৯ এপ্রি, ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ। গত ৫ মার্চ চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এই দিন ধার্য করেছিলেন।

এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট আসামি ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জনই পলাতক।গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন হলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

প্রসিকিউশন থেকে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু, মামুনুর রশীদ, ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কোটা সংস্কার আন্দোলন আরো তীব্র হয়।

এক পর্যায়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। রক্তক্ষয়ী সেই আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

গত বছর ১৩ জানুয়ারি ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসে অভিযোগ দেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। গত বছর ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দাখিলের পর তা ৩০ জুন আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত বছর ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর গত বছর ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে এই মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ ২৫ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়; শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি।

ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত পাঠাতে সম্মত ভারত

ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত পাঠাতে সম্মত ভারত

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সম্মত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী হরদীপ পুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারতের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় খলিলুর ও হামিদুল্লাহ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় উভয়পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতে তার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।

শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করায় ড. খলিলুর রহমান ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্যও বাংলাদেশ পক্ষ তাদের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করে।

আলোচনার সময় মন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করা হবে। সম্প্রতি ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য খলিলুর রহমান মন্ত্রী হরদীপ পুরীকে ধন্যবাদ জানান এবং ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

মন্ত্রী পুরী ইঙ্গিত দেন যে, ভারত সরকার এই অনুরোধটি সানন্দে ও অনুকূলভাবে বিবেচনা করবে। উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে আলোচনা করতেও সম্মত হয়। তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামীকাল ৯ এপ্রিল দুপুরে মরিশাসের উদ্দেশ্যে দিল্লি ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


৮ এপ্রি, ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আয়কর নথি জব্দ

সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আয়কর নথি জব্দ


ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদাল। বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি আসাদুজ্জামান নূর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে অর্জনপূর্বক দখলে রেখে এবং তার নামীয় ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের নিমিত্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদনারত জন্য আসামী আসাদুজ্জামান নূরের নামীয় টিআইএন শুরু হতে সর্বশেষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।

ফ্ল্যাট গ্রহণে অনিয়ম : টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৬ এপ্রিল

ফ্ল্যাট গ্রহণে অনিয়ম : টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৬ এপ্রিল

ছবিঃ সংগৃহীত 

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নী ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত|

আজ (বুধবার) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এদিন ধার্য করেন| আদালতে আজ প্রকাশিত গেজেট দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল| এদিন তাদের আদালতে হাজির হতে বিজি প্রেস (বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়) থেকে গেজেট প্রকাশ হয়ে আসে| এরপর আইনুযায়ী আদালত মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ -৫ আদালতে বদলির আদেশ দেন| একই অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন|

ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন| অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক|

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কোনো টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং-বি/২০১, বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (পুরোনো), বর্তমানে-১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নং-৭১) দখল নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করেন|

গত জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট করেন| সেই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিনমাসের জন্য স্থগিত করেন| পরে চে¤^ার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়| গত ১১ ডিসে¤^র তদন্ত শেষে টিউলিপ ও মোশাররফের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক|

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

ছবিঃ সংরক্ষিত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধিত) অধ্যাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করেছিল। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি পাশ হয়।

কয়েক দিন আগে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সরকার। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়। আজ সেই সংশোধনীসহ অধ্যাদেশটি পাস হলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করল। শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে আরও বেগ পেতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে, গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।

যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয় এর অন্যতম ছিল—২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।

এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।

গত বছরের ১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি।

আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে। ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে সংসদের বিশেষ কমিটি। সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাজার বিধান নেই অধ্যাদেশে। সাজার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। এই ভোটে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তফসিল অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করবেন। আপিল আবেদন করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। এছাড়া, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে ইসি সচিবালয়ে।

সংরক্ষিত নারী আসনের রাজনৈতিক দল ও জোটভিত্তিক বণ্টনের বিষয়ে ইসি সচিব জানান, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পাবে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য পাবে ১৩টি আসন। এছাড়া, ছয়জন স্বতন্ত্র এমপি একজোট হয়ে একটি আসন পাবেন।

ফেসবুকে পোস্ট, অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ

ফেসবুকে পোস্ট, অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ


ছবি: সংরক্ষিত 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জেরে অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে কারণ শোকজ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের ঘটনার বিষয়ে ব্যাখা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । মঙ্গলবার জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন বিচারকদের নিকট পাঠানো চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কারণ দর্শিয়ে বলা হয়, আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আপনার নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করেছেন। উসকানিমূলক এসব বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে আপনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার-সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করেছেন, যা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।

এছাড়া, আপনি এই কার্যকলাপের দ্বারা বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২ (চ) (২) এ উল্লিখিত চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর কার্যে লিপ্ত হয়েছেন, যা অসদাচরণেরও সামিল।

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ৩ (২) অনুযায়ী বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে পত্র প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে আপনাকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিচারক জানান, তারা কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরকম কোন মন্তব্য করেননি। তারা তাদের নিজস্ব প্লাটফর্মে আলোচনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভুল বুঝানো হয়েছে।

তারা জানান, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশসহ স্বাধীন বিচার বিভাগের নানা ইস্যুতে সম্প্রতি বিচারকদের যে কোন ধরনের জোটবদ্ধ প্রচেষ্টাকে আতংকগ্রস্থ করতেই এ শোকজ দেয়া হয়।