![]() |
| ফাইল ছবি |
মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আনীত বিল দুটিকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে আজ রোববার রাতে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল। পরে তৃতীয় বিল পাসের সময়ও তারা আপত্তির কথা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে।বিরোধীদলের এসব আপত্তির মধ্যেই বিলগুলো পাস করা হয়।
যা রয়েছে এই ৩ আইনে:
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন:
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এ ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের জন্য নতুন আইন করা হয়েছে।
এ আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকবেন। এতে জাতীয় সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য একটি নির্বাচন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।
আইনে কমিশনের এখতিয়ার স্পষ্ট করার পাশাপাশি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক হুমকি থেকে সুরক্ষা এবং আরও ক্ষতি প্রতিরোধে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ (এনপিএম) ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ইউনিট নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে কাজ করবে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন:
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই আইনে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, অপরাধের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, হুইসেলব্লোয়ার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র এ ব্যয় বহন করবে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নিখোঁজ ব্যক্তির সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
বইনে গুমের ঘটনা নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে এই আইনে গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়নি। এ ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই থাকবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন:
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য যোগ্য দাতা নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় ব্যক্তি বা স্বামী-স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।
এই সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: