২৮ জুন, ২০২৬

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ বার পেছাল, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১৫ জুলাই

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ বার পেছাল, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১৫ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে ১৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন।

আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) অভিযোগ সংযোজনের আদেশ দেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে একাধিকবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে।

ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ছয়জন পলাতক।
 
বিডিএলপিবি/এমএম

ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য রিট করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য রিট করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর


ছবি: সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম এবং প্রসিকিউশন দলের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক মামলার বিচার ও নিষ্পত্তি করেছে। তার ভাষায়, ট্রাইব্যুনালে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার এবং তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বিচার দ্রুতগতিতে, আইন অনুযায়ী এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ায় এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, যিনি এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তিনিও কিন্তু এর আগে এই ট্রাইব্যুনালের মামলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং কারও কারও ইন্ধনে ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও বিষয়টি উত্থাপন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন।

রিট আবেদনে আইনটির কয়েকটি নির্দিষ্ট বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থি। সেই কারণেই এসব বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা বিচারিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি ও দুই হত্যা মামলার রায় আজ

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি ও দুই হত্যা মামলার রায় আজ

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরো দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়  কাল রবিবার।

গত ১৫ জুন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গতকাল শনিবার প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের জানান, মামলার রায় ঘোষণা ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এ মামলার আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে পলাতক চারজন। তারা হলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে। গত ১৫ জুন তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

এরপর রায় ঘোষণার দিন ধার‌্য করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনায় চঞ্চল সরকারের মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে মামলার অভিযোগ থেকে তাঁর অব্যাহতি চান তিনি। তবে পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পুনর্সাক্ষ্যে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আনেন তিনি। চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এই আসামি।

আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলি; শিশু বাসিত খান মুসার (৭) মাথা ভেদ করে ওর দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামের আরও এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৬ জুন, ২০২৬

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী পেলো আসামিপক্ষ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী পেলো আসামিপক্ষ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুইঞা। তিনি বলেন, কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। এগুলো সম্পন্ন হলেই হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হলো। ফৌজদারি আইনে পারদর্শী এই আইনজীবী এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীতে পাশের ফ্ল্যাটে ওই শিশুকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেন সোহেল রানা। এ অপরাধে তাকে পূর্ণ সহায়তা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে গত ৭ জুন দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ের পর দুই আসামিকে পাঠানো হয় কনডেম সেলে। কনডেম সেল থেকে তারা রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৫ জুন, ২০২৬

চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী

চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরের আঘাতে এক আয়কর আইনজীবী ও একটি কোম্পানির নির্বাহী হিসাবরক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। চোখে আঘাত পাওয়া আয়কর আইনজীবীর দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও রক্ষা করতে না পেরে একটি চোখ অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা।

চোখ হারানো আয়কর আইনজীবীর নাম শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫)। অপর আহত ব্যক্তি হলেন ঢাকার স্বপ্ন কুটির বিল্ডার্সের নির্বাহী হিসাবরক্ষক নাইমুল হাসান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশন অতিক্রমের সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পাথরটি শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও তার ডান চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপসারণ করতে হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ জুন, ২০২৬

আদালতের আদেশ ভুল বুঝে এজলাসে বিষপান, হাসপাতালে নারী

আদালতের আদেশ ভুল বুঝে এজলাসে বিষপান, হাসপাতালে নারী

ছবি: সংগৃহীত 

ভোলার আদালতে একটি মামলার শুনানিকালে বিচারকের আদেশ ভুল বোঝার জেরে এজলাসে দাঁড়িয়েই বিষপান করেছেন তারাভানু (৩৫) নামে এক নারী। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ রায় মিঠুর আদালতে এ ঘটনা ঘটে। তারাভানু বোরহানউদ্দিন উপজেলার ছোট মানিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং বাহার উদ্দিনের স্ত্রী।

কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারাভানু তার স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সিআর মামলা করেছিলেন। বুধবার মামলাটির চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।

আদালত সূত্র ও উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, শুনানি শেষে বিচারক মামলার এক নম্বর আসামি বাহার উদ্দিনকে মামলায় রাখলেও অপর দুই আসামিকে অব্যাহতি দেন। তবে আদালতের এ আদেশ বাদী তারাভানু ভুলভাবে বুঝে নেন। তিনি ধারণা করেন, তার স্বামীকেও মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে হতাশ হয়ে সঙ্গে থাকা একটি বোতল থেকে তরল জাতীয় বিষ পান করেন।

ঘটনাটি টের পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও অন্যান্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সেখ মো. নাসির উদ্দীন জানান, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে ওই নারী হঠাৎ বিষপান করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা রোগী দেখতে পারবেন না: আপিল বিভাগের রায়

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা রোগী দেখতে পারবেন না: আপিল বিভাগের রায়

ছবি: সংগৃহীত 

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (২৪ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এ রায়ের ফলে ডেন্টাল সহযোগীরা এখন থেকে কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না।

শুনানিতে বিএমডিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল হক। ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম ও আনোয়ার হোসেন এবং রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন শিশির মনির ও সায়েদা নাসরিন।

ডেন্টাল চিকিৎসকদের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এসএসসি পাসের পর ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ডেন্টিস্ট্রি’ ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। তাদের এই কোর্সের মূল কারিকুলামটিই এমনভাবে তৈরি, যাতে তারা ডেন্টিস্টদের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন।

তিনি বলেন, “কিন্তু তারা পরবর্তীতে একটি আবেদনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অনুমতি দাবি করেন। হাইকোর্ট বিভাগ আগে তাদের পক্ষে ১০টি ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।”

আইনজীবী  জানান, হাইকোর্টের দেওয়া রায় চ্যালেঞ্জ করে সিভিল পিটিশন (সিপি) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালত লিভ মঞ্জুর করেছিলেন এবং চূড়ান্ত শুনানির পর সিভিল আপিলটি মঞ্জুর করেছেন। এর ফলে, হাইকোর্টের দেওয়া সেই রায় আর বহাল নেই। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এখন থেকে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না এবং নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখতে পারবেন না।

আনোয়ার হোসেন জানান, তারা কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তারা যদি পরবর্তীতে নতুন করে আবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষ যদি তা বিবেচনা করে, সেটি ভবিষ্যতের বিষয়।


বিডিএলপিবি/এমএম