২৩ এপ্রি, ২০২৬

ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের পদক্ষেপ

ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের পদক্ষেপ


ছবিঃ সংগৃহীত 

সম্প্রতি ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ দেশের আইন-আদালত অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। 

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আইন কর্মকর্তারাই সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীক বিচারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি মুক্ত একটি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস দেশের বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। 

একজন বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবুল হাসানের ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার লিখিত অভিযোগ আসে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে। যেখানে একটি মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দেবেন, এমন আশ্বাসে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগকারী (বিচারপ্রার্থী) লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। 

এ বিষয়ে নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুসের (কাজল) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে এই অভিযোগের বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আমি সংশ্লিষ্ট সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে কথা বলি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তার সেদিনের জবাব আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।’ 

একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল হাসানের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ বাতিল করে তাকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন।

এদিকে, জনগুরুত্বপূর্ণ একটি রিট মামলার ফাইল উদ্দেশ্যমূলকভাবে হাইকোর্টে না নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে গত ১৬ এপ্রিল এক অফিস সহায়ককে পুলিশে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। পরবর্তীতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে এই অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ফৌজদারি মামলা করেন। সে মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. ইমরান হোসেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাইল আদালতে (হাইকোর্টে) না নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার মানসে কোন প্রলোভনে পড়ে একাজ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো সংঘবদ্ধ দলের সদস্য হতে পারেন, যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতি করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করে থাকতে পারেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বাসস'কে বলেন, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি (অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস) রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এখানে এমন কর্মকর্তা কর্মচারী থাকতে হবে যারা নীতি নৈতিকতার মানদণ্ডে হবেন উন্নত। এখানে কারো অনিয়ম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

অন্যদিকে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত চারটি রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন এই দু’টি ট্রাইব্যুনালের দেয়া আলোচিত চারটি রায়ে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি দণ্ডিত অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই বিচারিক সফলতার অংশ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। এই কার্যালয়ের প্রসিকিউটরা ট্রাইব্যুনালে ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সম্প্রতি কয়েকজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যেখানে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেফতার সাবেক এক সংসদ সদস্যকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দিতে তার পরিবারের কাছে একজন প্রসিকিউটরের কোটি টাকা চাওয়া সংক্রান্ত ফোনালাপের অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে আরেকজন প্রসিকিউটরের কক্ষে একজন আসামির স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলেন প্রসিকিউশন টিমেরই আরেক প্রসিকিউটর।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করা একাধিক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ তদন্তে গত ১০ মার্চ একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। সে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি দ্রুত তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন এবং সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 

অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বাসস’কে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির অনিয়মের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কোন দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। যেকোন অবস্থায় আমাদেরকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোন প্রসিকিউটর বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ যদি কোন দুর্নীতি করার চেষ্টা করেন, বা চিন্তা করেন সেক্ষেত্রে এটা তার জন্য আত্মঘাতী হবে।’

মনোনয়ন বাতিল, যে সিদ্ধান্ত জানালেন মনিরা শারমিন

মনোনয়ন বাতিল, যে সিদ্ধান্ত জানালেন মনিরা শারমিন


ছবি: সংগৃহীত 

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তার আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, ‘প্রার্থিতা ফিরে পেতে আগামী রবিবার নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে। আশা করি, আপিলে আমরা প্রার্থিতা ফেরত পাব।’

এর আগে বুধবার জামায়াত জোট মনোনীত ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।

শুনানিতে জানা যায়, মনিরা শারমিন আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পর ৩ বছর অতিক্রান্ত না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জিত হয় না। এই বিধান বিবেচনায় নিয়েই তার প্রার্থিতা যাচাই করা হয়।

এ কারণে তার মনোনয়নপত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেয় নির্বাচন কমিশন। এ সময়ের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং তিনি তা দাখিলও করেন।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল অনুযায়ী আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

ভিডিও ভাইরাল: বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরানো হল বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে

ভিডিও ভাইরাল: বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরানো হল বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে


ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য জানা গেছে।

অবকাশকালীন ছুটি শেষে ১৯ এপ্রিল থেকে সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন থেকেই বিচারপতি আবদুল মান্নানকে কোনো বেঞ্চে রাখেননি প্রধান বিচারপতি। গত পাঁচ দিন ধরেই তিনি বিচারকাজে যুক্ত নন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেছেন, কেন তাকে বেঞ্চ দেওয়া হয়নি, তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি প্রধান বিচারপতি। অতএব, অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তাকে যে বিচারকাজ পরিচালনা থেকে সরানো হয়েছে, এটা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।

গত ৩ এপ্রিল কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে 'অ্যাপেক্স বাংলাদেশ'-এর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের সময় জনসাধারণের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পর পুলিশি পাহারায় বিচারপতি আব্দুল মান্নানের সভাস্থল ত্যাগের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

বিচারপতি আব্দুল মান্নান ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং পরে স্থায়ী হয়েছিলেন। ঝিনাইদহ জেলার অধিবাসী এবং ১৯৯৪ সালে সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগদান করেন তিনি।

নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ

নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে বিএনপির দাখিল করা ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের বৈধ ঘোষণা করেন।

বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। 

ভার্চুয়াল আদালত: সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়ালি ৭০৭ মামলার শুনানি, নিষ্পত্তি ১৭৭

ভার্চুয়াল আদালত: সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়ালি ৭০৭ মামলার শুনানি, নিষ্পত্তি ১৭৭


ছবি: সংগৃহীত 

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের উভয় (আপিল ও হাইকোর্ট) বিভাগে বুধবার (২২ এপ্রিল) সর্বমোট ৭০৭টি মামলা শুনানি হয়েছে এবং ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ (বুধবার) তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে শুনানির মাধ্যমে আপিল বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ৯৫টি মামলা শুনানি ও ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৬১২টি মামলা শুনানি ও ১৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে সর্বমোট ৭০৭টি মামলা শুনানি ও ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

এদিন সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাচ বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর হাইকোর্ট বেঞ্চগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। এছাড়া আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত পরিচালিত হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে।

প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত ২০ এপ্রিলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ এবং সুপ্রিম কোর্টের জারিকৃত প্র্যাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে। সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে।

এতে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালতে শুনানি সংক্রান্ত মামলার দৈনন্দিন কার্যতালিকা এবং ভার্চুয়াল (মিটিং) আইডি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে ও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ হতে জানা যাবে। এই নির্দেশনা আগামী ২২ এপ্রিল হতে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির ডিসচার্জ শুনানি আজ

শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির ডিসচার্জ শুনানি আজ


ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির ডিসচার্জ (অব্যাহতি) আবেদনের শুনানি আজ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 

অন্য আসামিরা হলেন- শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র। 

মামলার সব আসামিই পলাতক। তাদের হয়ে আইনি লড়াইয়ের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ আসামিদের ডিসচার্জ আবেদন নিয়ে শুনানি করবেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

জাইমা রহমানকে নিয়ে এআই নির্মিত ছবি পোস্ট, তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী আটক

জাইমা রহমানকে নিয়ে এআই নির্মিত ছবি পোস্ট, তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী আটক


ছবি: সংগৃহীত 

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের সঙ্গে এআই নির্মিত আপত্তিকর ছবি পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মো. শাকিল আহমেদ (২৪) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকার মো. বুলবুল ইসলামের ছেলে এবং ঢাকার তেজগাঁও কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার শাকিল আহমেদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একটি ছবি ও লেখা পোস্ট করেন। পোস্টে ব্যবহৃত ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘তারেক কাকু সব কার্ড ছাপিয়ে দিল খালি আমাদের বিয়ের কার্ড দিলো না। ১. পরিবার কার্ড ২. তেল কার্ড ৩. খেলাধুলা কার্ড আরো কিছু কার্ড রেডি’। পোস্টটি পরে স্ক্রিনশট আকারে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে অবহিত করা হলে দেবীগঞ্জ থানার এসআই ফারুকের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করে।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটি যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আটক যুবকের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।