১৬ জুল, ২০২৬

দলিল লেখক হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

দলিল লেখক হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

ছবিঃ সংগৃহীত 
ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলায় ২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদের ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদালত এই মামলার আরও ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী নছর ভিটা গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরিদ খলিফা (৪৮) ও একই গ্রামের মো. মাসুদ মিয়া (৪১)। এর মধ্যে মাসুদ মিয়া পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-মো. ফরিদ খলিফা (৪৮) ও মো. মাসুদ মিয়া (৪১)। তবে রায় ঘোষণার সময় মাসুদ মিয়া পলাতক ছিলেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- আবদুল মতিন (৪৫), তার বাবা আব্দুস ছাত্তার ওরফে ছন্দেন আলী (৬৮), মো. মোশারফ হোসেন (৫৮), মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮), তার ভাই মো. তোফাজ্জল হোসেন (৪৮), মো. নজরুল মিয়া (৪৩), মো. মোকলেছুর রহমান (৫৩), মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮), তার ভাই মো. আতিকুল (৩৯) এবং পলাতক মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ও ভালুকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আবু জাকারিয়া (মিন্টু) নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি দেখতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। পরে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী লতিফা খাতুন ভালুকা মডেল থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর পুলিশ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। 


বিডিএলপিবি/এমএম


পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা: হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালাস

পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা: হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালাস

ছবিঃ সংগৃহীত

পিরোজপুরের ঝর্ণা রাণী দেউরীকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় অধস্তন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একমাত্র আসামি লিটন মন্ডলকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে মৃত্যুর কথা বলা হলেও মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আইনি দুর্বলতা ছিল। ভুক্তভোগীর বাবা সরাসরি মরদেহ না দেখেই থানায় কেবল কাপড়চোপড় এবং পুলিশের দেখানো একটি ছবির ওপর ভিত্তি করে মেয়েকে শনাক্ত করেন। শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত ওই ছবিটি অধস্তন আদালতের নথিতে (এলসিআর) সংযুক্ত ছিল না। আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ জুন পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মিজানুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পলাতক আসামি লিটন মন্ডলকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ৩০২/২০১ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রতন দেউরী, রনজিৎ হাওলাদার এবং বিপুল শাখারী নামে অপর তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঝর্ণা রাণী দেউরী রামচন্দ্রপুর শাহ মাহামুদিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালের ২৪ মে তার বাবা সুভাষ চন্দ্র দেউরী নেছারাবাদ থানায় মামলাটি করেন। জানা গেছে, প্রতিবেশী লিটন মন্ডল ঝর্ণাকে উত্ত্যক্ত করতো এবং বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৪ মে বাগেরহাটের কচুয়া থানার আন্দার মানিক গ্রামে বড় বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঝর্ণা নিখোঁজ হন। ওইদিনই স্বরূপকাঠী কৌরিখাড়া খেয়ার ট্রলারে লিটন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ঝর্ণাকে দেখতে পান সুমন দেউরী নামে এক সাক্ষী। পরে ১৭ মে পত্রিকায় বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় গিয়ে পরিধেয় বস্ত্র দেখে তা ঝর্ণার মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিতে; এক মাসের মধ্যে পরিবর্তনের নির্দেশ হাইকোর্টের

মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিতে; এক মাসের মধ্যে পরিবর্তনের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোরেলের অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড পরিবর্তন এবং পিলার ও উড়ালপথের (ভায়াডাক্ট) বিমে দেখা দেওয়া ফাটল মেরামতের মতো জরুরি কাজগুলো এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।

রিটকারীদের আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, গত সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ কমিটির এই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বা শর্ট টার্ম কাজগুলো আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ এবং ৪৪৮ নম্বর পিলারের বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব পিলারে ত্রুটি রয়েছে, সেগুলোর ফাটল ও দেবে যাওয়ার অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। উড়ালপথের বিমে থাকা ফাটলগুলোর কারণ অনুসন্ধান করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তা দ্রুত সংস্কার করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

এছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগে স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পানি ঢোকা রোধ করা, বন্ধ হয়ে থাকা নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিষ্কার করা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিয়মিত রেললাইন পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চাকার ত্রুটি বা ফাটল থাকা ট্রেনগুলো পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর চলাচল বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে সমাধানের কথা বলেছে তদন্ত কমিটি। ঠিকাদারদের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখতে বলা হয়েছে, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

আদালতের এই নির্দেশনার পর বুধবার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। আদালতের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য নয় সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটির দেওয়া আটটি স্বল্পমেয়াদি, দশটি মধ্যমেয়াদি, দশটি দীর্ঘমেয়াদি এবং ছয়টি কৌশলগত সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি সমন্বয় করবে। কাজের নিয়মিত অগ্রগতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।

গত বছরের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে আবুল কালাম নামের এক পথচারীর মৃত্যু হয়। এর এক বছর আগেও প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে প্রকল্পের কাঠামোগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।


বিডিএলপিবি/এমএম

হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে

হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে

ছবিঃ সংগৃহীত 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। 

তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুজন মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতকারী ওসমান হাদিকে একেবারে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। সে সময় দ্রুত হাদিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে দুদিন রাখার পর নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হলে হাদিকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। পরে তার মৃত্যুর পর গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ বাকি ছয়জন পলাতক রয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সিলেট আদালতে ১৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

সিলেট আদালতে ১৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার, গণভোট আয়োজন এবং বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের প্রতিবাদে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়িত্ব পালনকারী জামায়াতপন্থী ১৭ আইন কর্মকর্তা একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল খালিক।

আব্দুল খালিক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের গণভোট, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিহা ও বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা উক্ত পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।’

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলীম উদ্দীন এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল হুদা।

এ ছাড়া সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ থেকে পদত্যাগকারী ১৫ জন হলেন অ্যাডভোকেট মো. রবিউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জুনেদ আহমদ, অ্যাডভোকেট মো. মোজাম্মিল আলী, অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কাজী আতিফুল হক, অ্যাডভোকেট সাদেক আহমদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ময়নুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল গফ্ফার, অ্যাডভোকেট আফজল মিয়া তালুকদার, অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম ও অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৫ জুল, ২০২৬

চাকরি হারালেন সুপ্রিম কোর্টের সেই সহকারী রেজিস্ট্রার

চাকরি হারালেন সুপ্রিম কোর্টের সেই সহকারী রেজিস্ট্রার

ছবি: সংগৃহীত 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নামে অসত্য কুৎসা রটিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত (ডিসমিসাল ফ্রম সার্ভিস) করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক আদেশ জারির বিষয়টি জানানো হয়। আদেশটি গত ১৪ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুলস, ১৯৮৩-এর বিধি ২(৪) ও বিধি ৩(বি) অনুযায়ী ইব্রাহীম আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলার অভিযোগসমূহ সুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বিধির ৪(১)(জি) ধারা মোতাবেক তাকে চাকরিচ্যুত করার সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ৫ মে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করার পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ইব্রাহীম আলম ফেসবুকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে বিচারপতি ও আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন।

এছাড়া তিনি নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আদালত ও বিচারকদের নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছিলেন। একই সাথে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ অমান্য করার জন্য অন্য কর্মচারীদের উসকানি দিয়ে তিনি অফিসিয়াল চেইন অব কমান্ড ভেঙে অফিসে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন, যা গুরুতর সরকারি অসদাচরণ ও অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি অপরাধ।


বিডিএলপিবি/এমএম

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় ২৮ জুলাই

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় ২৮ জুলাই


ছবিঃ সংগৃহীত

সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার রায়ের ঘোষণার জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বেঞ্চ সহকারী মো. দেওয়ান আশিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে এস কে সুরকে নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। 

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদক-এর উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক-এর উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গত ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে সাত জন সাক্ষীর মধ্যে সাত জনই আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে এস কে সুর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে দুদক। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক আছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম 

সোর্সঃ বাসস