে গেছেন বলে জানান এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন। রায় হাতে পেলে তিনি রিভিউ আবেদন করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে যেন কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মোহসিন রশীদ। সরকার যদি তদন্ত কমিটি গঠন না করে, তাহলে তিনি নোটিশ দিয়ে নিজেই মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেবেন এবং ড. ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন বলেও জানান। তার ভাষায়, “আগেও করেছি, আবারও করব।”


শেয়ার করুন

0 coment rios: