আদালত প্রাঙ্গণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আদালত প্রাঙ্গণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৮ অক্টো, ২০২৬

অবকাশকালীন ছুটি শেষে সুপ্রিম কোর্ট খুলছে ২৫ অক্টোবর, আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান বিচারপতি

অবকাশকালীন ছুটি শেষে সুপ্রিম কোর্ট খুলছে ২৫ অক্টোবর, আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান বিচারপতি

কোলাজ ছবি 
অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। 

 অবকাশকালীন ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে প্রধান বিচারপতি ও উভয় বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আইনজীবীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

১৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনসংলগ্ন ইনার কোর্ট ইয়ার্ডের (বাগান) এলাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকবেন।

এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি


১৭ অক্টো, ২০২৬

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানমের পদত্যাগ

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানমের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত 
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিউলি খানম পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, শিউলি খানমের পদত্যাগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর তা সলিসিটরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বেলায়েত হোসেন পদত্যাগ করেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর একযোগে পদত্যাগ করেন পাঁচ আইন কর্মকর্তা। তারা হলেন—অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

এর দুই দিন পর, ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা। এছাড়া সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিমও পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এর আগে গত জুন মাসে সরকারের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত-সমর্থিত সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।


সূত্র: ঢাকা পোস্ট


১৬ অক্টো, ২০২৬

ভুয়া মামলা দিয়ে শতাধিক মানুষকে হয়রানি, লালমনিরহাটের সেই যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বরখাস্ত

ভুয়া মামলা দিয়ে শতাধিক মানুষকে হয়রানি, লালমনিরহাটের সেই যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বরখাস্ত

কোলাজ ছবি 
ভুয়া মামলা দায়েরের মাধ্যমে গাজীপুরে শতাধিক মানুষকে হয়রানির অভিযোগে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে ভুয়া মামলা দিয়ে গাজীপুরে শতাধিক মানুষকে হয়রানির ঘটনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে চ্যানেল 24। বিষয়টি নজরে আসার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিচারক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হলো।

আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ২(ক) ও ২(চ) অনুযায়ী ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খাদেম উল কায়েস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মো. আরিফুল ইসলাম এর আগে শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী জজ এবং ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সূত্র: চ্যানেল ২৪ ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন 

বিডিলপোস্ট/এম

১৩ অক্টো, ২০২৬

দুর্গাপূজায় ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালত, ১৭ অক্টোবর খোলা

দুর্গাপূজায় ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালত, ১৭ অক্টোবর খোলা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ এবং দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল খোলা থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বন্ধ থাকবে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালও

অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ছুটি থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল খোলা থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মুহাম্মদ শরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি

১২ অক্টো, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচারব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচারব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

দীর্ঘ ছুটিতে কমছে বিচারিক কার্যদিবস, বাড়ছে মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ; ছুটির সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচারিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর মতে, বছরের উল্লেখযোগ্য সময় আদালত বন্ধ থাকায় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যদিবস কমে যাচ্ছে। এতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

দীর্ঘ ছুটি কমিয়ে বিচারিক কার্যক্রম গতিশীল করার আহ্বান

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ৩৬৫ দিনের বছরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছুটির মধ্যে পড়ে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি আদালতের নিজস্ব দীর্ঘ অবকাশ থাকায় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যদিবসের সংখ্যা কমে যায়।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক থাকাকালেও তিনি দীর্ঘ ছুটি কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ অবকাশের কারণে বিচার বিভাগের কাজে প্রত্যাশিত গতি আসছে না। একই সঙ্গে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় হ্রাস করার ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না।

এ অবস্থায় ছুটির সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দীর্ঘ অবকাশেও অসমাপ্ত রায় লেখা নিশ্চিত নয়

দীর্ঘ ছুটির সময় বিচারপতিরা অসমাপ্ত রায় লেখার কাজ শেষ করবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা সব ক্ষেত্রে পূরণ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস একটি রায়ও লেখা হয় না। তাঁর মতে, রায় লেখার কাজ সম্পন্ন করা মূলত বিচারকদের সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভরশীল। শুধু দীর্ঘ অবকাশ রাখলেই অসমাপ্ত রায় লেখার কাজ শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

তাই বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে ছুটির সময়সূচি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি বিচারকদের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় উদ্যোগ প্রয়োজন

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি মনে করেন, এসব শিশুর সুরক্ষা, বেড়ে ওঠা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কারাগারের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার নিষ্পত্তিতে সন্তোষ

এদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বিচারাধীন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তাঁর মতে, এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে ভুক্তভোগীরা সময়মতো বিচার পাওয়ার সুযোগ পান।

সামগ্রিকভাবে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানো, মামলাজট কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বিডিনিউজ ২৪ (১২.১০.২০২৬)

৭ অক্টো, ২০২৬

রাতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা

রাতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে আদালত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা দাফতরিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চাইলে এসব পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা এখানকার বিভিন্ন কোর্ট রুমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাই প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি ও মামলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের পাশাপাশি পুরো স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র বহনের বিষয়ে এর আগেও সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আদালত প্রশাসনের নজরে এসেছে, রাতের সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ‘অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিবর্গ’ প্রবেশ করছেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি 

৬ অক্টো, ২০২৬

আদালত থেকে আবারও পালালেন সেই শরিফ

আদালত থেকে আবারও পালালেন সেই শরিফ

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শরিফুল ইসলাম নামে এক আসামি আবারও পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজিরা শেষে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনেও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যকে মারধর করে হাতকড়া খুলে পালিয়েছিলেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশ সদস্যকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। ওই ঘটনায় সেদিনই হাজতখানার ইনচার্জ রিপন মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় মঙ্গলবার শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তোলা হয়। তবে কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সেদিন সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

পরে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল আব্দুল আলিম শরিফুলকে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কৌশলে হাতকড়া খুলে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোতোয়ালি থানার মামলার হাজতি আসামি শরিফুল ইসলাম কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে গেছেন। মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।


সূত্র: সমকাল (০৬.১০.২০২৬)

১ অক্টো, ২০২৬

৩১ জেলায় নতুন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার পদায়ন

৩১ জেলায় নতুন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২৬: দেশের ৩১টি জেলা ও ঢাকা মহানগরে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার পদে ৩১ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২৬।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের এসব কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কারণে তাদের বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ (মুখ্য জেলা ও দায়রা জজ) পদে বদলিপূর্বক চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—

১. মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার — নারায়ণগঞ্জ
২. এলিজ জাহান — গাজীপুর
৩. তানজিনা চৌধুরী — টাঙ্গাইল
৪. নুসরাত সাহারা বীথি — মাদারীপুর
৫. শিপলু কুমার দে — ফেনী
৬. রাজীব কুমার রায় — ঝালকাঠি
৭. মনিকা খান — কুমিল্লা
৮. আহমেদ হুমায়ুন কবীর — ফরিদপুর
৯. মো. মুস্তাফিজুর রহমান — সাতক্ষীরা
১০. লায়লা মেহের বানু — মৌলভীবাজার
১১. মোহাইম্মদ শফন মেহেরী — রংপুর
১২. ফারজানা হাসানাত — ময়মনসিংহ
১৩. নাজমুন নাহার — নোয়াখালী
১৪. এ.এস.এম. এমরান — রাঙামাটি
১৫. আয়েশা বেগম — সিলেট
১৬. সোলায়মান কবীর — সুনামগঞ্জ
১৭. মোহাম্মদ কবির উদ্দীন — লক্ষ্মীপুর
১৮. রাবেয়া রহমান — কিশোরগঞ্জ
১৯. ফাতেমা তুজ জোহরা মুনা — মুন্সীগঞ্জ
২০. মো. তারেক আজিজ — নরসিংদী
২১. জামাতুল রাফিক সুলতানা — জয়পুরহাট
২২. কনক বড়ুয়া — কুড়িগ্রাম
২৩. ফাতিমা খাতুন — দিনাজপুর
২৪. সাবিনা ইয়াসমীন — মাগুরা
২৫. তরিকুল ইসলাম — ঝিনাইদহ
২৬. মো. আরিফুল ইসলাম — কুষ্টিয়া
২৭. তানিয়া ইসলাম — ঢাকা মহানগর
২৮. মোহাম্মদ দাউদ হাসান — কক্সবাজার
২৯. মো. হাসিবুল হাসান — যশোর
৩০. শারমিন সুলতানা সুমি — রাজবাড়ী
৩১. শ্রীজ্ঞান তংজ্যা — বান্দরবান।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পদায়নপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে আইন ও বিচার বিভাগে যোগদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বেতন-ভাতাদি আইন ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কোড থেকে পাবেন। তবে একই কর্মস্থলে পদায়নের কারণে তারা এ বদলির জন্য কোনো টিএ/ডিএ (ভ্রমণ ভাতা/দৈনিক ভাতা) পাবেন না।

প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১) মো. মাসুম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৭ সেপ, ২০২৬

পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ; ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কার্যক্রম

পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ; ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কার্যক্রম

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ইউএনওডিসি ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাগত মান আরও উন্নত করতে দেশের সব বিভাগে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য বিভাগেও পর্যায়ক্রমে তা সম্প্রসারণ করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউএনওডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহীয়ান এবং ইউএনডিপির আইনের শাসন, বিচার ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়াইগার অংশ নেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

বিভাগভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন জেলা ও চৌকি বারের আইনজীবীরা:

বৈঠকে দেশের আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীন জেলা বার ও চৌকি বারের আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে জেলা ও চৌকি বার পর্যায়ের আইনজীবীরাও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

গুরুত্ব পাবে পেশাগত সততা ও মানবাধিকার:

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করা।

একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থায় পেশাগত নৈতিকতার চর্চা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়েও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চর্চার সঙ্গে পরিচিত করার বিষয়টিও এ উদ্যোগের অংশ।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় উদ্যোগ:

এর আগে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ বিষয়ে দুই দিনব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণের শিরোনাম ছিল—‘বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ’।

ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবার দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের একই ধরনের পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত:

বৈঠকে আগামী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপি, আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতায় দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের কর্মসূচি আইনজীবী ও বিচারসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সততা, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের চর্চাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭/০৯/২০২৬)


আদালতের কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ এবং অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ এবং অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত 

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন।

বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরাসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বিচারিক কাজে আইন ও নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সিলেট বিভাগের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মনিটরিং কমিটি ফর সাবর্ডিনেট কোর্টসের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিকরা বিচারিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সিলেট বিভাগের চার জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা নিশ্চিত করা, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বাড়ানো এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪


২৪ সেপ, ২০২৬

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

 

সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথ পড়ান

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ

বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে পরবর্তী সময়ে স্থায়ী করা হলেও তাকে তখন স্থায়ী বিচারপতি করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় তার বয়স ৪৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় স্থায়ীকরণ হয়নি। বয়সসংক্রান্ত শর্ত পূরণের পর তাকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আইন পেশায় অভিজ্ঞতা

বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন থেকে এলএলবি (অনার্স), কলেজ অব ল থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং হলবর্ন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করেন। তিনি ২০০৫ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে, ২০০৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারকের সংখ্যা ১০০

বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারকের সংখ্যা ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

পারিবারিক পরিচয়

বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে।

দীর্ঘদিন আইন পেশায় থাকার পর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে বিচারিক দায়িত্বে যুক্ত হন তিনি। স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে তার দায়িত্বের পরবর্তী ধাপ শুরু হলো।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS)

১৭ সেপ, ২০২৬

বিচার বিভাগে বড় রদবদল: জেলা ও দায়রা জজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারককে বদলি

বিচার বিভাগে বড় রদবদল: জেলা ও দায়রা জজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারককে বদলি

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের বিচার বিভাগে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে নতুন পদ ও কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এসব প্রজ্ঞাপনে জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, কুষ্টিয়া, নরসিংদী, মাদারীপুর, গাজীপুর, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার বিচারিক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজনকে জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বদলি ও পদায়নের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার পদেও বিচারকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, মাগুরা, কক্সবাজার, যশোর, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলার নাম রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে বদলিকৃত বিচারকদেট ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে থাকা বিচারক-কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষে যোগদানের তারিখে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। বদলিকৃতদের পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পদ ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

একই দিনে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিচার বিভাগে এই রদবদল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে সংশ্লিষ্টদের বর্তমান পদ ও কর্মস্থল এবং বদলিকৃত পদ ও কর্মস্থলের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ; ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনসমূহ যা নিচে দেওয়া হলো:
















বিডিএলপিবি/এমএম

১৩ সেপ, ২০২৬

হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন

হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখ রোজ বুধবার সকাল ১০৪৩০ মিনিট হইতে ১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য অবকাশকালীন বেঞ্চসমূহ গঠন করা হয়েছে।

সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে গঠিত এ সব বেঞ্চের বিস্তারিত সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিস্তারিত জানতে নিচের নোটিশটি দেখুন:




বিডিএলপিবি/এমএম


১০ সেপ, ২০২৬

এবার পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন

এবার পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন

ছবি: সংগৃহীত 
পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবরে আজ বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তিনি পদত্যাগপত্র দেন। এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে ছয়জন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র দিলেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার ৫ আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সুলতানা আক্তার রুবি, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল প্রোজ্জ্বল চাকমা।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ সেপ, ২০২৬

মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে উচ্চবাচ্য, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ

মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে উচ্চবাচ্য, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে উচ্চাবাচ্যে জড়িয়ে এজলাস ছেড়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান বিচারপতির এজলাসে এমন উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি।

জানা গেছে, এদিন আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানি চলাকালে হঠাৎ করেই ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন মন্তব্য করেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে।

এ ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন। উভয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কথোপকথনের এক পর্যায়ে আপিল বেঞ্চের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করে চলে যান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: চ্যানেল ২৪ (০৮.০৯.২০২৬)

৭ সেপ, ২০২৬

এক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলসহ একদিনে ৫ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

এক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলসহ একদিনে ৫ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত 
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞাসহ ৫ জন আইন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তারা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পদত্যাগপত্র দেওয়া অপর চার আইন কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আকতার রুবি ও মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জল চাকমা।

গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আবদুল জব্বার ভুঞাসহ তিনজন আইনজীবীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে জব্বার ভুঞা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদে এবং ১৮০ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ দেয়। 

ডিএজি এবং এএজি পদে সব মিলে ২৬৬ জন নিয়োগ পান। এর আগে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পাওয়া সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিল করে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

পদত্যাগপত্র দেওয়া অন্য চারজন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল সুলতানা আকতার রুবি ও মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জল চাকমা গত ৩০ জুলাই নিয়োগ পেয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বরাবর লেখা পদত্যাগপত্র আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন বলে জানান রোহানী সিদ্দিকা।  অন্যদিকে, প্রোজ্জল চাকমাও একই কারণে রাষ্ট্রপতি বরাবর লেখা পদত্যাগপত্র আজ দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪ (০৭.০৯.২০২৬)

বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পেলেন হাইকোর্টের সেই বিচারপতি

বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পেলেন হাইকোর্টের সেই বিচারপতি

ছবিঃ সংগৃহীত 
কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বিজয় একাত্তর ভবনের ৯ নম্বর কোর্টে একক দেওয়ানী বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি ঘটনার কারণে গত এপ্রিল মাসে বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে বিরত রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি। সম্প্রতি তাকে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন বিচারপতিকে বেঞ্চ দেওয়া বা বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা এটা সম্পূর্ণ প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার।

এর আগে  গত এপ্রিল মাসে এর আগে গত এপ্রিল মাসে কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গত ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের অনুষ্ঠানে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বিচারপতি আব্দুল মান্নান। তিনি সেখানে বিচারপতি পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন এবং বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিচারপতির এমন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের অনুষ্ঠানে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বিচারপতি আব্দুল মান্নান। তিনি সেখানে বিচারপতি পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন এবং বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিচারপতির এমন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট (০৭.০৯.২০২৬)

৪ সেপ, ২০২৬

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকাসহ ১০ জেলায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার জন্য একটি জেলা ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকার জন্য চারটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো- মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ঢাকা মহানগর-১, ঢাকা মহানগর-২, ঢাকা মহানগর-৩ ও ঢাকা মহানগর-৪।

এর মধ্যে পল্লবী, কাফরুল ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-১ ট্রাইব্যুনালে; কলাবাগান ও ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-২ ট্রাইব্যুনালে; মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৩ ট্রাইব্যুনালে এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৪ ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।

এ ছাড়া মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য ঢাকা মহানগর-৩ এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরেও এক বা একাধিক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, সেই পর্যায় থেকেই নতুন ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী বিচারকাজ পরিচালিত হবে।নতুন ট্রাইব্যুনালগুলো গঠনের ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো নির্দিষ্ট আদালতে বিচার করার সুযোগ তৈরি হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন


৩ সেপ, ২০২৬

আইনজীবীর বিরুদ্ধে কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ

আইনজীবীর বিরুদ্ধে কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
যশোরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতকক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কজ লিস্ট বুকের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা।

বেঞ্চ সহকারীর অভিযোগ, গত ১১ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম আদালতকক্ষে প্রবেশ করে ১৪৪ ধারার মামলার কজ লিস্ট বুকটি নেন। এরপর ওই কজ লিস্ট বুক থেকে আগস্ট মাসের বিভিন্ন তারিখের ১১টি পাতা সবার অগোচরে ছিঁড়ে নিয়ে যান।

পরে কজ লিস্ট বুক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা দেখতে পান, ভেতরের বিভিন্ন তারিখের ১১টি পাতা নেই। এরপর আদালতকক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম কজ লিস্ট বুক থেকে পাতা ছিঁড়ে নিচ্ছেন। তবে কী কারণে তিনি এ কাজ করেছেন, তা জানা যায়নি।

মাসুদ রানা জানান, কজ লিস্ট বুক থেকে প্রয়োজনীয় পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ায় আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতিতেও অভিযোগ জানানো হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি ওই দিন আদালতে গিয়েছিলেন তার একটি মামলার নম্বর আছে কি না, তা দেখতে। কিন্তু কজ লিস্ট বুকে মামলার নম্বর না পেয়ে তিনি ফিরে এসেছি। এরপর আদালতের পেশকার তাকে অন্তত ১০ বার ফোন করে পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার জন্য দোষারোপ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (০২.০৯.২০২৬)

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির প্রমাণ

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির প্রমাণ

কোলাজ ছবি
জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে জামিন করানোর অভিযোগের তদন্তে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে আদালত। একই কৌশলে পরপর তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত আসামিদের শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

শুধু জাল জন্মসনদ ব্যবহার নয়, একটি মামলার নথি প্রায় নয় মাস গায়েব রাখা, আদালতের আদেশের নথিতে কাটাকাটি এবং অন্য এক নবীন নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর ও সিল জাল করে দায় এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চৌকি) আদালতের বিচারক এস এম গালিব হাসান গত ১৯ আগস্ট আদালতে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের আইনজীবী সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সহকারী (মুহুরী) হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বা আইনজীবী সমিতিতে কাজের অনুমতিপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হ্যাকার চক্রের সদস্য পলাশ রানাকে ঘিরে। গত বছরের ১৫ জুলাই যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোবিন্দগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহারে পলাশের বয়স ২৫ বছর উল্লেখ থাকলেও পরে জাল জন্মসনদ তৈরি করে তাকে শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে জামিন নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি জেলা বারের আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুলসহ কয়েকজন আইনজীবী আদালতের নজরে আনেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে আদালতপাড়ায় আলোচনা শুরু হয়। এর পর আদালতের তদন্তে আইনজীবী রিপনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলায় একই ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে গোবিন্দগঞ্জ থানার জিআর ৩৮৩/২০২৪ মামলার নথি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মামলার চার আসামির মধ্যে শাওন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু জাল জন্মসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে তাঁদের শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে শিশু আদালত-২ থেকে জামিন করানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

একইভাবে জিআর ৩২৩/২০২৫ ও জিআর ৩৩১/২০২৫সহ আরও কয়েকটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত আসামিদের শিশু দেখিয়ে জামিন নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। অনলাইন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর এসব মামলায় জামিনের সময় আদালতে দাখিল করা জন্মসনদগুলো জাল ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে অন্য এক নবীন নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর ও সিলও জাল করা হয়েছে। জিআর ৩৩১/২৫ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি আশিক মিয়াকেও একই কৌশলে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানো হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পরে আদালতের নথি থেকে আইনজীবী রিপনের দাখিল করা জামিননামা, বেল বন্ড, জাল জন্মসনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে তাছলিমা খাতুন নামে এক আইনজীবীর স্বাক্ষর করা ওকালতনামা ও বেল বন্ড নথিতে যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ।

তাছলিমা খাতুন ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পাওয়া একজন নবীন আইনজীবী। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার নামীয় সিল ও স্বাক্ষর জাল করে জামিনের আবেদন, ওকালতনামা ও বেল বন্ড আদালতে দাখিল করা হয়।

ঘটনাটির সময় নিয়েও তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাছলিমার জাল স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামাটি গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বিক্রি হয় ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট। অথচ ওই ওকালতনামা ব্যবহার করে আসামির জামিন নেওয়া হয় তার চার দিন আগে, ১০ আগস্ট।

বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর আদালতের নির্দেশে আইনজীবী রিপন ও তার সহকারী হাসান আলীর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়। মামলাটি জিআর ৩৭২/২০২৫ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

তদন্তে আদালতের নথি ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি মামলার নথি প্রায় নয় মাস গায়েব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের নথিতে কাটাকাটি এবং নথিতে পরিবর্তন আনার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

আইনজীবী রিপনের সহকারী হাসান আলী তদন্তের সময় তার সহকারী হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করলেও আদেশের নথিতে কাটাকাটির বিষয়ে নিজের দায় অস্বীকার করেন। অন্যদিকে তৎকালীন জিআরও আব্দুস সবুর নথির আদেশের অংশে কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে শিশু আদালতে নথি হস্তান্তরের সময় সেখানে কোনো কাটাকাটি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। প্রায় নয় মাস নথি গায়েব থাকার বিষয়েও তিনি নিজের দায় অস্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্তের সময় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়। আইনজীবী রিপন দাবি করেন, তিনি শুধু বেইলবন্ডে স্বাক্ষর করেছেন; ওকালতনামা বা জামিনের আবেদনে তার স্বাক্ষর ছিল না। তবে ওকালতনামা ছাড়া তিনি কীভাবে সংশ্লিষ্ট মামলায় জামিন শুনানিতে অংশ নিয়েছেন—তদন্তে এমন প্রশ্ন তোলা হলেও এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী বিচারক প্রতিবেদনে বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করা আইনজীবীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু সহকর্মী এক নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর জাল করা, আদালতের নথি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর।

এসব ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। পেশাগত শপথ ভঙ্গ ও ধারাবাহিক জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তার সহকারী হাসান আলীর গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতিতে কাজ করার অনুমতিপত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। আদালতের নথি প্রায় নয় মাস গায়েব থাকা এবং নথি সংরক্ষণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ১৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদনটি শিশু আদালত-২, গাইবান্ধায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আইনজীবী রিপনের বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন জেলা বারের আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুল। তার দাবি, তিনি কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। পরে আদালতের নির্দেশে রিপনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় দুটি মামলা করা হয়।

বাবুলের অভিযোগ, ওই মামলাগুলোর তদন্তভার গাইবান্ধা সদর থানার উপপরিদর্শক সুদীপ্ত শাহীনের ওপর থাকলেও রিপনকে গ্রেপ্তার না করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে একটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে ২২ দিন কারাগারে থাকতে হয় বলে জানান তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পান।

তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিচারিক নিষ্পত্তিই শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: লয়্যার্স ক্লাব বাংলাদেশ (০২.০৯.২০২৬)