জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৩ ফেব, ২০২৬

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী


 ছবি: সংগৃহীত 

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। দ্রুত এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। রাগিব রউফের আগে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

গত ২৭ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন আগের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পরে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পরে আইনমন্ত্রী হয়েছেন।

রাগিব রউফ চৌধুরীর বাবা ছিলেন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরী। ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপির যে ৩ সিনিয়র নেতা

স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপির যে ৩ সিনিয়র নেতা


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রবীণ তিনজন নেতার নাম আলোচনায় আছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে। এরপর থেকেই আলোচনা উঠেছে- কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিপ হুইপ। জানা গেছে, এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই।

তবে এই পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এরপরে আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।

২২ ফেব, ২০২৬

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ জানালো নির্বাচন কমিশন

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ জানালো নির্বাচন কমিশন


ছবিঃ সংগৃহীত 

শেরপুর-৩ আসনে পুনঃতফসিল এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন ১৪ এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দুটি আসনে বিজয়ী হয়ে শপথ গ্রহণের আগের দিন একটি আসন ছেড়ে দেন।

এজন্য বগুড়া-৬ আসনে এখন উপনির্বাচন হবে। এই আসনে কে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে আলোচনাও চলছে। অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে এই আসনেও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে।

১৫ ফেব, ২০২৬

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত 

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতিবাদে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সহিংসতা বন্ধ না হলে তারা রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে দেখা করে তারা এ দাবি জানায় তারা। দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন-অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০০ পিস্তল এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।

জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে- আমরা লক্ষ্য করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হামিদুর রহমানের দাবি, দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে অনেক প্রার্থী যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেননি।

ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।

ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে তাদের প্রার্থীর একজন এজেন্ট মুসলিম হলেও ফলাফল শিটে একজন হিন্দুর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু স্থানে পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে কারচুপি করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৩২টি আসনে পুনঃগণনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৩২টি আসনে পুনঃগণনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি শুরু হয়।

চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন জোটের নেতারা।

১৪ ফেব, ২০২৬

এনসিপি থেকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার গুঞ্জন, যা বলছেন দলের নেতারা

এনসিপি থেকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার গুঞ্জন, যা বলছেন দলের নেতারা

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি ‘জাতীয় সরকার’ আদলে সর্বজনীন মন্ত্রিসভা গঠনের কথা ভাবছেন দলটি।

বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে বিশ্বস্ত ও যোগ্য নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বর্তমানে মন্ত্রিসভার পরিধি ও সদস্যদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা বা 'টেবিল ওয়ার্ক' করছেন, যেখানে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আলোচনার মধ্যেই ১১-দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে ৬টি আসনে জয়ী হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১-২ জন নেতার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের যাওয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত প্রস্তাব নেই। তবে আমার ধারণা, যদি প্রস্তাব আসেও সেটা দল গ্রহণ করবে না।

এছাড়াও দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান শবিবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে লেখেন, জোটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত এককভাবে এনসিপি বিএনপির সাথে মন্ত্রীত্ব শেয়ার করবে না, ইনশাআল্লাহ!
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 'লাশ আর রক্তের ওপর দিয়ে যারা ক্ষমতা গ্রহণ করবে', তাদের সাথে এনসিপি যাবে না।

যদিও বিএনপির একাধিক বলেন, বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ‘চাপ সহ্য’ করেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন। নতুন মন্ত্রীসভায় তারেক রহমান প্রবীণের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধাণ্য দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন বেশ কিছু তুলনামূলক তরুণ বয়সী নেতা।

নতুন সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বলেন, আমাদের লড়াই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা একটি মেধা ও প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘৩১ দফা’ অনুযায়ী সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’

জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার

জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরকে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’

নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ গঠন কবে?

নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ গঠন কবে?

ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এনসিপি জয় পেয়েছে ছয় আসনে।

ভোটের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষা। গেজেট জারির পর শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। জানা যায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ হতে পারে।

পরবর্তী দু-দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার শপথের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন-এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

নির্বাচনে দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সংসদে কী হবে, সেটাও পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে। তবে জামায়াত সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে, এটাও অনেকটা নিশ্চিত। 

১৩ ফেব, ২০২৬

সংসদ নেই, স্পিকার নেই, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন?

সংসদ নেই, স্পিকার নেই, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন?


ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে ২৯৯টি আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভোটেরে ভোটগ্রহণ। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা চলে ভোটগ্রহণ। পরে গণনা শুরু হয়। রাতের মধ্যেই ঘোষণা হয়ে যায় নির্বাচনী ফলাফল। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। 

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা।
শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়? উত্তরটা হচ্ছে, সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে। সাধারণভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে বেসরকারি ফল যাওয়া যায় একদিন বা দুইদিনের মধ্যে, সেটা কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না। মানে সেই ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হবে এমনটা নয়।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন হতে আরো কয়েকটা দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে।

নির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন? শপথ কে পড়াবেন এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।

তাহলে উপায় কী আছে? এক্ষেত্রে আবারো যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’

এই অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে। এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীতি করতে পারেন। দুই. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেসময় তিনি জানান, নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। 

শপথের পর ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন? শপথের বিষয়টির সমাধান হয়ে গেলেও আরো কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন, অর্থাৎ সরকার গঠন কে করবেন?

এখানে এই প্রক্রিয়াটি হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। তিনি, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন।

এখানে দলকে আমন্ত্রণ জানানো মানে দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ এবং নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বিষয়টা বর্ণনা করা আছে এভাবে যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন’।

মূলত, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই পদগুলোর ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেয়ে যাবেন। এরমধ্য দিয়েই আগের সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়ে গঠিত হয়ে যাবে নতুন সরকার। সংবিধান অনুযায়ী শপথগ্রহণ হয়ে গেলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে গণ্য হবে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে’।

২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা

২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ দুই আসনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফল ঘোষণার সমাপণী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২৯৭টি আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুই আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত জানাবে। ঘোষিত ফলাফলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে আখতার আহমেদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ধৈর্যের পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভোটের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনটি পৃথক চিঠি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই চিঠিগুলোতে বলা হয়েছিল, আদালতে মামলা চলমান থাকায় এসব আসনের ফল ঘোষণা করা হবে না। তবে এরই মধ্যে শেরপুর-২ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আপাতত এই আসনের গেজেট না প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।


৯ ফেব, ২০২৬

 ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এসএম সাজ্জাত আলী আজ বলেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ত্রুটিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে।

"আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে," তিনি বলেন। ডিএমপি কমিশনার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অবস্থান, ভোটার সংখ্যা এবং নিরাপত্তা বিবেচনার ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, ১,৬১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য নিযুক্ত থাকবেন।

"রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য, ভোটকেন্দ্রগুলিতে শরীরে লাগানো ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা হবে," তিনি বলেন। তিনি বলেন, মোট ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম এবং ৫১০টি মোবাইল টিম ভোটকেন্দ্রের বাইরে সক্রিয় থাকবে।

তিনি আরও জানান, ডিএমপির আটটি বিভাগে আটটি সাধারণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং চারটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, কৌশলগত স্থানে বিশেষ রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দ্রুত মোতায়েন করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোয়াট টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং মাউন্টেড পুলিশও প্রস্তুত থাকবে। আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা একটি অর্থবহ এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তার কলঙ্ক থেকে মুক্ত থাকবে।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, পুলিশ ত্যাগ ও রক্তপাতকে সমুন্নত রাখতে প্রস্তুত, যা দেশকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। তিনি নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন যে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে।

নগরবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সম্মানিত নগরবাসীকে অনুরোধ করছি, ভয় বা বাধা ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে ভোটকেন্দ্রে যান এবং তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন।”

ডিএমপি কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই পুলিশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, প্রায় ২৫,০০০ ডিএমপি কর্মী তাদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ নির্বাচন-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তিনি বলেন।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সারওয়ার (সেবা), অতিরিক্ত আইজি; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম, (সেবা); উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আক্তার প্রীতি।

৮ ফেব, ২০২৬

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন। আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে-অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি তারা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।

প্রসঙ্গত, জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় দলটি। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি। 

পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করেন।


৩ ফেব, ২০২৬

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে হচ্ছে ‘এসআইএফ’

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে হচ্ছে ‘এসআইএফ’


ছবিঃ সংগৃহীত 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন,র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র‌্যাবের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। প্রধান উপদেষ্টা এ নাম অনুমোদন করেছে। আদেশ জারির পর নতুন নামে কার্যক্রম শুরু হবে, এর সঙ্গে র‌্যাবের পোশাকও পরিবর্তন করা হবে। উল্লেখ্য, র‍্যাব গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এ বাহিনীর নাম ছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট)। ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে র‍্যাব গঠন করা হয়।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর যে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও রয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দীর্ঘদিন ধরেই র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছিল।

আইডি হ্যাকের বিষয়টি স্পষ্টের পরও এটা নিয়ে ব্যবসা করছে একটি দল

আইডি হ্যাকের বিষয়টি স্পষ্টের পরও এটা নিয়ে ব্যবসা করছে একটি দল


ছবিঃ সংগৃহীত

 জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আইডি হ্যাকের বিষয়ে সবকিছু স্পষ্ট হওয়ার পরও এটাকে নিয়ে ব্যবসা করছে একটি রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পঁচা রাজনীতি নয়, ২৪-এর যুব সমাজ পরিবর্তন চায়। জাতিকে বিভক্ত করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না। নারী ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে কিছু গ্রুপ জামায়াতের পেছনে লেগেছে। চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। জনতার রায়কে অভিনন্দন জানাতে প্রস্তুত জামায়াত।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নোংরা রাজনীতি আর দেখতে চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশ একটি মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উন্নত শির নিয়ে স্বাধীন ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াক। আমাদের যুবসমাজের এটাই ছিল আকাঙ্ক্ষা। তারা জুলাইয়ে সব ধরনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। বুকের রক্ত দিয়ে তারা আমাদের এই মুক্তি ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

১৩ নভে, ২০২৫

জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশ ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না। শিগগিরই জুলাই সনদ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোট ফেব্রুয়ারি প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরো উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ এ স্বাক্ষর করেন তিনি। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত ২৮ অক্টোবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি যে আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তার ভিত্তিতে গণভোট হবে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওইদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

১০ নভে, ২০২৫

যে কারণে ঝুলে গেল নতুন পে স্কেল

যে কারণে ঝুলে গেল নতুন পে স্কেল


ছবি: সংগৃহীত 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিল পে কমিশন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, নতুন পে কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।

অথচ কমিশন গঠনের শুরুতে তিনি বলেছিলেন— আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকেই বর্তমান সরকার নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করবে। এই বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সরকারেরই উচিত ছিল বিষয়টি নিষ্পত্তি করা। এর আগে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আল্টিমেটামও দিয়েছিলেন তারা। এখন পুনরায় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী মনে করেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “অষ্টম পে কমিশনের পর নবম কমিশন পেতে ১১ বছর লেগেছে। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত ছিল, গত চার বছর তো আরও বেশি। ফলে নতুন বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সাধারণ কর্মচারীদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। তারা ভেবেছিলেন, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে। কিন্তু পে–স্কেল পরবর্তী সরকারের হাতে তুলে দেওয়াই প্রমাণ করে, তারা তা পারেনি।

অধ্যাপক সিদ্দিকী আরও জানান, দেশের বাজেট ঘাটতি বাড়ছে, আর্থিক ব্যবস্থাও চাপে রয়েছে। “কমিশন গঠনের সময় বলা হয়েছিল, এই সরকারই নতুন স্কেল দেবে। কিন্তু তহবিল সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় এখন ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। ঋণের সুদ পরিশোধ ও বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ায় অর্থনীতি ভারসাম্য হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই অবস্থায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানো সম্ভব নয়। এমনকি ভবিষ্যৎ সরকারও অর্থনৈতিক কাঠামো না বদলালে তেমন বৃদ্ধি দিতে পারবে না। দেশ এখন নির্বাচনী সময় পার করছে— ভোট আয়োজন এবং গণভোট প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারিত আছে। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রশাসন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা থেকে সরে এসেছে,”।

৯ নভে, ২০২৫

 চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৮ নভেম্বর

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৮ নভেম্বর

ছবিঃ সংগৃহীত 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আজ বলেছেন,  চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ১৮ নভেম্বর প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ চালু করা হবে। 

“আগে, আমরা ১৬ নভেম্বর প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ চালু করতে চেয়েছিলাম। এখন ১৬ নভেম্বরের পরিবর্তে, আমরা ১৮ নভেম্বর এই অ্যাপ (পোস্টাল ভোট বিডি) চালু করব। আমরা ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করব,” তিনি নগরীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন।

নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে আম জনতা পার্টির সদস্য সচিব তারেক রহমানের অনশন সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, “আইনগতভাবে আমরা একটি চিঠির মাধ্যমে বলেছি। এখন তারা আপিল করতে পারেন এবং ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। আপিল বা সংশোধন বা পরিবর্তন, সময় বৃদ্ধি, এগুলো একটি সাধারণ বিষয়। তাই তারা অবশ্যই এটি বিবেচনা করবেন এবং আমি তাদের কাছে আন্তরিকভাবে আবেদন করছি এই অনশন ভাঙ্গতে।”

তিনি বলেন, তারা চাইলে সিনিয়র সচিব বা কমিশনের সচিবের কাছে আপিল করতে পারেন। তারা পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। যদি তারা আবেদন করেন, কমিশন তা বিবেচনা করবে কিনা তা ভিন্ন বিষয়,” তিনি আরও বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলির সাথে নির্বাচনী সংলাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা সংলাপের জন্য অপেক্ষা করছি এবং প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলির জন্য আচরণবিধির গেজেট পাওয়ার পরে সংলাপের সময় নির্ধারণ করব।”

৮ নভে, ২০২৫

'দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না': ভারতীয় মিডিয়ায় শেখ হাসিনা

'দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না': ভারতীয় মিডিয়ায় শেখ হাসিনা

ছবি: সংগৃহীত 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘এটা জরুরি প্রয়োজনে নিতে হয়েছিল। যদি আমি সেখানে থাকতাম, তাহলে শুধু আমার নয়, চারপাশের সবার জীবন বিপদে পড়ত।’ গতকাল ভারতীয় দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

একই দিন ভারতীয় দৈনিক ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এবং ‘হিন্দুস্তান টাইমসে’ সাক্ষাৎকার এবং সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-এ তাঁর নামে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকার তিনটি ইমেইলে নেওয়া। এসব সাক্ষাৎকার ও নিবন্ধে তিনি আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, তাঁর শাসনামলে অর্থ পাচার, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার, গণভোট, বিএনপি ও উগ্রপন্থার উত্থান বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।

শেখ হাসিনার কাছে দ্য হিন্দুর প্রশ্ন ছিল, দেশ ছাড়ার আগে আপনি কি পদত্যাগ করেছিলেন? যদি করে থাকেন, তাহলে ঢাকায় কারও কাছে কি আপনার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন? বিস্তারিত বলবেন কি?
উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করতে হলে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি জমা দিতে হয়। আমি কখনোই এমন কোনো চিঠিতে সই করিনি, বা রাষ্ট্রপতিও তা গ্রহণ করেননি।’

এই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, ‘ঢাকা ত্যাগ করাটা আমার কাছে সহজ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং এটা ছিল জরুরি প্রয়োজনে নেওয়া। স্পষ্ট হয়েছিল, যদি আমি সেখানে থাকি, তবে শুধু আমার নয়, চারপাশের সবার জীবন বিপদে পড়বে। নিরাপত্তার পরিবেশ ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছিল। আমার, পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের জীবনের ওপর হুমকি ছিল।’

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রশ্ন ছিল, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আপনার সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে অন্তর্বর্তী সরকার অভিযোগ এনেছে। জাতিসংঘ বলেছে, এই বিক্ষোভে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর জবাবে আপনি কী বলবেন?

এর উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অভিযোগ করা হয়েছে, এই প্রাণহানির সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা পদক্ষেপ ছিল আমার– এর কোনো ভিত্তি নেই। অভিযোগগুলোর উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষের মুখ বন্ধ করা। মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপকে সরকারের সরাসরি নির্দেশ হিসেবে চিহ্নিত করাটা ভুল। সহিংসতা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্যের ভুল ছিল। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতি মুহূর্তের কৌশলগত পদক্ষেপে নির্দেশ দিচ্ছিলাম– এ ধারণাটি নিরাপত্তা বাহিনী কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে মৌলিকভাবে ভুল করা। আমি আবারও বলছি, কোনো অবস্থাতেই আমি নিরাপত্তা বাহিনীকে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর অনুমতি দিইনি।’

দ্য উইকের নিবন্ধে শেখ হাসিনা দেশে ‘গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে ‘অভিজাত শ্রেণি’র শাসন চলছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের সাক্ষাৎকারে চরমপন্থার উত্থান নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের নীতির কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন করার কথা ভাবা হচ্ছে, তা বৈধতা পাবে না।

ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসে সাক্ষাৎকারে তিনি নয়াদিল্লির প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি ভারতীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দ্য হিন্দুতে বিএনপির সঙ্গে কোনো গোপন বোঝাপড়ার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপিও একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। তারা বর্তমান সরকারের অসংগতিগুলো তুলে ধরছে।’

‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র প্রশ্ন ছিল– সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আপনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার লুট হয়েছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম বিদেশে অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ করেছে, আপনি পরিবার বা নেতাদের সুবিধা দিতে বেআইনিভাবে সরকারি জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। এখন আপনার, ছেলে এবং মেয়ের বিরুদ্ধে আদালতের বিচার চলছে। নিজের, পরিবার এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির অভিযোগগুলোর জবাবে কী বলবেন?

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এগুলো তৈরি করেছে। আমি অস্বীকার করছি না যে দুর্নীতি ছিল না, তবে কেউ প্রমাণ করতে পারেনি যে আমার পরিবার ও সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের কথা ভিত্তিহীন এবং হাস্যকর। এত বড় অঙ্কের চুরি করা সম্ভব নয়। যদি এমনটি ঘটত, তবে আমাদের অর্থনীতি ধসে পড়ত। অভিযোগকারীরা তথ্যের চেয়ে কাল্পনিক অভিযোগকে বেশি পছন্দ করেন।’


৫ নভে, ২০২৫

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আপিলের উপর সুপ্রিম কোর্টের শুনানি অব্যাহত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আপিলের উপর সুপ্রিম কোর্টের শুনানি অব্যাহত


ছবিঃ সংগৃহীত 

জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পূর্ববর্তী রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের উপর আজ অষ্টম দিনের মতো শুনানি অব্যাহত রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের (এসসি) আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই বিষয়ে একটি আবেদন দাখিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আজ এই বিষয়ে তার যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।৪ নভেম্বর শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এবং রুহুল কুদ্দুস কাজলও অংশ নেন। অ্যাডভোকেট আবেদীন ২৯ অক্টোবর তার বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেছিলেন।

এর আগে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ২৮ অক্টোবর যুক্তি উপস্থাপন করেন। ২১ অক্টোবর পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া প্রথম যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং পরের দিনও তা অব্যাহত রাখেন। ২৩ অক্টোবর ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকও শুনানিতে অংশ নেন।

২৭ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে, আপিল বিভাগ ২০১১ সালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি মঞ্জুর করেন, যেখানে ১৩তম সংশোধনী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৩তম সংশোধনী পুনর্বহাল এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একাধিক রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াত মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক এবং একজন আবেদনকারীর পক্ষ থেকে মোট চারটি রিভিউ আবেদন দাখিল করা হয়। এর আগে, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে, হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন।

৪ নভে, ২০২৫

গণভোট ও সরকারের অধ্যাদেশ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরিফ ভূঁইয়া ও ড. শাহদীন মালিক

গণভোট ও সরকারের অধ্যাদেশ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরিফ ভূঁইয়া ও ড. শাহদীন মালিক


ছবিঃ সংগৃহীত

ঐকমত্য কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সত্য একদিন বেরিয়ে আসবে। আর সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট এবং সরকারের অধ্যাদেশ জারির এখতিয়ার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছে বিএনপি। গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। মেয়াদ শেষ হওয়া কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে। আর কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সত্য একদিন বেরিয়ে আসবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অধ্যদেশ জারি করতে পারে কি না-- এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। ড. শরিফ ভূঁইয়া বলছেন, সরকার চাইলে পারবে আর ড. শাহদীন মালিক বলছেন, আইন পাস অথবা অধ্যাদেশ জারির এখতিয়ার নেই নির্বাহী বিভাগ প্রধানের।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরিফ ভূঁইয়া বলেন, সরকারপ্রধানও জারি করতে পারে। সেটা সম্ভব। যদি সরকারপ্রধান জারি করতে চান, তবে সেটার আইনগত ব্যাখ্যা দেয়া যায়। আর সরকারপ্রধান জারি করতে না চাইলে রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। এটা দুইভাবেই সম্ভব।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা তো প্রধানমন্ত্রীর মতো। তিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান। নির্বাহী বিভাগের প্রধান কখনওই আইন পাস করতে পারেন না। আমাদের ৩টি অঙ্গের একটির কাজ আইন পাস করা, আরেকটির বিচার করা এবং অন্যটির কাজ পরিচালনা করা। এমনটা হলে তো সুপ্রিম কোর্ট বলবে, আমরা আইন পাস করবো, অথবা আইনসভা বলবে, আমরা বিচার করবো। এগুলো তো হয় না! এগুলো তো আইনে নেই। এগুলো উদ্ভট ধারণা।’সংসদ কার্যকর হওয়ার আগে গণভোট আয়োজন আইনের প্রচলিত ধারণার পরিপন্থি বলেও মনে করেন শাহদীন মালিক।

১ নভে, ২০২৫

মঙ্গলবার ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি

মঙ্গলবার ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি


ছবি: নিজস্ব 

সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আগামী মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স রুমে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আসিফ ইকবাল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি-পদোন্নতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।