৯ জুন, ২০২৬

পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ কপি ৬৯ পৃষ্ঠাসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুূদণ্ডের (ডেথ রেফারেন্স) ৩ পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার অনুমোদনের নথি এসেছে হাইকোর্টে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এ রায় ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।


বিডিএলপিবি/এমএম

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফসহ চার আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক আজ

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফসহ চার আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক আজ

ছবিঃ সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। কুষ্টিয়ায় পৃথক ঘটনায় ছয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ মোট চারজন উচ্চপদস্থ নেতার পক্ষে আজ আদালতে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক বা আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন অত্যন্ত হেভিওয়েট ও শক্তিশালী তিন সদস্যবিশিষ্ট বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তি উপস্থাপন করবে আসামিপক্ষ। সাবেক ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের এই স্পর্শকাতর মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে ঘিরে আইনজীবী, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

এই মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া অভিযুক্ত অন্য তিন প্রভাবশালী আসামি হলেন যথাক্রমে—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সদর উদ্দিন খান, দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই চারজন হেভিওয়েট আসামির প্রত্যেকেই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আইনি প্রক্রিয়ো এড়াতে বর্তমানে সম্পূর্ণ পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ৭ জুন ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালীন আসামি মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে তাদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড চেয়ে নিজেদের পক্ষে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশন। ওইদিন আদালতের এজলাসে প্রসিকিউশনের পক্ষে অত্যন্ত জোরালোভাবে আইনি যুক্তি ও নথিপত্র তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। শুনানি চলাকালে আদালতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ প্রসিকিউশনের দায়িত্বে থাকা অন্য বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেছিল যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় যে সহিংসতা ও প্রাণহানি ঘটেছিল, তার পেছনে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানি এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক নীল নকশা কাজ করেছে।

আদালতের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, অত্যন্ত সংবেদনশীল এ মামলায় আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মূল পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১১ মে। তারও আগে, গত ২৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) দীর্ঘ জেরা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলার মোট ১৯ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জবানবন্দি নেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

গত বছরের ২ নভেম্বর পলাতক এই চার আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা চার্জ গঠনের মাধ্যমে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেছিলেন। এর আগে, গত বছরের ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন বিভাগ। পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল সেই অভিযোগপত্রটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমলে নেয়। পুরো মামলায় এই চার আসামির বিরুদ্ধে মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগের জন্য উসকানিমূলক ও উগ্র বক্তব্য প্রদান, সরকার টিকিয়ে রাখতে গোপনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা এবং কুষ্টিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছয়জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যার হুকুমদাতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

ছবিঃ সংগৃহীত

 সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ যে রায় দিয়েছিলেন, তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য এই পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই আপিল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া পূর্বের রায়টি সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার সকালে দেশের নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি শুনানি পরিচালনা করেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে আপিল বিভাগে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদনটির আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়। গত ২১ মে হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। তারও আগে, গত ৭ এপ্রিল দীর্ঘ ১৮৫ পৃষ্ঠার বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ হাইকোর্টের রায়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

মূলত গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায়টি ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে অধস্তন বা নিম্ন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, যার মধ্যে তাদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান এবং ছুটি মঞ্জুরিসহ সব ধরনের শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকা সংক্রান্ত বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিশেষ বিধানটি অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেছিলেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য বিগত ২০১৭ সালে প্রণয়ন করা জুডিসিয়াল সার্ভিস বা শৃঙ্খলাবিধিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। হাইকোর্টে মূল রিটকারীদের পক্ষে শুরু থেকেই মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালতকে আইনি সহায়তাদানের জন্য অ্যামিকাস কিউরি বা আদালতের বন্ধু হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূইঁয়া।

আর রাষ্ট্রপক্ষে তখন মামলাটি পরিচালনা করেছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের বিতর্কিত ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস শৃঙ্খলা বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক ও স্বায়ত্তশাসিত সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাতজন সচেতন আইনজীবী যৌথভাবে এই জনস্বার্থমূলক রিটটি দায়ের করেছিলেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এই বিষয়ে বিস্তারিত রুল জারি করেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সাধারণত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। তবে রিটকারীদের আইনজীবীদের মূল যুক্তি হলো, এই অনুচ্ছেদের কারণে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কার্যত রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের বা আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে খর্ব ও ব্যাহত করে। প্রসংগত উল্লেখ্য, দেশের আদি অর্থাৎ ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের এই মূল দায়িত্বটি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের ওপরই ন্যস্ত ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্ট থেকে কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১-এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপটি প্রতিস্থাপন করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ জুন, ২০২৬

ড. ইউনুসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এমপি মজিবুরের মামলার আবেদন

ড. ইউনুসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এমপি মজিবুরের মামলার আবেদন

ছবি: এমপি মজিবুর ও ড. ইউনুস 

হাম ও রুবেলার  টিকা সময়মতো আমদানি না করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলা ও টিকার সংকট সৃষ্টি করে জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ আবেদন দাখিল করেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।’

মামলায় আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা উচ্চশিক্ষিত ও নোবেল বিজয়ী হলেও তার দায়িত্বে চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ দেশের শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল। মামলার অন্যান্য আসামিরা তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বে অবহেলা করে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামের ভ্যাকসিন যথাসময়ে আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং তাদের মৌলিক অধিকার হরণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

আলোচিত আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু মারা গেছেন

আলোচিত আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু মারা গেছেন


ছবি: সংগৃহীত 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। সোমবার (৮ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জামিউল হক ফয়সাল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, স্যার ফৌজদারি আইনের ওপর দক্ষ আইনজীবী ছিলেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে সুনামের সাথে মামলা পরিচালনা করে আসছেন। অসংখ্য সুযোগ্য জুনিয়র তৈরি করেছেন। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর পেলাম। আইন অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো।

এর আগে, আদালত অবমাননার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবীর দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন অ্যাডভোকেট আমিনুল গনি টিটু। এরপর তার জায়গায় মো. আমির হোসেনকে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালের ২৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় আমিনুল গনি দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

৭ জুন, ২০২৬

সাংবাদিক শাকিল-ফারজানার ১০ মামলায় জামিন স্থগিত

সাংবাদিক শাকিল-ফারজানার ১০ মামলায় জামিন স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 

সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আজ রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ওই জামিন স্থগিত করেন।

এর আগে গত ১১ মে শাকিল আহমেদকে ৫ মামলায় এবং তাঁর স্ত্রী ফারজানা রুপাকে ৬ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সাংবাদিক দম্পতির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও থানায় সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে ৬টি এবং ফারজানা রুপাকে ৭টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে একটি হত্যার চেষ্টা। বাকিগুলো হত্যা মামলা।

এ আইনজীবী আরও বলেন, হাইকোর্ট শাকিল আহমেদকে ৫ মামলা ও ফারজানা রুপাকে ৬ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। আর একটিতে রুল জারি করেছিলেন। সেটাতে দুজনই আসামি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ফারজানা রুপার ৬ মামলার মধ্যে ৫টির জামিন স্থগিত চেয়েছিল।



বিডিএলপিবি/এমএম

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত আপিল নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত আপিল নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন


ছবি: সংগৃহীত 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের প্রস্তাবের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অনেক আলোচিত মামলার রায় হলেও দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার কারণে সেগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকর হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। ফলে বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তবে হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া এ রায় কার্যকর হবে না। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি নিশ্চিত করতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় আগামী রোববার থেকেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর শুনানির জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ বেঞ্চ কার্যক্রম শুরু করবে। এই বেঞ্চে শিশু রামিসা হত্যা মামলা, আছিয়া ও রসু খাঁসহ আলোচিত মামলাগুলোর আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের এসব মামলায় কোনো ধরনের মুলতবি না চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিলম্ব ছাড়াই ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করেন, বিচার বিভাগের এই উদ্যোগ আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিচারিক ছুটির মধ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রশংসা করেন।

এ সময় রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম