 |
| ছবি: সংগৃহীত |
জমি কেনার পর বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি করা গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। কিন্তু নতুন নিয়মে এতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। এবিষয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
জমির নামজারি কী?
নামজারি বা মিউটেশন (Mutation) হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বৈধ পন্থায় জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি ভূমি রেকর্ড বা খতিয়ান থেকে পূর্ববর্তী মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের (ক্রেতা বা ওয়ারিশ) নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা অনুযায়ী জমির নামজারি বা মিউটেশন সম্পন্ন করা হয়, যার মাধ্যমে নতুন মালিকের নামে খতিয়ান হালনাগাদ করা হয়।
নামজারি কেন জরুরি?
জমি কেনা, উত্তরাধিকার বা দানসূত্রে মালিকানা পাওয়ার পর বৈধভাবে খাজনা প্রদান ও মালিকানা পাকাপোক্ত করতে নামজারি বাধ্যতামূলক। জমির নামজারি করা নিচের কারণগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মালিকানা নিশ্চিতকরণ: সরকারি রেকর্ডে আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলে জমির ওপর আপনার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান: নামজারি সম্পন্ন না হলে নতুন মালিকের নামে জমির খাজনা বা কর দেওয়া যায় না।
ভবিষ্যৎ হস্তান্তর: জমি বিক্রি, দান বা ব্যাংকে বন্ধক রাখতে হলে হালনাগাদ নামজারি খতিয়ান আবশ্যক।
আইনি সুরক্ষা: এটি জমির অবৈধ দখল ও জালিয়াতি রোধ করতে সাহায্য করে।
জমি হস্তান্তর করার জন্য নামজারি গুরুত্বপূর্ণ: যে কোনো সময় জমি বিক্রয় করা যাবে (রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ৫২এ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৩সি ধারা অনুসারে, দলিলমূলে প্রাপ্ত জমির নামজারি খতিয়ান না থাকলে সে জমি বিক্রয় করা যায় না)।
নামজারি করার নিয়ম:
জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের পর অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা ই-নামজারি পোর্টাল-এর মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদনের জন্য মূল দলিল, বায়না বা উত্তরাধিকার সনদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
নতুন আইনে কী নিয়ম, কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নামজারির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। এখন ওয়ারিশসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে আবেদন করতে হবে। ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা না থাকলে একই খতিয়ানে যৌথভাবে (কো-শেয়ারার হিসেবে) নামজারি হবে, আলাদা আলাদা খতিয়ান করা হবে না।
নতুন আইনে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনাবেচা, দান বা হেবা করা যায় না। এমনকি মালিকানা থাকা সত্ত্বেও রেকর্ড নিজের নামে না থাকলে জমিটি অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দেওয়াও সম্ভব হয় না।
যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে, তাদেরও কি নতুন আইনে নামজারি করতে হবে?
যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান সঠিক আছে, তাদের নতুন করে নামজারি করার প্রয়োজন নেই। তবে পুরোনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজড হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
নামজারির জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
নামজারির জন্য সাধারণত দলিলের কপি (বায়না বা রেজিস্ট্রি দলিল), খতিয়ানের কপি, দাগ নম্বরসহ জমির বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ওয়ারিশসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যুসনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং আবেদন ফরম জমা দিতে হয়। নির্ধারিত ফি পরিশোধের রসিদও দাখিল করতে হয়।
নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে?
বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় সাধারণত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে (প্রায় ২৮-৪৫ দিনের মধ্যে) নামজারি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। তবে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা কোনো আপত্তি বা বিরোধ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।
বিডিএলপিবি/এমএম