![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বাদী তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত নথি পর্যালোচনা করে দুপুর আড়াইটার দিকে মামলার আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে মামলার আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়েছেন এবং নথি পর্যালোচনা করে আদেশ দেওয়া হবে।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট কয়েকজন আসামির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ, উসকানি ও সহযোগিতায় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক ভবনে হামলা চালান। এ সময় ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সেখানে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিল, বইপুস্তক ও মূল্যবান সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, পরে দুটি বুলডোজার, এক্সক্যাভেটর ও হ্যামারসহ ভারী যন্ত্রপাতি এনে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতভর চলা ওই কার্যক্রম পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত চলে এবং একপর্যায়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মামলার আবেদনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে মিছিল নিয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটি ধ্বংস করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলায় ড. ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমকে আসামি করা হয়েছিল।
এ ছাড়া শিক্ষার্থী সমন্বয়ক আক্তার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব ও সালেহ উদ্দিন সিফাতের নামও মামলার আবেদনে ছিল।
অন্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারওয়ার, কর্নেল (অব.) নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৯৫, ৪২৭, ৪৩৫, ৪৩৮, ৪৪৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৫০৭ ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেছিল। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলার আবেদনটি বৃহস্পতিবার আদালত আমলে না নিয়ে খারিজ করে দিয়েছেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

0 coment rios: