২৫ মে, ২০২৬

হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠিত

হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠিত

ছবি: সংগৃহীত 

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। অবকাশকালীন ৭টি বেঞ্চ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। বেঞ্চ গঠনসংক্রান্ত প্রধান বিচারপতির সই করা আদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩৫ নম্বর গঠনবিধির ক্ষমতাবলে গত বুধবার (২০ মে) প্রধান বিচারপতির সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই বেঞ্চ গঠনের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা, সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ আদালতের অবকাশে ২২ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

আগামীকাল রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৪ জুন পর্যন্ত এই অবকাশকালীন বেঞ্চসমূহ সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার ও অধিক্ষেত্র অনুযায়ী অতীব জরুরি দেওয়ানি, ফৌজদারি, রিট এবং আদিম অধিক্ষেত্রের মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি করবেন। বেঞ্চসমূহ হলো-
১. বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দেওয়ানি আপিল ও রিভিশন মোশন বেঞ্চ (ডিভিশন বেঞ্চ)।
২. বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট মোশন, ট্যাক্স ও আদালত অবমাননা বেঞ্চ (ডিভিশন বেঞ্চ)।
৩. বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ফৌজদারি মোশন ও আপিল বেঞ্চ-১ (ডিভিশন বেঞ্চ)।
৪. বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান এবং বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট মোশন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত বেঞ্চ-২ (ডিভিশন বেঞ্চ)।
৫. বিচারপতি মো. আলী রেজার একক বেঞ্চ হবে দেওয়ানি একক বেঞ্চ (অনূর্ধ্ব ৬ কোটি টাকা)।
৬. বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর বেঞ্চ ফৌজদারি একক বেঞ্চ (দুদক ও মানি লন্ডারিং ব্যতীত)।
৭. বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের বেঞ্চ আদিম অধিক্ষেত্র, কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বেঞ্চ (একক বেঞ্চ)।


বিডিএলপিবি/এমএম

অবকাশকালে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত পরিচালনায় মনোনীত ২ জন বিচারপতি

অবকাশকালে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত পরিচালনায় মনোনীত ২ জন বিচারপতি

ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন আপিল বিভাগের মামলা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়াদি নিষ্পত্তির জন্য দুজন বিচারপতিকে ‘ভ্যাকেশন জাজ’ হিসেবে মনোনীত করেছেন প্রধান বিচারপতি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) আপিল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হাসান মো. আরিফুর রহমানের সই করা ৩২/২০২৬ এসসি (এডি) নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত কোর্টের চলমান অবকাশকালে, সাপ্তাহিক ও ঘোষিত সরকারি ছুটিতে আপিল বিভাগের জরুরি বিষয়াদি নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এবং বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক চেম্বার কোর্টে শুনানির দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আপিল বিভাগের জরুরি মামলার আইনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং জনস্বার্থে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

৭২ বিচারককে ‘ভ্যাকেশন জজ’ হিসেবে নিয়োগ দিলো সরকার

৭২ বিচারককে ‘ভ্যাকেশন জজ’ হিসেবে নিয়োগ দিলো সরকার


ছবি: সংগৃহীত 

অবকাশকালীন ছুটিতে জরুরি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা গ্রহণ, শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য সারাদেশে ৭২ জন বিচারককে ‘ভ্যাকেশন জজ’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার (২৪ মে) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব (প্রশাসন-১) এ এফ এম গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ও পরামর্শ অনুযায়ী অবকাশকালীন সময়ে জরুরি মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ভ্যাকেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলার (মহানগর এলাকা ছাড়া) জন্য জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকা, ঢাকার ১০টি বিশেষ জজ আদালত, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব পালন করবেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।

এছাড়া, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার জন্য মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, খুলনা মহানগর এলাকার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ খুলনার বিচারক মো. আসাদুল্লাহ, রাজশাহী মহানগর এলাকার জন্য পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. জুলফিকার উল্লাহ এবং রংপুর মহানগর এলাকার জন্য মহানগর দায়রা জজ মো. মশিউর রহমান খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ভ্যাকেশন জজরা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে জরুরি ফৌজদারি মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ অনুযায়ী জরুরি দেওয়ানি মামলা গ্রহণ ও শুনানির ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হয়েছে। শিশু আইন, ২০১৩ এর আওতায় গঠিত শিশু আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও তাদের থাকবে।

অবকাশকালীন সময়ে ভ্যাকেশন ডিউটিতে থাকা বিচারকেরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তারা ১৫ দিনের অবকাশকালীন ভাতাও পাবেন। নিজ কর্মস্থলের বাইরে দায়িত্ব পালন করলে বিধি অনুযায়ী টিএ/ডিএও প্রাপ্য হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ মে, ২০২৬

ঈদের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের ২ মামলার রায় হতে পারে

ঈদের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের ২ মামলার রায় হতে পারে


ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় ঈদুল আজহার পর তথা আগামী জুন মাসে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।রোববার (২৪ মে) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২২টি মামলার বিচার চলমান রয়েছে। রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে দুটি মামলা। আশা করি ঈদের পরই এ দুই মামলার রায় হয়ে যাবে। আর ৩১টি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা গুম-খুন এবং ক্রসফায়ারের মামলার তদন্ত হাতে নিয়েছি। এরই মধ্যে এসব কাজ শুরু হয়েছে।’ 

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নরসিংদী, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, রাজশাহীসহ দেশের যেসব স্থানে সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেসব মামলার তদন্তে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রসিকিউশন টিমকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ তদন্তের ব্যবস্থা করেছি। আশা করি খুব দ্রুতই প্রতিবেদন দিয়ে আমরা এসব বিচারের পর্যায়ে নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলা এবং রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় যে কোনো দিন হবে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ একটি এবং আরেকটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি)।


বিডিএলপিবি/এমএম

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রীর মামলা বিচারের জন্য বদলি

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রীর মামলা বিচারের জন্য বদলি

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সি স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের মামলায় সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালে বদলি করেছেন। 

রোববার (২৪ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এ আদেশ দেন। বদলি হওয়ার পর আজকেই এ মামলার চার্জ গঠন শুনানি হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান প্রসিকিউশন বিভাগে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল কালাম আজাদ।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান বলেছেন,সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মাথাবিহীন দেহ ও পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের একদিন পর নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রতিবেশী সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। 

প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) অভিযুক্ত সোহেল রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

গুমের মামলায় বেনজীরের ‘ক্যাশিয়ার’ গ্রেপ্তার, প্রতিবেদন ২৩ জুলাই

গুমের মামলায় বেনজীরের ‘ক্যাশিয়ার’ গ্রেপ্তার, প্রতিবেদন ২৩ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত নিলয় জোয়ার্দারকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে এ আদেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ সময় বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, জেআইসিতে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এই মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন রয়েছে।

প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুমের মামলায় রিফাত নিলয়কে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাওয়া হয়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।এদিন সকালে কারাগার থেকে রিফাত নিলয়কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১৯ মে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চায় প্রসিকিউশন।প্রসিকিউশন জানায়, রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্রশ্রয়ে বলপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী মো. মশিউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে ডিজিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় আটক রাখা হয়। এ সময়ে গুম করা ব্যক্তিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। যার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পদ্ধতিগতভাবে হওয়া গুম-খুনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এজন্য তাকে গুমের মামলায় গ্রেফতার দেখাতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়।রিফাত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। ধানমন্ডি থানায় হওয়া অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।জানা গেছে, সাবেক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দখলে থাকা ঢাকা শহরের একাধিক ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রিফাত নিলয়। এসব ফ্ল্যাট থেকে প্রতি মাসে ভাড়ার টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে সেই অর্থ বেনজীরের পৌঁছে দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত সাবেক এই আইজিপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসভাজন ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে পুলিশের চার্জশিট

রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে পুলিশের চার্জশিট

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যায় সহোযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনায় পরের দিন বুধবার ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ওইদিনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।


বিডিএলপিবি/এমএম