মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৯ জুন, ২০২৬

পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ কপি ৬৯ পৃষ্ঠাসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুূদণ্ডের (ডেথ রেফারেন্স) ৩ পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার অনুমোদনের নথি এসেছে হাইকোর্টে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এ রায় ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।


বিডিএলপিবি/এমএম

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফসহ চার আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক আজ

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফসহ চার আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক আজ

ছবিঃ সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। কুষ্টিয়ায় পৃথক ঘটনায় ছয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ মোট চারজন উচ্চপদস্থ নেতার পক্ষে আজ আদালতে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক বা আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন অত্যন্ত হেভিওয়েট ও শক্তিশালী তিন সদস্যবিশিষ্ট বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তি উপস্থাপন করবে আসামিপক্ষ। সাবেক ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের এই স্পর্শকাতর মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে ঘিরে আইনজীবী, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

এই মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া অভিযুক্ত অন্য তিন প্রভাবশালী আসামি হলেন যথাক্রমে—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সদর উদ্দিন খান, দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই চারজন হেভিওয়েট আসামির প্রত্যেকেই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আইনি প্রক্রিয়ো এড়াতে বর্তমানে সম্পূর্ণ পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ৭ জুন ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালীন আসামি মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে তাদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড চেয়ে নিজেদের পক্ষে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশন। ওইদিন আদালতের এজলাসে প্রসিকিউশনের পক্ষে অত্যন্ত জোরালোভাবে আইনি যুক্তি ও নথিপত্র তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। শুনানি চলাকালে আদালতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ প্রসিকিউশনের দায়িত্বে থাকা অন্য বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেছিল যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় যে সহিংসতা ও প্রাণহানি ঘটেছিল, তার পেছনে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানি এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক নীল নকশা কাজ করেছে।

আদালতের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, অত্যন্ত সংবেদনশীল এ মামলায় আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মূল পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১১ মে। তারও আগে, গত ২৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) দীর্ঘ জেরা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলার মোট ১৯ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জবানবন্দি নেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

গত বছরের ২ নভেম্বর পলাতক এই চার আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা চার্জ গঠনের মাধ্যমে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেছিলেন। এর আগে, গত বছরের ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন বিভাগ। পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল সেই অভিযোগপত্রটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমলে নেয়। পুরো মামলায় এই চার আসামির বিরুদ্ধে মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগের জন্য উসকানিমূলক ও উগ্র বক্তব্য প্রদান, সরকার টিকিয়ে রাখতে গোপনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা এবং কুষ্টিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছয়জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যার হুকুমদাতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

৭ জুন, ২০২৬

সাংবাদিক শাকিল-ফারজানার ১০ মামলায় জামিন স্থগিত

সাংবাদিক শাকিল-ফারজানার ১০ মামলায় জামিন স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 

সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আজ রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ওই জামিন স্থগিত করেন।

এর আগে গত ১১ মে শাকিল আহমেদকে ৫ মামলায় এবং তাঁর স্ত্রী ফারজানা রুপাকে ৬ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সাংবাদিক দম্পতির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও থানায় সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে ৬টি এবং ফারজানা রুপাকে ৭টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে একটি হত্যার চেষ্টা। বাকিগুলো হত্যা মামলা।

এ আইনজীবী আরও বলেন, হাইকোর্ট শাকিল আহমেদকে ৫ মামলা ও ফারজানা রুপাকে ৬ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। আর একটিতে রুল জারি করেছিলেন। সেটাতে দুজনই আসামি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ফারজানা রুপার ৬ মামলার মধ্যে ৫টির জামিন স্থগিত চেয়েছিল।



বিডিএলপিবি/এমএম

সাংবাদিক শাকিল-রুপার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

সাংবাদিক শাকিল-রুপার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

ছবি: সংগৃহীত 

সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ১১ মে সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে পাঁচটি মামলায় এবং তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে ছয়টি মামলায় জামিন দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত আদেশ দেন। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

শাকিল আহমেদ একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান এবং ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

পরে ২১ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। সেদিন তারা টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে প্যারিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম 

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ


ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রায়ের জন্য আজ (রোববার) ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন। 

গত ১৯ মে পল্লবীর নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পর দিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

তদন্ত চলাকালে ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।

দ্রুত তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

এরপর গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে শিশুটির বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।

৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা চান। অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত এবং মামলার অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতকে বলেন, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ আসামি সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

মামলাটির তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক—সব মিলিয়ে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত এ মামলায় এখন সবার দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকে।

রায়ের আগে গতকাল শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে শিশুটির বাবা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের হত্যার বিচার চান না—বরং এমন একটি সমাজ ও বিচারব্যবস্থা চান যেখানে আর কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার হতে হবে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আজকের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের আইনগত পরিণতি। একই সঙ্গে আলোচিত এ মামলার রায় শিশু নির্যাতন ও নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় বিচারিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৬ জুন, ২০২৬

সাবেক মেয়র মনজুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

সাবেক মেয়র মনজুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুরসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ফটিকছড়ি থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মো. জামান বাবু (২৩) ও একই এলাকার তৌহিদুল আলম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)।

মামলার প্রধান হুকুমদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর (৬২) ও সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলা এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে (৪০)। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০), বখতিয়ার সাঈদ ইরান (৪০), সাবরিনা চৌধুরী (৩৫), জসিম উদ্দিন মুহুরী (৫০), ফোরকান উদ্দিন বাচ্চু (৩৫) এবং মো. জসিম (৩২)।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে ফটিকছড়ি থানার নিয়মিত টহল দল খবর পায় যে, রোসাংগিরী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভাণ্ডার পাকা সড়কের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মশালসহ একটি মিছিল বের করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এই মিছিল করা হচ্ছিল।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের হাতে থাকা বাঁশের তৈরি মশাল ফেলে চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার ও জব্দ করে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানান, ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামির (সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ) প্রত্যক্ষ হুকুম ও তত্ত্বাবধানে তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে পরস্পর যোগসাজশে জড়ো হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের মাইজভান্ডার-নাজিরহাট সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ভবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


বিডিএলপিবি/এমএম

পিএসসির প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি: চার্জশিটে পাওয়া গেল আবেদের নেতৃত্বে ৫৫ জনের পরিচয়

পিএসসির প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি: চার্জশিটে পাওয়া গেল আবেদের নেতৃত্বে ৫৫ জনের পরিচয়


ছবি: সংগৃহীত 

এক সময় আর্থিক সংকটে থাকা পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর জীবনযাত্রায় হঠাৎ করেই বড় পরিবর্তন আসে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বোতলা গ্রামে নির্মাণ করেন বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে তিনি ডাসার উপজেলা চেয়ারম্যান পদেও প্রচারণা চালিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, বছরের পর বছর পিএসসির প্রশ্নফাঁস বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থের মাধ্যমেই আবেদ আলী এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত মামলার চার্জশিটে বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৮ মে আদালতে ৪১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বহুল আলোচিত মামলাটি ২০২৪ সালের ৯ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা হয়েছিল।

চার্জশিট অনুযায়ী, আবেদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৫৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশ্নফাঁস কার্যক্রমে জড়িত ছিল। চক্রটিতে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার্থী সংগ্রহকারী দালালদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে গ্রেফতার ৩৬ আসামি হলেন- পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী, মো. নোমান সিদ্দিক, মো. খলিলুর রহমান, পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সোলেমান মো. সোহেল, জাহাঙ্গীর আলম, এসএম আলমগীর কবীর, প্রতিরক্ষা ও অর্থ বিভাগের অডিটর প্রিয়নাথ রায়, মো. জাহিদুল ইসলাম, পিএসসির উপপরিচালক (ডিডি) মো. আবু জাফর, মো. শাহাদত হোসেন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. মামুনুর রশিদ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়ামুল হাসান, ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাইম হোসেন, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থী লিটন সরকার, আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম, পিএসসির সাবেক সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, মো. শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, দীপক বণিক, মো. খোরশেদ আলম খোকন, কাজী মো. সুমন, একেএম গোলাম পারভেজ, মেহেদী হাসান খান, মো. মিজানুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, এটিএম মোস্তফা, মাহফুজ কালু, মো. আসলাম হোসেন, কৌশিক দেবনাথ, মোজাহিদুল ইসলাম, মজনু মিয়া, মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, মো. আব্দুল আজিম, রুপন চন্দ্র দাস ও মাহামুদ হাসান মান্না।

পলাতক ১৯ আসামি হলেন- সুমন কুমার বসু, বিপাশ চাকমা, মো. দেলোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান দিপু, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আল মামুন, মো. আনিছুর রহমান, মো. ওয়াসিম খান, মো. জসিম উদ্দিন, মো. ফেরদৌস আহম্মদ, মো. মান্নান উদ্দিন, মো. আশরাফুল আলম, জাহিদুল সরদার, মো. সোহেল পারভেজ, মো. জুয়েল আল মামুন, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. রুবেল শরীফ, শাকের আহমেদ আল-আমিন এবং এম এম নাজমুল হাসান। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি মো. গোলাম হামিদুর রহমান, হামিদুল ইসলাম জিয়া, মো. মাহাবুব আলম এবং আজাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার আগেই নির্ধারিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহ করা হতো। তাদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো এবং পরে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আগাম আদায় করা হতো। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত এই চক্রে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত ছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি এনজিও পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের বিস্তার ছিল।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা এই চক্র পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। চার্জশিটে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া চক্রের কয়েকজন সদস্যের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্তের জন্য পৃথক উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মানি লন্ডারিং নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু হলে প্রশ্নফাঁস বাণিজ্যের আর্থিক ব্যাপ্তি সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

চার্জশিটে পুরো ঘটনাকে রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলে প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের আড়ালে থাকা আরও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার তথ্যও প্রকাশ্যে আসতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৫ জুন, ২০২৬

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ও দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম তদন্তে রিট দায়ের

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ও দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম তদন্তে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় বিদ্যমান অনিয়ম, চিকিৎসায় অবহেলা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু গতকাল এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

রিটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে (ডিজি) বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বর্তমান অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষ অভিযান ও পরিদর্শন পরিচালনা; আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র), সিসিইউ, এইচডিইউ এবং এনআইসিইউ সুবিধার কার্যকারিতা যাচাই; অননুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির প্রার্থনা করা হয়েছে।

আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ১৮, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যাপ্ত তদারকির অভাব জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

এর আগে, গত ৩১ মে ২০২৬ তারিখে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ (আইনি নোটিশ) পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান কোনো সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়।

রিটে আরও প্রার্থনা করা হয়, আদালত যেন দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

বিডিএলপিবি/এমএম

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ: মামলার ১৩ দিনেই আদালতে চার্জশিট

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ: মামলার ১৩ দিনেই আদালতে চার্জশিট


ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে রেকর্ড সময়ে তদন্ত শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তে সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চট্টগ্রাম আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেয় বাকলিয়া থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
চার্জশিটে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে আসামী মনির হোসেনকে। তিনি ওই এলাকায় একটি ডেকোরেশনের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায়।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মেডিক্যাল রিপোর্ট, ফরেনসিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্রুত সংগ্রহ করে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করে আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে এসি প্রসিকিউর মো আরিফ ইকবাল জানান,বাকলিয়া থানা পুলিশ শিশু ধর্ষণের চার্জশিট বৃহস্পতিবার দুপুরে জমা করে কোটে জমা করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি গুদামকক্ষে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের ফলে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ভোক্তভোগি পরিবার।


বিডিএলপিবি/এমএম

৪ জুন, ২০২৬

হাসপাতালে ফজলে করিম, পেছাল হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি

হাসপাতালে ফজলে করিম, পেছাল হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি


ছবিঃ সংগৃহীত  

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি পিছিয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি বলেন, এ মামলায় আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে ফজলে করিমকে আনা হয়নি। এজন্য আমরা আগামী ৭ বা ৮ জুন পর্যন্ত সময় চাই।

ফজলে করিম প্রসঙ্গে জহিরুল আমিন বলেন, তিনি (ফজলে করিম) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য তাকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি তারা। তবে চিকিৎসাজনিত কাগজপত্র দেখে জানা গেল, শুধুমাত্র ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন তিনি। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো কিছু নেই।

সাবেক এই এমপির আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেন, ফজলে করিমের বয়সজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি একদিন ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ঘাড়ে আঘাত পান। এতে তার ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায়। ফলে শুনানির জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।


বিডিএলপিবি/এমএম