২৪ জুন, ২০২৬

 এমপি মনিরুল হককে নিয়ে কটুক্তি: মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

এমপি মনিরুল হককে নিয়ে কটুক্তি: মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত 

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। 

গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—বাদী খোকন যুবদলের কোনও স্তরেরই সদস্য নন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়—মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

সব ধরনের জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেন। মূলত ১৫৭ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে আধুনিক ও সময়োপযোগী এই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিলটি যাচাই-বাছাই করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ মাত্রার শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ায় জড়ালে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে এই সাজা বেড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া অপরাধের মাত্রায় সবচেয়ে কঠোর সাজা রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। কেউ এতে সম্পৃক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য অনূর্ধ্ব সাত বছরের জেল বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

বিলটি উত্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেড় শতাব্দীর পুরোনো আইনটি দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।

তাছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের সুবিধার্থে আইনটি যুগোপযোগী করার প্রস্তাব এসেছিল। সংবিধানেও জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন আইন প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও রিভিউ আবেদন: বার কাউন্সিলের "কারণ দর্শানো নোটিশ"

লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও রিভিউ আবেদন: বার কাউন্সিলের "কারণ দর্শানো নোটিশ"


ছবি: সংগৃহীত 

গত ২৮/০৬/২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও এবং পরীক্ষায় সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা দেওয়া সত্ত্বেও সেই পরীক্ষার উত্তরপত্র রিভিউ দাবি করা দুই প্রার্থীকে কারন দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। গতকাল, ২৩ জুন, দুইজন পরীক্ষার্থীকে এই নোটিশ প্রেরণ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

এম.আর. আকাশ নামে একজন পরীক্ষার্থীকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, "যে লিখিত পরীক্ষায় আপনি অংশগ্রহণই করেন নাই সে পরীক্ষার উত্তরপত্র/ফলাফল কীসের ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ণ/রিভিউ করতে চেয়েছিলেন এবং কোন্ মানদন্ডে বা কোন্ প্রক্রিয়ায় আপনার সেই 'অদৃশ্য'/'কল্পিত' উত্তরপত্র রিভিউ করা যেতো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সেই মর্মে আগামী ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে 'সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল'--বরাবরে কারণ দর্শানোর জন্য আপনাকে নির্দেশক্রমে বলা হলো।"

এছাড়া, মুহাম্মদ সাইফুল আমিন নামে অন্য আর এক পরীক্ষার্থীকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, যে লিখিত পরীক্ষায় আপনি উত্তরপত্রে একটি অক্ষরও লিখেন নাই তথা সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা প্রদান করেছেন সেই পরীক্ষার ব্ল‍্যাঙ্ক/সাদা উত্তরপত্র কীসের ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ণ/ রিভিউ করতে চেয়েছিলেন এবং কোন্ মানদন্ডে বা কোন্ প্রক্রিয়ায় আপনার সেই 'অদৃশ্য'/'কাল্পনিক' প্রশ্নোত্তর রিভিউ করা যেতো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সেই মর্মে আগামী ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে 'সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল' --বরাবরে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে আপনাকে বলা হলো।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৩ জুন, ২০২৬

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবিঃ সংগৃহীত 

১০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। গতকাল (সোমবার, ২২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তারা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও  সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণ আজ (মঙ্গলবার, ২৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির ও রেজাউল ইসলাম।


বিডিএলপিবি/এমএম 


টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ছবিঃ সংগৃহীত
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।

সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স- বাসস 

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান

ছবিঃ সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা হলেন- নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুদকের উপ-পরিচালক সিরাজুল হক।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে এ মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। হিসাবে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।

তবে দুদকের তদন্তে বেনজীরের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক, যা তার ঘোষণার তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।

দুদকের হিসাবে, বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম। চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।



বিডিএলপিবি/এমএম 

সোর্স- বাসস 

রংপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

রংপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুর ‘ক’ সার্কেল এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক অভিযান চালায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহানের নেতৃত্বে মহানগরের কোতোয়ালি ও পরশুরাম থানার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে শূণ্য দশমিক চার গ্রাম হেরোইন ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জনকে আটক করা হয়। 

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. মমিনুল ইসলাম (২৪), মো. মেহেদী হাসান (২৭), মো. আবুল (৪৩), মো. সুলতান (৪৮), মো. সুরুজ মিয়া (৪২) এবং মো. শহিদুল ইসলাম (৩০)।

অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, রংপুরের পরিদর্শক এস এম এলতাস উদ্দিন, উপ-পরিদর্শক মো. মোসাদ্দেক হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম 

সুত্রঃ বাসস