২৪ আগ, ২০২৬

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন, ১০ জন খালাস

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন, ১০ জন খালাস

ফাইল ছবি
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। পরে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাদের মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল ও ডেথ রেফারেন্স করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত আইনজীবীদের ব্রিফিং 

পঞ্চগড়ে গণ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

পঞ্চগড়ে গণ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
পঞ্চগড়ে চাঞ্চল্যকর এক গণধর্ষণ মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী মামলার পাঁচ আসামিকে সসম্মানে অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অভিযোগে মামলার বাদী ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল এলাকার এক নারী অভিযোগ করেন যে, তিন মাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আসামিরা মুখ চেপে রাস্তার পাশে নিয়ে যায় এবং তার দুই বছরের শিশুকে জিম্মি করে গণধর্ষণ করে। এই ঘটনায় তিনি জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম ও খয়রুল ইসলামসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ডিবিসি নিউজ (২৩.০৮.২০২৬)

হালাল সনদ দিতে পারবে ধর্ম মন্ত্রণালয়, আইনি ভিত্তি প্রদান

হালাল সনদ দিতে পারবে ধর্ম মন্ত্রণালয়, আইনি ভিত্তি প্রদান

ছবি: সংগৃহীত 
হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি পেল ধর্ম মন্ত্রণালয়। ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন করে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে যুক্ত করেছে সরকার। রবিবার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই দিন প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করেছেন। গত ১৯ আগস্টে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হালাল মান ও সনদ-সংক্রান্ত বিষয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনের মাধ্যমে ‘রুলস অব বিজনেস’-এর সিডিউল-১—বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত তালিকায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ‘৩৪. মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের আইটেম নম্বর ২২-এর পর নতুন আইটেম নম্বর ২৩ সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন আইটেমে যুক্ত করা হয়েছে—‘ম্যাটার্স রিলেটিং টু হালাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড সার্টিফিকেশন’। অর্থাৎ হালাল পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ ও সনদ প্রদানের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় এলো। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশোধনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লখ্য, এতদিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হালাল সনদ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। হালাল মান নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে। তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।নতুন সংশোধনের ফলে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সনদ প্রদানের দায়িত্ব সরকারের কার্যবণ্টন কাঠামোয় স্পষ্টভাবে যুক্ত হলো। এর মাধ্যমে দেশে হালাল পণ্য ও সেবার মান ও সনদসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (২৩.০৮.২০২৬)

মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে কোটি টাকাসহ প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে কোটি টাকাসহ প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত 
নরসিংদীতে কুয়েতপ্রবাসী লুৎফর রহমানের স্ত্রী হাফসা বেগমকে নিয়ে মো. নয়ন মোল্লা নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও আইনজীবীর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় হাফসা বেগম প্রবাসীর জমানো প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন লুৎফর রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে নরসিংদী প্রেস ক্লাবে এসে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. লুৎফর রহমান।

এ ঘটনায় লুৎফর রহমান নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে লুৎফর রহমান জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দেশে ফিরে নরসিংদী জজ কোর্টে মামলা করতে গিয়ে নরসিংদী জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নয়ন মোল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয় তার। পরে নয়ন জানান যে, আপনি যেহেতু পুনরায় প্রবাসে চলে যাবেন সে ক্ষেত্রে মামলাটি তো পরিচালনা করতে পারবেন না। সে জন্য মামলার বাদী আপনার স্ত্রীকে দিতে হবে। পরে স্ত্রীকে বাদী করে নরসিংদী জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেন নয়ন মোল্লা।

মামলা পরিচালনার সূত্রে তাদের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন লুৎফর। এরপর বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ নেওয়া শুরু করেন নয়ন।

একপর্যায়ে স্ত্রী হাফসা বেগম প্রবাস থেকে তার বিভিন্ন সময় পাঠানো ১ কোটি ১০ লাখ নগদ টাকা এবং ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নয়ন মোল্লার সঙ্গে সম্প্রতি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন লুৎফর। গত ৩ আগস্ট প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দেশে ফেরেন। তাদের ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৮ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

লুৎফর রহমান জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে পরিশ্রম করে জমানো অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হারিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে নয়ন মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ভূইয়া জানান, নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বার সদস্যপদ বাতিল হলে নয়ন মোল্লার সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদও স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (২৩.০৮.২০২৬)

হাইকোর্টে ঝুলে থাকা পুরনো ল্যান্ড সার্ভে মামলা নিয়ে বিলম্ব মওকুফের আবেদন সহ যাওয়া যাবে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে: হাইকোর্টের রায়

হাইকোর্টে ঝুলে থাকা পুরনো ল্যান্ড সার্ভে মামলা নিয়ে বিলম্ব মওকুফের আবেদন সহ যাওয়া যাবে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর না থাকায় দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে আটকে থাকা একটি প্রথম আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন মহামন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। এ রায়ের ফলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অনুরূপ পুরনো মামলাগুলোর নিষ্পত্তির পথ উন্মুক্ত হলো। কেননা, এতদিন আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর না থাকায় যারা বাধ্য হয়ে হাইকোর্টে এসেছিলেন, তারা এখন বিলম্ব মওকুফের আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট জেলার ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন।

রায়ে আদালত বলেন, সাম্প্রতিক আইন সংশোধন ও সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল’ কার্যকর হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট আপিলকারীদের উপযুক্ত ফোরামেই যেতে হবে। একই সঙ্গে এতদিন উপযুক্ত আপিল ট্রাইব্যুনাল না থাকায় হাইকোর্টে রিট ফোরামসহ বিভিন্নভাবে আইনি প্রতিকার চাইতে গিয়ে যে সময়ক্ষেপণ হয়েছে, তারা রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির পর আপিলকারীরা যুক্তি সঙ্গত সময়ের মধ্যে আপিল দায়ের করলে তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালকে বিলম্ব মওকুফের আবেদন বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ. কে. এম ফজলুল হক ও অন্যান্য বনাম বায়তুল আমান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি. ও অন্যান্য মামলায় হাইকোর্ট এমন মাইলফলক নির্দেশনা দিয়েছেন।  গত ১৮ আগস্ট বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান এবং বিচারপতি উর্মী রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান। রায় প্রদানকালে আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ইফতেখার আহমেদ। বিবাদীপক্ষে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

রায়ে উল্লিখিত ফ্যাক্ট থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালে ঢাকার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আরএস/বিএস খতিয়ান ও রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে এ.কে.এম. ফজলুল হকসহ অন্যান্যরা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বিবাদী পক্ষ (বাইতুল আমান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি.) দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৭, রুল-১১, অনুযায়ী আবেদন প্রত্যাখ্যানের আবেদন জানায়। ট্রাইব্যুনাল বিবাদীর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে ২০০৭ সালের ৩ জুলাই বাদীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে রায় ও ডিক্রি দেন।
এরপর আইন অনুযায়ী বাদী পক্ষের আবেদন করার একমাত্র ফোরাম হচ্ছে ‘ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল’। কিন্তু ‘ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল’ কার্যকর না থাকায় এ.কে.এম. ফজলুল হকসহ অন্যান্যরা আইনি প্রতিকারের জন্য বাধ্য হয়ে ২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে ফার্স্ট আপিল দায়ের করেন। যা নিয়মানুযায়ী তামাদি মেয়াদের মধ্যেই নিবন্ধিত হয়েছিল। যদিও এভাবে হাইকোর্টে আপিল করাটা ছিল একটি ভুল প্রক্রিয়া। 
তবে হাইকোর্ট বিভাগ ফাস্ট আপিলটি শুনানি করার উদ্যোগ নেন। আদালতের শুনানিতে ফাস্ট আপিলকারীদের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, আপিলটি ভুল ফোরামে দায়ের করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সঠিক ফোরাম কার্যকর হওয়ায় আপিলকারীদের উপযুক্ত ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করা সমীচীন। এরপর হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেন। 

হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন, ‘স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট এর ১৪৫বি ধারার আইনি কাঠামো অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ সরাসরি ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না এবং সাধারণ দেওয়ানি এখতিয়ার অনুযায়ী এই আপিল গ্রহণ বা বিচার করার আইনি সুযোগ নেই। ফলে হাইকোর্টে এই ফার্স্ট আপিলটি আর শুনানি যোগ্য নয়। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে হাইকোর্ট বেঞ্চ নিম্নোক্ত আদেশ ও নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, সংক্ষুব্ধ বাদী/আপিলকারীদের ঢাকার যথাযথ ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে নতুন করে আপিল দায়েরের সুযোগ দেওয়া হলো। এই রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির পর আপিলকারীরা যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে আপিল দায়ের করলে ট্রাইব্যুনাল তাদের ‘বিলম্ব মওকুফ’ আবেদন বিবেচনা করবে একই সঙ্গে আপিল দায়েরের নির্ধারিত সময়ে কোনো আপিল ট্রাইব্যুনাল বিদ্যমান না থাকায় বাধ্য হয়ে আপিলকারীরা ভুল ফোরামে (হাইকোর্ট বিভাগে) আবেদন জানিয়েছিলেন; ট্রাইব্যুনালকেও এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। অতএব ফার্স্ট আপিলটি নিষ্পত্তি করা হলো এবং নিম্ন আদালতের যাবতীয় নথি ও রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

উল্লখ্য, দেশের জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রায় প্রতিটি জেলায় রয়েছে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল। এসব ট্রাইব্যুনালে হাজারো মামলা বিচারাধীন। স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট, ১৯৫০ এর ১৪৫বি ধারা অনুযায়ী ২০০৪ সালে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এই আইনে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যেকোনো রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষের কেবল ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আইন হলেও সরকার কোনো সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা করেনি কিংবা কোনো বিচারককে দায়িত্ব প্রদান করেনি। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২৩ সালের ১১ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৩’ পাস হয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকার ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট গেজেট জারির মাধ্যমে প্রতিটি জেলার ‘জেলা জজ’দের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রদান করে বিচারিক ফোরাম কার্যকর করে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: হাইকোর্টের রায় ও চ্যানেল ২৪ এর প্রতিবেদন (২৪.০৮.২০২৬)

মেহেরপুরে ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুরে ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
ধর্ষণের দায়ে মেহেরপুরে কলিম উদ্দিন ওরফে কালু (৫৫) নামে এক ইউপি সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। পাশাপাশি তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন মামলার বিবরণ দিয়ে জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। 
আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিটি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন আরও জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কালুর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৩.০৮.২০২৬)

কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যার দায়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যার দায়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এ মামলার অপর আসামি নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-নিহত মরিয়ম বেগমের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।

আদালত সূত্র ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা মো. সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, দেবর নিজাম উদ্দিন ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে আসামি করা হয়।মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলার নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে মরিয়মের হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৩.০৮.২০২৬)