৯ এপ্রি, ২০২৬

অস্ত্র মামলায় হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

অস্ত্র মামলায় হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড


ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদ-েণ্ডর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২৬ এর বিচারক মাহমুদুল মোহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ সহকারী ইসমাইল হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-২। ওই অভিযানের সময় ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ দুইটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র‌্যাব।

এ ঘটনায় পরদিন ৮ নভেম্বর আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন র‌্যাবের হাবিলদার মো. মশিউর রহমান।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ আদাবর থানার এসআই জাহিদ হাসান আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। গত ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ফয়সাল করিমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

ট্রাইব্যুনালের রায়ে এর পাশাপাশি, এই মামলার অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সর্বসম্মতিক্রমে আজ এই রায় ঘোষণা করেন। 

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন- মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আজকের রায় ঘোষণাটি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। আজকের রায়ে মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল আসামি সুজন চন্দ্র রায়। এরা দুই জন গ্রেফতার রয়েছেন। 

অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-প্রাপ্ত পলাতক তিন আসামি হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ (বেরবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

আজকের রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরবি’র সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ ও বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

আজকের রায়ে ৫  বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরবি’র সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, বেরবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরবি’র অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, বেরবি’র সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম।

আজকের রায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সহকারী রেজিষ্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, বেরবি’র সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, বেরবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, বেরোবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরবি’র এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, বেরবি’র সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া ও বেরবি’র এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

এছাড়া প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাস সময়কেই কারাদ- হিসেবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ও গাজী এমএইচ তামীমসহ অপর প্রসিকিউটররা। 

অন্যদিকে, আসামি বেরোবি’র তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো, আসামি এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও আনোয়ার পারভেজ আপেলের পক্ষের ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। 

দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেরোবি’র তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০  জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।  বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

সিনিয়র জেলা জজ হলেন ৪০ বিচারক

সিনিয়র জেলা জজ হলেন ৪০ বিচারক

ছবি: সংগৃহীত 

৪০ জন জেলা ও দায়রা জজকে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৪০ জন সদস্য জেলা ও দায়রা জজ পদে যোগদানের তারিখ থেকে ৫ বছর চাকরির পূর্তিতে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বেতনক্রম প্রদান করা হলো।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৪০ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হলেন– এ এন এম মোরশেদ খান, আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ, মো. আবদুল মজিদ, কনিকা বিশ্বাস, মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, মাসুদ করিম, মোহাম্মদ ওসমান গণি, মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজী, মেহেরুন্নেসা, জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী, মো. আবুল কাশেম, এজিএম আল মাসুদ, মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক, এ ই এম ইসমাইল হোসেন ও মো. তারিক মোর্শেদ সিদ্দিকী।

এই তালিকায় আরও আছেন মো. গোলাম আযম, মো. তহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস আরা, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রদীপ কুমার রায়, শরীফ এ এম রেজা জাকের, মো. হায়দার আলী খোন্দকার, মোহা. বজলুর রহমান, মোহাম্মদ ওসমান হায়দার, এ এম জুলফিকার হায়াত, মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, মো. রেজাউল করিম, মো. রাশেদ কবির, নুরুল আলম মোহাম্মদ লিপু ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

পদোন্নতি পাওয়া বাকি বিচারকরা হলেন মো. জিয়াউর রহমান, নাজমুল হক শ্যামল, এম এ হামিদ, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম, এস এম জিল্লুর রহমান, মো. আয়েজ উদ্দিন, মোহা. রকিবুল ইসলাম, এস কে এম তোফায়েল হাসান এবং মাকসুদা পারভীন। 

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভনে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভনে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ


ছবি: সংগৃহীত 

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীকে (৪৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মেডিকেল রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা করেন।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি অন্যের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরেও কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি প্রতিবেশী সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে সুজন শেখের সঙ্গে রিকশায় করে বের হন তিনি। পরে শহরের গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাস টার্মিনালের কাছাকাছি নামিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর তিনি কোনোভাবে বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্বজনদের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে গত ৬ এপ্রিল বাড়ি ফেরেন এবং পরদিন থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি অফিস চিনি না। ওর কথায় বিশ্বাস করে গেছিলাম। আমার স্বামী নাই, সংসারে অভাব-সরকারি সাহায্যের আশায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার জীবনটাই শেষ করে দিলো। আমি বিচার চাই।

অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তার দাবি, ওই নারী প্রায়ই তার বাড়িতে আসতেন এবং ঘটনার দিনও সেখানে এসেছিলেন। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এক বিধবা নারী অভিযোগ করেছেন যে তাকে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল শনাক্তে কাজ চলছে। ভুক্তভোগী সুনির্দিষ্টভাবে স্থানটি চিহ্নিত করতে না পারায় এখনো হোটেল শনাক্ত করা যায়নি। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ। গত ৫ মার্চ চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এই দিন ধার্য করেছিলেন।

এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট আসামি ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জনই পলাতক।গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন হলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

প্রসিকিউশন থেকে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু, মামুনুর রশীদ, ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কোটা সংস্কার আন্দোলন আরো তীব্র হয়।

এক পর্যায়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। রক্তক্ষয়ী সেই আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

গত বছর ১৩ জানুয়ারি ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসে অভিযোগ দেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। গত বছর ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দাখিলের পর তা ৩০ জুন আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত বছর ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর গত বছর ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে এই মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ ২৫ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়; শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি।

ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত পাঠাতে সম্মত ভারত

ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত পাঠাতে সম্মত ভারত

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সম্মত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী হরদীপ পুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারতের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় খলিলুর ও হামিদুল্লাহ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় উভয়পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতে তার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।

শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করায় ড. খলিলুর রহমান ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্যও বাংলাদেশ পক্ষ তাদের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করে।

আলোচনার সময় মন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করা হবে। সম্প্রতি ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য খলিলুর রহমান মন্ত্রী হরদীপ পুরীকে ধন্যবাদ জানান এবং ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

মন্ত্রী পুরী ইঙ্গিত দেন যে, ভারত সরকার এই অনুরোধটি সানন্দে ও অনুকূলভাবে বিবেচনা করবে। উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে আলোচনা করতেও সম্মত হয়। তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামীকাল ৯ এপ্রিল দুপুরে মরিশাসের উদ্দেশ্যে দিল্লি ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


৮ এপ্রি, ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আয়কর নথি জব্দ

সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আয়কর নথি জব্দ


ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদাল। বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি আসাদুজ্জামান নূর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে অর্জনপূর্বক দখলে রেখে এবং তার নামীয় ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের নিমিত্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদনারত জন্য আসামী আসাদুজ্জামান নূরের নামীয় টিআইএন শুরু হতে সর্বশেষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।