বিডিএলপিবি/এমএম
১০ জুন, ২০২৬
ব্যভিচারের মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তারা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারার আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিন শুনানিতে তাদের (নাসির-তামিমা) সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর গত ১৬ এপ্রিল এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছিল। ক্রিকেটার নাসিরের এই আইনি লড়াই দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। রাকিবের দাবি ছিল, তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকাকালীনই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা প্রচলিত আইন ও ধর্মীয় রীতির পরিপন্থী।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ক্রিকেটার নাসির হোসাইন তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজ আয়ত্তে নিয়ে গেছেন। এই অবৈধ সম্পর্কের ফলে রাকিব এবং তাঁর আট বছর বয়সী কন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও বড় ধরণের মানহানির শিকার হয়েছেন। সব ধরণের তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালত আজ তাঁদের নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
নাসির-তামিমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন
ডিভোর্স জালিয়াতি, পরকীয়া ও ব্যভিচার রোধে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমান শাস্তির বিধান রেখে লিঙ্গনিরপেক্ষ আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে কর্মসূচি থেকে। বুধবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আয়োজন করে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন।
এদিকে, ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানাকে ঘিরে আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায়ের আগে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি বলেছেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেবেন এবং এই রায় সারাদেশের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হবে।
বিডিএলপিবি/এমএম
শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য রয়েছে আজ। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
ড. ইউনূসের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন গ্রেফতার হওয়া সেই ৬১ আইনজীবীর
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার চাইলেন ৬১ আইনজীবী। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান আইনজীবীরা, যারা ওই সরকারের সময়ে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। আইনজীবীরা বলেন, মিথ্যা মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
দুপুর ১২টার দিকে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত এই মানববন্ধন করেন আইনজীবীরা। এ সময় তারা ড. ইউনূসের বিচার চেয়ে স্লোগান দেন এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। মানববন্ধনে কারামুক্ত আইনজীবী মাহফুজুর রহমান লিখন বক্তব্যে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া, মামলা পরিচালনা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ওবায়দুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট লিটন মিয়া, অ্যাডভোকেট তৌহিদ প্রমুখ।
বিডিএলপিবি/এমএম
সাত মামলায় দীপু মনির জামিন কেন নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
রাজধানীর পল্টন থানার মারধরের ঘটনায় করা একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।
তবে হত্যার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা আরও সাতটি মামলায় কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি খায়রুল আলম ও বিচারপতি একেএম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন দীপু মনির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে এ আইনজীবী জাগো নিউজকে বলেন, আটটি মামলায় হাইকোর্টে দীপু মনির জামিন আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে মারধরের ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আর হত্যার অভিযোগে তেজগাঁও, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী থানায় করা পৃথক সাতটি মামলায় কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেছেন আদালত।
রমজান আলী শিকদার আরও জানান, বর্তমানে ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে দুটিতে হাইকোর্ট রুলসহ জামিন দিয়েছেন। এছাড়া ১৩টি মামলায় জামিনের প্রশ্নে রুল জারি করা হয়েছে।
ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা থেকে দীপু মনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আবু সাঈদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং সহিংসতায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগসহ প্রায় ৩৮টির বেশি মামলা রয়েছে।
চিকিৎসা শাস্ত্র ও আইনের ডিগ্রিধারী ডা. দীপু মনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার পরের একটি সরকারে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সরকারে তিনি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ওই বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতন হলে তার মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে। তারপর গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
বিডিএলপিবি/এমএম
নতুন আইনজীবী চাইলেন জিয়াউল, সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ২১ জুন
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২১ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ধার্য করেন। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ তারিখ পেছানো হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা ছিল। সাক্ষীও যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত হন। তবে গত ৭ জুন রাতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যু হয়। ফলে নতুন আইনজীবী নিয়োগসহ সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে আবেদন মঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে, ২৩ এপ্রিল চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া হাবিবুর রহমান মল্লিকের জেরা সম্পন্ন হয়। ২২ এপ্রিল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়ায় পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে জিয়াউলের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে তিনজনকে হত্যা, ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনায় ৫০ জন এবং একই সময়ে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম