৩ ফেব, ২০২৬

আইডি হ্যাকের বিষয়টি স্পষ্টের পরও এটা নিয়ে ব্যবসা করছে একটি দল

আইডি হ্যাকের বিষয়টি স্পষ্টের পরও এটা নিয়ে ব্যবসা করছে একটি দল


ছবিঃ সংগৃহীত

 জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আইডি হ্যাকের বিষয়ে সবকিছু স্পষ্ট হওয়ার পরও এটাকে নিয়ে ব্যবসা করছে একটি রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পঁচা রাজনীতি নয়, ২৪-এর যুব সমাজ পরিবর্তন চায়। জাতিকে বিভক্ত করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না। নারী ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে কিছু গ্রুপ জামায়াতের পেছনে লেগেছে। চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। জনতার রায়কে অভিনন্দন জানাতে প্রস্তুত জামায়াত।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নোংরা রাজনীতি আর দেখতে চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশ একটি মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উন্নত শির নিয়ে স্বাধীন ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াক। আমাদের যুবসমাজের এটাই ছিল আকাঙ্ক্ষা। তারা জুলাইয়ে সব ধরনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। বুকের রক্ত দিয়ে তারা আমাদের এই মুক্তি ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

দুটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে আইসিটি প্রসিকিউশন

দুটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে আইসিটি প্রসিকিউশন


ছবিঃ সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউশন আজ পৃথক মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে, যার মধ্যে ২০১৬ সালে গাজীপুরে একটি কথিত সাজানো বন্দুকযুদ্ধে সাত যুবকের হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, প্রসিকিউশন প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এবং প্রাক্তন আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রাক্তন কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, প্রাক্তন সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম এবং প্রাক্তন গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন উর-রশিদ সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে।

মামলার নথি অনুসারে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ২০১৬ সালের অক্টোবরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাত যুবককে আটক করে গাজীপুরের একটি বাড়িতে আটক করে রাখে। পরে তাদের ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় এবং জঙ্গি হিসেবে মিথ্যাভাবে চিহ্নিত করা হয়।

তামিম আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

১ ফেব, ২০২৬

আপিল খারিজ, নির্বাচন করতে পারবেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

আপিল খারিজ, নির্বাচন করতে পারবেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী


ছবি: সংগৃহীত 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রার্থিতা ফিরে পেতে লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ ও অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন। অন্যদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
এর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়। পরে প্রার্থিতা ফেরত পেতে বিএনপির এই প্রার্থী ইসির দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।

২৯ জানু, ২০২৬

জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল: মুফতি রেজাউল করিম

জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল: মুফতি রেজাউল করিম

ছবিঃ সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জামায়াতসহ দলীয় জোট গঠন করে আমরা এগুচ্ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের কিছু না বলে জামায়াত অন্যান্য দলকে যুক্ত করেছে। জোটের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়েছে জামায়াত। সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আমাদের একটা বড় আশা-আকাঙ্খা ছিল, ইসলামের পক্ষে একটা বড় উত্থান হবে। সেই আশা অন্ধকারে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে নির্বাচনী জনসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, জামায়াত ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিতে চায় না, তখনই বাধ্য হয়ে আমরা সেখান থেকে সরে এসে জাতির সামনে যে কথা দিয়েছিলাম, সেই কথামতো হাতপাখা প্রতীকে ইসলামের একটা বাক্স জাতির সামনে রেখেছি। আশা করি, ইসলামের পথে রাখা বাক্সই বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ। যারা মানবতার মুক্তি চায়, যারা ইসলাম কায়েম করতে চায়, বিশেষ করে আলেম ওলামা আমাদের সাথে আছে। তারা হাতপাখাকে বিজয়ী করতে মুখিয়ে আছে।’ 

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে অনেকটা শংকিত হতাশ। অন্তবর্তীকালীন সরকার বলেছিল এমন একটা নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে, যে নির্বাচন মানুষ স্মরণ করবে। সেই কথাটা স্মরণ করা নিয়ে বলছি, আপনারা সেই পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি। আমরা এখনই লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা চলছে, আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে এগোচ্ছে সবাই।’ 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ভোলায় আমাদের নারী কর্মীদের ওপর যে আচরণ করছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখন পরিবেশ ঠিক না করলে, সামনের পরিবেশের জন্য দায় আপনাদের মাথায় নিতে হবে।’ 

এর আগে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

  

২০ নভে, ২০২৫

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ কারাগারে

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ কারাগারে


ছবি: সংগৃহীত 

অগ্রণী ব্যাংকের ১৮৯ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি মামলায় ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি একসময় অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মশিউর রহমান জানান, আজ ওবায়েদ উল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। দুদকের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজালাল তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে আজ সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে ওবায়েদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ শাখা থেকে বিতরণকৃত ট্রাস্ট রিসিপ্ট (টিআর) ঋণের মাধ্যমে ৫১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে সুদে-আসলে এ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। মামলার তদন্ত ও বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি রূপালী ব্যাংকের এমডি, অগ্রণী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ শাখা থেকে নিয়ম ভেঙে ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

মামলার অপর আসামিরা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ আবদুল হামিদ, অগ্রণী ব্যাংকের আছাদগঞ্জ শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ও মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মো. আবুল হোসেন তালুকদার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক তাজরীনা ফেরদৌসী ও সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. মোফাজ্জল হোসেন। এ ছাড়া মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান, জাসমীর ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেডের এমডি জহির আহমেদ, ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক টিপু সুলতান ও ফরহাদ মনোয়ারকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের নামে ছোলা ও গম আমদানির জন্য ঋণ মঞ্জুর করা হলেও প্রকৃত সুবিধাভোগী ছিল নুরজাহান গ্রুপ ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাসমীর ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেড। বেতনভোগী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করে। নুরজাহান গ্রুপের একটি বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে শাখায় হিসাব খোলা থেকে শুরু করে হিসাব পরিচালনার জন্য নুরজাহান গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাসমীর ভেজিটেবল অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদকে হিসাব পরিচালনার জন্য দেওয়া হয়। নতুন এই প্রতিষ্ঠানকে বিপুল অঙ্কের ঋণ মঞ্জুরি এবং পরে ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তাবলি যথাযথভাবে পরিপালন নিশ্চিত না করে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের ৫১ কোটি টাকা (বর্তমানে সুদে-আসলে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা) আত্মসাৎ করেন আসামিরা।

১৩ নভে, ২০২৫

জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশ ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না। শিগগিরই জুলাই সনদ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোট ফেব্রুয়ারি প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরো উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ এ স্বাক্ষর করেন তিনি। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত ২৮ অক্টোবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি যে আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তার ভিত্তিতে গণভোট হবে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওইদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

১০ নভে, ২০২৫

যে কারণে ঝুলে গেল নতুন পে স্কেল

যে কারণে ঝুলে গেল নতুন পে স্কেল


ছবি: সংগৃহীত 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিল পে কমিশন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, নতুন পে কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।

অথচ কমিশন গঠনের শুরুতে তিনি বলেছিলেন— আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকেই বর্তমান সরকার নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করবে। এই বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সরকারেরই উচিত ছিল বিষয়টি নিষ্পত্তি করা। এর আগে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আল্টিমেটামও দিয়েছিলেন তারা। এখন পুনরায় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী মনে করেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “অষ্টম পে কমিশনের পর নবম কমিশন পেতে ১১ বছর লেগেছে। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত ছিল, গত চার বছর তো আরও বেশি। ফলে নতুন বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সাধারণ কর্মচারীদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। তারা ভেবেছিলেন, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে। কিন্তু পে–স্কেল পরবর্তী সরকারের হাতে তুলে দেওয়াই প্রমাণ করে, তারা তা পারেনি।

অধ্যাপক সিদ্দিকী আরও জানান, দেশের বাজেট ঘাটতি বাড়ছে, আর্থিক ব্যবস্থাও চাপে রয়েছে। “কমিশন গঠনের সময় বলা হয়েছিল, এই সরকারই নতুন স্কেল দেবে। কিন্তু তহবিল সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় এখন ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। ঋণের সুদ পরিশোধ ও বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ায় অর্থনীতি ভারসাম্য হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই অবস্থায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানো সম্ভব নয়। এমনকি ভবিষ্যৎ সরকারও অর্থনৈতিক কাঠামো না বদলালে তেমন বৃদ্ধি দিতে পারবে না। দেশ এখন নির্বাচনী সময় পার করছে— ভোট আয়োজন এবং গণভোট প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারিত আছে। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রশাসন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা থেকে সরে এসেছে,”।