৬ জুল, ২০২৬

ওয়ার্কশপে হাত হারানোর ৬ বছর পর ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা বুঝে পেলো নাহিদ

ওয়ার্কশপে হাত হারানোর ৬ বছর পর ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা বুঝে পেলো নাহিদ

ছবি: সংগৃহীত 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ১০ বছর বয়সী শিশু নাহিদের হাত হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাকি ১৫ লাখ টাকাও বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাজী ইয়াকুব। বর্তমানে নাহিদের বয়স ১৬ বছর।

সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে মোট ৩০ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে নাহিদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।

পরে ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ৬ বছরের আইনি লড়াই আজ সফল হলো। আদালতের রায়ে মোট ৩০ লাখ টাকা পেলো কিশোর নাহিদ। আজ আরও ১৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলো নাহিদ। এছাড়া পড়ালেখার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে পাবে নাহিদ।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের আদেশের পরও নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় কারখানার মালিক হাজী ইয়াকুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

একই বছরের ১২ জানুয়ারি হাত হারানো নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট করে দিতে বলা হয়। ১০ বছর পর নাঈম হাসান নাহিদ ডিপোজিটের টাকা উত্তোলন করতে পারবে। একইসঙ্গে শিশুটি এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়। ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিককে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। সেদিন আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও অ্যাডভোকেট মো. বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তামজিদ হাসান।

২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর শিশু নাঈম হাসানকে ক্ষতিপূরণ দিতে রুলের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন নাঈম হাসানের বয়স ছিল তখন ১০ বছর। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতা ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় ডান হাতটি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিশুটির বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে শিশুটিকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা নিজ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান করতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

চট্টগ্রাম বারের ৭৪০ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত

চট্টগ্রাম বারের ৭৪০ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 

বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া ফি দীর্ঘদিন পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ৭৪০ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁদের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত (সিজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের ‘লিন’ স্থগিতেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সমিতির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চিটাগং ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের মিউচুয়াল বেনিফিট ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ বিধিমালা, ১৯৯৪’-এর ৬ নম্বর বিধির আলোকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব সদস্য টানা তিন বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সমিতির নির্ধারিত বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া ফি পরিশোধ করেননি, তাঁদের জন্য ২০ শতাংশ জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধের শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে ৭ জুন ২০২৬ এবং ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে পৃথক নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়।

সমিতি জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পর অনেক সদস্য তাঁদের বকেয়া পরিশোধ করে সদস্যপদ নিয়মিত করলেও ৭৪০ জন সদস্য নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি। এ কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ওই ৭৪০ জন সদস্যের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ‘লিন’ও স্থগিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া পরিশোধ না করা সদস্যদের নামে যদি সমিতির কোনো চেম্বার বরাদ্দ থেকে থাকে, তবে বকেয়া না দেওয়ার কারণে সেই চেম্বার বরাদ্দও অবিলম্বে বাতিল করা হবে। তবে যেসব সদস্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বকেয়া পরিশোধ করেছেন কিন্তু তাঁদের নাম প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁদের দ্রুত সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে জমার রসিদ প্রদর্শনের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সমিতির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বকেয়া চাঁদা আদায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সমিতির আর্থিক শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ছাগল কান্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ২১ জুলাই

ছাগল কান্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ২১ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয় আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন বিজ্ঞ আদালত।

রোববার (৬ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি. এম. তারিকুল কবীর আদালতে অভিযোগ বিষয় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে এ বিষয় আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়। মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক।

এতে উল্লেখ করা হয়, মো. মতিউর রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স- বাসস

ড. ইউনূসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে  ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি  করে রিট

ড. ইউনূসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে রিট

ছবিঃ সংগৃহীত

টিকার সংকট ও সরবরাহে গাফিলতির কারণে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয়জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে শিশুটির পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ রিটটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২৬ মে রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে সাত মাস বয়সী শিশু সাফওয়ান ইসলাম জাহিনের মৃত্যু হয়। সে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সহকারী সমিতির সদস্য মো. শাকিলের ছেলে। আবেদনে শিশুটির চিকিৎসায় সংশ্লিষ্টদের অবহেলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ কারণে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে টিকা মজুত ও সরবরাহ-সংক্রান্ত সব নথি আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এতে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটের বিষয়ে আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকার ঘাটতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও টিকাদান কর্মসূচিতে চরম গাফিলতি হয়েছে। উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে শিশুটি মারা যেত না। তদন্তে যারা দায়ী হিসেবে চিহ্নিত হবে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।’


বিডিএলপিবি/এমএম

যাত্রাবাড়ীতে ‌‘উগ্রবাদী সন্দেহে’ আটক ৬ জন রিমান্ডে

যাত্রাবাড়ীতে ‌‘উগ্রবাদী সন্দেহে’ আটক ৬ জন রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ার মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে গ্রেপ্তার ছয়জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রোববার (৫ জুলাই) তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের আবেদনের পর আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিত। রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ার মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের জমির পাশের বালুর মাঠে উগ্রবাদী সংগঠনের কিছু ব্যক্তি প্রশিক্ষণ নিতে জড়ো হয়েছে। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে তারা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সেখানে জড়ো হওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাদের উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে একই নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

‘ফেস দ্য পিপল’র সম্পাদকসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা,   তদন্তে পিবিআই

‘ফেস দ্য পিপল’র সম্পাদকসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

ছবি: সংগৃহীত 

চাঁদাদাবী ও মানহানির অভিযোগে ‘ফেস দ্য পিপল’র সম্পাদক ও প্রকাশক সাইফুর সাগরসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালতে ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষে আবু মো. কামরুজ্জামান এ মামলাটি করেন।

মামলায় অপর আসামি হলেন, ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টার মোহাম্মদ ইউসুফ। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলটি পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিটিআই)কে তদন্তের নির্দেশ দেন। 

বাদী পক্ষের  শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. এমদাদুল হক লাল, অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান ও অ্যাডভোকেট এনামুল হক সানি। বাদী তার মামলায় বলেন, আসামিরা ফেস দ্যা পিপল অনলাইন পোর্টালে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের নিমিত্তে মাস্তুল ফাউন্ডেশনে অফিসে আসেন।

আসামিরা মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশের ২০ হাজার এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা করে দাবি করেন। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আসামিদের মাসিক ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কর্তৃপক্ষ আসামিদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাদেরকে ভয়ভীতিসহ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন করা হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

বাদী আভিযোগে আরও বলেন, গত ২৮ জুন ফেস দ্যা পিপল অনলাইন নিউজ পোর্টালে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সুনাম ক্ষুন্ন করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উক্ত ক্ষতি পুরণ আদায় করা জন্য পরবর্তীতে মামলা করা হবে বলে প্রতিবেদককে বাদী জানান।


বিডিএলপিবি/এমএম

হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূস-শফিকুলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, আদেশ ১২ জুলাই

হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূস-শফিকুলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, আদেশ ১২ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী সাউদা নুসকানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১২ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক।

এর আগে একই দিনে বর্ণিত অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন শিশুটির পিতা সিরাজুল ইসলাম।

রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার এ আবেদন করেন তিনি। মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।’

মামলার আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামের ৯ মাস বয়সী মেয়ে সাউদা নুসকান হামে মারা গেছে। তিনি মামলার আবেদনে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম