আদালত প্রাঙ্গণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আদালত প্রাঙ্গণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৪ সেপ, ২০২৬

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকাসহ ১০ জেলায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার জন্য একটি জেলা ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকার জন্য চারটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো- মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ঢাকা মহানগর-১, ঢাকা মহানগর-২, ঢাকা মহানগর-৩ ও ঢাকা মহানগর-৪।

এর মধ্যে পল্লবী, কাফরুল ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-১ ট্রাইব্যুনালে; কলাবাগান ও ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-২ ট্রাইব্যুনালে; মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৩ ট্রাইব্যুনালে এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৪ ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।

এ ছাড়া মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য ঢাকা মহানগর-৩ এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরেও এক বা একাধিক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, সেই পর্যায় থেকেই নতুন ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী বিচারকাজ পরিচালিত হবে।নতুন ট্রাইব্যুনালগুলো গঠনের ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো নির্দিষ্ট আদালতে বিচার করার সুযোগ তৈরি হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন


৩ সেপ, ২০২৬

আইনজীবীর বিরুদ্ধে কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ

আইনজীবীর বিরুদ্ধে কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
যশোরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতকক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কজ লিস্ট বুকের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা।

বেঞ্চ সহকারীর অভিযোগ, গত ১১ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম আদালতকক্ষে প্রবেশ করে ১৪৪ ধারার মামলার কজ লিস্ট বুকটি নেন। এরপর ওই কজ লিস্ট বুক থেকে আগস্ট মাসের বিভিন্ন তারিখের ১১টি পাতা সবার অগোচরে ছিঁড়ে নিয়ে যান।

পরে কজ লিস্ট বুক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা দেখতে পান, ভেতরের বিভিন্ন তারিখের ১১টি পাতা নেই। এরপর আদালতকক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম কজ লিস্ট বুক থেকে পাতা ছিঁড়ে নিচ্ছেন। তবে কী কারণে তিনি এ কাজ করেছেন, তা জানা যায়নি।

মাসুদ রানা জানান, কজ লিস্ট বুক থেকে প্রয়োজনীয় পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ায় আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতিতেও অভিযোগ জানানো হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি ওই দিন আদালতে গিয়েছিলেন তার একটি মামলার নম্বর আছে কি না, তা দেখতে। কিন্তু কজ লিস্ট বুকে মামলার নম্বর না পেয়ে তিনি ফিরে এসেছি। এরপর আদালতের পেশকার তাকে অন্তত ১০ বার ফোন করে পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার জন্য দোষারোপ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (০২.০৯.২০২৬)

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির প্রমাণ

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির প্রমাণ

কোলাজ ছবি
জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে জামিন করানোর অভিযোগের তদন্তে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে আদালত। একই কৌশলে পরপর তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত আসামিদের শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

শুধু জাল জন্মসনদ ব্যবহার নয়, একটি মামলার নথি প্রায় নয় মাস গায়েব রাখা, আদালতের আদেশের নথিতে কাটাকাটি এবং অন্য এক নবীন নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর ও সিল জাল করে দায় এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চৌকি) আদালতের বিচারক এস এম গালিব হাসান গত ১৯ আগস্ট আদালতে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের আইনজীবী সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সহকারী (মুহুরী) হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বা আইনজীবী সমিতিতে কাজের অনুমতিপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হ্যাকার চক্রের সদস্য পলাশ রানাকে ঘিরে। গত বছরের ১৫ জুলাই যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোবিন্দগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহারে পলাশের বয়স ২৫ বছর উল্লেখ থাকলেও পরে জাল জন্মসনদ তৈরি করে তাকে শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে জামিন নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি জেলা বারের আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুলসহ কয়েকজন আইনজীবী আদালতের নজরে আনেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে আদালতপাড়ায় আলোচনা শুরু হয়। এর পর আদালতের তদন্তে আইনজীবী রিপনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলায় একই ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে গোবিন্দগঞ্জ থানার জিআর ৩৮৩/২০২৪ মামলার নথি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মামলার চার আসামির মধ্যে শাওন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু জাল জন্মসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে তাঁদের শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে শিশু আদালত-২ থেকে জামিন করানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

একইভাবে জিআর ৩২৩/২০২৫ ও জিআর ৩৩১/২০২৫সহ আরও কয়েকটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত আসামিদের শিশু দেখিয়ে জামিন নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। অনলাইন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর এসব মামলায় জামিনের সময় আদালতে দাখিল করা জন্মসনদগুলো জাল ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে অন্য এক নবীন নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর ও সিলও জাল করা হয়েছে। জিআর ৩৩১/২৫ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি আশিক মিয়াকেও একই কৌশলে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানো হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পরে আদালতের নথি থেকে আইনজীবী রিপনের দাখিল করা জামিননামা, বেল বন্ড, জাল জন্মসনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে তাছলিমা খাতুন নামে এক আইনজীবীর স্বাক্ষর করা ওকালতনামা ও বেল বন্ড নথিতে যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ।

তাছলিমা খাতুন ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পাওয়া একজন নবীন আইনজীবী। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার নামীয় সিল ও স্বাক্ষর জাল করে জামিনের আবেদন, ওকালতনামা ও বেল বন্ড আদালতে দাখিল করা হয়।

ঘটনাটির সময় নিয়েও তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাছলিমার জাল স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামাটি গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বিক্রি হয় ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট। অথচ ওই ওকালতনামা ব্যবহার করে আসামির জামিন নেওয়া হয় তার চার দিন আগে, ১০ আগস্ট।

বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর আদালতের নির্দেশে আইনজীবী রিপন ও তার সহকারী হাসান আলীর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়। মামলাটি জিআর ৩৭২/২০২৫ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

তদন্তে আদালতের নথি ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি মামলার নথি প্রায় নয় মাস গায়েব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের নথিতে কাটাকাটি এবং নথিতে পরিবর্তন আনার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

আইনজীবী রিপনের সহকারী হাসান আলী তদন্তের সময় তার সহকারী হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করলেও আদেশের নথিতে কাটাকাটির বিষয়ে নিজের দায় অস্বীকার করেন। অন্যদিকে তৎকালীন জিআরও আব্দুস সবুর নথির আদেশের অংশে কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে শিশু আদালতে নথি হস্তান্তরের সময় সেখানে কোনো কাটাকাটি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। প্রায় নয় মাস নথি গায়েব থাকার বিষয়েও তিনি নিজের দায় অস্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্তের সময় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়। আইনজীবী রিপন দাবি করেন, তিনি শুধু বেইলবন্ডে স্বাক্ষর করেছেন; ওকালতনামা বা জামিনের আবেদনে তার স্বাক্ষর ছিল না। তবে ওকালতনামা ছাড়া তিনি কীভাবে সংশ্লিষ্ট মামলায় জামিন শুনানিতে অংশ নিয়েছেন—তদন্তে এমন প্রশ্ন তোলা হলেও এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী বিচারক প্রতিবেদনে বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করা আইনজীবীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু সহকর্মী এক নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর জাল করা, আদালতের নথি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর।

এসব ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। পেশাগত শপথ ভঙ্গ ও ধারাবাহিক জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তার সহকারী হাসান আলীর গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতিতে কাজ করার অনুমতিপত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। আদালতের নথি প্রায় নয় মাস গায়েব থাকা এবং নথি সংরক্ষণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ১৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদনটি শিশু আদালত-২, গাইবান্ধায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আইনজীবী রিপনের বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন জেলা বারের আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুল। তার দাবি, তিনি কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। পরে আদালতের নির্দেশে রিপনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় দুটি মামলা করা হয়।

বাবুলের অভিযোগ, ওই মামলাগুলোর তদন্তভার গাইবান্ধা সদর থানার উপপরিদর্শক সুদীপ্ত শাহীনের ওপর থাকলেও রিপনকে গ্রেপ্তার না করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে একটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে ২২ দিন কারাগারে থাকতে হয় বলে জানান তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পান।

তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিচারিক নিষ্পত্তিই শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: লয়্যার্স ক্লাব বাংলাদেশ (০২.০৯.২০২৬)

৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের নির্দেশ

৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের ৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা ইউনিট এর এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের জন্য বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিটি জেলায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন বিচারক কর্মরত থাকেন। কতিপয় জেলা ব্যতীত অধিকাংশ জেলাতেই বিচারকদের কোনো সমন্বিত বা পর্যাপ্ত সরকারি আবাসন ব্যবস্থা নেই। ফলে অধিকাংশ বিচারককে ভাড়া বাসায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হয়। স্পর্শকাতর মামলা পরিচালনার কারণে ভাড়া বাসায় বসবাস বিচারক ও তাঁদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক স্থানে জেলা জজশীপের আওতায় আবাসন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধমে প্রতিটি জেলা/মহানগরে স্থানভেদে ১০-১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত হবে করা সম্ভব হবে যা বর্তমান সংকট নিরসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বর্ধিত চাহিদাও পূরণ করতে পারবে। এই ধরনের একক ভবনে সিসিটিভি, নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ও সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত সহজ হবে।

এলক্ষ্যে, ৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে জেলা ও দায়রা জজগণকে তার আওতাধীন আদালত প্রাঙ্গণে বা পুরাতন কোর্ট/মুন্সেফ কোর্ট প্রাঙ্গণে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে তার বর্ণনা ও স্থানিক নক্সা প্রেরণ এবং জায়গা না থাকলে জেলা জজ আদালত ভবনের এক কিলোমিটার পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করার মতো জায়গার ধারণা প্রদানের জন্য এই অফিস আদেশে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ (০২.০৯.২০২৬)

২ সেপ, ২০২৬

বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবীকে হেনস্তা, ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ

বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবীকে হেনস্তা, ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
‎ঢাকার বিচারিক আদালতে মামলার শুনানির সময় বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবী এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে হেনস্তা, অশালীন আচরণ, হুমকি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক এডভোকেট খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই আইনজীবী।


‎অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ২৪ মিনিটে সিএমএম আদালত-১৯-এর এজলাসে একটি মামলার শুনানি করছিলেন এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ করা হয়, শুনানি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন এবং শুনানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় নারী আইনজীবীকে উদ্দেশ করে রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয় এবং তাকে আদালতে প্র্যাকটিস করতে না দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে তিনি পেশাগতভাবে অপদস্থ ও মানসিকভাবে বিব্রত বোধ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

‎সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদার অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ আদালতকক্ষে বিচারকের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে আইন পেশা পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

‎অভিযোগে ঘটনাটির পেছনে একটি মামলার আইনজীবী পরিবর্তনের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মামলার আসামি খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব আগে এডভোকেট খোরশেদ আলমের মক্কেল ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

‎অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে এডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের’ মামলায় আইনজীবী হিসেবে অংশ না নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ওই মামলায় এমন ব্যক্তিদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের কয়েকজন আদালতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযোগকারী আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

‎খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। খোরশেদ আলম তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করলেও অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে দলটির মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

‎অভিযোগকারী আইনজীবী সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা ব্যবহার করে তাকে পেশাগতভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, আদালতের মতো জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

‎এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে ‘অপেশাদার আচরণ’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ চার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ওই ঘটনায় পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


‎বিডিএলপিবি/এমএম
‎সূত্র: যায়যায়দিন (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটদের আমলী আদালতের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সেমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যালয় থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেওয়ানি ও বিচারিক কাজের সুবিধার্থে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ১৭(২) ধারার ক্ষমতাবলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদালতের আওতাধীন সকল থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ নিম্নোক্তভাবে পুনর্বণ্টন করা হলো। তবে বিমানবন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানা এর আওতার বাইরে থাকবে।

আদেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন নিম্নরূপ:

১. মো. মহিউদ্দিন ইসলাম, অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০১ ও ০৯-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আমলী আদালতের অধিক্ষেত্র কোতোয়ালী ও খুলশী থানা।
২. মো. আবু বকর সিদ্দিক, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৩ ও ০৫ এবং দ্রুত বিচার-০১-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ থানা।
৩. মুহাম্মদ তুষার মজুমদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ২য় আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০২ ও ১৬ এবং দ্রুত বিচার-০২-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বন্দরনগরী ও সদরঘাট থানা এবং ‘মোটরযান আইন-১৯৮৩ (সংশোধিত-১৯৮৮)’ অনুযায়ী মামলাসমূহ।
৪. মো. আনোয়ারুল হোসেন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৩য় আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৪ ও ১৩ এবং দ্রুত বিচার-০৩-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র পাঁচলাইশ ও বাকলিয়া থানা।
৫. মোহাম্মদ মোস্তফা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৭ ও ১০-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বন্দর, চকবাজার ও হালিশহর থানা এবং নির্দিষ্ট ধারায় দায়ের হওয়া মামলাসমূহ।
৬. ফারহানা সাবের, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ম আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৬ ও ১১-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র কর্ণফুলী ও পতেঙ্গা থানা।
৭. এস. এম. ওয়াসিফুল মাহমুদ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৬ষ্ঠ আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৮, ১২ ও ১৪-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলী থানা।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’, ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২’, বিস্ফোরক আইনের মামলা এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর আওতাধীন মামলাসমূহও সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতের দায়িত্বে থাকবে। এ আদেশ আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সংশোধন বা পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১ সেপ, ২০২৬

বিচারকের খাস কামরায় ডেকে পুলিশের এসআইকে মারধরের অভিযোগ

বিচারকের খাস কামরায় ডেকে পুলিশের এসআইকে মারধরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারকের খাস কামরায় ডেকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মোহাম্মদ আলী।

ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই মোহাম্মদ আলী। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘটনার বিবরণ: অভিযোগে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা জানান গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলী রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালনকালে এএসআই (নিরস্ত্র) মৌসুমী আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন।  এ সময় সাকিব আল হাসান (২৯) ব্যাগ তল্লাশি না করানো নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের তল্লাশি করার কোনো অধিকার নেই বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি করা হয়। 

তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় সাকিব ‘কোর্ট হলে দেখে নিতেন’ বলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। পরে ঢাকা রেলওয়ে থানার সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোহাম্মদ আলী। পরে তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচারকের খাস কামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে তাদের বাইরে রেখে তাকে একাই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, খাস কামরায় আগে থেকেই বিচারকের কর্মচারী সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ভেতরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তি পেছন থেকে তাকে সজোরে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন। এ সময় বিচারকের দিকে তাকিয়ে ‘স্যার, এটা কী হচ্ছে?’ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলেন, ‘বুঝছস, আমরা কারা?’

পুরো ঘটনাটি খাস কামরায় থাকা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও তার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

যা বলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা: এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।’

তিনি বলেন, ‘আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?’

মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘পরে আমাকে হাত ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয়। এরপর আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি।’ ঘটনার পর তিনি মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে ওই হামলাকারীকে আদালতের উমেদার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার নাম জানা যায়নি। তবে তাকে দেখলে শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এসআই মোহাম্মদ আলী।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (০১.০৯.২০২৬)

বিজেএস পরীক্ষায় বয়সসীমা বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আবেদন

বিজেএস পরীক্ষায় বয়সসীমা বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আবেদন

ছবি: কোলাজ
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বাড়িয়ে ৩৪ বছর করাসহ তিন দফা দাবিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। আবেদনে আরও ১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় বয়স গণনার তারিখ পরিবর্তন এবং ভাইভায় অকৃতকার্য প্রার্থীদের নন-ক্যাডার নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও আইনমন্ত্রী বরাবর পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন এই তিন দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

চিঠিতে উল্লিখিত ৩টি প্রধান দাবি হলো:

বিজেএস পরীক্ষায় বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ: করোনার কারণে নিয়মিত সার্কুলার না হওয়ায় এবং অন্যান্য সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানো হলেও বিজেএসে শিথিল না করায় অনেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই সর্বোচ্চ বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৩৪ বছর করার আবেদন জানানো হয়।

১৯তম বিজেএসে সুযোগ প্রদান: চলমান ১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় বয়স গণনার ক্ষেত্রে ০১/০১/২০২৫ খ্রি. তারিখে সর্বোচ্চ ৩২ বছর বিবেচনা করে পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

নন-ক্যাডার নিয়োগের বিধান: বিসিএসের আদলে বিজেএস পরীক্ষার ভাইভায় অকৃতকার্য প্রার্থীদের আইন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থায় নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য বিশেষ বিধিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: উল্লিখিত পত্র

৩১ আগ, ২০২৬

চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতে অবৈধ আর্থিক লেনদেন বন্ধে বিজ্ঞপ্তি আইনজীবী সমিতির

চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতে অবৈধ আর্থিক লেনদেন বন্ধে বিজ্ঞপ্তি আইনজীবী সমিতির

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) ও এর অধীনস্থ আদালতে মামলার বিভিন্ন কার্যক্রমে অবৈধ আর্থিক লেনদেন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

৩০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভার প্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে আইনজীবী সমিতি কর্তৃক। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মইনুদ্দীন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে  আইনজীবী ও ক্লার্কদের বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে নিম্নোক্ত ৪টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়:
১. মামলায় হাজিরা ও সময়ের দরখাস্ত প্রদান, বেইল বন্ড দাখিল, সমন ও ওয়ারেন্ট ইস্যু, এফিডেভিট করা ইত্যাদি কাজের সময় কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য সমিতির বিজ্ঞ সদস্যগণ ও ক্লার্কগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। যদি কোন ব্যক্তি উক্ত কাজসমূহ সম্পাদনে টাকা দাবী করেন তাৎক্ষণিক ভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সমিতিকে অবহিত করবেন।

২. নকলের ক্ষেত্রে সরকারী খরচের অতিরিক্ত কোন টাকা প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হল। কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবী করলে সংশ্লিষ্ট আদালতের নকলের ইনচার্জ/ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন।

৩. জিআরও সেকশেনে কোন টাকা দাবী করলে তাৎক্ষণিক ভাবে কোর্ট ইন্সপেক্টরকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

৪. কোন বিজ্ঞ সদস্য বা ক্লার্ক উপরোক্ত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন করলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালত উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেক্ষেত্রে সমিতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সহযোগিতা প্রদান থেকে বিরত থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৩০ আগ, ২০২৬

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি শপথ নিয়েছেন। আজ রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়েগ: সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ নিয়োগ তার শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি'র পরিচিতি: বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স (এমএসএস) এবং আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৯ সালের ৩ এপ্রিল জেলা আদালত এবং ১৯৯২ সালের ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে উন্নীত হন এবং ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল একই বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি তার দীর্ঘ বিচারিক জীবনে ওয়ার্ল্ড পিস ফোরাম আয়োজিত আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সফরে তিনি কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, হংকং ও ভারত ভ্রমণ করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (৩০.০৮.২০২৬)

রংপুরে ৪ খুন: আসামিদের আইনগত সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা রংপুর আইনজীবী সমিতির

রংপুরে ৪ খুন: আসামিদের আইনগত সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা রংপুর আইনজীবী সমিতির

ছবি: সংগৃহীত 
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুর আইনজীবী সমিতি। 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনে চার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ড একটি নিকৃষ্টতম ঘটনা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা কয়েকজন সরকারি আইনজীবীসহ রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছি। আমরা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বলতে চাই, আপনাদের পাশেই রয়েছি। আইনগত সব ধরনের সহায়তা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আটক দুইজন ইতোমধ্যে ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকগণের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি।

রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকমের গুজব ও গল্প সাজিয়ে প্রচার করছেন। কেউ কেউ এটাকে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না।

এসময় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, রংপুর আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, জামায়াতের আইনজীবী এডভোকেট কাওছার আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লখ্য, গত সপ্তাহে রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক জনপ্রিয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), কনিষ্ঠ কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৫) এবং ছোট ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) নিজ বাসভবনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ২২ আগস্ট রাতে পুলিশ খবর পেয়ে ওই বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরপিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ দল মাছুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলামের আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে ওই দুজন। সবশেষ জনগুরুত্বপূর্ণ এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব কোতোয়ালি থানা থেকে আরপিএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: রংপুর আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলন

২৯ আগ, ২০২৬

এআই দিয়ে আর যাই করেন, বিচারের রায় লিখতে পারবেন না, এটা অনুচিত: প্রধান বিচারপতি

এআই দিয়ে আর যাই করেন, বিচারের রায় লিখতে পারবেন না, এটা অনুচিত: প্রধান বিচারপতি

ফাইল ছবি
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে কোনোভাবেই আদালতের রায় লেখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। জানান, মামলার বিষয়, আইন ও ধারা, তথ্য-উপাত্ত এবং বিচারকের বিবেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। সেজন্য বিচারিক সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে বলে।

আজ (শনিবার, ২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, ‘এআই কোথায় এবং কতটুকু ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে একটি কার্যকর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। মানুষের জীবন সহজ করা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই এআই ব্যবহার করতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এআই ব্যবহারে অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া এআইয়ের তথ্য ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।

এআইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষের বেঁচে থাকা ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যাবে না।’


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মিডিয়ায় প্দত্ত প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

২৮ আগ, ২০২৬

আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কোলাজ ছবি
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সোহেল রানা ও ট্রাইব্যুনালের গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ ঘটনায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আল-ইমরান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, বিচারক ও গাড়িচালকের মধ্যকার ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনআস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে ঘটনার সত্যতা, কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠে। তবে আদালত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দেন। রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের খাসকামরায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর ভাষ্যমতে, সকালে বিচারকের পিয়ন তাঁকে খাসকামরায় ডেকে পাঠান। ডিউটি লগবইয়ে সকাল ৭টা উপস্থিতি লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন বিচারক। চালক বাচ্চু ৮টায় বিচারকের সফর শুরুর আগে গাড়ি পরিষ্কারের যুক্তিতে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ করলে বিচারক সোহেল রানা হঠাৎই তাঁর চোখের ওপর সজোরে ঘুষি মারেন এবং কান বরাবর থাপ্পড় দেন।

বাচ্চু আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১ বছর ১০ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিচারক তাঁর বদলে গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালান এবং সরকারি গাড়ি বরাদ্দের মাসে ১৮০ লিটার তেলের বদলে ৫০-৬০ লিটার ব্যবহার করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করা এবং অনৈতিক কার্যক্রম দেখে ফেলার কারণেই বিচারক তাঁর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ হামলা চালিয়েছেন।

ঘটনার পর অন্যান্য চালকদের সহায়তায় অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চুকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর এক চোখে ব্যান্ডেজসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোনো অন্যায় থাকলে বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী চালক এ ঘটনার আইনি পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিচারক সোহেল রানা জানান, পেশাগত দায়িত্ব ও ওভারটাইমের হিসেব নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে চালক বাচ্চু উদ্ধত আচরণ ও অসৌজন্যমূলকভাবে তাকায়। রাগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তিনি চালককে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। চালককে কোনো প্রকার আঘাত বা ঘুষি মারা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “সে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাটক সাজাচ্ছে।”

ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কিছুদিন ধরে গাড়ি পরিষ্কার না করা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। চালক পরিষ্কার করতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিচারক কেবল তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২৭.০৮.২০২৬)

২৭ আগ, ২০২৬

আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগে মামলা

আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগে মামলা

কোলাজ ছবি
ঢাকা বারের আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার গ্রহণ করতে কোতায়ালী থানাকে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মেট্রোপিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই আদেশ দেন।

ভুক্তভোগী আইনজীবী মো: মোহাইমিনুল ইসলাম খান(মেহেদী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এদিন আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হলে বিচারক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতায়ালী থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

আইনজীবী মোহাইমিনুল বলেন, মামলায় আসামিরা হলেন-উম্মে হাফসা তন্বী, হুমায়ুন কবির, আশরাফুল আলম খান, মাহবুব আলম খান, শাহাদাত হোসেন, জিদান হাং, মো: মোহিবুল্লাহ, রায়হান, খালেদ সাইফুল্লা নাঈম, আরমান হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন। 

মামলার ঘটনা: মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে বাদী ও আসামি পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের পর আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তার আইনজীবী আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বাদীর বাবা হুমায়ুন কবির ও মামা মো. আশরাফুল আলম খানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন বহিরাগত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী হারুন অর রশিদ বলেন, আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বহিরাগতরা আসামি ও তার আইনজীবীকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় আইনজীবীর পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও আইনজীবীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীদের কয়েকজন পালিয়ে যান। এ সময় কয়েকজনকে আইনজীবীরা আটক করে আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান। পরে মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হামলায় আহত আইনজীবী মোহাইমিনুল ইসলাম খান ও আসামি আবির ইবনে হারুনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার

আপিল বিভাগে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

আপিল বিভাগে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগ তার শপথ গ্রহণের তারিখ হতে কার্যকর হবে।

বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি'র পরিচিতি: বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স (এমএসএস) এবং আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৯ সালের ৩ এপ্রিল জেলা আদালত এবং ১৯৯২ সালের ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।পরবর্তীতে তিনি ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে উন্নীত হন এবং ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল একই বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি তার দীর্ঘ বিচারিক জীবনে ওয়ার্ল্ড পিস ফোরাম আয়োজিত আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সফরে তিনি কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, হংকং ও ভারত ভ্রমণ করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

২৬ আগ, ২০২৬

এজলাস থেকে নথি চুরি, কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে লেখা হতো ভুয়া রায়

এজলাস থেকে নথি চুরি, কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে লেখা হতো ভুয়া রায়

ছবি: সংগৃহীত 
প্রথমে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে চুরি হয়েছিল একটি অস্ত্র মামলার নথি। পরে একই কায়দায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৮ আদালত থেকে আরেকটি মাদক মামলার নথি চুরি হয়। দুটি চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, নথি চুরির নেপথ্যে রয়েছেন নিজেকে আইনজীবীর সহকারী পরিচয় দেওয়া একই ব্যক্তি—আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে নিম্ন আদালতপাড়ায় জাল কাগজপত্র তৈরির তথ্য।

আদালতপাড়ার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন মামলার ভুয়া খালাসের রায় ও আদেশের কপি। পুলিশের ধারণা, আদালতের নথি চুরি করে সেগুলোর আদলে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হতো জাল কাগজপত্র ও ভুয়া রায়ের কপি।জালিয়াতির বিষয়টি ঢাকতে এবং মামলা সত্যিই খালাস হয়েছে, তা প্রমাণ করতে রাসেল আদালত থেকে মামলার মূল নথিটিই চুরি করার পরিকল্পনা করেন।

আদালতের এজলাস থেকে নথি গায়েবের ঘটনায় আনোয়ারুল হক ছাড়াও তাঁর সহযোগী কম্পিউটার অপারেটর আহসান হাবীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নথি চুরি হওয়া অস্ত্র মামলার আসামি তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বীর স্ত্রী জামিলা আক্তার ওরফে অর্পাকে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও জাল সিল উদ্ধারে পুলিশের তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর খিলগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বী চার-পাঁচ বছর ধরে পলাতক। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে তানভীরের মামা রবিউল হক ভাটারা থানার একটি মাদক মামলার আসামি। তিনিও পলাতক। নিজেকে আইনজীবীর সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আনোয়ারুল দুই আসামির মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে অর্পা'র কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার চুক্তি করেন।

এদিকে সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আসামি অর্পার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এদিন একই মামলায় কম্পিউটার অপারেটর আহসান হাবীব নামের আরেক আসামিকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ঐ মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিজেকে আইনজীবীর মুহুরি পরিচয় দিয়ে খিলগাঁও থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলার নথি দেখতে চান। আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান তাকে ওই নথি দেখতে দেন। পরে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিচারক নাজমুলকে পাশের খাস কামরায় ডেকে পাঠান। তিনি সেখানে যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ মিনিট পরে ফিরে এসে ওই ব্যক্তিকে আর দেখতে পাননি। একই সঙ্গে নথিটিও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওই দিনই আদালতের বেঞ্চ সহকারী খায়রুল আলম কোতোয়ালি থানায় নথি চুরির অভিযোগে মামলা করেন। এরপর অর্পার বাসায় অভিযান চালিয়ে নথি উদ্ধার করে পুলিশ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো (২৬.০৮.২০২৬)

যৌতুক মামলায় আদালতের সামনেই আইনজীবী ও আসামিকে মারধর করলেন বাদী পক্ষ

যৌতুক মামলায় আদালতের সামনেই আইনজীবী ও আসামিকে মারধর করলেন বাদী পক্ষ

ছবি: সংগৃহীত 
যৌতুক মামলায় অভিযোগ গঠনের পর ঢাকার সিএমএম আদালতের সামনে মামলার আসামি আবির ইবনে হারুন ও তার আইনজীবী মোহাইমিনুল ইসলাম খানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে।

ঘটনা পরিক্রমা: মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে বাদী ও আসামি পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের পর আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তার আইনজীবী আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বাদীর বাবা হুমায়ুন কবির ও মামা মো. আশরাফুল আলম খানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন বহিরাগত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী হারুন অর রশিদ বলেন, আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বহিরাগতরা আসামি ও তার আইনজীবীকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় আইনজীবীর পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও আইনজীবীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীদের কয়েকজন পালিয়ে যান। এ সময় কয়েকজনকে আইনজীবীরা আটক করে আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান। পরে মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হামলায় আহত আইনজীবী মোহাইমিনুল ইসলাম খান ও আসামি আবির ইবনে হারুনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ: মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাদীর কাছে আসামি ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা না দিলে বাদীকে বাসায় নিয়ে যাবেন না বলেও আসামি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন বাদী। মামলাটি যৌতুক নিরোধ আইনে করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: এনটিভি (২৫.০৮.২০২৬)

২৫ আগ, ২০২৬

৩৬ বছর পর বরগুনা থেকে আমতলীতে স্থানান্তর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

৩৬ বছর পর বরগুনা থেকে আমতলীতে স্থানান্তর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
৩৬ বছর পরে আমতলী-তালতলী উপজেলার মানুষ সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ফিরে পেয়েছেন। এর মাধ্যমে আমতলী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৪ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ১৪ ধারার ১ উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বরগুনা জেলা সদরে অবস্থিত আমতলী উপজেলার অধিক্ষেত্র প্রয়োগকারী সিনিয়র সিভিল জজ আদালতটি জেলা সদর থেকে আমতলী উপজেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লখ্য, আদালতটি আমতলীতে স্থানান্তরের দাবিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির দেওয়া ডিও লেটারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ছাড়া আমতলী উপজেলার কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গাজী তৌহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ ও সহযোগিতা ছিল বলে বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লখ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন (২৪.০৮.২০২৬)

২৪ আগ, ২০২৬

কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বিচারকরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বিচারকরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা ডিজিটাল বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বলে পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখার রেজিস্টার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে (অতঃপর সার্ভিস হিসেবে উল্লিখিত) কর্মরত সদস্যগণের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের সুদৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সার্ভিসের সদস্যগণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

নির্দেশনাসমূহের মধ্যে, সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাঁর নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না কিংবা এমন ধরনের ব্যবহার অনুমোদন করতে পারবেন না।

এতে আরও বলা হয়েছে, সার্ভিসের কোনো সদস্য বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাফতরিক তথ্য সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহার করতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিংয়ের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদন, প্রকাশ বা সরবরাহ করতে পারবেন না।

এ পরিপত্রের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরিপত্রটি নিচে দেওয়া হল:


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

২৩ আগ, ২০২৬

বিচারকের বিরুদ্ধে খাসকামরায় ডেকে চালককে মারধরের অভিযোগ

বিচারকের বিরুদ্ধে খাসকামরায় ডেকে চালককে মারধরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে আদালত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের খাসকামরায় এ অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর ভাষ্যমতে, সকালে বিচারকের পিয়ন তাঁকে খাসকামরায় ডেকে পাঠান। ডিউটি লগবইয়ে সকাল ৭টা উপস্থিতি লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন বিচারক। চালক বাচ্চু ৮টায় বিচারকের সফর শুরুর আগে গাড়ি পরিষ্কারের যুক্তিতে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ করলে বিচারক সোহেল রানা হঠাৎই তাঁর চোখের ওপর সজোরে ঘুষি মারেন এবং কান বরাবর থাপ্পড় দেন।

বাচ্চু আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১ বছর ১০ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিচারক তাঁর বদলে গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালান এবং সরকারি গাড়ি বরাদ্দের মাসে ১৮০ লিটার তেলের বদলে ৫০-৬০ লিটার ব্যবহার করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করা এবং অনৈতিক কার্যক্রম দেখে ফেলার কারণেই বিচারক তাঁর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ হামলা চালিয়েছেন।

ঘটনার পর অন্যান্য চালকদের সহায়তায় অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চুকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর এক চোখে ব্যান্ডেজসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোনো অন্যায় থাকলে বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী চালক এ ঘটনার আইনি পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিচারক সোহেল রানা জানান, পেশাগত দায়িত্ব ও ওভারটাইমের হিসেব নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে চালক বাচ্চু উদ্ধত আচরণ ও অসৌজন্যমূলকভাবে তাকায়। রাগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তিনি চালককে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। চালককে কোনো প্রকার আঘাত বা ঘুষি মারা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “সে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাটক সাজাচ্ছে।”

ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কিছুদিন ধরে গাড়ি পরিষ্কার না করা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। চালক পরিষ্কার করতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিচারক কেবল তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: স্টার নিউজ টিভি