মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১ জুল, ২০২৬

রিমান্ড শেষে সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে কারাগারে প্রেরনের আদেশ

রিমান্ড শেষে সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে কারাগারে প্রেরনের আদেশ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরের দিন ২৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অবৈধ মিছিল বের করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার দিনই তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলা দায়ের করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি জেবুন্নেসাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি জেবুন্নেসাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ভাটারা থানায় রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বরিশাল-৫ আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

গত ২৮ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক রিফাত আল আফসানী আসামিকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে উস্কানীমূলক কথাবার্তাসহ অর্থদাতা ও হুকুমদাতা হিসেবে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামি এই মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে বলেও তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। এ অবস্থায় এই মামলায় আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল-হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক থেকে মামলা তদন্তে ব্যঘাত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সন্দিগ্ধ আসামি মো. আজিজুল ইসলামসহ মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা এবং অজ্ঞাত অসংখ্যক আসামি পরস্পর যোগসাজশে উস্কানীমূলক বক্তব্য এবং নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিহত ও দেখামাত্র সরাসরি গুলি করার ঘোষণা দেয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় ভাটারা থানার যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে যমুনা টিভি গেটের সামনে আসামি জেবুন্নেসা আফরোজসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে উস্কানীমূলক কথাবার্তাসহ অর্থদাতা ও হুকুম দেন। ওই ঘটনায় একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

৩০ জুন, ২০২৬

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

ছবিঃ সংগৃহীত 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। এদিকে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম। এর আগে ২৮ জুন তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। আর ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।

গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।

মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন- সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। তবে সোমবার ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ মামলায় হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৯ জুন, ২০২৬

সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা ফের তিন দিনের রিমান্ডে

সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা ফের তিন দিনের রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় করা ওই মামলায় এদিন আশিকা সুলতানাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন হোসাইন। এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর ১১ এলাকা থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ জুন মিরপুর ১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় সদস্য সরকারবিরোধী মিছিল করেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা ব্যানার ফেলে পালিয়ে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই মিছিল করা হয়েছিল।

ঘটনার দিনই মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, আশিকা সুলতানা ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং তিনি আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতা। মিছিলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানকারীদের পরিচয় জানতে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।


বিডিএলপিবি/এমএম

ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলা: পিছিয়েছে টিউলিপ ও রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলা: পিছিয়েছে টিউলিপ ও রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে দিয়েছেন আদালত। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম।

তিনি জানান, আজ মামলাটিতে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে জামিনে থাকা আসামি সরদার মোশাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত শুনানি মুলতবি করে নতুন দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এলাকার একটি ফ্ল্যাট দখল করে পরে তা রেজিস্ট্রি করান।

মামলাটি প্রথমে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর দুদক টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় চার্জশিট দাখিল করে।

এর আগে মামলার আরেক আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ পান, যা পরবর্তীতে চেম্বার আদালতেও আলোচনায় আসে।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৮ জুন, ২০২৬

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ বার পেছাল, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১৫ জুলাই

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ বার পেছাল, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১৫ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে ১৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন।

আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) অভিযোগ সংযোজনের আদেশ দেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে একাধিকবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে।

ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ছয়জন পলাতক।
 
বিডিএলপিবি/এমএম

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি ও দুই হত্যা মামলার রায় আজ

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি ও দুই হত্যা মামলার রায় আজ

ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরো দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়  কাল রবিবার।

গত ১৫ জুন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গতকাল শনিবার প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের জানান, মামলার রায় ঘোষণা ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এ মামলার আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে পলাতক চারজন। তারা হলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে। গত ১৫ জুন তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

এরপর রায় ঘোষণার দিন ধার‌্য করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনায় চঞ্চল সরকারের মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে মামলার অভিযোগ থেকে তাঁর অব্যাহতি চান তিনি। তবে পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পুনর্সাক্ষ্যে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আনেন তিনি। চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এই আসামি।

আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলি; শিশু বাসিত খান মুসার (৭) মাথা ভেদ করে ওর দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামের আরও এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ জুন, ২০২৬

সকালে গ্রেফতার-দুপুরে জামিন, নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামের

সকালে গ্রেফতার-দুপুরে জামিন, নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামের

ছবিঃ সংগৃহীত

শ্রম আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়া নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ আত্মসমর্পণ করা চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের বিচারক গোলাম আজম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে একই দিন ভোরে সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। একই মামলার আরও তিন আসামিও আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফতাব অটোমোবাইলসের এক সাবেক কর্মকর্তার প্রায় ২৩ লাখ টাকা পাওনা পরিশোধ না করায় দায়ের করা শ্রম আইনের মামলায় সাজেদুল ইসলাম শুভ্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার প্রথম শ্রম আদালত। এর আগে মঙ্গলবার রাত থেকে সাজেদুল ইসলামের বাসার সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। তবে গভীর রাত পর্যন্ত বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে বুধবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে বলে জানা গেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মমতাজকে

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মমতাজকে

ছবিঃ সংগৃহীত 
জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন এলাকায় মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে, মমতাজকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।

গ্রেপ্তারের আবেদনে বলা হয়, আসামির এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময়ে বাদী ও ভিকটিম মো. মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিং ও ফায়ার সার্ভিসের রাস্তায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তার হোসেনের শরীর ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে যায়। পরবতীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় মুক্তার একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে মমতাজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। ২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।


বিডিএলপিবি/এমএম 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ছবিঃ সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ এ রিট দায়ের করেন। আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে রুল জারি করে বিবাদীদের কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়ার আবেদনের পাশাপাশি, কেন প্রতিপক্ষ সরকারের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে না, যাতে তারা আইন অনুযায়ী ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন রহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 

রিটে এই আবেদনের কারণ হিসাবে দেখানো হয় যে, আইনটি তার উদ্দেশ্য পূরণ করে ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচারিকভাবে হত্যার অস্ত্র হিসেবে এর অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংবিধানের বিধানগুলোর পরিপন্থি উল্লেখ করে তা অবৈধ ও বাতিল চাওয়া হয়েছে। 


বিডিএলপিবি/এমএম 
 এমপি মনিরুল হককে নিয়ে কটুক্তি: মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

এমপি মনিরুল হককে নিয়ে কটুক্তি: মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত 

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। 

গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—বাদী খোকন যুবদলের কোনও স্তরেরই সদস্য নন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়—মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


২৩ জুন, ২০২৬

টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ছবিঃ সংগৃহীত
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।

সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স- বাসস 

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান

ছবিঃ সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা হলেন- নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুদকের উপ-পরিচালক সিরাজুল হক।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে এ মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। হিসাবে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।

তবে দুদকের তদন্তে বেনজীরের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক, যা তার ঘোষণার তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।

দুদকের হিসাবে, বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম। চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।



বিডিএলপিবি/এমএম 

সোর্স- বাসস 

২২ জুন, ২০২৬

অপপ্রচার রোধে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টে রিট

অপপ্রচার রোধে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এসএম জুলফিকুর আলী (জুনু)। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, সিআইডি’র প্রধান এবং সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তাই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন।

রিট আবেদনে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম তদন্ত, প্রকৃত মালিকানা ও নিবন্ধন যাচাই, আইনবিরোধী কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে অনিবন্ধিত বা বেআইনি কার্যক্রমে জড়িত প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা ব্লক করা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী এসএম জুলফিকুর আলী (জুনু) বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হলেও মিথ্যা তথ্য, গুজব, সাইবার হয়রানি ও মানহানিকর প্রচারণা সেই স্বাধীনতার অংশ নয়। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, আইনের শাসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৯ জুন, ২০২৬

স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরা আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত । 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। আদালত শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন দুপুর দেড়টার দিকে আদালতে আসেন জাহের আলভী। পরে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে শুনানি শুরু হলে কাঠগড়ায় দাঁড়ান এ অভিনেতা।

শুনানিতে জাহের আলভীর পক্ষে আইনজীবী ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া সহ অনেকেই শুনানি করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আবেদেনের শুনানি করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৬ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিট দায়ের

সুপ্রিম কোর্টে নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলার নথি সময়মতো সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে না পৌঁছানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা প্রশাসনিক গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলার নথি দ্রুত এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ দাবি করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন জমা দেন। আবেদনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, একই বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিট দায়েরের পর আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, একটি মামলার কার্যকর শুনানি নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে শুনানির দিনও ফাইল আদালতে পৌঁছায় না। ফলে বিচারকরা শুনানি পরিচালনা করতে পারেন না এবং মামলাগুলো বারবার মুলতবি করতে হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং আদালতের কিছু শাখায় এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে দ্রুত ফাইল পাঠানোর জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় ফাইল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হয়। কখনো নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়, আবার কখনো ব্যক্তিগত তদবির ছাড়া ফাইলের অগ্রগতি হয় না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন ছাড়া নথি বেঞ্চে পাঠানো হয় না বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিট আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন বিধিমালার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আদালতের নিজস্ব নিয়মের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বেঞ্চ অফিসারকে প্রতিদিন বিকেল ৩টার মধ্যে রিকুইজিশনে স্বাক্ষর করতে হয় এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলার নথি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট রুলস, ১৯৬৬ অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো নথি আদালতের হেফাজত থেকে বাইরে নেওয়া যায় না এবং যথাযথ রিকুইজিশনের ভিত্তিতেই নথি স্থানান্তর করা সম্ভব। রিটে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম লঙ্ঘন কর্মচারীদের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।

আবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো নথি আদালতে না পৌঁছানো উচ্চ আদালতে মামলার জট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মামলা দীর্ঘ সময় কজলিস্টে থাকলেও মূল শুনানি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে আইনজীবীদের গবেষণা, খসড়া প্রস্তুত এবং আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নথি সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীদের বারবার আদালতে উপস্থিত হয়েও শুনানি না হওয়ায় ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে। দীর্ঘসূত্রতায় ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া দাবি করেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সঙ্গে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের দ্রুত ও উন্মুক্ত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মতে, মামলার নথি অনুপস্থিত থাকার কারণে শুনানি না হওয়া এসব মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

রিট আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলার ও প্রশাসনিক নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ফাইল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মা/মলা

প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মা/মলা

ছবি: সংগৃহীত 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আবেদনে শুনানিতে অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব ছাড়াও অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও ১৪-১৫ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন— দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস। মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

বাদী তানভীর আলম তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে এবং এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘মামলার বিয়ষটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’


বিডিএলপিবি/এমএম

১৫ জুন, ২০২৬

দুটির বেশি সন্তান জন্মদানে মাতৃত্বকালীন সীমিত ছুটি চ্যালেঞ্জ করে রিট

দুটির বেশি সন্তান জন্মদানে মাতৃত্বকালীন সীমিত ছুটি চ্যালেঞ্জ করে রিট

 

ছবি: সংগৃহীত 

দুটির বেশি সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে একজন নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা সীমিত বা অস্বীকার করার বিদ্যমান আইনি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রিটে এ বিধানকে বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং দেশের মূল সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জনস্বার্থে সোমবার (১৫ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট আবেদন করেন।

রিটে মূলত ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’-এর সংশ্লিষ্ট বৈষম্যমূলক ধারা এবং ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস’-এর প্রাসঙ্গিক বিধানসমূহের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রিটে আরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন নারী তার জীবনে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়—যে কোনো সন্তানই জন্মদান করুন না কেন, প্রসবজনিত শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি, চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা, প্রসব-পরবর্তী বিশ্রাম এবং পরম মমতায় নবজাতকের যত্নের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা প্রতিবারই সমান থাকে।

ফলে শুধু সন্তানের সংখ্যার একটি গাণিতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একজন মাকে তার মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আইনগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা চরম বৈষম্যমূলক, সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং দেশের সর্বোচ্চ সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি।

সংবিধানের ৮টি অনুচ্ছেদ ও আন্তর্জাতিক সনদের লঙ্ঘন: রিট আবেদনে দাবি করা হয়, দুটির বেশি সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন সুবিধা অস্বীকার করার এ বিধানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা নাগরিকদের সমতা, বৈষম্যহীনতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থি। এছাড়া এটি মাতৃত্ব ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রের নিজস্ব সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার সঙ্গেও চরমভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো উপকরণ নয়। এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। একজন মা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেও তার স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার প্রয়োজন কমে যায় না।

রিটে দেশের সব কর্মজীবী ও চাকুরিজীবী নারীদের জন্য সন্তানের সংখ্যা নির্বিশেষে সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন এবং সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আদালতের কাছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।



বিডিএলপিবি/এমএম

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

ছবি: সংগৃহীত 

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায়ে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ আজ সোমবার (১৫ জুন) এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

তবে আদ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সঙ্গে আদ্ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্য মেডিকেল প্রাক্টিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেজুলেশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২ এর ১১ (১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আপনার প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৪ জুন, ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা : আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা : আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে আইনানুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার সম্পূর্ণ নথিপত্রসহ (ডেথ রেফারেন্স) গত ৯ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এখন নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে।

গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

এছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।

জরিমানার টাকা না দিলে কালেক্টরেট অফিসকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে রায় ঘোষণার তারিখ থেকে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।


বিডিএলপিবি/এমএম