৬ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই

বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই

ছবি: সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়নের চক্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জোবাইদুল আমিন (২৮) নামের এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল আজ শুক্রবার এক এক্স পোস্টে এই তথ্য জানান। পোস্টে তিনি বলেন, এফবিআইসহ মার্কিন অংশীদাররা জোবাইদুলকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০২২ সাল থেকে পলাতক ছিলেন। এফবিআইয়ের পরিচালক লিখেছেন, জোবাইদুলকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নিয়ে এসেছে এফবিআই। আলাস্কায় তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মুখোমুখি হবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।

তদন্ত ও গ্রেপ্তারে সহযোগিতার জন্য মালয়েশিয়া সরকারসহ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান এফবিআইয়ের পরিচালক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়নের চক্র পরিচালনার অভিযোগে ৫ মার্চ ডিস্ট্রিক অব আলাস্কার আদালতে এক বাংলাদেশিকে হাজির করার বিষয়টি নির্ধারিত আছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে জোবাইদুলকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলাস্কাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থান ও বিদেশে শত শত শিশুকে নিপীড়নের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জোবাইদুল ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করতেন। তিনি তাদের যৌনতামূলক ছবি–ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ আনার আগে জোবাইদুল মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। তিনি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছিলেন।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জোবাইদুলকে শিশু পর্নোগ্রাফি নিজের কাছে রাখা ও তৈরিসংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করে। জোবাইদুলের বিষয়ে এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে আসছে। ৪ মার্চ তাঁকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জোবাইদুল যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁর ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

পুলিশ নিয়ে দুই চাঁদাবাজকে ধরলেন সাভারের এমপি

পুলিশ নিয়ে দুই চাঁদাবাজকে ধরলেন সাভারের এমপি


ছবি: সংগৃহীত 

সাভারের-আশুলিয়া এলাকায় ভূমিদস্যু চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিজেই পুলিশ নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।

জানা যায়, স্থানীয় এক ভুক্তভোগী রাজিয়া বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার দূর্গাপুর, আলতাফ নগরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আলতাফ নগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রুবেল মন্ডল ও বাবুল হোসেন নামের দুই চাঁদাবাজকে আটক করা হয়। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়। অভিযানের খবর পেয়ে এলাকায় থাকা কয়েক মাদক ব্যবসায়ী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী ইশতেহারের ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান শুরু করা হয়েছে।

এ সময় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। সে যে দলেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকে ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এলাকার বাসিন্দাদের যে কোন সমস্যায় তার নিকট অভিযোগ জানানোর জন্য সকল সভা সমাবেশে তার মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে আসছেন এবং ফোন কল রিসিভ করে জনগণের সাথে কথা বলছেন। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার জানান, আটক দুই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৪ মার্চ, ২০২৬

সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট


ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ সুপ্রিম কোর্টের ৬ আইনজীবী এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্থানীয় সরকার সচিব, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ছয় প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা)। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় সিটি করপোরেশনে যে ছয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার।

২ মার্চ, ২০২৬

আইনজীবী তালিকাভুক্তির ফল ৩ মাসেও প্রকাশ না হওয়ায় মানসিক যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা

আইনজীবী তালিকাভুক্তির ফল ৩ মাসেও প্রকাশ না হওয়ায় মানসিক যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন নুসরাত জাহান। তাঁর ইচ্ছা আইনজীবী হবেন। এ জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির কঠিন প্রতিযোতিমূলক পরীক্ষার এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

নুসরাত জাহান বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর মাসে মৌখিক পরীক্ষার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। কবে প্রকাশ করবে, সেই তারিখও জানাচ্ছে না বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময়েও মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করায় একধরনের মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছি। আইন পেশায় প্রবেশের জন্য বার কাউন্সিলের সনদ অপরিহার্য হওয়ায় ফলাফল প্রকাশের এই দীর্ঘ বিলম্ব আমাদের কর্মজীবন শুরু, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা কেউ প্র্যাকটিস শুরু করতে পারছি না। আবার অন্য কোনো পেশাগত সিদ্ধান্তও নিতে পারছি না। ফলে জীবন যেন এক অনিশ্চিত অপেক্ষার মধ্যে আটকে আছে।’

চবির এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির পর পরীক্ষার সব ধাপ সম্পন্ন করেও ফলাফলের জন্য অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার ও মানসিক যন্ত্রণাদায়ক।’

নুসরাত আরও বলেন, ‘বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্টের সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন জবের ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগও সীমিত। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই, যেন দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হয় অথবা অন্তত ফলাফল প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়।’

একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স করা জাহিদ হাসান জানান, তিনিও মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। এতে তিনিও ভেঙে পড়েছেন। জাহিদ বলেন, ‘ফলাফলের অপেক্ষায় ঝুলে আছে আমার ক্যারিয়ার ও পরিবার। আজ দীর্ঘ তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। এই অনিশ্চয়তা আমাদের জীবনকে এক ভয়াবহ মানসিক চাপে ফেলে দিয়েছে। এমন বিলম্বের বিরূপ প্রভাব ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা কেউ শখের বশে আইন পড়িনি। পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন নিয়ে, সমাজে ন্যায়বিচারের অংশীদার হওয়ার আশায় এই পথে এসেছি। কিন্তু ফলাফল না থাকায় পেশাগতভাবে কোথাও দাঁড়াতে পারছি না। আমাদের ওপর সুবিচার করা হচ্ছে না। সংসারের খরচ, বাবা-মায়ের চিকিৎসা, ভাই-বোনের পড়াশোনা—সবই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।’

জাহিদ আরও বলেন, ‘ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে—এই বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। আমরা শুধু অপেক্ষা করছি, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। এই অপেক্ষা ধীরে ধীরে হতাশায় রূপ নিচ্ছে।’

জানা গেছে, এই হতাশা বা মানসিক যন্ত্রণা শুধু নুসরাত কিংবা জাহিদের নয়, মৌখিক পরীক্ষা দেওয়া প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী এই মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের দায়িত্ব, পেশাগত ভবিষ্যৎ ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রত্যাশা—সবকিছুই যেন আটকে আছে একটি ফলাফলের ওপর।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো এবং দীর্ঘ বিলম্ব তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁরা বিশেষ সুবিধা নয়, কেবল সময়মতো ফল প্রকাশের ন্যায্য অধিকার চান; যাতে দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেয়ে নতুন জীবনের পথে এগোতে পারেন। এটা তো চাকরি নয়। সরকারকে তো বেতন দিতে হচ্ছে না। তাহলে হাজার হাজার আইন শিক্ষার্থীকে কেন আটকে রাখা হচ্ছে!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সিফাত শারমিন বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আসলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর চায় দ্রুত তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হোক, যাতে তারা প্রফেশনাল লাইফে পদার্পণ করতে পারে। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস তাদের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টিতে নজর দেওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট এ এস এম বদরুল আনোয়ার জানান, আজ সোমবার বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যানের মা মারা যাওয়ার কারণে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে বার কাউন্সিলের নতুন এনরোলমেন্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের বিষয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, এটা ইলেকশনের পরে। এটা এখন হচ্ছে না। যেহেতু ইলেকশন সামনে এসে গেছে। ইলেকশনের কথা চিন্তা করে এখন হচ্ছে না, ইলেকশনের পরে।

আর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছুটিতে, এ জন্য সভা করা যাচ্ছে না। সভা করা গেলেই আইনজীবী তালিকাভুক্তির ফলাফল প্রকাশ করা হবে। কবে ফল প্রকাশ করা হবে—সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষা গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর শেষ হয়। এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৭ হাজার ৯১৭ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। আর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জুন এবং এমসিকিউ পরীক্ষা হয় ওই বছরের ২৫ এপ্রিল।

বার কাউন্সিল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার (জেলা ও দায়রা জজ) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রোল নম্বর অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা নিজস্ব প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, একাডেমিক সনদের মূল কপি এবং পাঁচটি দেওয়ানি ও পাঁচটি ফৌজদারি মামলার নোটবই বা কেস ডায়েরি নিয়ে ভাইভায় অংশ নেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাস পরও ফলাফল প্রকাশে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

ধানক্ষেত থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

ধানক্ষেত থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

ছবিঃ সংগৃহীত
রাজশাহীর কর্ণহার থানার ধরমপুর এলাকায় ঘাসের ক্ষেত থেকে আদিব নামের ১১ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় তারাবির নামাজের পর থেকে আদিবকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা। সকালে এলাকাবাসী ও স্বজনরা তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

কর্ণহার থানা পুলিশ আদিবের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের ধারণা, শিশুটির প্যান্টের বেল্ট দিয়ে তার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।


১ মার্চ, ২০২৬

কুষ্টিয়ার ডিসি প্রত্যাহার

কুষ্টিয়ার ডিসি প্রত্যাহার


ছবি: সংগৃহীত 

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো.ইকবাল হোসেনকে (ডিসি) প্রত্যাহার করেছে সরকার। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রত্যাহার হওয়া উপ-সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনের প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই প্রত্যাহার আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে আগামীকাল সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০ টার সময় শহরের মজমপুরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে সর্বস্তরের সাধারণ ছাত্র-জনতা।

তাদের দাবি, বর্তমান জেলা প্রশাসকের জনবান্ধব ভূমিকার কারণে তারা এই বদলি মেনে নিতে পারছেন না। সরকার যাতে এই সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করে, সে জন্যই তারা রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ছবিঃ সংগৃহীত 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে সিআইএ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরার ওপর নজর রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে তারা।

প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইএর কাছে তথ্য আসে যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন খামেনিও। এমন তথ্য সিআইএর হাতে আসার পর হামলার সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। কারণ তারা বলে আসছিল যে, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। তারা মনে করে, প্রাপ্ত তথ্যের ফলে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ। তবে সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা।

মার্কিন গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়। বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল, বৈঠকে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

খবরে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী ইসরাইলের সময় অনুসারে ভোর ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তখন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘ পাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য সঠিক এবং সে অনুযায়ী ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর হামলা যে নিখুঁত ছিল সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে। হামলার পরপরই ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের দাবির ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারছিল না। ইরানের পক্ষ থেকেও একাধিকবার বলা হয়, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তীতে তেহরান খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার শাহাদাতের কথা স্বীকার করে।