৯ ফেব, ২০২৬

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে নতুন করে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার সমর্থকরা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনশন শুরু করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন এই সাজা দেয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহের ওই অনশনের পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।

২০২৩ সালে শান্তিতে পুরস্কার জয়ী মোহাম্মদি ডিসেম্বরে এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত দুই মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।

তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাকে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং ইরানের ইসলামী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘প্রচারণার’ জন্য তাকে আরো দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারকদের সামনে মোহাম্মদিকে হাজির করিয়ে দ্রুত সাজা দেয়ার পর তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি বা কোনো বিবৃতিও দেননি।

প্যারিসে বসবাসকারী নার্গিস মোহাম্মাদির স্বামী তাগি রাহমানি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নার্গিস আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, এই বিচার বিভাগের কোনো বৈধতা নেই। তিনি এই বিচার প্রক্রিয়াগুলোকে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যের একটি নিছক নাটক হিসেবে দেখেন।’ মোহাম্মদি তার কারাবাসের অবস্থা ও আইনজীবী ও পরিবারের সাথে ফোনে কথা বলতে না পারার প্রতিবাদে গত ২ ফেব্রুয়ারি অনশন শুরু করেন।

তার ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নার্গিস মোহাম্মদি আজ ষষ্ঠ দিনে তার অনশন শেষ করেছেন, যদিও প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে তার শারীরিক অবস্থা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তার স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে মাত্র তিন দিন আগে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনটি জানিয়েছে, তবে চিকিৎসা শেষ করার আগেই তাকে মাশহাদে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা আটক কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার চলমান আটক জীবন-হুমকিস্বরূপ ও মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

হাদী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি

হাদী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি

ছবি: সংগৃহীত 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আজ ফৌজদারি তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

তদন্ত সংস্থা আজ প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন। ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে, মামলার অভিযোগকারী তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং আরও তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করায় আদালত সিআইডিকে হত্যা মামলার আরও তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেন।

ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ৬ জানুয়ারি অভিযুক্ত শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার বাবা-মা হুমায়ুন কবির এবং হাসি বেগম সহ ১৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিবরণী অনুসারে, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় হাদির উপর গুলি চালান এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। 

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর পর, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন, যা প্রাথমিকভাবে হত্যার চেষ্টা হিসেবে দায়ের করা হয়েছিল।
ভোটকেন্দ্রে যারা মোবাইল ফোন নিতে  পারবেন, আর যারা পারবেন না

ভোটকেন্দ্রে যারা মোবাইল ফোন নিতে পারবেন, আর যারা পারবেন না

ছবি: সংগৃহীত 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এইদিন ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠান।

নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণভাবে কেউ মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

৮ ফেব, ২০২৬

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন। আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে-অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি তারা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।

প্রসঙ্গত, জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় দলটি। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি। 

পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করেন।


৬ ফেব, ২০২৬

সন্দ্বীপে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম উদ্ধার ও অস্ত্র তৈরির কারিগর আটক

সন্দ্বীপে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম উদ্ধার ও অস্ত্র তৈরির কারিগর আটক

ছবিঃ সংগৃহীত

অপারেসন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ দুস্কৃতিকারী আটক। আজ বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ৩টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সন্দ্বীপ ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে সন্দ্বীপ থানাধীন গুপ্তছড়া বেড়িবাঁধের ইটের ভাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ জন আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগরকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিল। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। 


৩ ফেব, ২০২৬

এপস্টেইনের নথিতে নাম থাকায় বিএনপি প্রার্থী মিন্টুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক ছাত্রশিবিরের

এপস্টেইনের নথিতে নাম থাকায় বিএনপি প্রার্থী মিন্টুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক ছাত্রশিবিরের

ছবি: সংগৃহীত 

ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখা। বিশ্বজুড়ে আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিতে তার নাম উঠে আসা এবং ঋণ খেলাপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেনী শহরের মিজান ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এতে সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি প্রকাশের পর তাতে ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম উঠে আসে। এসব নথিতে এপস্টেইনের রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থায়ন কাঠামো এবং প্রভাববলয়ের বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকাশিত নথিগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনি প্রচারে অর্থায়নসংক্রান্ত। নথি অনুযায়ী, জেফরি এপস্টেইন ওই নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম শীর্ষ দাতা ছিলেন এবং তিনি সেখানে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেন। একই দাতা তালিকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও উল্লেখ রয়েছে। নথিতে দেখা যায়, তিনি বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনি তহবিলে ৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেন। তালিকায় তাকে ‘বাংলাদেশের ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামের হাজী সফি উল্যাহর পুত্র।

আবদুল আউয়াল মিন্টু এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এবং মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচিত। তাঁর পিতা প্রয়াত হাজী সফি উল্যাহ উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পরবর্তীতে দাগনভূঞা উপজেলার প্রথম দুই মেয়াদে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে নাম উঠে আসার এই বিএনপি নেতার মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটেই মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির।

জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন জয়

জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন জয়


ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার বুকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুদূর প্রবাস থেকে ভার্চুয়ালি ভেসে এলো সজীব ওয়াজেদ জয়ের কণ্ঠস্বর। গতকাল সোমবার বিজেপিঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘খোলা হাওয়া’ আয়োজিত এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র। দীর্ঘ আধা ঘণ্টার সেই বক্তৃতায় উঠে এলো অনুশোচনা, স্বীকারোক্তি এবং একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি।

২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের মৃত্যুর দায় এতদিন সরাসরি স্বীকার না করলেও, এবার কলকাতায় সেই ঐতিহাসিক দায়ভার নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন জয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জুলাইয়ের আন্দোলনে যত নিরপরাধ ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় তিনি নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানের আলোচনায় জয় স্বীকার করে নেন যে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ছিল। তার মতে, সরকার আগেই কোটা বাতিল করেছিল কিন্তু আদালতের নির্দেশে তা ফিরে আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়। এই পুরো বিষয়টিকে তিনি সরকারের একটি ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। তবে ছাত্রদের মৃত্যুর দায় নিলেও নেপথ্যের ষড়যন্ত্র নিয়ে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন।

জয়ের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার যে অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে এসেছে, তাতেই স্পষ্ট যে জঙ্গিরা থানায় হামলা চালাচ্ছিল এবং সেই সময় থেকেই পরিস্থিতি হিংসাত্মক মোড় নেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার বা পুলিশ আগ বাড়িয়ে হিংসা শুরু করেনি, বরং আন্দোলনের আড়ালে থাকা কট্টরপন্থি ও জঙ্গিরাই অগ্নিসংযোগ এবং গোলমালের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল।

বক্তৃতার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের প্রসঙ্গ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে এবং অন্যান্য প্রগতিশীল দলকে কোণঠাসা করে আয়োজিত এই নির্বাচনকে ‘একতরফা’ বলে দাবি করেছেন জয়। তার মতে, এটি বর্তমানে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে এক দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে জাতীয় পার্টির মতো দলকেও প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি এই নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হতে যাওয়া এই ভোট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

একই সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কার বার্তা দিয়েছেন হাসিনাপুত্র। জয় দাবি করেন, বিএনপি আসলে আমেরিকার হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে এবং ক্ষমতার অলিন্দে জামায়াত ও পাকিস্তান ‘ফ্রি হ্যান্ড’ পেয়ে যাচ্ছে। তার আশঙ্কা, জামায়াত সরাসরি সরকারে না থাকলেও নেপথ্য থেকে কলকাঠি নাড়বে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতি রুখতে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি জানান, জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়া থেকে আটকানোর এটাই শেষ সুযোগ। নিজের দীর্ঘ বক্তৃতায় জয় বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে যে কয়েকশ আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ খুন হয়েছেন, সেই দায়ভারও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না।