২৬ এপ্রি, ২০২৬

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

ছবিঃ সংগৃহীত 

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ তথ্য জানান।

শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, "সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে কাজ সম্পন্ন করতে আরও কিছুদিন সময় প্রয়োজন।" রাষ্ট্রপক্ষের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ৬ মাস সময় মঞ্জুর করেন। রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ৬ মাস সময় দিয়ে হাইকোর্ট বলেছিলেন, এটিই শেষ বারের মতো সময় দেওয়া হলো। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তারও আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর র‌্যাবকে সরিয়ে মামলার তদন্তভার উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্সকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত।

আদালতের নির্দেশে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। কমিটিতে পুলিশ, সিআইডি ও র‌্যাবের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এই টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। বর্তমানে নতুন এই টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী ও বিচারপ্রার্থী পরিবার।

বিডি ল' পোস্ট বাংলা

নির্যাতন বন্ধে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন প্রয়োজন : আইনমন্ত্রী

নির্যাতন বন্ধে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন প্রয়োজন : আইনমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের এই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবেই আমাদের ভালো আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূল করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আমাদের এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমান গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যেন মানুষ বুঝতে পারে যে, নির্যাতন একটি অমানবিক কাজ, এটি অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য।

আজ সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সংবিধান নিজেই শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) স্পষ্টভাবে বলে যে, কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার বানানো যাবে না। সাংবিধানিক এই বিধান মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সম্মেলনের নীতিসমূহকে প্রতিফলিত করে। এটি সরাসরি একটি নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্র ও সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

চাইলেই রাতারাতি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হবে না জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরো বলেন, গত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পালা বদলের পর থেকে হেফাজতে নির্যাতনও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এগুলো আমাদের আইনি সংস্কৃতি, আমাদের আইনশাস্ত্র এবং আমাদের জাতীয় বিবেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

তবে, সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার যেন না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি দৃঢ়ভাবে জোর দিয়ে বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি চাই না। আমরা কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন চাই না। আমরা হেফাজতে মৃত্যু চাই না। আমরা জোরপূর্বক গুম চাই না। আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চাই না। আমরা জানি এই ধরনের লঙ্ঘন কী পরিমাণ যন্ত্রণা দেয়।

আজকের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এবং নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, যথেচ্ছ আটক ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক জোট ওএমসিটি।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার; দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান; এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন বিচারপতি মঈনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টার ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস। 

(সোর্সঃ বাসস)

মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব: যুবককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন

মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব: যুবককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন


ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পূর্ব শত্রুতার জেরে হায়দার মুন্সি নামে এক যুবকের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়। হামলায় তার ছোট ভাই সুজন মুন্সিও গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সদর এলাকার ফাযিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই ভাই মৃত ধলা মুন্সির ছেলে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হায়দার মুন্সির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের ইসলাম মণ্ডলের ছেলে কালাম মণ্ডলের সঙ্গে হায়দারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় কালামের পক্ষে সাক্ষ্য না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে হায়দারকে ডেকে নিয়ে কালামের নেতৃত্বে ৫-৬ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

আহত সুজন মুন্সি বলেন, তিন বছর আগে আমার ভাইয়ের সামনে আমাদের গ্রামের রিপন খাঁ ও কালাম মণ্ডলের মধ্যে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলায় আমার ভাই হায়দার মুন্সি সাক্ষী দেয়ার জন্য আসামির কিছু হয়নি। ওই সময় থেকেই কালামের ক্ষোভ-আমার ভাই সাক্ষী দিল কেন। সেই কারণে আজকের আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি জানতে পেরে দৌঁড়ে গেলে প্রথমে আমাকে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। এরপর আমার ভাইকে কোপানো শুরু করে। আমার ভাই দৌঁড়ে একটি বাড়িতে গিয়ে পালালেও সেখান থেকে বের করে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলেছে।

রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. রশিদ জানান, আহতদের মধ্যে হায়দার মুন্সির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার দুটি হাত ও একটি পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। তার মধ্যে একটি হাত ও একটি পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বলা যায়। তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুতই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় কালাম নামে এক ব্যক্তির সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এমন নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুর, যুবদলের ৯ কর্মী গ্রেপ্তার

জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুর, যুবদলের ৯ কর্মী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করে গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সোয়া দুইটার দিকে মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন। 

এসময় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় এক আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনের মধ্যে মামলার এজাহারে উল্লেখিত ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন, অন্যরা সন্দেহভাজন। তাদেরকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মাছুম মোস্তফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী পূর্বধলা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের সবাই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম–আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদসহ (বাবু), যুবদল নেতা মো. আনার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাজু আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির (পাপ্পু) প্রমুখ রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মাছুম মোস্তফা একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় পথে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উপজেলা সদরের আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে যান গাড়িতে জ্বালানি তেল ভরার জন্য। পরে গাড়ি রেখে ফিলিং স্টেশনেই নামাজখানায় মাগরিবের নামাজ আদায় করার জন্য যান। কিছুক্ষণ পর ১৫টির মতো মোটরসাইকেলে ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক পাম্পে এসে মোটরসাইকেলে তেল নিতে চান এবং সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা মাছুম মোস্তফার গাড়িতে ভাঙচুর চালান। এ সময় মাছুম মোস্তফা নামাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হতে চাইলে বিক্ষুব্ধ যুবকেরা তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছিলেন না।

এমতাবস্থায় খবর পেয়ে ঘণ্টাখানেক পর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদারসহ পূর্বধলা থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য এসে সংসদ সদস্যকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাঠানো গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে মাছুম মোস্তফা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়। 

এদিকে আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘আমি পাম্পে গাড়ি রেখে নামাজ আদায় করতে গেলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং আমার সঙ্গে থাকা উপজেলা জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদিনসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অনেকক্ষণ পর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে। ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। হামালায় নেতৃত্ব দিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবু। তাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাই, আসামিদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়।’

আজ সাড়ে ৯টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহের তালুকদার বলেন, ‘ওই সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। সংসদ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়টি মোবাইলে শোনার সঙ্গে সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এখন শুনছি উল্টো আমাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। হামলার বিষয়টি যেমন দুঃখজনক, তেমনি আমাকে আসামি করাতেও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারণ, আমি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আর যতটুকু জানি, আমার দলীয় কোনো নেতা-কর্মী এই হামলা করেননি। আমাকেসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে এটা মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’

নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ


ছবি: সংগৃহীত 

২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজকের তারিখ নির্ধারণ করেন।আজ অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করবে প্রসিকিউশন। এরপর ডিসচার্জ চেয়ে শুনানি করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ১৫ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল।

ওই দিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আমরা এক সপ্তাহ সময়ের আবেদন করছি। নির্ধারিত তারিখে প্রথমে প্রসিকিউশন, পরে আসামিপক্ষ শুনানি উপস্থাপন করবে।

এ মামলার মোট ২৮ জন আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং সাবেক ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার। বর্তমানে ২৮ জন আসামির মধ্যে ৪ জন কারাগারে, বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

২৫ এপ্রি, ২০২৬

কাস্টমস কর্মকর্তা খুন, মরদেহ মিলল কুমিল্লার ফুটপাতে

কাস্টমস কর্মকর্তা খুন, মরদেহ মিলল কুমিল্লার ফুটপাতে

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।

নিহত বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুলেট বৈরাগী গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণের উদ্দেশে চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি ফোন করে জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন।

এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে শনিবার সকালে বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন। ওসির দেওয়া তথ্যমতে, মরদেহে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মুখমণ্ডল কিছুটা রক্তাক্ত ছিল।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার জিডি করেছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল


ছবি: সংগৃহীত 

বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।