![]() |
| ছবি:সংগৃহীত |
রাজধানীর রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার (২৩ আগস্ট) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মজিবুর রহমান এ আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। ডনকে রিমান্ডে নিতে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
প্রথম কারণ: মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ: মামলার এজাহারনামীয় গ্রেপ্তারকৃত আসামি আশরাফুল হক ডন অত্যন্ত সুচতুর ও ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তৃতীয় কারণ: মামলার এজাহারনামীয় গ্রেপ্তারকৃত আসামি আশরাফুল হক ডন বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে কী কারণে এবং কার ইন্ধনে বিদেশে পলায়ন করছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লখ্য, গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। একই দিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন।কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪ (২৪.০৭.২০২৬)

0 coment rios: