৭ জুন, ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত আপিল নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত আপিল নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন


ছবি: সংগৃহীত 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের প্রস্তাবের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অনেক আলোচিত মামলার রায় হলেও দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার কারণে সেগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকর হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। ফলে বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তবে হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া এ রায় কার্যকর হবে না। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি নিশ্চিত করতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় আগামী রোববার থেকেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর শুনানির জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ বেঞ্চ কার্যক্রম শুরু করবে। এই বেঞ্চে শিশু রামিসা হত্যা মামলা, আছিয়া ও রসু খাঁসহ আলোচিত মামলাগুলোর আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের এসব মামলায় কোনো ধরনের মুলতবি না চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিলম্ব ছাড়াই ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করেন, বিচার বিভাগের এই উদ্যোগ আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিচারিক ছুটির মধ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রশংসা করেন।

এ সময় রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম

মিঠুন সাহাকে বার কাউন্সিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ

মিঠুন সাহাকে বার কাউন্সিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ

ফাইল ছবি

কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিঠুন সাহা'কে। পেশাগত আচরণ ও কর্মকাণ্ড বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাকে এই নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বার কাউন্সিল সাধারণত আইন পেশার শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং পেশাগত মান বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এ ঘটনায় আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টির যথাযথ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মধ্যে ব্যতিক্রমী এক ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন অ্যাডভোকেট মিঠুন সাহা। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই আইনজীবী জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন তার চেম্বারে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসা ক্লায়েন্টদের জন্য থাকবে বিশেষ সুবিধা। গত শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ আরও উপভোগ্য করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে বিশ্বকাপ উন্মাদনার মজার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আইনসেবার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলেও মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মিঠুন সাহা বলেন, আইন পেশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও আন্তরিকতার জায়গাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। তার এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু বিশ্বকাপের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।



বিডিএলপিবি/এমএম

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সোহেলকে ৫ লাখ টাকা ও স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকার অর্থদন্ড দেন। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।  

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সোহেলকে ৫ লাখ টাকা ও স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকার অর্থদন্ড দেন। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্তা সম্পর্কে পিপি দুলু আদালতে বলেন, সে (স্বপ্না) কিন্তু রামিসার এই অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে জানাতে পারত। কিন্তু তিনি তা করেননি। শুধু সোহেলকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন এমনটি না, পুরো ব্যাপারে স্বপ্না সেখানে অবস্থান করে সহায়তা করেছেন। তিনি যদি নিরপরাধ হতেন, তাহলে কাউকে জানাতেন।

পিপি তদন্ত কর্মকর্তার সেইদিনের সিসিফুটেজ না পাওয়ার ব্যাপারে আদালতে বলেন, সিসিফুটেজে না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, পল্লবী এলাকা এত ডেভেলপ না। এজন্য সিসিফুটেজে পাওয়া যায়নি।

বেলা দেড়টা পর্যন্ত একটানা শুনানি করেন রাষ্ট্র পক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু। পরবর্তীতে ১টা ৩১ মিনিট থেকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন।

তিনি আদালতে বলেন, শুধু জবানবন্দির আলোকে চার্জশিট দিয়ে আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন নেশাগ্রস্ত আসামি কি জবানবন্দি দিয়েছেন তা গ্রহণ করা যায় না। এটা বলে শুনানি শেষ করেন।

পরে পিপি দুলু আসামিপক্ষের আইনজীবী ও আদালতকে বলেন, ঘটনার সময় সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিল সেটা কোথাও প্রমাণিত না। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীও বিষয়টি মেনে নিলে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ দাবি করেন, মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন নেই, আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। তাই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করেন। তবে বিকল্পভাবে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা চেয়েছেন তিনি।

মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এত দ্রুত বিচারিক অগ্রগতি বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিডিএলপিবি/এমএম

সাংবাদিক শাকিল-রুপার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

সাংবাদিক শাকিল-রুপার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

ছবি: সংগৃহীত 

সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ১১ মে সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে পাঁচটি মামলায় এবং তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে ছয়টি মামলায় জামিন দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত আদেশ দেন। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

শাকিল আহমেদ একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান এবং ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

পরে ২১ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। সেদিন তারা টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে প্যারিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম 

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ


ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রায়ের জন্য আজ (রোববার) ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন। 

গত ১৯ মে পল্লবীর নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পর দিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

তদন্ত চলাকালে ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।

দ্রুত তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

এরপর গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে শিশুটির বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।

৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা চান। অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত এবং মামলার অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতকে বলেন, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ আসামি সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

মামলাটির তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক—সব মিলিয়ে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত এ মামলায় এখন সবার দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকে।

রায়ের আগে গতকাল শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে শিশুটির বাবা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের হত্যার বিচার চান না—বরং এমন একটি সমাজ ও বিচারব্যবস্থা চান যেখানে আর কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার হতে হবে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আজকের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের আইনগত পরিণতি। একই সঙ্গে আলোচিত এ মামলার রায় শিশু নির্যাতন ও নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় বিচারিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৬ জুন, ২০২৬

সাবেক মেয়র মনজুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

সাবেক মেয়র মনজুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুরসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ফটিকছড়ি থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মো. জামান বাবু (২৩) ও একই এলাকার তৌহিদুল আলম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)।

মামলার প্রধান হুকুমদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর (৬২) ও সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলা এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে (৪০)। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০), বখতিয়ার সাঈদ ইরান (৪০), সাবরিনা চৌধুরী (৩৫), জসিম উদ্দিন মুহুরী (৫০), ফোরকান উদ্দিন বাচ্চু (৩৫) এবং মো. জসিম (৩২)।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে ফটিকছড়ি থানার নিয়মিত টহল দল খবর পায় যে, রোসাংগিরী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভাণ্ডার পাকা সড়কের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মশালসহ একটি মিছিল বের করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এই মিছিল করা হচ্ছিল।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের হাতে থাকা বাঁশের তৈরি মশাল ফেলে চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার ও জব্দ করে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানান, ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামির (সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ) প্রত্যক্ষ হুকুম ও তত্ত্বাবধানে তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে পরস্পর যোগসাজশে জড়ো হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের মাইজভান্ডার-নাজিরহাট সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ভবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


বিডিএলপিবি/এমএম

পিএসসির প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি: চার্জশিটে পাওয়া গেল আবেদের নেতৃত্বে ৫৫ জনের পরিচয়

পিএসসির প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি: চার্জশিটে পাওয়া গেল আবেদের নেতৃত্বে ৫৫ জনের পরিচয়


ছবি: সংগৃহীত 

এক সময় আর্থিক সংকটে থাকা পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর জীবনযাত্রায় হঠাৎ করেই বড় পরিবর্তন আসে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বোতলা গ্রামে নির্মাণ করেন বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে তিনি ডাসার উপজেলা চেয়ারম্যান পদেও প্রচারণা চালিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, বছরের পর বছর পিএসসির প্রশ্নফাঁস বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থের মাধ্যমেই আবেদ আলী এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত মামলার চার্জশিটে বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৮ মে আদালতে ৪১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বহুল আলোচিত মামলাটি ২০২৪ সালের ৯ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা হয়েছিল।

চার্জশিট অনুযায়ী, আবেদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৫৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশ্নফাঁস কার্যক্রমে জড়িত ছিল। চক্রটিতে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার্থী সংগ্রহকারী দালালদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে গ্রেফতার ৩৬ আসামি হলেন- পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী, মো. নোমান সিদ্দিক, মো. খলিলুর রহমান, পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সোলেমান মো. সোহেল, জাহাঙ্গীর আলম, এসএম আলমগীর কবীর, প্রতিরক্ষা ও অর্থ বিভাগের অডিটর প্রিয়নাথ রায়, মো. জাহিদুল ইসলাম, পিএসসির উপপরিচালক (ডিডি) মো. আবু জাফর, মো. শাহাদত হোসেন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. মামুনুর রশিদ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়ামুল হাসান, ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাইম হোসেন, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থী লিটন সরকার, আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম, পিএসসির সাবেক সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, মো. শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, দীপক বণিক, মো. খোরশেদ আলম খোকন, কাজী মো. সুমন, একেএম গোলাম পারভেজ, মেহেদী হাসান খান, মো. মিজানুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, এটিএম মোস্তফা, মাহফুজ কালু, মো. আসলাম হোসেন, কৌশিক দেবনাথ, মোজাহিদুল ইসলাম, মজনু মিয়া, মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, মো. আব্দুল আজিম, রুপন চন্দ্র দাস ও মাহামুদ হাসান মান্না।

পলাতক ১৯ আসামি হলেন- সুমন কুমার বসু, বিপাশ চাকমা, মো. দেলোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান দিপু, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আল মামুন, মো. আনিছুর রহমান, মো. ওয়াসিম খান, মো. জসিম উদ্দিন, মো. ফেরদৌস আহম্মদ, মো. মান্নান উদ্দিন, মো. আশরাফুল আলম, জাহিদুল সরদার, মো. সোহেল পারভেজ, মো. জুয়েল আল মামুন, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. রুবেল শরীফ, শাকের আহমেদ আল-আমিন এবং এম এম নাজমুল হাসান। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি মো. গোলাম হামিদুর রহমান, হামিদুল ইসলাম জিয়া, মো. মাহাবুব আলম এবং আজাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার আগেই নির্ধারিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহ করা হতো। তাদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো এবং পরে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আগাম আদায় করা হতো। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত এই চক্রে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত ছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি এনজিও পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের বিস্তার ছিল।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা এই চক্র পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। চার্জশিটে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া চক্রের কয়েকজন সদস্যের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্তের জন্য পৃথক উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মানি লন্ডারিং নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু হলে প্রশ্নফাঁস বাণিজ্যের আর্থিক ব্যাপ্তি সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

চার্জশিটে পুরো ঘটনাকে রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলে প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের আড়ালে থাকা আরও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার তথ্যও প্রকাশ্যে আসতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম