১২ জুন, ২০২৬

কারাগারে বন্দি থাকা স্ত্রীকে গাঁজা দিতে গিয়ে স্বামী আটক

কারাগারে বন্দি থাকা স্ত্রীকে গাঁজা দিতে গিয়ে স্বামী আটক

ছবি: সংগৃহীত 

মাগুরা জেলা কারাগারে বন্দি স্ত্রীকে গাঁজা সরবরাহের চেষ্টা করার অভিযোগে তার স্বামী দবির মোল্যাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টার দিকে কারাগারের আরপি গেটে এ ঘটনা ঘটে।

দবির মোল্যা (৩৫) মাগুরা সদর উপজেলার জুঁইতড়া গ্রামের মোতালেব মোল্যার ছেলে। তিনি তার স্ত্রী তন্বী খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। কারারক্ষীরা দবির মোল্যাকে তল্লাশি করলে, তার প্যান্টের পকেট থেকে প্রায় ৫০ গ্রাম গাঁজার একটি প্যাকেট উদ্ধার হয়।

মাগুরা জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মহিউদ্দিন হায়দার জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দবির মোল্যাকে দোষী সাব্যস্ত করে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দবির মোল্যা স্বীকার করেছেন যে, তিনি কারাবন্দি স্ত্রী তন্বী খাতুনের কাছে গাঁজা পৌঁছে দিতে ওই প্যাকেটটি নিয়ে এসেছিলেন।

কারারক্ষীরা জানিয়েছেন, দুই দিন আগে তন্বী খাতুনকে মাদক কারবারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কারাগারে থেকেও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামীর মাধ্যমে গাঁজা ভেতরে নিতে চেয়েছিলেন। ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


বিডিএলপিবি/এমএম

চট্টগ্রাম আদালতের দুর্নীতি হয়রানির বন্ধে বসানো হলো অভিযোগ বক্স

চট্টগ্রাম আদালতের দুর্নীতি হয়রানির বন্ধে বসানো হলো অভিযোগ বক্স

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ সরাসরি জানাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কার্যালয়। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ ই-মেইল ঠিকানা চালু এবং সিএমএম কার্যালয়ের বাইরে একটি সিলগালা করা অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার এ বিষয়ে একটি প্রশাসনিক আদেশ জারি করেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার। ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকরা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত এবং প্রমাণাদি জমা দিতে পারবেন।

প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, আদালতের পরোয়ানা প্রেরণ বা প্রত্যাহার, সার্টিফিকেট কপি সংগ্রহ, জামিন প্রক্রিয়া, জব্দকৃত আলামত বা যানবাহন ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি, অযৌক্তিক বিলম্ব কিংবা অনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও হয়রানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা যাবে।

অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল, ছবি, অডিও-ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণ সংযুক্ত করা যাবে। অভিযোগকারীর পরিচয় ও তথ্যের গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হবে বলে প্রশাসনিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, ব্যক্তিগত দেওয়ানি ও সাধারণ ফৌজদারি মামলা, বিচারাধীন মামলার ফলাফল প্রভাবিত করার আবেদন কিংবা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়া এ ব্যবস্থার আওতার বাইরে থাকবে।

সিএমএম কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে। তবে এই প্রক্রিয়া কোনো মামলা দায়েরের বিকল্প নয় এবং মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব


ছবি: সংগৃহীত 

দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেন। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন অর্থবছরে সর্বোচ্চ আদালতের জন্য বরাদ্দ বাড়ছে ২১ কোটি টাকা।

এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া প্রথম বাজেট। বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট পেশের আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত এই বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

পাশাপাশি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার এবং প্রণোদনামূলক উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ, করনীতি, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা এবং দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


বিডিএলপিবি/এমএম

জুডিশিয়াল সার্ভিসে প্রবেশে ৫ বছর ওকালতি বাধ্যতামূলক চায় রাজশাহী বার

জুডিশিয়াল সার্ভিসে প্রবেশে ৫ বছর ওকালতি বাধ্যতামূলক চায় রাজশাহী বার

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (সিভিল জজ) নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি কমপক্ষে পাঁচ বছর ওকালতির বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (১০ জুন) এ বিষয়ে বারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। ডাকযোগে পাঠানো ওই অনুরোধপত্রে স্বাক্ষর করেন রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োগের জন্য আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও কমপক্ষে পাঁচ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা বাস্তবভিত্তিক কারণে প্রয়োজন।

এতে আরো বলা হয়, ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার সময়েও দুই বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয়ও অধস্তন জুডিশিয়ারিতে প্রবেশের জন্য আইন পেশার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ১০ বছরের ওকালতির বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে অধস্তন জুডিশিয়ারি প্রবেশ ও অবসর বিষয়ে বয়সসীমা পরিবর্তন করা যেতে পারে।

তারা আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও কমপক্ষে পাঁচ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সিভিল জজ নিয়োগের আবেদন জানান।

রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওনারা পরীক্ষা দিচ্ছেন, পরীক্ষা দেয়ার পরে বলতে গেলে তিন মাস প্রশিক্ষণ নেয়ার পরেই ওনারা বিচারক হয়ে বসে যাচ্ছেন। এতে হচ্ছে কী, স্বাভাবিকভাবেই একটা অভিজ্ঞতার বিষয় আসছে। এই অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে বিচারব্যবস্থায় অনেক সময় প্রবলেম তৈরি হচ্ছে।’


বিডিএলপিবি/এমএম

১১ জুন, ২০২৬

আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন কি না, ২ অ্যামিকাস কিউরির মত নেবেন আপিল বিভাগ

আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন কি না, ২ অ্যামিকাস কিউরির মত নেবেন আপিল বিভাগ


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে মতামত দিতে দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে মনোনয়ন দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারা হলেন, এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর আপিল আবেদন শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুন পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি নিয়ে এ দিন ঠিক করেন। আদালতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন। ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম শুনানি করেন।

শুনানি শেষে রোকন উদ্দিন মো. ফারুক বলেন, আদালত আপিলের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুন পরবর্তী দিন রেখেছেন। আদালত আইনি মতামত দিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীকে মনোনীত করেছেন।

গত মঙ্গলবার (৯ জুন) আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকটির করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। ওইদিন প্রথমদিনের শুনানি শেষে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের শুনানি হয়।

গত ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে অভিযোগকারী পক্ষ। পরে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ফিরে পান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও তার ফলাফল প্রকাশ উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। সেই আবেদন গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (আসলাম চৌধুরী) নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সফল হন তবে সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশ এ সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের টিমের নেতৃত্বে অ্যাটর্নি জেনারেল

রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের টিমের নেতৃত্বে অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবি: সংগৃহীত  

আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার হাইকোর্টে শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী দল গঠন করা হয়েছে। এ দলের নেতৃত্ব দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেবেন। তার সঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান, জামিউল হক ফয়সাল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার হাইকোর্টে বিরতিহীনভাবে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে।’ এ মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ধরনের মুলতবির আবেদন করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন। ওই বেঞ্চে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন যে, রামিসা হত্যা মামলার শুনানি অব্যাহতভাবে চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ।‘

অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী রোববার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।’

এর আগে, গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের স্বাক্ষরের পর সংশ্লিষ্ট নথি হাইকোর্টে পৌঁছে।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদন প্রক্রিয়াই ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত।


বিডিএলপিবি/এমএম

বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় ৫১ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ

বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় ৫১ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ

ছবিঃ সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এডভোকেটশিপ তালিকাভুক্তির নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও জালিয়াতিমুক্তভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে ৫১ জন বিচারিক কর্মকর্তাকে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

গতকাল (বুধবার) আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনে একথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আগামী ১২ জুন ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বার কাউন্সিলের এডভোকেটশিপ তালিকাভুক্তির এমসিকিউ পরীক্ষা উপলক্ষে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা পরীক্ষাকেন্দ্রে সংঘটিত যেকোনো পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯০(১) ধারা অনুযায়ী আমলে নিতে এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর কলেজ, সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ, মতিঝিল সরকারি বয়েজ হাই স্কুল, খিলগাঁও মডেল কলেজ, খিলগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খিলগাঁও গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমন্ডি সরকারি বয়েজ হাই স্কুল, তেজগাঁও সরকারি হাই স্কুল, শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ হাই স্কুল, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এবং কলা অনুষদসহ ঢাকার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আইন ও বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এছাড়া, অনিবার্য কারণে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বিকল্প হিসেবে আরও ৫ জন কর্মকর্তাকে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার স্বার্থে এই ম্যাজিস্ট্রেটরা পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।


বিডিএলপিবি/এমএম