১৪ জুল, ২০২৬

চিকিৎসক ধীপ্রার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে— ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ময়নাতদন্ত অপরিহার্য বলে আদালত উল্লেখ করেন।

আদেশে আরও বলা হয়, ধীপ্রার মৃত্যুর পরে ন্যায়বিচারের পথ বাধাগ্রস্ত করতে ময়নাতদন্ত ছাড়া ৫ জুন দ্রুত রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান আদালতের কাছে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং পরবর্তীতে ধর্মীয় বিধান অনুসারে পুনরায় দাফনের অনুমতি চান।

আদালত আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৭৬(২) ধারার ক্ষমতাবলে আবেদনটি মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সিভিল সার্জন, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যু ঘটে ৪ জুন। পরবর্তীতে তার স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীরা দাবি করেছেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রচারিত 'কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট'-এর ব্যাখায় অসঙ্গতি রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীপ্রা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি টানা তিন দিন একটি কক্ষে আটক ছিলেন এবং যথেষ্ট খাবারও পাননি। মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা লিখেছিলেন, তাতে তার ওপর চলা নির্যাতনের কথা উল্লেখ ছিল বলেও মামলায় বলা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গত ১৬ জুন নিহত চিকিৎসকের স্বজন মো. মশিউর রহমান শাহ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩, ১৯৭, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা, শ্বশুরের জামাতা এবং ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট 'ইয়ার্কি'র সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং মামলার তদন্তে নতুন তথ্য-উপাত্ত সামনে আসতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: